নজর বিডি

পার্টনার ফিল্ড স্কুল বদলে দিচ্ছে নড়াইলের কৃষি চিত্র

পার্টনার ফিল্ড স্কুল বদলে দিচ্ছে নড়াইলের কৃষি চিত্র

জ্ঞানে স্বাবলম্বী হচ্ছেন কৃষক-কৃষাণীরা, গড়ে উঠছে উদ্যোক্তা ও সমবায় ভিত্তিক কৃষি উদ্যোগ

গ্রামীণ কৃষিকে আধুনিক ও উদ্যোক্তামুখী করতে নড়াইলে ‘পার্টনার ফিল্ড স্কুল’ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। যেখানে বই-খাতা নয়, হাতে ধরা হচ্ছে কাস্তে-বীজ-সার, কলমের জায়গা নিচ্ছে বাস্তব অভিজ্ঞতা ও চাষের কলাকৌশল। এই স্কুলে শিক্ষার্থীরা কেউ তরুণ, কেউ পঞ্চাশোর্ধ্ব; কিন্তু সবার চোখেই শেখার আগ্রহ, বদলে দেওয়ার প্রত্যয়।

১০ দিনব্যাপী রবি মৌসুমভিত্তিক প্রশিক্ষণ

কৃষি মন্ত্রণালয়ের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ‘পার্টনার’ প্রকল্পের আওতায় জেলার সদর, কালিয়া ও লোহাগড়া উপজেলায় এসব ফিল্ড স্কুল ও কৃষক সেবা কেন্দ্র গড়ে তোলা হয়েছে।
প্রতি গ্রুপে ২৫ জন করে নারী-পুরুষ কৃষক-কৃষাণী ১০ দিনব্যাপী ‘রবি প্রকল্প’ভিত্তিক প্রশিক্ষণ পাচ্ছেন। প্রশিক্ষণার্থী প্রত্যেকে পাচ্ছেন ২ হাজার টাকা ভাতা, নাস্তা এবং প্রশিক্ষণ শেষে একটি সনদপত্র।

মাঠ পর্যায়ের সাড়া: শেখার আগ্রহ, বাস্তব প্রয়োগের প্রত্যয়

কালিয়া উপজেলার উড়সী গ্রামের ‘পার্টনার ফিল্ড স্কুল’-এর প্রশিক্ষণার্থী আজিজুল গাজী বলেন,

“বাপ-দাদার আমল থেকে কৃষি করি, কিন্তু এখানে এসে নতুন অনেক কিছু শিখলাম। জমিতে এসব প্রয়োগ করে উপকার পাবো।”
তিনি আরও বলেন,
“কৃষি অফিসার ইভা মল্লিক আপা নিয়মিত এসে আমাদের খোঁজখবর নেন, উৎসাহ দেন।”

একই স্কুলের শেফালী বেগম বলেন,

“আমরা দশটি ক্লাস করেছি। সবাই সঠিকভাবে টাকা ও নাস্তা পেয়েছি। সরকারের কাছে আমরা কৃতজ্ঞ।”

বাঁকা গ্রামের আরেক প্রশিক্ষণার্থী আছিয়া খানম বলেন,

“এই স্কুলে কীটনাশক, বালাই ব্যবস্থাপনা, বীজ সংরক্ষণের পদ্ধতি শিখেছি। সরকার আমাদের টাকা ও সনদ দিয়েছে। নিয়মিত খোঁজও নিয়েছে।”

পরিকল্পিতভাবে বাস্তবায়ন: কৃষি অফিসের উদ্যোগ

কালিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইভা মল্লিক জানান,

“গত জুনে কালিয়া উপজেলায় ১৪টি ফিল্ড স্কুল চালু ছিল। প্রতিটি স্কুলে ভাতার টাকা ও নাস্তা যথাযথভাবে বিতরণ করা হয়েছে।
প্রতিটি স্কুলভিত্তিক কৃষকদের নিয়ে সমবায় সমিতি গঠিত হয়েছে ও ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে। পরবর্তী কার্যক্রম কৃষি অফিসের তত্ত্বাবধানে চলবে।”

তিনি আরও বলেন,

“এই প্রকল্পের মাধ্যমে কৃষকদের আত্মনির্ভরশীল করা ও উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলাই আমাদের মূল লক্ষ্য।”

জেলার প্রতিক্রিয়া: কৃষিকে বদলে দিচ্ছে হাতে-কলমে শিক্ষা

নড়াইল জেলার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. জসিম উদ্দিন বলেন,

“পার্টনার ফিল্ড স্কুলের মাধ্যমে কৃষক-কৃষাণীরা হাতে-কলমে বীজ উৎপাদন, আধুনিক চাষাবাদের কৌশল শিখছে।
সমবায় ভিত্তিক সংগঠন গড়ে তুলে তারা এখন কৃষি উদ্যোগেও অংশ নিচ্ছেন।”

পার্টনার ফিল্ড স্কুলের মতো প্রকল্প শুধু প্রশিক্ষণ নয়, প্রান্তিক কৃষকদের আত্মবিশ্বাস ও সক্ষমতা বৃদ্ধিরও অনন্য উদাহরণ। এ প্রকল্পের সফল বাস্তবায়ন হলে নড়াইলের কৃষিতে আসবে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন—উৎপাদনে বাড়বে দক্ষতা, আর কৃষক হবেন প্রকৃত অর্থে স্বাবলম্বী।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
নজর বিডি

