ইরানের কার্যত অবরোধের মুখে হরমুজ প্রণালি দিয়ে উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল রপ্তানি সচল রাখতে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক তত্ত্বাবধানে গোপন জাহাজ-থেকে-জাহাজে (Ship-to-Ship) তেল স্থানান্তর কার্যক্রম পরিচালনা করছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।মঙ্গলবার প্রকাশিত এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে রয়টার্স জানায়, গত মে মাসের শুরু থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরাহ উপকূল এবং ওমানের সোহার বন্দরের কাছাকাছি দুটি স্থানে এ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। স্যাটেলাইট ছবি ও শিপিং তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এ পর্যন্ত অন্তত ৯২টি জাহাজ এ কার্যক্রমে অংশ নিয়েছে।প্রতিবেদনে বলা হয়, তেলবাহী ট্যাংকারগুলো ট্রান্সপন্ডার (অবস্থান শনাক্তকারী যন্ত্র) বন্ধ রেখে এবং রাতের অন্ধকারে নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রেখে চলাচল করে। পরে হরমুজ প্রণালির বাইরে অপেক্ষমাণ বৃহৎ তেলবাহী জাহাজে তেল স্থানান্তর করা হয়। পুরো কার্যক্রমে ড্রোন, হেলিকপ্টার এবং অন্যান্য নজরদারি ব্যবস্থার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র সহায়তা দিচ্ছে বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে।রয়টার্সের প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, ৯ জুন ইরানের গুলিতে ভূপাতিত হওয়া একটি অ্যাপাচি হেলিকপ্টারও এ মিশনের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল বলে কয়েকটি সূত্র দাবি করেছে। যদিও যুক্তরাষ্ট্রের এক প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা সরাসরি এ ধরনের তেল স্থানান্তর অভিযানে মার্কিন বাহিনীর অংশগ্রহণের কথা অস্বীকার করেছেন।ইরান-ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাতের জেরে হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক জাহাজ চলাচল ব্যাহত হয়। এর ফলে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের সরবরাহ সংকট ও মূল্যস্ফীতির চাপ তৈরি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে উপসাগরীয় দেশগুলোর তেল আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছাতে এই বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।রয়টার্সের হিসাব অনুযায়ী, মে মাসের শুরু থেকে এ নেটওয়ার্কের মাধ্যমে প্রায় ৯ কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোলিয়াম পণ্য স্থানান্তর হয়ে থাকতে পারে। তবে এ পরিমাণ এখনও যুদ্ধ-পূর্ব সময়ে হরমুজ প্রণালি দিয়ে দৈনিক পরিবাহিত প্রায় ২ কোটি ব্যারেল তেলের তুলনায় অনেক কম।বিশ্লেষকদের মতে, এটি সংকটকালীন একটি অস্থায়ী সমাধান। কারণ ট্রান্সপন্ডার বন্ধ রেখে রাতের অন্ধকারে জাহাজ চলাচল করায় দুর্ঘটনা ও নিরাপত্তা ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাচ্ছে