বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে গঠিত তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। প্যানেলের অপর দুই সদস্য ছিলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম, গাজী এমএইচ তামিম, শাইখ মাহদীসহ অন্যান্য সদস্যরা।
পলাতক ১০ আসামির মধ্যে পাঁচজন বিভিন্ন সময়ে ডিজিএফআইয়ের মহাপরিচালক (ডিজি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তারা হলেন—লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ আকবর হোসেন, মেজর জেনারেল (অব.) সাইফুল আবেদিন, লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. সাইফুল আলম, লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) আহমেদ তাবরেজ শামস চৌধুরী এবং মেজর জেনারেল (অব.) হামিদুল হক। অপর আসামিরা হলেন শেখ হাসিনার প্রতিরক্ষাবিষয়ক সাবেক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, ডিজিএফআইয়ের সাবেক পরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ তৌহিদুল উল ইসলাম, মেজর জেনারেল কবীর আহাম্মদ এবং লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মখছুরুল হক।
মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন বিষয়ে আদেশ দেওয়ার জন্য ১৪ ডিসেম্বর দিন ধার্য থাকলেও সেদিন কোনো আদেশ না দিয়ে ট্রাইব্যুনাল আজকের দিন নির্ধারণ করেন। একই সঙ্গে মামলায় গ্রেপ্তার থাকা তিন আসামিকে পুলিশের মাধ্যমে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।
গত ৯ নভেম্বর গ্রেপ্তার তিন আসামির অব্যাহতি চেয়ে শুনানি করেন আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু। তিনি চারটি কারণ দেখিয়ে অব্যাহতির আবেদন করেন। এর মধ্যে বেআইনি আটক, অপহরণ ও নির্যাতনের তিনটি কারণ বিবেচনায় নেওয়ার কথা উল্লেখ করেন ট্রাইব্যুনাল। চতুর্থ কারণ ছিল গুমে রাখার অভিযোগ। শুনানি শেষে পলাতক আসামিদের পক্ষে স্টেট ডিফেন্স আইনজীবী হাসান ইমাম, মো. আমির হোসেনসহ অন্যান্যরা শুনানি করেন।
এ মামলায় প্রসিকিউশন মোট পাঁচটি অভিযোগ দাখিল করে। অভিযোগ গঠনের বিষয়ে ৭ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত শুনানিতে চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম জেআইসি সেলে সরকারবিরোধী ব্যক্তিদের গুম ও নির্যাতনের ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরেন। তিনি জানান, ২০১৫ সালের ২২ অক্টোবর থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত গুম হওয়া ২৬ জনের বীভৎস ও অমানবিক পরিস্থিতির বর্ণনা তুলে ধরে ১৩ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের আবেদন করা হয়।
এর আগে, ২৩ নভেম্বর পলাতক আসামিদের জন্য স্টেট ডিফেন্স আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া হয়। শেখ হাসিনার পক্ষে স্বেচ্ছায় লড়তে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জেডআই খান পান্নাকে নিয়োগ দেওয়া হলেও শারীরিক অসুস্থতার কারণে তিনি ৩ ডিসেম্বর দায়িত্ব প্রত্যাহার করেন। পরে মো. আমির হোসেনকে তার আইনজীবী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
২২ অক্টোবর সেনা হেফাজতে থাকা মামলার তিন সেনা কর্মকর্তাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হলে শুনানি শেষে তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়। একই সঙ্গে পলাতক আসামিদের হাজির করার নির্দেশ দিয়ে দুটি জাতীয় দৈনিকে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আদেশ দেওয়া হয়। এর আগে ৮ অক্টোবর মামলায় ১৩ আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে তা আমলে নিয়ে ট্রাইব্যুনাল গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫
বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে গঠিত তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। প্যানেলের অপর দুই সদস্য ছিলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম, গাজী এমএইচ তামিম, শাইখ মাহদীসহ অন্যান্য সদস্যরা।
পলাতক ১০ আসামির মধ্যে পাঁচজন বিভিন্ন সময়ে ডিজিএফআইয়ের মহাপরিচালক (ডিজি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তারা হলেন—লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ আকবর হোসেন, মেজর জেনারেল (অব.) সাইফুল আবেদিন, লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. সাইফুল আলম, লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) আহমেদ তাবরেজ শামস চৌধুরী এবং মেজর জেনারেল (অব.) হামিদুল হক। অপর আসামিরা হলেন শেখ হাসিনার প্রতিরক্ষাবিষয়ক সাবেক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, ডিজিএফআইয়ের সাবেক পরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ তৌহিদুল উল ইসলাম, মেজর জেনারেল কবীর আহাম্মদ এবং লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মখছুরুল হক।
মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন বিষয়ে আদেশ দেওয়ার জন্য ১৪ ডিসেম্বর দিন ধার্য থাকলেও সেদিন কোনো আদেশ না দিয়ে ট্রাইব্যুনাল আজকের দিন নির্ধারণ করেন। একই সঙ্গে মামলায় গ্রেপ্তার থাকা তিন আসামিকে পুলিশের মাধ্যমে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।
গত ৯ নভেম্বর গ্রেপ্তার তিন আসামির অব্যাহতি চেয়ে শুনানি করেন আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু। তিনি চারটি কারণ দেখিয়ে অব্যাহতির আবেদন করেন। এর মধ্যে বেআইনি আটক, অপহরণ ও নির্যাতনের তিনটি কারণ বিবেচনায় নেওয়ার কথা উল্লেখ করেন ট্রাইব্যুনাল। চতুর্থ কারণ ছিল গুমে রাখার অভিযোগ। শুনানি শেষে পলাতক আসামিদের পক্ষে স্টেট ডিফেন্স আইনজীবী হাসান ইমাম, মো. আমির হোসেনসহ অন্যান্যরা শুনানি করেন।
এ মামলায় প্রসিকিউশন মোট পাঁচটি অভিযোগ দাখিল করে। অভিযোগ গঠনের বিষয়ে ৭ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত শুনানিতে চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম জেআইসি সেলে সরকারবিরোধী ব্যক্তিদের গুম ও নির্যাতনের ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরেন। তিনি জানান, ২০১৫ সালের ২২ অক্টোবর থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত গুম হওয়া ২৬ জনের বীভৎস ও অমানবিক পরিস্থিতির বর্ণনা তুলে ধরে ১৩ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের আবেদন করা হয়।
এর আগে, ২৩ নভেম্বর পলাতক আসামিদের জন্য স্টেট ডিফেন্স আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া হয়। শেখ হাসিনার পক্ষে স্বেচ্ছায় লড়তে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জেডআই খান পান্নাকে নিয়োগ দেওয়া হলেও শারীরিক অসুস্থতার কারণে তিনি ৩ ডিসেম্বর দায়িত্ব প্রত্যাহার করেন। পরে মো. আমির হোসেনকে তার আইনজীবী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
২২ অক্টোবর সেনা হেফাজতে থাকা মামলার তিন সেনা কর্মকর্তাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হলে শুনানি শেষে তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়। একই সঙ্গে পলাতক আসামিদের হাজির করার নির্দেশ দিয়ে দুটি জাতীয় দৈনিকে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আদেশ দেওয়া হয়। এর আগে ৮ অক্টোবর মামলায় ১৩ আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে তা আমলে নিয়ে ট্রাইব্যুনাল গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।

আপনার মতামত লিখুন