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬


পার্টনার ফিল্ড স্কুল বদলে দিচ্ছে নড়াইলের কৃষি চিত্র

প্রকাশের তারিখ : ০২ আগস্ট ২০২৫

featured Image

জ্ঞানে স্বাবলম্বী হচ্ছেন কৃষক-কৃষাণীরা, গড়ে উঠছে উদ্যোক্তা ও সমবায় ভিত্তিক কৃষি উদ্যোগ

গ্রামীণ কৃষিকে আধুনিক ও উদ্যোক্তামুখী করতে নড়াইলে ‘পার্টনার ফিল্ড স্কুল’ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। যেখানে বই-খাতা নয়, হাতে ধরা হচ্ছে কাস্তে-বীজ-সার, কলমের জায়গা নিচ্ছে বাস্তব অভিজ্ঞতা ও চাষের কলাকৌশল। এই স্কুলে শিক্ষার্থীরা কেউ তরুণ, কেউ পঞ্চাশোর্ধ্ব; কিন্তু সবার চোখেই শেখার আগ্রহ, বদলে দেওয়ার প্রত্যয়।

১০ দিনব্যাপী রবি মৌসুমভিত্তিক প্রশিক্ষণ

কৃষি মন্ত্রণালয়ের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ‘পার্টনার’ প্রকল্পের আওতায় জেলার সদর, কালিয়া ও লোহাগড়া উপজেলায় এসব ফিল্ড স্কুল ও কৃষক সেবা কেন্দ্র গড়ে তোলা হয়েছে।
প্রতি গ্রুপে ২৫ জন করে নারী-পুরুষ কৃষক-কৃষাণী ১০ দিনব্যাপী ‘রবি প্রকল্প’ভিত্তিক প্রশিক্ষণ পাচ্ছেন। প্রশিক্ষণার্থী প্রত্যেকে পাচ্ছেন ২ হাজার টাকা ভাতা, নাস্তা এবং প্রশিক্ষণ শেষে একটি সনদপত্র।

মাঠ পর্যায়ের সাড়া: শেখার আগ্রহ, বাস্তব প্রয়োগের প্রত্যয়

কালিয়া উপজেলার উড়সী গ্রামের ‘পার্টনার ফিল্ড স্কুল’-এর প্রশিক্ষণার্থী আজিজুল গাজী বলেন,

“বাপ-দাদার আমল থেকে কৃষি করি, কিন্তু এখানে এসে নতুন অনেক কিছু শিখলাম। জমিতে এসব প্রয়োগ করে উপকার পাবো।”
তিনি আরও বলেন,
“কৃষি অফিসার ইভা মল্লিক আপা নিয়মিত এসে আমাদের খোঁজখবর নেন, উৎসাহ দেন।”

একই স্কুলের শেফালী বেগম বলেন,

“আমরা দশটি ক্লাস করেছি। সবাই সঠিকভাবে টাকা ও নাস্তা পেয়েছি। সরকারের কাছে আমরা কৃতজ্ঞ।”

বাঁকা গ্রামের আরেক প্রশিক্ষণার্থী আছিয়া খানম বলেন,

“এই স্কুলে কীটনাশক, বালাই ব্যবস্থাপনা, বীজ সংরক্ষণের পদ্ধতি শিখেছি। সরকার আমাদের টাকা ও সনদ দিয়েছে। নিয়মিত খোঁজও নিয়েছে।”

পরিকল্পিতভাবে বাস্তবায়ন: কৃষি অফিসের উদ্যোগ

কালিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইভা মল্লিক জানান,

“গত জুনে কালিয়া উপজেলায় ১৪টি ফিল্ড স্কুল চালু ছিল। প্রতিটি স্কুলে ভাতার টাকা ও নাস্তা যথাযথভাবে বিতরণ করা হয়েছে।
প্রতিটি স্কুলভিত্তিক কৃষকদের নিয়ে সমবায় সমিতি গঠিত হয়েছে ও ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে। পরবর্তী কার্যক্রম কৃষি অফিসের তত্ত্বাবধানে চলবে।”

তিনি আরও বলেন,

“এই প্রকল্পের মাধ্যমে কৃষকদের আত্মনির্ভরশীল করা ও উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলাই আমাদের মূল লক্ষ্য।”

জেলার প্রতিক্রিয়া: কৃষিকে বদলে দিচ্ছে হাতে-কলমে শিক্ষা

নড়াইল জেলার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. জসিম উদ্দিন বলেন,

“পার্টনার ফিল্ড স্কুলের মাধ্যমে কৃষক-কৃষাণীরা হাতে-কলমে বীজ উৎপাদন, আধুনিক চাষাবাদের কৌশল শিখছে।
সমবায় ভিত্তিক সংগঠন গড়ে তুলে তারা এখন কৃষি উদ্যোগেও অংশ নিচ্ছেন।”

পার্টনার ফিল্ড স্কুলের মতো প্রকল্প শুধু প্রশিক্ষণ নয়, প্রান্তিক কৃষকদের আত্মবিশ্বাস ও সক্ষমতা বৃদ্ধিরও অনন্য উদাহরণ। এ প্রকল্পের সফল বাস্তবায়ন হলে নড়াইলের কৃষিতে আসবে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন—উৎপাদনে বাড়বে দক্ষতা, আর কৃষক হবেন প্রকৃত অর্থে স্বাবলম্বী।


নজর বিডি

উপদেষ্টা সম্পাদক: মো: ইব্রাহিম খলিল। 
সম্পাদক: মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম। 
লিগ্যাল এডভাইজার: মাহমুদুর রহমান সুইট- এম.কম, এল এল বি, এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট।


 

কপিরাইট © ২০২৬ নজর বিডি সর্বস্ব সংরক্ষিত