নজর বিডি

সারাদেশের মডেল: অটোরিকশা-মুক্ত নিকুঞ্জ

সারাদেশের মডেল: অটোরিকশা-মুক্ত নিকুঞ্জ

অবশেষে স্বস্তিতে নিকুঞ্জবাসী

রাজধানীর ব্যস্ততার মাঝেও যেন এক শান্তির ঠিকানা—নিকুঞ্জ। এলাকাবাসীর ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা ও সাহসিকতার ফলে খিলক্ষেতের নিকুঞ্জে গত ছয় মাস ধরে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ। একসময় এই অটোরিকশাগুলো কোমলমতি শিশু, প্রবীণ ও পথচারীদের জন্য ছিল আতঙ্কের নাম। এখন সেই ভয় আর নেই। আজ নিকুঞ্জের রাস্তায় পথচারীরা নিশ্চিন্তে হাঁটেন, শিশুরা সাইকেল চালিয়ে আনন্দে ঘুরে বেড়ায়।

গত পাঁচ মাসে এলাকাটিতে কোনো দুর্ঘটনার খবর নেই বললেই চলে। দীর্ঘদিন পর দুর্ঘটনামুক্ত ও শান্ত পরিবেশ ফিরে পেয়ে স্বস্তি ফিরেছে নিকুঞ্জবাসীর মনে।

নিকুঞ্জবাসীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, একসময় এখানকার ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাগুলোকে সবাই “মরণযান” বলত। প্রতিদিনই ঘটত দুর্ঘটনা, কেউ না কেউ হত আহত বা নিহত। পরিস্থিতি অসহনীয় হয়ে ওঠায় গত ৩০ এপ্রিল ২০২৫ তারিখে নিকুঞ্জ টানপাড়া এলাকায় সর্বস্তরের মানুষ একত্র হয়ে সিদ্ধান্ত নেন—নিকুঞ্জে আর কোনো ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলবে না।

এরপর এলাকাবাসী ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলনে নামে—প্রতিবাদ, মানববন্ধন, মিছিল ও সমাবেশের মাধ্যমে তারা নিজেদের দাবি প্রতিষ্ঠা করেন। সামাজিক, সাংস্কৃতিক, ধর্মীয় সংগঠনসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ডিএমপি’র খিলক্ষেত থানায় লিখিতভাবে অটোরিকশা বন্ধের দাবি জানায়।

[caption id="attachment_15440" align="alignnone" width="300"] স্বস্তিতে নিকুঞ্জবাসী, ছবি: নজরবিডি[/caption]

বুধবার বিকেলে সরেজমিনে নিকুঞ্জের টানপাড়া, জামতলা, সরকারবাড়ি ও পুরাতন বাজার এলাকা ঘুরে দেখা যায়—অটোরিকশা-মুক্ত পরিচ্ছন্ন ও শৃঙ্খল এক শান্তিপূর্ণ পরিবেশ। পুরোনো বিশৃঙ্খলার জায়গায় এখন শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা।

এই আন্দোলনের অন্যতম নেতৃত্বদানকারী স্থানীয় সাংবাদিক জাহিদ ইকবাল বলেন,

“নিকুঞ্জে এ মরণযান বন্ধ করতে গিয়ে আমরা সীমাহীন কষ্টের ভেতর দিয়ে গেছি। রাজনৈতিক চাপ, ভয়ভীতি, প্রশাসনিক প্রতিবন্ধকতা—সব কিছু মোকাবিলা করেছি। কিন্তু এলাকাবাসীর ঐক্যের কাছে সব পরাজিত হয়েছে। মানুষ যদি ঐক্যবদ্ধ হয়, অসম্ভবকেও সম্ভব করা যায়—নিকুঞ্জবাসী তার প্রমাণ দিয়েছে।”

স্থানীয় পথচারী ফয়সাল ইমরান বলেন,

“অটোরিকশা বন্ধের মাধ্যমে আমরা যেন এক অভিশাপ থেকে মুক্তি পেয়েছি। আমার ভাই এক দুর্ঘটনায় পঙ্গু হয়েছিল, এখন আমরা নিশ্চিন্তে হাঁটতে পারি।”

