সাংবাদিকতার সূচনা মানব সভ্যতার অনেক প্রাচীন ইতিহাসের সঙ্গে জড়িত। তবে আধুনিক সাংবাদিকতার ভিত্তি গড়ে ওঠে মুদ্রণযন্ত্র আবিষ্কারের পর।প্রাচীন রোমে খ্রিস্টপূর্ব ৫৯ সালে জুলিয়াস সিজারের আমলে “Acta Diurna” নামে সরকারি তথ্যসম্বলিত একটি লিখিত বুলেটিনঐতিহাসিকদের মতে, প্রাচীন রোমে খ্রিস্টপূর্ব ৫৯ সালে জুলিয়াস সিজারের আমলে “Acta Diurna” নামে সরকারি তথ্যসম্বলিত একটি লিখিত বুলেটিন প্রকাশ করা হতো, যাকে বিশ্বের প্রথম সংবাদপত্রের প্রাথমিক রূপ হিসেবে ধরা হয়।Johannes Gutenberg এর মুদ্রণযন্ত্রপরবর্তীতে ১৪৪০ সালে জার্মানির Johannes Gutenberg মুদ্রণযন্ত্র আবিষ্কার করলে সংবাদ প্রচারে বিপ্লব ঘটে। এরপর ইউরোপে ধীরে ধীরে সংবাদপত্র প্রকাশ শুরু হয়।১৬০৫ সালে জার্মানিতে প্রকাশিত “Relation”আধুনিক সংবাদপত্রের ইতিহাসে ১৬০৫ সালে জার্মানিতে প্রকাশিত “Relation”-কে বিশ্বের প্রথম নিয়মিত মুদ্রিত সংবাদপত্র হিসেবে বিবেচনা করা হয়।১৭৮০ সালে James Augustus Hicky প্রকাশ করেন “Hicky’s Bengal Gazette”বাংলাদেশ ও ভারতীয় উপমহাদেশে সাংবাদিকতার যাত্রা শুরু হয় ব্রিটিশ আমলে। ১৭৮০ সালে James Augustus Hicky প্রকাশ করেন “Hicky’s Bengal Gazette”, যা উপমহাদেশের প্রথম সংবাদপত্র হিসেবে পরিচিত।বাংলা ভাষায় প্রথম সংবাদপত্র “সমাচার দর্পণ”বাংলা ভাষায় প্রথম সংবাদপত্র ছিল “সমাচার দর্পণ”, যা ১৮১৮ সালে প্রকাশিত হয়।বর্তমানে সাংবাদিকতা শুধু সংবাদপত্রে সীমাবদ্ধ নয়; টেলিভিশন, রেডিও, অনলাইন নিউজ পোর্টাল এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে এটি বিশ্বব্যাপী দ্রুত বিস্তৃত হয়।সাংবাদিকতা শুধু সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যম নয়, এটি একটি রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক কাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। রাষ্ট্রবিজ্ঞানে সাংবাদিকতাকে “রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ” হিসেবে অভিহিত করা হয়, কারণ নির্বাহী বিভাগ, আইন বিভাগ ও বিচার বিভাগের পাশাপাশি গণমাধ্যমও সমাজে জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ তথ্য জনগণের কাছে পৌঁছে দিয়ে গণমাধ্যম জনগণের সচেতনতা বৃদ্ধি করে এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সহায়তা করে। দুর্নীতি, অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার কিংবা সামাজিক অবক্ষয়ের মতো বিষয়গুলো সাংবাদিকদের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের মাধ্যমে জনসম্মুখে উঠে আসে। ফলে প্রশাসন ও দায়িত্বশীল মহল জবাবদিহিতার আওতায় আসে।বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বাধীন ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা ছাড়া একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র কখনোই সুস্থভাবে পরিচালিত হতে পারে না। কারণ গণমাধ্যমই জনগণ ও রাষ্ট্রের মধ্যকার অন্যতম সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করে।বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তির যুগে সাংবাদিকতার পরিধি আরও বিস্তৃত হয়েছে। প্রিন্ট, টেলিভিশন ও অনলাইন গণমাধ্যমের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সংবাদ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। তবে দ্রুততার এই প্রতিযোগিতায় বস্তুনিষ্ঠতা ও নৈতিকতার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন গণমাধ্যম বিশ্লেষকরা।সাংবাদিক সমাজের দায়িত্বশীল ভূমিকা সমাজে শান্তি, সম্প্রীতি ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। তাই রাষ্ট্র ও সমাজের কল্যাণে স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার বিকাশ সময়ের দাবি বলে মনে করছেন সচেতন মহল।