নজর বিডি

অভাবী রাবেয়ার বিয়েতে অভিভাবক হয়ে পাশে দাঁড়ালেন রুবেল

বাবা হারানোর আট বছর পর নড়াইলের লোহাগড়ার মেয়ে রাবেয়ার বিয়েতে নতুন অভিভাবক হিসেবে পাশে দাঁড়িয়েছেন নাটোরের মানবিক সমাজসেবক রুহুল আমিন রুবেল। আর্থিক সংকটের কারণে যে বিয়ের আয়োজন নিয়ে দুশ্চিন্তায় ছিল বিধবা মা হেনা বেগম, রুবেল সেটির সম্পূর্ণ দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়ে সম্পন্ন করেছেন ১০৯তম কন্যার বিবাহ।লোহাগড়ার ঈশানগাতী গ্রামের মৃত জালাল মোল্যার মেয়ে রাবেয়ার সঙ্গে সম্প্রতি ঢাকার মো. পারভেজ মিয়ার বিয়ের কথাবার্তা পাকা হয়। তবে বিয়ের যাবতীয় খরচ জোগানো বিধবা মায়ের পক্ষে প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছিল। বিষয়টি জানতে পেরে রুহুল আমিন রুবেল নিজেই ছুটে যান রাবেয়ার বাড়ি।গত ২৫ জুন স্থানীয় আয়োজনের মাধ্যমে জাঁকজমকপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয় এই বিয়ে। গায়ের হলুদ থেকে শুরু করে দেড় শতাধিক অতিথির আপ্যায়ন—সবকিছুর ব্যয়ভার বহন করেন রুবেল। তিনি বলেন, “রাবেয়াকে আমি নিজের মেয়ে হিসেবেই গ্রহণ করেছি। ২০০২ সাল থেকে আমি এই মানবিক কাজ করে আসছি। সমাজের সামর্থ্যবানরা এগিয়ে এলে অসহায়দের কষ্ট লাঘব সম্ভব।”মেয়ের বিয়ের খরচ নিয়ে দুশ্চিন্তামুক্ত হতে পেরে আবেগাপ্লুত মা হেনা বেগম বলেন, “রুবেল ভাই পাশে না দাঁড়ালে মেয়ের বিয়ে দেওয়া আমাদের পক্ষে সম্ভব হতো না। আল্লাহ তাঁর মঙ্গল করুন।”নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার চণ্ডিপুর গ্রামের বাসিন্দা ব্যবসায়ী রুহুল আমিন রুবেল গত ২৪ বছর ধরে অসহায়, এতিম ও পিতৃহীন কন্যাদের বিয়ের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। নিজের সন্তানের মতো মর্যাদা দিয়ে তিনি এখন পর্যন্ত ১০৯ জন কন্যাকে নতুন জীবনে এগিয়ে দিয়েছেন। তার এই মানবিক উদ্যোগ স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে।

অভাবী রাবেয়ার বিয়েতে অভিভাবক হয়ে পাশে দাঁড়ালেন রুবেল