সকালবেলা ব্যাগ কাঁধে সহপাঠীরা শ্রেণিকক্ষে ফিরেছে ঠিকই, কিন্তু ফাঁকা রয়ে গেছে রায়পুর মার্চ্চেন্টস একাডেমির চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী ফাতেমা আক্তার শিফার (৯) বসার স্থানটি। গত বৃহস্পতিবার এক নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়ে মা ও দুই বোনের সাথে না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছে শিফা। তার এই অকাল মৃত্যুতে শিক্ষক ও সহপাঠীদের মাঝে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।শিফার সহপাঠী সকাল জানায়, তাদের বুধবার শেষবার কথা হয়েছিল। বৃহস্পতিবার তার বান্ধবীর বাসায় যাওয়ার কথা ছিল, কিন্তু শুক্রবার দেখা করার কথা থাকায় সে আর সেদিন স্কুলে আসেনি। শিফার সহপাঠী হাসিব জানায়, শিফা অত্যন্ত মেধাবী ছাত্রী ছিল, তার অনুপস্থিতি এখন পুরো শ্রেণিকক্ষে এক শূন্যতার সৃষ্টি করেছে।বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নূরে আলম মাহমুদ জানান, শিফা নিয়মিত বিদ্যালয়ে আসত। সে যদি ঘটনার দিন স্কুলে আসত, হয়তো তাকে এমন নির্মম পরিণতির শিকার হতে হতো না। শিফা ও তার পরিবারের জন্য বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে বিশেষ দোয়ার আয়োজন করা হয়েছে।গত বৃহস্পতিবার সকালে লক্ষ্মীপুরের রায়পুর পৌরসভার ধানহাটা-নদীর পাড় এলাকায় আমির হোসেন মাস্টারের বাসভবনে মা শাহিনুর বেগম (৩৮) এবং তিন মেয়ে সায়মা আক্তার (২১), নাফিসা আক্তার (১৭) ও ফাতেমা আক্তার শিফাকে (৯) কুপিয়ে হত্যা করা হয়। ঘটনার দিন সকালে কাজে বের হয়ে যাওয়ায় পরিবারের একমাত্র ছেলে জুনাইদ ইসলাম সিফাত প্রাণে বেঁচে যান।নিহতদের পরিবারের একমাত্র জীবিত সদস্য সিফাত বাদী হয়ে শুক্রবার অজ্ঞাতদের আসামি করে রায়পুর থানায় মামলা দায়ের করেছেন। তিনি এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন ও সুষ্ঠু বিচারের দাবি জানিয়েছেন। অন্যদিকে, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় অভিযুক্ত অন্তর মজুমদার গণপিটুনিতে নিহত হওয়ায় এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে পৃথক একটি মামলা করেছে।পুরো এলাকা এখনো এই নৃশংস ঘটনায় স্তম্ভিত। শিফার পরিবার হারিয়ে গেছে চিরতরে, কিন্তু তাদের স্মৃতি এবং এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য নিয়ে এখন বিচারিক প্রক্রিয়ার দিকে তাকিয়ে আছে স্থানীয় এলাকাবাসী।