দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের অবসর ও কল্যাণসুবিধার অর্থ পরিশোধের প্রক্রিয়া আগামী ১৫ আগস্ট থেকে শুরু হচ্ছে। দেশের ৬৪ জেলায় একযোগে এ কার্যক্রম উদ্বোধনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।তবে প্রথম ধাপে শিক্ষক-কর্মচারীরা তাদের সম্পূর্ণ পাওনা পাবেন না। অর্থের সীমিত সংস্থান থাকায় নির্ধারিত সংখ্যক আবেদনকারীর মধ্যে আংশিক অর্থ বিতরণ করা হবে। পরবর্তী সময়ে অর্থের সংস্থান অনুযায়ী অবশিষ্ট পাওনা পরিশোধ করা হবে।বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক ও কর্মচারী অবসর সুবিধা বোর্ডের সচিব অধ্যক্ষ মো. মোশাররফ হোসেন জানিয়েছেন, আগামী ১৫ আগস্ট থেকে আটকে থাকা অর্থ বিতরণের সিদ্ধান্ত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন। এ জন্য সংশ্লিষ্টরা দিন-রাত কাজ করছেন।সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সুবিধাভোগীদের ব্যাংক হিসাবে সরাসরি অর্থ পাঠানো হবে। ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার (ইএফটি) ও আইবাস প্লাস প্লাস ব্যবস্থার মাধ্যমে অর্থ পরিশোধ করা হবে। ফলে শিক্ষক-কর্মচারীদের অফিসে গিয়ে অপেক্ষা করতে হবে না এবং মধ্যস্বত্বভোগীর সুযোগও কমবে।এবার অবসর সুবিধা বোর্ডের ৭০ হাজার ১১৯টি এবং কল্যাণ ট্রাস্টের ৫৩ হাজার ৪৭৭টি আবেদন অর্থ পরিশোধের আওতায় আনার প্রস্তুতি চলছে। দুই প্রতিষ্ঠানে মোট আবেদন ১ লাখ ২৩ হাজার ৫৯৬টি। তবে একই শিক্ষক-কর্মচারী উভয় সুবিধার জন্য আবেদন করতে পারেন বলে এ সংখ্যা মোট সুবিধাভোগীর সংখ্যা নয়।দীর্ঘদিনের অর্থসংকটের কারণে অবসর ও কল্যাণসুবিধার আবেদনজট তৈরি হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আগের হিসাব অনুযায়ী, অবসর সুবিধা বোর্ডে ২০২২ সালের পর প্রায় ৬৭ হাজার আবেদন অনিষ্পন্ন ছিল। এসব আবেদন নিষ্পত্তিতে প্রয়োজন ছিল প্রায় ৮ হাজার ৭১০ কোটি টাকা। বিপরীতে তহবিলে ছিল প্রায় ১ হাজার ৩০০ কোটি টাকা।অন্যদিকে, কল্যাণ ট্রাস্টেও হাজার হাজার আবেদন নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে। সরকারের বিশেষ বরাদ্দের মাধ্যমে এবার বড় পরিসরে অর্থ ছাড়ের উদ্যোগ নেওয়া হলেও দীর্ঘদিনের সব পাওনা একসঙ্গে পরিশোধ করার মতো অর্থ এখনো হাতে নেই।এ ছাড়া বিভিন্ন ব্যাংকে অবসর সুবিধা বোর্ডের প্রায় ৭০০ কোটি টাকা আটকে থাকার বিষয়টিও অর্থসংকটকে আরও জটিল করেছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। অর্থ ফেরত পাওয়া বা আদায়ে জটিলতার কারণে তহবিলের তারল্য পরিস্থিতিতে চাপ তৈরি হয়েছে।মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. আবদুল খালেক বলেন, দীর্ঘদিন ধরে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা পাওনা অর্থ না পেয়ে দুর্ভোগে ছিলেন। তাদের কষ্ট লাঘবের জন্য সরকার এ বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে। সরাসরি ব্যাংক হিসাবে টাকা পাঠানোর মাধ্যমে পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে।এর আগে গত ৪ জুন সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানিয়েছিলেন, ২০২২ সালের পর থেকে বন্ধ থাকা অবসরভাতা কার্যক্রম চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ খাতে সরকারের ২ হাজার কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দের কথাও তিনি জানিয়েছিলেন।সংক্ষেপে: দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ১৫ আগস্ট থেকে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের অবসর ও কল্যাণসুবিধার অর্থ বিতরণ শুরু হলেও প্রথম ধাপে পুরো পাওনা নয়, আংশিক অর্থ দেওয়া হবে।