বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে সাত বিচারপতির আপিল বিভাগ এ গুরুত্বপূর্ণ রায় ঘোষণা করেন।
শুনানিতে আবেদনকারী পক্ষগুলোর পাশাপাশি রাষ্ট্রপক্ষও সংশোধনীটি পুনরুজ্জীবনের পক্ষ নেয়। পক্ষগুলোর মত, সংশোধনী বহাল হলেও ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের ওপর কোনো প্রভাব পড়বে না। তারা জানান, তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা চতুর্দশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকে কার্যকর করা উচিত। ফলে আগামী ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠেয় নির্বাচন বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনেই অনুষ্ঠিত হবে।
এর আগে গত ২৭ আগস্ট তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিলের রায় পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) শুনানি শেষে আপিলের অনুমতি দেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে ২১, ২২, ২৩, ২৮, ২৯ অক্টোবর এবং ২, ৪, ৫, ৬ ও ১১ নভেম্বর দীর্ঘ শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।
শুনানিতে বিভিন্ন পক্ষের হয়ে অংশ নেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবীরা—ড. বদিউল আলম মজুমদারসহ পাঁচজনের পক্ষে ড. শরীফ ভূঁইয়া, ইন্টারভেনার হিসেবে এহসান এ সিদ্দিক, জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে শিশির মনির, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোফাজ্জল হোসেনের পক্ষে এস এম শাহরিয়ার এবং বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের পক্ষে জয়নুল আবেদীন ও রুহুল কুদ্দুস। রাষ্ট্রপক্ষে উপস্থিত ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান।
তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সংবিধানে যুক্ত হয় ১৯৯৬ সালের ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে। এর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ১৯৯৮ সালে রিট করা হয়। ২০০৪ সালের ৪ আগস্ট হাইকোর্ট রিট খারিজ করে সংশোধনীকে বৈধ ঘোষণা করে। পরে ২০১১ সালের ১০ মে আপিল বিভাগ সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতের ভিত্তিতে সংশোধনীটি বাতিল ঘোষণা করে। সেই রায়ের ধারাবাহিকতায় ২০১১ সালের জুনে পাস হয় পঞ্চদশ সংশোধনী, যার মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলোপ করা হয়।
৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর বদিউল আলম মজুমদার, তোফায়েল আহমেদ (প্রয়াত), এম হাফিজউদ্দিন খান, জোবাইরুল হক ভূঁইয়া ও জাহরা রহমান রিভিউ আবেদন করেন। পরে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মোফাজ্জল হোসেনও পৃথকভাবে রিভিউ আবেদন দাখিল করেন।
দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আজকের রায়ে ত্রয়োদশ সংশোধনী পুনর্বহাল হলো—যা দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে বড় ধরনের আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২০ নভেম্বর ২০২৫
বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে সাত বিচারপতির আপিল বিভাগ এ গুরুত্বপূর্ণ রায় ঘোষণা করেন।
শুনানিতে আবেদনকারী পক্ষগুলোর পাশাপাশি রাষ্ট্রপক্ষও সংশোধনীটি পুনরুজ্জীবনের পক্ষ নেয়। পক্ষগুলোর মত, সংশোধনী বহাল হলেও ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের ওপর কোনো প্রভাব পড়বে না। তারা জানান, তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা চতুর্দশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকে কার্যকর করা উচিত। ফলে আগামী ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠেয় নির্বাচন বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনেই অনুষ্ঠিত হবে।
এর আগে গত ২৭ আগস্ট তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিলের রায় পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) শুনানি শেষে আপিলের অনুমতি দেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে ২১, ২২, ২৩, ২৮, ২৯ অক্টোবর এবং ২, ৪, ৫, ৬ ও ১১ নভেম্বর দীর্ঘ শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।
শুনানিতে বিভিন্ন পক্ষের হয়ে অংশ নেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবীরা—ড. বদিউল আলম মজুমদারসহ পাঁচজনের পক্ষে ড. শরীফ ভূঁইয়া, ইন্টারভেনার হিসেবে এহসান এ সিদ্দিক, জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে শিশির মনির, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোফাজ্জল হোসেনের পক্ষে এস এম শাহরিয়ার এবং বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের পক্ষে জয়নুল আবেদীন ও রুহুল কুদ্দুস। রাষ্ট্রপক্ষে উপস্থিত ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান।
তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সংবিধানে যুক্ত হয় ১৯৯৬ সালের ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে। এর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ১৯৯৮ সালে রিট করা হয়। ২০০৪ সালের ৪ আগস্ট হাইকোর্ট রিট খারিজ করে সংশোধনীকে বৈধ ঘোষণা করে। পরে ২০১১ সালের ১০ মে আপিল বিভাগ সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতের ভিত্তিতে সংশোধনীটি বাতিল ঘোষণা করে। সেই রায়ের ধারাবাহিকতায় ২০১১ সালের জুনে পাস হয় পঞ্চদশ সংশোধনী, যার মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলোপ করা হয়।
৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর বদিউল আলম মজুমদার, তোফায়েল আহমেদ (প্রয়াত), এম হাফিজউদ্দিন খান, জোবাইরুল হক ভূঁইয়া ও জাহরা রহমান রিভিউ আবেদন করেন। পরে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মোফাজ্জল হোসেনও পৃথকভাবে রিভিউ আবেদন দাখিল করেন।
দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আজকের রায়ে ত্রয়োদশ সংশোধনী পুনর্বহাল হলো—যা দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে বড় ধরনের আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন