নজর বিডি

নিধির ডাক্তার হবার স্বপ্ন এখন কবরের মাটিতে

নিধির ডাক্তার হবার স্বপ্ন এখন কবরের মাটিতে

মাইলস্টোন ট্র্যাজেডি: “আমি আমার মেয়েকে জীবিত চাই, নইলে ক্ষতিপূরণ চাই” — নিহত শিক্ষার্থী নিধির বাবা

মনির হোসেন জীবন, বিশেষ সংবাদদাতা:
তুরাগ, ঢাকা │ স্বপ্ন ছিল ডাক্তার হয়ে মানুষের সেবা করবে। কিন্তু সেই স্বপ্ন এখন কবরের মাটিতে। রাজধানীর উত্তরা-তুরাগের দিয়াবাড়িতে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ক্যাম্পাসে বিমান দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো তৃতীয় শ্রেণির মেধাবী শিক্ষার্থী ওকিয়া ফেরদৌস নিধির বাবা ফারুক হোসেন আজও বিশ্বাস করতে পারছেন না—তার স্নেহের সন্তান আর ফিরে আসবে না।

শোকাহত বাবার আকুতি

কান্না জড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন—

“আমি এখন কী নিয়ে বাঁচব? আমার আদরের সন্তান নিধি এবং মেয়ের ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন চুরমার হয়ে গেছে। আমি আমার মেয়েকে জীবিত অবস্থায় ফেরত চাই; নইলে ক্ষতিপূরণ চাই।”

আজ বুধবার (১৩ আগস্ট ২০২৫) তুরাগের চন্ডাল ভোগ গ্রামে এই প্রতিবেদকের সাথে একান্ত সাক্ষাৎকারে ফারুক হোসেন বারবার আবেগে ভেঙে পড়েন।

দুর্ঘটনার দিন

২১ জুলাই ২০২৫, সকাল। প্রতিদিনের মতো নিধি মায়ের সাথে স্কুলে যায়। ক্যান্টিন থেকে বার্গার ও দুটি খাতা কিনে দেন মা। দুপুরে বাবা ভাত, মুরগির মাংস ও কুকের বোতল দিয়ে যান মেয়ের হাতে। বিকেলে বাবা বাড়ি ফেরেন। কিছুক্ষণ পরই আসে মর্মান্তিক খবর—স্কুলে বিমান বিধ্বস্ত।

ফারুক হোসেন স্মৃতিচারণ করেন—
“সংবাদ শুনে পাগলের মতো স্কুলে দৌঁড়ে যাই। কোথাও মেয়েকে খুঁজে না পেয়ে জ্ঞান হারাই। পরে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে খোঁজ করি। অবশেষে সিএমএইচে গিয়ে আমার মেয়ের মরদেহ পাই। ডিএনএ টেস্টের পর মরদেহ বাসায় এনে সেদিন রাতেই কবরস্থ করি।”

নিধির স্বপ্ন ও ভালোবাসা

ফারুক হোসেন বলেন, “আমার তিন মেয়ের মধ্যে নিধি ছিল সবার ছোট। বড় হয়ে সে চিকিৎসক হতে চেয়েছিল। পড়াশোনায় মনোযোগী ছিল, ছবি আঁকতে ভালোবাসতো। মুরগির রোস্ট, বিরিয়ানি, পিৎজা, বার্গার, সেন্টুজ, চটপটি ও ফুচকা ছিল তার প্রিয় খাবার।”

ক্ষতিপূরণের দাবি

বিএনপি নেতারা বাসায় এসে সমবেদনা জানিয়েছেন বলে জানান ফারুক হোসেন। তবে এখন পর্যন্ত কেউ আর্থিক সাহায্য দেননি। তার দাবি—

“সরকারি ভাবে নিহত প্রতি পরিবারকে ৫ কোটি টাকা এবং মাইলস্টোন কর্তৃপক্ষ ২ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দিক।”

উল্লেখ্য, ২১ জুলাই ২০২৫ দুপুরে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ক্যাম্পাসে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়ে এখন পর্যন্ত ৩৩ জন নিহত ও শতাধিক আহত হয়েছেন। বিমানের পাইলট ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মো. তৌকির ইসলামও প্রাণ হারান।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
নজর বিডি

