ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত আমিরুল ইসলাম বাবলু। ১৯৯২ সালে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালেই ছাত্র রাজনীতির সূচনা করেন তিনি। ওই সময় তিনি ফিজিক্স বিভাগের ছাত্রদলের আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
তিনি জানান, ১/১১ পরবর্তী সময়ে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগারে পাঠানোর প্রতিবাদে রাজপথের আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। ২০০৮ সালের পর থেকে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বিএনপির ঘোষিত বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে সামনের সারিতে থেকে নেতৃত্ব দেন। পুলিশের গুলি, টিয়ারশেল উপেক্ষা করে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আন্দোলনে অংশ নেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে তৎকালীন সরকারের সময় তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টার্গেটে পরিণত হন। তার বিরুদ্ধে প্রায় অর্ধশতাধিক মামলা দায়ের করা হয়। এছাড়া একাধিকবার হামলার শিকার হওয়ার কথাও জানান তিনি। ২০১৩-২০১৪ সালে তার মালিকানাধীন গার্মেন্টস প্রতিষ্ঠান ‘দি জানা সুয়েটার্স লিমিটেড’-এ হামলা ও পুলিশি অভিযানের ফলে প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ হয়ে যায়। ২০১৬ সালে দক্ষিণখানে তার বাসভবনে হামলার ঘটনাও ঘটে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার পাশে থেকে রাজপথে সক্রিয় ছিলেন এবং আন্দোলনের শেষ পর্যন্ত অবস্থান করেন।
পরবর্তীতে বিভিন্ন ধাপ অতিক্রম করে ২০১৪ সালে সাবেক ১ নম্বর ওয়ার্ড (বর্তমান ৪৮ নম্বর ওয়ার্ড) বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হন। তার নেতৃত্বগুণের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১৫ সালে তাকে দক্ষিণখান থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক করা হয়। দক্ষতা ও সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের কারণে ২০১৮ সালেও পুনরায় একই দায়িত্ব পান। দলের নেতাকর্মীদের কাছে তিনি একজন দক্ষ ও পরিচ্ছন্ন রাজনীতিবিদ হিসেবে সুপরিচিত।
বর্তমানে তিনি দক্ষিণখান থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। রাজনীতির পাশাপাশি সামাজিক উন্নয়ন কর্মকাণ্ডেও পিছিয়ে নেই তিনি। ধর্মীয় ক্ষেত্রেও সম্পৃক্ততা রয়েছে তার—নগরবাড়ি মোহাম্মদীয় জামে মসজিদ কমিটির একজন সক্রিয় সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পেশাগতভাবে তিনি একজন ব্যবসায়ী।
বাবলু জানান, শৈশবে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ার সময় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে সরাসরি দেখার অভিজ্ঞতা তাকে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করে। সেই অনুপ্রেরণা থেকেই দেশের উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণে কাজ করার আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে তিনি বলেন, স্বৈরাচারী শাসনের সময় রাষ্ট্রের বিভিন্ন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দুর্নীতি, অর্থপাচার ও স্বজনপ্রীতির কারণে দেশ অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বিএনপির নেতৃত্বে দেশ একটি সমৃদ্ধ অর্থনীতির দিকে এগিয়ে যাবে।
বিরোধী রাজনীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “বিরোধী দলের সঙ্গে বিএনপির কোনো সংঘাত নেই। প্রত্যেক দলের নিজস্ব আদর্শ আছে, সবাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে রাজনীতি করবে।”
নিজ এলাকার উন্নয়ন নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, দক্ষিণখানের ৪৮ নম্বর ওয়ার্ডে গত ১৬–১৭ বছরে উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন হয়নি। রাস্তাঘাট, ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও ল্যাম্পপোস্টের মতো মৌলিক নাগরিক সুবিধার ঘাটতি রয়েছে।