প্যাডেল রিকশাচালক সেলিম কবিরবদরুল আলম জানান,

“ব্যাটারি রিকশার কারণে আমরা না খেয়ে মরার উপক্রম হয়েছিলাম। এখন অটোরিকশা বন্ধ হওয়ায় যাত্রী বাড়ছে, আয়ও বাড়ছে।”

নিকুঞ্জ মডেল কলেজের অধ্যক্ষ মো. শাহাদাত হোসেন বলেন,

“প্রতিদিনই অটোরিকশা দুর্ঘটনা ঘটত। এখন সবাই নির্বিঘ্নে চলাচল করছে। আমাদের কলেজ থেকেও থানায় আবেদন দেওয়া হয়েছে, যেন এগুলো আর ফিরে না আসে।”

সচেতন নাগরিকরা বলছেন, সারাদেশে যেখানে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণে সরকার এখনও হিমশিম খাচ্ছে, সেখানে নিকুঞ্জের এই সাফল্য এক অনন্য দৃষ্টান্ত। নাগরিক উদ্যোগ ও ঐক্য যে প্রশাসনিক সীমাবদ্ধতাকেও অতিক্রম করতে পারে—নিকুঞ্জবাসী তা প্রমাণ করেছে।

এখন যানজট কমেছে, শব্দদূষণ হ্রাস পেয়েছে, পরিবেশ ও নাগরিক জীবনে ফিরেছে স্বস্তি। এই সাফল্য কেবল একটি এলাকার নয়, এটি একটি সফল গণজাগরণের মডেল

খিলক্ষেত থানার ওসি মো. সাজ্জাত হোসেন বলেন,

“অটোরিকশা বন্ধে নিকুঞ্জবাসীর উদ্যোগ প্রশংসনীয়। বর্তমানে এই এলাকায় দুর্ঘটনা নেই বললেই চলে। এলাকাবাসীরাই এখানকার প্রকৃত মালিক ও অভিভাবক।”

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
নজর বিডি

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬


সারাদেশের মডেল: অটোরিকশা-মুক্ত নিকুঞ্জ

প্রকাশের তারিখ : ০৮ অক্টোবর ২০২৫

featured Image

অবশেষে স্বস্তিতে নিকুঞ্জবাসী

রাজধানীর ব্যস্ততার মাঝেও যেন এক শান্তির ঠিকানা—নিকুঞ্জ। এলাকাবাসীর ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা ও সাহসিকতার ফলে খিলক্ষেতের নিকুঞ্জে গত ছয় মাস ধরে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ। একসময় এই অটোরিকশাগুলো কোমলমতি শিশু, প্রবীণ ও পথচারীদের জন্য ছিল আতঙ্কের নাম। এখন সেই ভয় আর নেই। আজ নিকুঞ্জের রাস্তায় পথচারীরা নিশ্চিন্তে হাঁটেন, শিশুরা সাইকেল চালিয়ে আনন্দে ঘুরে বেড়ায়।

গত পাঁচ মাসে এলাকাটিতে কোনো দুর্ঘটনার খবর নেই বললেই চলে। দীর্ঘদিন পর দুর্ঘটনামুক্ত ও শান্ত পরিবেশ ফিরে পেয়ে স্বস্তি ফিরেছে নিকুঞ্জবাসীর মনে।

নিকুঞ্জবাসীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, একসময় এখানকার ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাগুলোকে সবাই “মরণযান” বলত। প্রতিদিনই ঘটত দুর্ঘটনা, কেউ না কেউ হত আহত বা নিহত। পরিস্থিতি অসহনীয় হয়ে ওঠায় গত ৩০ এপ্রিল ২০২৫ তারিখে নিকুঞ্জ টানপাড়া এলাকায় সর্বস্তরের মানুষ একত্র হয়ে সিদ্ধান্ত নেন—নিকুঞ্জে আর কোনো ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলবে না।

এরপর এলাকাবাসী ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলনে নামে—প্রতিবাদ, মানববন্ধন, মিছিল ও সমাবেশের মাধ্যমে তারা নিজেদের দাবি প্রতিষ্ঠা করেন। সামাজিক, সাংস্কৃতিক, ধর্মীয় সংগঠনসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ডিএমপি’র খিলক্ষেত থানায় লিখিতভাবে অটোরিকশা বন্ধের দাবি জানায়।

