বিশেষজ্ঞদের মতে, একজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি প্রতিদিন মাত্র ৫০ গ্রাম বাতাবি লেবু খেলেই দৈনন্দিন ভিটামিন ‘সি’-এর চাহিদা পূরণ করা সম্ভব। শিশুদের ক্ষেত্রে প্রতিদিন প্রয়োজন ২০ মিলিগ্রাম এবং গর্ভবতী ও প্রসূতি নারীদের জন্য প্রয়োজন ৫০ মিলিগ্রাম ভিটামিন ‘সি’। এটি স্কার্ভি রোগ প্রতিরোধে সহায়ক এবং দাঁত, মাড়ি ও পেশি মজবুত করে। একই সঙ্গে দেহের রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে ক্ষত নিরাময়েও কার্যকর ভূমিকা রাখে।
বাতাবি লেবুর উন্নত জাত ‘বারি বাতাবি লেবু’-র গাছ ছাতার মতো আকৃতির, পাতা গাঢ় সবুজ এবং ডানাযুক্ত। গাছে নিয়মিত ফল ধরে। সাধারণত ফেব্রুয়ারি মাসে ফুল আসে এবং সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাসে ফল সংগ্রহ উপযোগী হয়। একটি পরিপক্ব গাছে বছরে গড়ে ৫০-৫৫টি পর্যন্ত ফল ধরে। প্রতিটি ফলের ওজন ৮৫০ থেকে ১১০০ গ্রামের মধ্যে হয়ে থাকে। শাঁস সাদা, রসালো ও সুস্বাদু। এই ফল মিষ্টি এবং একেবারেই তিতাবিহীন।
চাষের জন্য হালকা দো-আঁশ থেকে পলি দো-আঁশযুক্ত, সুনিষ্কাশিত ও জৈব পদার্থ সমৃদ্ধ মাটি সবচেয়ে উপযোগী। উঁচু ও মাঝারি উঁচু জমিতে চারা রোপণ করতে হয়। গুটি কলম, জোড় কলম এবং চোখ কলমের মাধ্যমে গাছের বংশবিস্তার করা হয়। চারা রোপণের আদর্শ সময় জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।
প্রতিটি গর্তে ১০-১৫ কেজি জৈব সার, ২৫০ গ্রাম টিএসপি এবং ২৫০ গ্রাম এমপি সার প্রয়োগের পর তা ভালোভাবে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে গর্ত ভরাট করতে হয়। সার গাছের গোড়ায় না দিয়ে ডালপালার বিস্তৃত এলাকায় প্রয়োগ করা উত্তম। গাছের গোড়া আগাছামুক্ত রাখা এবং নিয়মিত হালকা চাষাবাদ করলে চারা দ্রুত বৃদ্ধি পায়।
ফুল আসা ও ফল ধরার সময় পর্যাপ্ত পানি সরবরাহ করতে হয়, নতুবা ফল ঝরে পড়ে যেতে পারে। তাই খরার সময় ১০-১৫ দিন পরপর সেচ প্রয়োজন হয়। জলাবদ্ধতা সহ্য না করায় বর্ষায় সঠিক পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করতে হয়।
উপজেলার কৃষি বিভাগ জানায়, ডুমুরিয়ার জলবায়ু ও মাটি বাতাবি লেবু চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। কৃষকরা আধুনিক পদ্ধতিতে চাষ করলে অল্প খরচে বেশি ফলন পেতে পারেন। ইতিমধ্যে কয়েকজন কৃষক পরীক্ষামূলকভাবে চাষ করে সফল হয়েছেন।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সরকারি সহায়তা ও প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা হলে ডুমুরিয়ায় বাণিজ্যিকভাবে লেবু চাষ নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে এবং কৃষি-ভিত্তিক অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম হবে।

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৫ জুলাই ২০২৫
বিশেষজ্ঞদের মতে, একজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি প্রতিদিন মাত্র ৫০ গ্রাম বাতাবি লেবু খেলেই দৈনন্দিন ভিটামিন ‘সি’-এর চাহিদা পূরণ করা সম্ভব। শিশুদের ক্ষেত্রে প্রতিদিন প্রয়োজন ২০ মিলিগ্রাম এবং গর্ভবতী ও প্রসূতি নারীদের জন্য প্রয়োজন ৫০ মিলিগ্রাম ভিটামিন ‘সি’। এটি স্কার্ভি রোগ প্রতিরোধে সহায়ক এবং দাঁত, মাড়ি ও পেশি মজবুত করে। একই সঙ্গে দেহের রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে ক্ষত নিরাময়েও কার্যকর ভূমিকা রাখে।
বাতাবি লেবুর উন্নত জাত ‘বারি বাতাবি লেবু’-র গাছ ছাতার মতো আকৃতির, পাতা গাঢ় সবুজ এবং ডানাযুক্ত। গাছে নিয়মিত ফল ধরে। সাধারণত ফেব্রুয়ারি মাসে ফুল আসে এবং সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাসে ফল সংগ্রহ উপযোগী হয়। একটি পরিপক্ব গাছে বছরে গড়ে ৫০-৫৫টি পর্যন্ত ফল ধরে। প্রতিটি ফলের ওজন ৮৫০ থেকে ১১০০ গ্রামের মধ্যে হয়ে থাকে। শাঁস সাদা, রসালো ও সুস্বাদু। এই ফল মিষ্টি এবং একেবারেই তিতাবিহীন।
চাষের জন্য হালকা দো-আঁশ থেকে পলি দো-আঁশযুক্ত, সুনিষ্কাশিত ও জৈব পদার্থ সমৃদ্ধ মাটি সবচেয়ে উপযোগী। উঁচু ও মাঝারি উঁচু জমিতে চারা রোপণ করতে হয়। গুটি কলম, জোড় কলম এবং চোখ কলমের মাধ্যমে গাছের বংশবিস্তার করা হয়। চারা রোপণের আদর্শ সময় জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।
প্রতিটি গর্তে ১০-১৫ কেজি জৈব সার, ২৫০ গ্রাম টিএসপি এবং ২৫০ গ্রাম এমপি সার প্রয়োগের পর তা ভালোভাবে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে গর্ত ভরাট করতে হয়। সার গাছের গোড়ায় না দিয়ে ডালপালার বিস্তৃত এলাকায় প্রয়োগ করা উত্তম। গাছের গোড়া আগাছামুক্ত রাখা এবং নিয়মিত হালকা চাষাবাদ করলে চারা দ্রুত বৃদ্ধি পায়।
ফুল আসা ও ফল ধরার সময় পর্যাপ্ত পানি সরবরাহ করতে হয়, নতুবা ফল ঝরে পড়ে যেতে পারে। তাই খরার সময় ১০-১৫ দিন পরপর সেচ প্রয়োজন হয়। জলাবদ্ধতা সহ্য না করায় বর্ষায় সঠিক পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করতে হয়।
উপজেলার কৃষি বিভাগ জানায়, ডুমুরিয়ার জলবায়ু ও মাটি বাতাবি লেবু চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। কৃষকরা আধুনিক পদ্ধতিতে চাষ করলে অল্প খরচে বেশি ফলন পেতে পারেন। ইতিমধ্যে কয়েকজন কৃষক পরীক্ষামূলকভাবে চাষ করে সফল হয়েছেন।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সরকারি সহায়তা ও প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা হলে ডুমুরিয়ায় বাণিজ্যিকভাবে লেবু চাষ নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে এবং কৃষি-ভিত্তিক অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম হবে।

আপনার মতামত লিখুন