তীব্র ভূমিকম্পে রাজধানী ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও নরসিংদীতে অন্তত পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন প্রায় একশ’ মানুষ। নিহতদের মধ্যে পুরান ঢাকার আরমানিটোলায় তিনজন, নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে একজন এবং নরসিংদী সদরে একজন রয়েছেন।
শুক্রবার (২১ নভেম্বর) সকালে ভূমিকম্পের সময় এসব হতাহতের ঘটনা ঘটে।
সকালে পুরান ঢাকার আরমানিটোলার কসাইটুলি এলাকায় একটি আটতলা ভবনের পাশের দেয়াল ও কার্নিশ খসে নিচে পড়ে। সেখানে গরুর মাংস বিক্রির দোকান থাকায় ক্রেতা-পথচারীদের ওপর ইট-পলেস্তরা পড়লে বহু মানুষ আহত হন।
ফায়ার সার্ভিস আসার আগেই স্থানীয়রা আহতদের স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেন। সেখানে তিনজনকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকেরা। এ ঘটনায় আহত ১০ জন মিটফোর্ড হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।
একই সময়ে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে সড়কের পাশের দেয়াল ধসে ফাতেমা (১) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়। শিশুটির মা কুলসুম বেগম ও প্রতিবেশী জেসমিন বেগমও আহত হন এবং হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।
নরসিংদী সদরের গাবতলী এলাকায় বাসার সানশেড ভেঙে ওমর (১০) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তার বাবা দেলোয়ার হোসেন উজ্জল গুরুতর আহত হয়েছেন।
দেলোয়ার হোসেন ভূমিকম্পের সময় সন্তানদের নিয়ে বাইরে বের হওয়ার চেষ্টা করছিলেন। ঠিক সেই মুহূর্তে সানশেড ভেঙে চারজনই আহত হন। পরে নরসিংদী সদর হাসপাতাল থেকে বাবা-ছেলেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনা হলে শিশু ওমরকে মৃত ঘোষণা করা হয়। দুই মেয়ে নরসিংদী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
শুক্রবার সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে ভূমিকম্পটি অনুভূত হয়। আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ ও গবেষণা কেন্দ্র জানায়—উৎপত্তিস্থল ছিল ঢাকার আগারগাঁও আবহাওয়া অফিস থেকে ১৩ কিলোমিটার পূর্বে, নরসিংদীর মাধবদীতে।
রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৫.৭।
ভূমিকম্পে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর ও উৎপত্তিস্থল নরসিংদীসহ বিভিন্ন স্থানে মোট প্রায় একশজন আহত হন।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অন্তত ২০ জন চিকিৎসা নিচ্ছেন। এর মধ্যে রয়েছেন—
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আরাফাত (২০), নুরুল হুদা (২০), তানজিল হোসেন (২৬), সাদিক শিকদার (২৬), তানভীর আহমেদ (২৫), ফারহান তানভীর রাজিব (২৪) এবং আরও অনেকে।
আরমানিটোলার ঘটনার পর ১০ জনেরও বেশি আহত ব্যক্তি মিটফোর্ড হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।
নরসিংদী সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. গুলশানা কবির জানিয়েছেন, সেখানে প্রায় অর্ধশতাধিক মানুষ চিকিৎসা নিয়েছেন এবং আরও অনেকে হাসপাতালে আসছেন।
গাজীপুর মহানগরের চান্দনা চৌরাস্তায় ভূমিকম্পে তাড়াহুড়ো করে নামার সময় একটি কারখানার ৬ শ্রমিক আহত হন।
নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারের হাইজাদী ইউনিয়নসহ কয়েকটি গ্রামে বাড়ির দেয়াল ভেঙে কমপক্ষে ছয়জন আহত হন।
ভূমিকম্পে ঢাকার বিভিন্ন স্থানে ভবন হেলে পড়া, ফাটল সৃষ্টি হওয়া, পলেস্তরা খসে পড়া ও আগুন লাগার ঘটনাও ঘটেছে।
আরমানিটোলা: আটতলা ভবনে ধসের আশঙ্কায় ফায়ার সার্ভিসের দুই ইউনিট কাজ করেছে।
খিলগাঁও: নির্মাণাধীন ভবনের ইট পড়ে একজন আহত।
সূত্রাপুর: স্বামীবাগে আটতলা ভবন আরেকটি ভবনের দিকে হেলে পড়েছে।
কলাবাগান: আবেদখালী রোডে সাততলা ভবন হেলে পড়ার খবর পাওয়া গেছে।
বারিধারা: এফ ব্লকে একটি বাসায় আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে।
মুন্সীগঞ্জ: গজারিয়ায় একটি বাড়িতে আগুন লাগে—কারণ এখনও নিশ্চিত নয়।

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২১ নভেম্বর ২০২৫
