জিয়াউর রহমান: বাংলাদেশের প্রথম সরাসরি নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি ও বীর মুক্তিযোদ্ধা রাষ্ট্রনায়ক— প্রফেসর ড. আসিফ মিজান, রাজনীতি বিশ্লেষক।বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস ও সাংবিধানিক বিকাশের ধারাবাহিকতায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান (বীর উত্তম) একটি গুরুত্বপূর্ণ ও আলোচিত নাম। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তিনি দেশের প্রথম সরাসরি জনগণের ভোটে নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি এবং মুক্তিযুদ্ধের রণাঙ্গনে নেতৃত্বদানকারী একমাত্র রাষ্ট্রনায়ক, যিনি পরবর্তীতে রাষ্ট্রপ্রধানের দায়িত্ব পালন করেছেন।বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭৮ সালের ৩ জুন প্রথমবারের মতো সরাসরি রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই নির্বাচনে জাতীয়তাবাদী ফ্রন্টের প্রার্থী হিসেবে অংশ নেন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক জেনারেল (অব.) এম. এ. জি. ওসমানী।নির্বাচনের ফলাফলে জিয়াউর রহমান বিপুল ভোটে বিজয়ী হন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এ নির্বাচনের মধ্য দিয়েই বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের নজির প্রতিষ্ঠিত হয়। এর ফলে তিনি দেশের প্রথম সরাসরি নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি হিসেবে ইতিহাসে স্থান করে নেন।এর আগে স্বাধীনতার পর রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা বিভিন্ন সাংবিধানিক, রাজনৈতিক বা বিশেষ পরিস্থিতিতে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি মনোনীত হন। সৈয়দ নজরুল ইসলাম ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন। বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী এবং মোহাম্মদ মোহাম্মদউল্লাহ সংসদীয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে আসীন হন। পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের মধ্য দিয়ে খন্দকার মোশতাক আহমদ ও বিচারপতি এ.এস.এম. সায়েম রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন।মুক্তিযুদ্ধে জিয়াউর রহমানের ভূমিকা বাংলাদেশের ইতিহাসে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি পাকিস্তান সেনাবাহিনীর একজন কর্মকর্তা হয়েও স্বাধীনতার পক্ষে অবস্থান নেন এবং সশস্ত্র প্রতিরোধে অংশগ্রহণ করেন। তিনি ১ নম্বর সেক্টরের কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং পরবর্তীতে জেড ফোর্সের অধিনায়ক হিসেবে যুদ্ধ পরিচালনা করেন।মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য বীরত্ব ও অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে ‘বীর উত্তম’ খেতাবে ভূষিত করা হয়, যা বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সামরিক বীরত্বসূচক খেতাব। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাষ্ট্রপ্রধান বা সরকারপ্রধানের দায়িত্ব পালনকারীদের মধ্যে জিয়াউর রহমানই একমাত্র ব্যক্তি, যিনি সরাসরি রণাঙ্গনে নেতৃত্বদানকারী এবং রাষ্ট্রীয় বীরত্বসূচক খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন।বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে জিয়াউর রহমানের অবদান মূল্যায়নের ক্ষেত্রে তাঁর নির্বাচনী বৈধতা, রাষ্ট্র পরিচালনায় ভূমিকা এবং মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় অংশগ্রহণ—এই তিনটি বিষয় বিশেষভাবে বিবেচনার দাবি রাখে। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও ইতিহাসের এসব অধ্যায় বাংলাদেশের রাষ্ট্রগঠনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।তাদের মতে, ইতিহাসের বস্তুনিষ্ঠ মূল্যায়ন এবং তথ্যভিত্তিক আলোচনা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দেশের রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক বিকাশ সম্পর্কে আরও সুস্পষ্ট ধারণা দিতে সহায়তা করবে।