তিনি অভিযোগ করেন, নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত না হলেও বাসিন্দাদের কাছে হোল্ডিং ট্যাক্স আদায়ের নোটিশ পাঠানো হচ্ছে, যা এলাকাবাসীর মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে। তিনি বলেন, “আগে নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে, তারপর ট্যাক্স আদায় করা উচিত।”
এ বিষয়ে ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন সংসদে বিষয়টি উত্থাপন করেছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন। পাশাপাশি উত্তরা ৬ নম্বর সেক্টরের সিটি কর্পোরেশন কার্যালয়ে একটি বৈঠকের কথাও জানান তিনি, যেখানে এলাকার উন্নয়ন নিয়ে প্রশাসনের কাছে দাবি তুলে ধরা হয়েছে।
সামাজিক নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একটি নিরাপদ সমাজ গড়ে তোলা জরুরি, যেখানে মানুষ নিজ এলাকায় নিরাপদে বসবাস করতে পারে। কিশোর গ্যাং ও মাদক সমস্যার বিরুদ্ধে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার ওপর জোর দেন তিনি।
বেকারত্ব সমস্যা সমাধানে তিনি শিক্ষার পাশাপাশি কর্মসংস্থানের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তার মতে, “সুশিক্ষা ও কর্মসংস্থান তৈরি হলে যুবসমাজ দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে।”
সিটি নির্বাচনে কৌশল হিসেবে তিনি জনগণের সমর্থন অর্জনকেই প্রধান লক্ষ্য হিসেবে দেখছেন।
রাজনীতির বাইরে খেলাধুলা পছন্দ করেন তিনি। শিশুদের সঙ্গে সময় কাটাতে ও গল্প করতে ভালোবাসেন বলেও জানান।
তরুণদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আজকের তরুণরাই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। দেশকে এগিয়ে নিতে তাদের এগিয়ে আসতে হবে এবং আর কখনো যেন দেশে স্বৈরাচার প্রতিষ্ঠিত না হয়।”

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৫ এপ্রিল ২০২৬
ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত আমিরুল ইসলাম বাবলু। ১৯৯২ সালে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালেই ছাত্র রাজনীতির সূচনা করেন তিনি। ওই সময় তিনি ফিজিক্স বিভাগের ছাত্রদলের আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
তিনি জানান, ১/১১ পরবর্তী সময়ে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগারে পাঠানোর প্রতিবাদে রাজপথের আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। ২০০৮ সালের পর থেকে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বিএনপির ঘোষিত বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে সামনের সারিতে থেকে নেতৃত্ব দেন। পুলিশের গুলি, টিয়ারশেল উপেক্ষা করে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আন্দোলনে অংশ নেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে তৎকালীন সরকারের সময় তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টার্গেটে পরিণত হন। তার বিরুদ্ধে প্রায় অর্ধশতাধিক মামলা দায়ের করা হয়। এছাড়া একাধিকবার হামলার শিকার হওয়ার কথাও জানান তিনি। ২০১৩-২০১৪ সালে তার মালিকানাধীন গার্মেন্টস প্রতিষ্ঠান ‘দি জানা সুয়েটার্স লিমিটেড’-এ হামলা ও পুলিশি অভিযানের ফলে প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ হয়ে যায়। ২০১৬ সালে দক্ষিণখানে তার বাসভবনে হামলার ঘটনাও ঘটে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার পাশে থেকে রাজপথে সক্রিয় ছিলেন এবং আন্দোলনের শেষ পর্যন্ত অবস্থান করেন।
পরবর্তীতে বিভিন্ন ধাপ অতিক্রম করে ২০১৪ সালে সাবেক ১ নম্বর ওয়ার্ড (বর্তমান ৪৮ নম্বর ওয়ার্ড) বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হন। তার নেতৃত্বগুণের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১৫ সালে তাকে দক্ষিণখান থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক করা হয়। দক্ষতা ও সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের কারণে ২০১৮ সালেও পুনরায় একই দায়িত্ব পান। দলের নেতাকর্মীদের কাছে তিনি একজন দক্ষ ও পরিচ্ছন্ন রাজনীতিবিদ হিসেবে সুপরিচিত।