তীব্র ভূমিকম্পে রাজধানী ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও নরসিংদীতে অন্তত পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন প্রায় একশ’ মানুষ। নিহতদের মধ্যে পুরান ঢাকার আরমানিটোলায় তিনজন, নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে একজন এবং নরসিংদী সদরে একজন রয়েছেন।
শুক্রবার (২১ নভেম্বর) সকালে ভূমিকম্পের সময় এসব হতাহতের ঘটনা ঘটে।
সকালে পুরান ঢাকার আরমানিটোলার কসাইটুলি এলাকায় একটি আটতলা ভবনের পাশের দেয়াল ও কার্নিশ খসে নিচে পড়ে। সেখানে গরুর মাংস বিক্রির দোকান থাকায় ক্রেতা-পথচারীদের ওপর ইট-পলেস্তরা পড়লে বহু মানুষ আহত হন।
ফায়ার সার্ভিস আসার আগেই স্থানীয়রা আহতদের স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেন। সেখানে তিনজনকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকেরা। এ ঘটনায় আহত ১০ জন মিটফোর্ড হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।
একই সময়ে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে সড়কের পাশের দেয়াল ধসে ফাতেমা (১) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়। শিশুটির মা কুলসুম বেগম ও প্রতিবেশী জেসমিন বেগমও আহত হন এবং হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।
নরসিংদী সদরের গাবতলী এলাকায় বাসার সানশেড ভেঙে ওমর (১০) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তার বাবা দেলোয়ার হোসেন উজ্জল গুরুতর আহত হয়েছেন।
দেলোয়ার হোসেন ভূমিকম্পের সময় সন্তানদের নিয়ে বাইরে বের হওয়ার চেষ্টা করছিলেন। ঠিক সেই মুহূর্তে সানশেড ভেঙে চারজনই আহত হন। পরে নরসিংদী সদর হাসপাতাল থেকে বাবা-ছেলেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনা হলে শিশু ওমরকে মৃত ঘোষণা করা হয়। দুই মেয়ে নরসিংদী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
শুক্রবার সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে ভূমিকম্পটি অনুভূত হয়। আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ ও গবেষণা কেন্দ্র জানায়—উৎপত্তিস্থল ছিল ঢাকার আগারগাঁও আবহাওয়া অফিস থেকে ১৩ কিলোমিটার পূর্বে, নরসিংদীর মাধবদীতে।
রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৫.৭।
ভূমিকম্পে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর ও উৎপত্তিস্থল নরসিংদীসহ বিভিন্ন স্থানে মোট প্রায় একশজন আহত হন।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অন্তত ২০ জন চিকিৎসা নিচ্ছেন। এর মধ্যে রয়েছেন—
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আরাফাত (২০), নুরুল হুদা (২০), তানজিল হোসেন (২৬), সাদিক শিকদার (২৬), তানভীর আহমেদ (২৫), ফারহান তানভীর রাজিব (২৪) এবং আরও অনেকে।
আরমানিটোলার ঘটনার পর ১০ জনেরও বেশি আহত ব্যক্তি মিটফোর্ড হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।
নরসিংদী সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. গুলশানা কবির জানিয়েছেন, সেখানে প্রায় অর্ধশতাধিক মানুষ চিকিৎসা নিয়েছেন এবং আরও অনেকে হাসপাতালে আসছেন।
গাজীপুর মহানগরের চান্দনা চৌরাস্তায় ভূমিকম্পে তাড়াহুড়ো করে নামার সময় একটি কারখানার ৬ শ্রমিক আহত হন।
নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারের হাইজাদী ইউনিয়নসহ কয়েকটি গ্রামে বাড়ির দেয়াল ভেঙে কমপক্ষে ছয়জন আহত হন।
ভূমিকম্পে ঢাকার বিভিন্ন স্থানে ভবন হেলে পড়া, ফাটল সৃষ্টি হওয়া, পলেস্তরা খসে পড়া ও আগুন লাগার ঘটনাও ঘটেছে।
আরমানিটোলা: আটতলা ভবনে ধসের আশঙ্কায় ফায়ার সার্ভিসের দুই ইউনিট কাজ করেছে।
খিলগাঁও: নির্মাণাধীন ভবনের ইট পড়ে একজন আহত।
সূত্রাপুর: স্বামীবাগে আটতলা ভবন আরেকটি ভবনের দিকে হেলে পড়েছে।
কলাবাগান: আবেদখালী রোডে সাততলা ভবন হেলে পড়ার খবর পাওয়া গেছে।
বারিধারা: এফ ব্লকে একটি বাসায় আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে।
মুন্সীগঞ্জ: গজারিয়ায় একটি বাড়িতে আগুন লাগে—কারণ এখনও নিশ্চিত নয়।

আপনার মতামত লিখুন