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬


নিধির ডাক্তার হবার স্বপ্ন এখন কবরের মাটিতে

প্রকাশের তারিখ : ১৩ আগস্ট ২০২৫

featured Image

মাইলস্টোন ট্র্যাজেডি: “আমি আমার মেয়েকে জীবিত চাই, নইলে ক্ষতিপূরণ চাই” — নিহত শিক্ষার্থী নিধির বাবা

মনির হোসেন জীবন, বিশেষ সংবাদদাতা:
তুরাগ, ঢাকা │ স্বপ্ন ছিল ডাক্তার হয়ে মানুষের সেবা করবে। কিন্তু সেই স্বপ্ন এখন কবরের মাটিতে। রাজধানীর উত্তরা-তুরাগের দিয়াবাড়িতে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ক্যাম্পাসে বিমান দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো তৃতীয় শ্রেণির মেধাবী শিক্ষার্থী ওকিয়া ফেরদৌস নিধির বাবা ফারুক হোসেন আজও বিশ্বাস করতে পারছেন না—তার স্নেহের সন্তান আর ফিরে আসবে না।

শোকাহত বাবার আকুতি

কান্না জড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন—

“আমি এখন কী নিয়ে বাঁচব? আমার আদরের সন্তান নিধি এবং মেয়ের ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন চুরমার হয়ে গেছে। আমি আমার মেয়েকে জীবিত অবস্থায় ফেরত চাই; নইলে ক্ষতিপূরণ চাই।”

আজ বুধবার (১৩ আগস্ট ২০২৫) তুরাগের চন্ডাল ভোগ গ্রামে এই প্রতিবেদকের সাথে একান্ত সাক্ষাৎকারে ফারুক হোসেন বারবার আবেগে ভেঙে পড়েন।

দুর্ঘটনার দিন

২১ জুলাই ২০২৫, সকাল। প্রতিদিনের মতো নিধি মায়ের সাথে স্কুলে যায়। ক্যান্টিন থেকে বার্গার ও দুটি খাতা কিনে দেন মা। দুপুরে বাবা ভাত, মুরগির মাংস ও কুকের বোতল দিয়ে যান মেয়ের হাতে। বিকেলে বাবা বাড়ি ফেরেন। কিছুক্ষণ পরই আসে মর্মান্তিক খবর—স্কুলে বিমান বিধ্বস্ত।

ফারুক হোসেন স্মৃতিচারণ করেন—
“সংবাদ শুনে পাগলের মতো স্কুলে দৌঁড়ে যাই। কোথাও মেয়েকে খুঁজে না পেয়ে জ্ঞান হারাই। পরে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে খোঁজ করি। অবশেষে সিএমএইচে গিয়ে আমার মেয়ের মরদেহ পাই। ডিএনএ টেস্টের পর মরদেহ বাসায় এনে সেদিন রাতেই কবরস্থ করি।”

নিধির স্বপ্ন ও ভালোবাসা

ফারুক হোসেন বলেন, “আমার তিন মেয়ের মধ্যে নিধি ছিল সবার ছোট। বড় হয়ে সে চিকিৎসক হতে চেয়েছিল। পড়াশোনায় মনোযোগী ছিল, ছবি আঁকতে ভালোবাসতো। মুরগির রোস্ট, বিরিয়ানি, পিৎজা, বার্গার, সেন্টুজ, চটপটি ও ফুচকা ছিল তার প্রিয় খাবার।”

ক্ষতিপূরণের দাবি

বিএনপি নেতারা বাসায় এসে সমবেদনা জানিয়েছেন বলে জানান ফারুক হোসেন। তবে এখন পর্যন্ত কেউ আর্থিক সাহায্য দেননি। তার দাবি—

“সরকারি ভাবে নিহত প্রতি পরিবারকে ৫ কোটি টাকা এবং মাইলস্টোন কর্তৃপক্ষ ২ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দিক।”

উল্লেখ্য, ২১ জুলাই ২০২৫ দুপুরে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ক্যাম্পাসে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়ে এখন পর্যন্ত ৩৩ জন নিহত ও শতাধিক আহত হয়েছেন। বিমানের পাইলট ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মো. তৌকির ইসলামও প্রাণ হারান।


নজর বিডি

উপদেষ্টা সম্পাদক: মো: ইব্রাহিম খলিল। 
সম্পাদক: মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম। 
লিগ্যাল এডভাইজার: মাহমুদুর রহমান সুইট- এম.কম, এল এল বি, এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট।


 

কপিরাইট © ২০২৬ নজর বিডি সর্বস্ব সংরক্ষিত