বর্তমানে তিনি দক্ষিণখান থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। রাজনীতির পাশাপাশি সামাজিক উন্নয়ন কর্মকাণ্ডেও পিছিয়ে নেই তিনি। ধর্মীয় ক্ষেত্রেও সম্পৃক্ততা রয়েছে তার—নগরবাড়ি মোহাম্মদীয় জামে মসজিদ কমিটির একজন সক্রিয় সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পেশাগতভাবে তিনি একজন ব্যবসায়ী।
বাবলু জানান, শৈশবে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ার সময় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে সরাসরি দেখার অভিজ্ঞতা তাকে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করে। সেই অনুপ্রেরণা থেকেই দেশের উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণে কাজ করার আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে তিনি বলেন, স্বৈরাচারী শাসনের সময় রাষ্ট্রের বিভিন্ন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দুর্নীতি, অর্থপাচার ও স্বজনপ্রীতির কারণে দেশ অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বিএনপির নেতৃত্বে দেশ একটি সমৃদ্ধ অর্থনীতির দিকে এগিয়ে যাবে।
বিরোধী রাজনীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “বিরোধী দলের সঙ্গে বিএনপির কোনো সংঘাত নেই। প্রত্যেক দলের নিজস্ব আদর্শ আছে, সবাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে রাজনীতি করবে।”
নিজ এলাকার উন্নয়ন নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, দক্ষিণখানের ৪৮ নম্বর ওয়ার্ডে গত ১৬–১৭ বছরে উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন হয়নি। রাস্তাঘাট, ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও ল্যাম্পপোস্টের মতো মৌলিক নাগরিক সুবিধার ঘাটতি রয়েছে।
তিনি অভিযোগ করেন, নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত না হলেও বাসিন্দাদের কাছে হোল্ডিং ট্যাক্স আদায়ের নোটিশ পাঠানো হচ্ছে, যা এলাকাবাসীর মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে। তিনি বলেন, “আগে নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে, তারপর ট্যাক্স আদায় করা উচিত।”
এ বিষয়ে ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন সংসদে বিষয়টি উত্থাপন করেছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন। পাশাপাশি উত্তরা ৬ নম্বর সেক্টরের সিটি কর্পোরেশন কার্যালয়ে একটি বৈঠকের কথাও জানান তিনি, যেখানে এলাকার উন্নয়ন নিয়ে প্রশাসনের কাছে দাবি তুলে ধরা হয়েছে।
সামাজিক নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একটি নিরাপদ সমাজ গড়ে তোলা জরুরি, যেখানে মানুষ নিজ এলাকায় নিরাপদে বসবাস করতে পারে। কিশোর গ্যাং ও মাদক সমস্যার বিরুদ্ধে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার ওপর জোর দেন তিনি।
বেকারত্ব সমস্যা সমাধানে তিনি শিক্ষার পাশাপাশি কর্মসংস্থানের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তার মতে, “সুশিক্ষা ও কর্মসংস্থান তৈরি হলে যুবসমাজ দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে।”
সিটি নির্বাচনে কৌশল হিসেবে তিনি জনগণের সমর্থন অর্জনকেই প্রধান লক্ষ্য হিসেবে দেখছেন।
রাজনীতির বাইরে খেলাধুলা পছন্দ করেন তিনি। শিশুদের সঙ্গে সময় কাটাতে ও গল্প করতে ভালোবাসেন বলেও জানান।
তরুণদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আজকের তরুণরাই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। দেশকে এগিয়ে নিতে তাদের এগিয়ে আসতে হবে এবং আর কখনো যেন দেশে স্বৈরাচার প্রতিষ্ঠিত না হয়।”

আপনার মতামত লিখুন