কলারোয়ায় বাইকুনুর আঙুরের চমক, তরুণ উদ্যোক্তা জাহিদের বাগানে দর্শনার্থীদের ভিড়।শেখ মাহতাব হোসেন | ৩০ মে ২০২৬সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা জাহিদ হোসেন বিদেশি জাতের ‘বাইকুনুর’ (Baikonur) আঙুর চাষ করে এলাকায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছেন। তাঁর সফলতা শুধু স্থানীয় কৃষকদেরই অনুপ্রাণিত করছে না, বরং বাংলাদেশে বাণিজ্যিকভাবে উন্নতমানের মিষ্টি আঙুর চাষের নতুন সম্ভাবনারও দ্বার উন্মোচন করেছে।বাংলাদেশের আবহাওয়ায় সুস্বাদু ও মিষ্টি আঙুর চাষ সম্ভব নয়—এমন দীর্ঘদিনের ধারণাকে ভুল প্রমাণ করে জাহিদ তাঁর বাগানে রুশ-ইউক্রেনীয় জাতের বাইকুনুর আঙুরের সফল ফলন দেখিয়েছেন। তাঁর বাগানে প্রতিটি গাছে থোকায় থোকায় ঝুলছে বড় আকৃতির আকর্ষণীয় আঙুর, যা দেখতে যেমন সুন্দর, খেতেও তেমনি সুস্বাদু।বাইকুনুর আঙুরের বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো এর বড় ও লম্বাটে ফল, যা পাকার পর গাঢ় বেগুনি বা কালো রঙ ধারণ করে। ফলগুলো অত্যন্ত রসালো এবং স্বাদে আমদানিকৃত আঙুরের সঙ্গে সহজেই প্রতিযোগিতা করতে সক্ষম।জাহিদ হোসেন জানান, আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ও সঠিক পরিচর্যার মাধ্যমে তিনি এই সফলতা অর্জন করেছেন। আঙুর লতানো উদ্ভিদ হওয়ায় তিনি ‘টি’ আকৃতির ট্রেলিস বা মাচা পদ্ধতি ব্যবহার করেছেন, যাতে গাছ পর্যাপ্ত আলো-বাতাস পায় এবং ফলন বৃদ্ধি পায়।এছাড়া বেলে-দোআঁশ মাটিতে জৈব সার, ভার্মিকম্পোস্ট এবং সুষম রাসায়নিক সার প্রয়োগের পাশাপাশি নিয়মিত পরিচর্যা করেছেন। বিশেষ করে আঙুর চাষে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ডাল ছাঁটাই বা প্রুনিং সঠিক সময়ে করায় গাছে প্রচুর ফুল ও ফল এসেছে।জাহিদের এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ দেখতে প্রতিদিনই তাঁর বাগানে ভিড় করছেন কৃষক, উদ্যোক্তা ও সাধারণ দর্শনার্থীরা। অনেকেই বাণিজ্যিকভাবে বাইকুনুর আঙুর চাষে আগ্রহ প্রকাশ করছেন।খুলনা অঞ্চলের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক মো. মোছাদ্দেক হোসেন বলেন, “জাহিদ হোসেনের এই সফলতা দেশের কৃষি খাতে নতুন সম্ভাবনার সৃষ্টি করেছে। তাঁর এই উদ্যোগ দেশব্যাপী ছড়িয়ে দেওয়া গেলে বিদেশ থেকে আঙুর আমদানির ওপর নির্ভরতা অনেকাংশে কমানো সম্ভব হবে। একই সঙ্গে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের সুযোগও তৈরি হবে।”স্থানীয়দের মতে, জাহিদ শুধু একজন সফল কৃষক নন; তিনি দেশের তরুণ সমাজ ও বেকার যুবকদের জন্য একটি অনুকরণীয় উদাহরণ। তাঁর এই সাফল্য প্রমাণ করেছে, আধুনিক প্রযুক্তি, পরিকল্পনা ও পরিশ্রমের সমন্বয়ে কৃষিতেও গড়ে তোলা যায় লাভজনক ও সম্ভাবনাময় উদ্যোগ