রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় অভিযান চালিয়ে অনলাইন জুয়া ও প্রতারণার মাধ্যমে বিপুল অর্থ পাচারের সঙ্গে জড়িত একটি চক্রের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গ্রেপ্তারদের মধ্যে তিনজন চীনা নাগরিক ও একজন বাংলাদেশি রয়েছেন।রোববার (২ আগস্ট) ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিবি) মো. শফিকুল ইসলাম।তিনি জানান, চক্রটি ৬ হাজার সিম ও ২০টি ডিজিটাল গেটওয়ে ব্যবহার করে ভুয়া অফার, চাকরি এবং অতিরিক্ত আয়ের প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নিত। এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রতি মাসে প্রায় ২০০ থেকে ২৫০ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করা হতো।গ্রেপ্তাররা হলেন— চাকমা জিয়ানা (২৭), লিউ হুই জাং (৪৬), ওয়ে ইউজি (৩০) এবং শে ই রান (৪২)।ডিবি জানায়, শনিবার রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার একটি ছয়তলা ভবনে অভিযান চালানো হয়। ভবনটি এক বাংলাদেশি নারী ভাড়া নিয়ে নিজে নিচতলায় থাকতেন এবং বাকি পাঁচটি তলা চীনা নাগরিকদের কাছে ভাড়া দিয়েছিলেন। সেখান থেকেই পরিচালিত হচ্ছিল অনলাইন জুয়া ও প্রতারণার কার্যক্রম।অভিযানে ১৪টি ল্যাপটপ, ১৬টি মোবাইল ফোন, বিভিন্ন মোবাইল অপারেটরের ৬ হাজার সিম, ২০টি ডিজিটাল গেটওয়ে, বিদেশি মদ এবং নগদ ২ লাখ ৯ হাজার ৭০০ টাকা জব্দ করা হয়।ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার জানান, চক্রটি মোবাইলে এসএমএস পাঠিয়ে লোভনীয় অফার ও চাকরির প্রলোভন দেখাত। ভুক্তভোগীরা লিংকে প্রবেশ করার পর বিভিন্ন ফাঁদে ফেলে তাদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করা হতো।তিনি আরও জানান, জব্দ করা সরঞ্জামগুলোতে প্রায় ১০ থেকে ১২ হাজার সিম ব্যবহারের সক্ষমতা রয়েছে। প্রযুক্তির মাধ্যমে ডিভাইসের আইএমইআই নম্বর পরিবর্তন করায় এতদিন তাদের শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।ডিবির দাবি, এই চক্রকে গ্রেপ্তারের মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে প্রতি মাসে ২০০ থেকে ২৫০ কোটি টাকা অবৈধভাবে বিদেশে পাচার হওয়া বন্ধ করা সম্ভব হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে চক্রের অন্যান্য সদস্যদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।