ইউরোপিয়ান ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ আসর উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে টানা দ্বিতীয়বারের মতো শিরোপা জয়ের পর ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে উদযাপনকে ঘিরে ব্যাপক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় অন্তত একজন নিহত এবং ২০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন।রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শনিবার রাতে হাঙ্গেরির বুদাপেস্টে অনুষ্ঠিত রোমাঞ্চকর ফাইনালে আর্সেনালকে টাইব্রেকারে হারিয়ে শিরোপা নিশ্চিত করে Paris Saint-Germain (পিএসজি)। দলের জয়ের পর হাজারো সমর্থক প্যারিসের বিভিন্ন সড়কে নেমে উৎসব শুরু করেন।তবে আনন্দ-উল্লাসের মাঝেই ছড়িয়ে পড়ে সহিংসতা। ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্যারিসে ৫৭ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন এবং ৪০০ জনেরও বেশি ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। রাজধানীর বাইরে থেকেও কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।পুলিশ জানায়, দাঙ্গাকারীরা বিভিন্ন দোকানপাটে ভাঙচুর চালায়, গাড়ি ও ভাড়ায় চালিত সাইকেল স্ট্যান্ডে আগুন ধরিয়ে দেয়। এছাড়া কয়েকটি প্রাদেশিক শহরেও সরকারি স্থাপনায় ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।প্যারিস পাবলিক প্রসিকিউটরের কার্যালয় জানিয়েছে, সহিংসতার মধ্যে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে।পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ২০ হাজারের বেশি নিরাপত্তা সদস্য মোতায়েন করা হয়েছিল। ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Laurent Nunez বলেন, “সামগ্রিকভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ছিল এবং সহিংসতার ঘটনাগুলো দ্রুত মোকাবিলা করা হয়েছে।”ঘটনার পর দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনেও শুরু হয়েছে আলোচনা। কট্টর ডানপন্থী দল National Rally-এর নেতা Marine Le Pen আইন-শৃঙ্খলা জোরদারের দাবি জানিয়ে বলেন, “শুধু ফ্রান্সেই একটি ফুটবল ক্লাবের জয় দাঙ্গার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।”অন্যদিকে মধ্য-বামপন্থী রাজনীতিক Raphael Glucksmann বলেন, সমাজে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা ও বিভাজনের কারণেই এমন সহিংসতা বারবার দেখা যাচ্ছে। তার মতে, যারা ভাঙচুর ও সহিংসতায় জড়িয়েছে তারা প্রকৃত ফুটবল সংস্কৃতির প্রতিনিধিত্ব করে না।উল্লেখ্য, গত বছর পিএসজির প্রথম চ্যাম্পিয়ন্স লিগ শিরোপা জয় উদযাপনেও একই ধরনের সহিংসতার ঘটনা ঘটেছিল। সে সময়ও দুইজনের প্রাণহানি হয়েছিল। সূত্র: রইটার্স।