[caption id="attachment_15440" align="alignnone" width="300"] স্বস্তিতে নিকুঞ্জবাসী, ছবি: নজরবিডি[/caption]

বুধবার বিকেলে সরেজমিনে নিকুঞ্জের টানপাড়া, জামতলা, সরকারবাড়ি ও পুরাতন বাজার এলাকা ঘুরে দেখা যায়—অটোরিকশা-মুক্ত পরিচ্ছন্ন ও শৃঙ্খল এক শান্তিপূর্ণ পরিবেশ। পুরোনো বিশৃঙ্খলার জায়গায় এখন শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা।

এই আন্দোলনের অন্যতম নেতৃত্বদানকারী স্থানীয় সাংবাদিক জাহিদ ইকবাল বলেন,

“নিকুঞ্জে এ মরণযান বন্ধ করতে গিয়ে আমরা সীমাহীন কষ্টের ভেতর দিয়ে গেছি। রাজনৈতিক চাপ, ভয়ভীতি, প্রশাসনিক প্রতিবন্ধকতা—সব কিছু মোকাবিলা করেছি। কিন্তু এলাকাবাসীর ঐক্যের কাছে সব পরাজিত হয়েছে। মানুষ যদি ঐক্যবদ্ধ হয়, অসম্ভবকেও সম্ভব করা যায়—নিকুঞ্জবাসী তার প্রমাণ দিয়েছে।”

স্থানীয় পথচারী ফয়সাল ইমরান বলেন,

“অটোরিকশা বন্ধের মাধ্যমে আমরা যেন এক অভিশাপ থেকে মুক্তি পেয়েছি। আমার ভাই এক দুর্ঘটনায় পঙ্গু হয়েছিল, এখন আমরা নিশ্চিন্তে হাঁটতে পারি।”

প্যাডেল রিকশাচালক সেলিম কবিরবদরুল আলম জানান,

“ব্যাটারি রিকশার কারণে আমরা না খেয়ে মরার উপক্রম হয়েছিলাম। এখন অটোরিকশা বন্ধ হওয়ায় যাত্রী বাড়ছে, আয়ও বাড়ছে।”

নিকুঞ্জ মডেল কলেজের অধ্যক্ষ মো. শাহাদাত হোসেন বলেন,

“প্রতিদিনই অটোরিকশা দুর্ঘটনা ঘটত। এখন সবাই নির্বিঘ্নে চলাচল করছে। আমাদের কলেজ থেকেও থানায় আবেদন দেওয়া হয়েছে, যেন এগুলো আর ফিরে না আসে।”

সচেতন নাগরিকরা বলছেন, সারাদেশে যেখানে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণে সরকার এখনও হিমশিম খাচ্ছে, সেখানে নিকুঞ্জের এই সাফল্য এক অনন্য দৃষ্টান্ত। নাগরিক উদ্যোগ ও ঐক্য যে প্রশাসনিক সীমাবদ্ধতাকেও অতিক্রম করতে পারে—নিকুঞ্জবাসী তা প্রমাণ করেছে।

এখন যানজট কমেছে, শব্দদূষণ হ্রাস পেয়েছে, পরিবেশ ও নাগরিক জীবনে ফিরেছে স্বস্তি। এই সাফল্য কেবল একটি এলাকার নয়, এটি একটি সফল গণজাগরণের মডেল

খিলক্ষেত থানার ওসি মো. সাজ্জাত হোসেন বলেন,

“অটোরিকশা বন্ধে নিকুঞ্জবাসীর উদ্যোগ প্রশংসনীয়। বর্তমানে এই এলাকায় দুর্ঘটনা নেই বললেই চলে। এলাকাবাসীরাই এখানকার প্রকৃত মালিক ও অভিভাবক।”


নজর বিডি

উপদেষ্টা সম্পাদক: মো: ইব্রাহিম খলিল। 
সম্পাদক: মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম। 
লিগ্যাল এডভাইজার: মাহমুদুর রহমান সুইট- এম.কম, এল এল বি, এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট।


 

কপিরাইট © ২০২৬ নজর বিডি সর্বস্ব সংরক্ষিত