নজর বিডি

কুমারখালীতে গড়াই নদীর তীব্র ভাঙন: বিলীন ৩০ বিঘা ফসলি জমি, আতঙ্কে ৩০০ পরিবার

কুমারখালীতে গড়াই নদীর তীব্র ভাঙন: বিলীন ৩০ বিঘা ফসলি জমি, আতঙ্কে ৩০০ পরিবার

বাংলাদেশ

কুষ্টিয়া     কুষ্টিয়ার কুমারখালী পৌর এলাকায় গড়াই নদীর পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয়েছে ভয়াবহ ভাঙন....
    মো: নাহিদ হোসেন      গত এক সপ্তাহে তেবাড়িয়া ও আগ্রাকুণ্ডা এলাকার প্রায় ৩০ বিঘা ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙন আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন নদীপাড়ের অন্তত ৩০০ পরিবারের মানুষ। হুমকির মুখে রয়েছে বসতবাড়ি, সড়ক ও ধর্মীয় উপাসনালয়। ভাঙনের ভয়াবহতা বর্ণনা করতে গিয়ে তেবাড়িয়া এলাকার মদিনা খাতুন (৬২) আক্ষেপ করে বলেন—তোমারে চাচা চলে গেছে সেই মেলা দিন। এহেনে (এখানে) ৩০ বছর ধরে বাস করছি। তয় আগে কোনোদিন এ্যাম্বা (এভাবে) ভাঙা দেখিনি। কিছুক্ষণ পর পরই পাড় ভাঙে ঢপ্পাস করে পড়ছে। কখন জানি ঘরখানায় ভাঙে যায় এ ভয়ে আছি। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, নদীর মাঝখানে বিশাল চর জেগে ওঠায় পানির স্রোত এখন কিনার দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে পাড়ে প্রচণ্ড আঘাত লাগছে এবং মাটি ধসে পড়ছে। সরেজমিন দেখা গেছে, শহীদ গোলাম কিবরিয়া সেতু থেকে আগ্রাকুণ্ডা পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার এলাকায় কোনো স্থায়ী বাঁধ নেই। আগ্রাকুণ্ডা গ্রামের কৃষক ছেইমান শেখ জানান—গত সাত দিনে তার সরিষা, ভুট্টা ও পেঁয়াজের ক্ষেতসহ বিশাল এলাকা নদীতে চলে গেছে। এখন বসতবাড়ি রক্ষা নিয়ে তিনি চরম দুশ্চিন্তায় আছেন। চা বিক্রেতা সমীর চাকি বলেন—নদীর খেলা বুঝা বড় দায়। পানি কমলেও ভাঙে, বাড়লেও ভাঙে। দ্রুত পাকা বাঁধ না দিলে ঘরবাড়ি রক্ষা করা যাবে না। তেবাড়িয়া শেরকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরি মোশাররফ হোসেন জানান—নদী ভাঙতে ভাঙতে ফসলি জমি পেরিয়ে এখন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বসতবাড়ির খুব কাছে চলে এসেছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। কুষ্টিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী রাশিদুল ইসলাম এলাকা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের জানান—এই মুহূর্তে জরুরি ভিত্তিতে ভাঙন রোধ বা বাঁধ নির্মাণের জন্য কোনো সরকারি বরাদ্দ হাতে নেই। তবে আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সাথে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। এছাড়াও কুমারখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা আখতার এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি আমাদের জানিয়েছেন—ভাঙনের বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনা করা হচ্ছে। ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর দাবি, প্রতিবছর দায়সারা কাজ না করে দ্রুত যেন এই এক কিলোমিটার এলাকায় একটি স্থায়ী ও মজবুত বাঁধ নির্মাণ করা হয়।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
নজর বিডি

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬


কুমারখালীতে গড়াই নদীর তীব্র ভাঙন: বিলীন ৩০ বিঘা ফসলি জমি, আতঙ্কে ৩০০ পরিবার

প্রকাশের তারিখ : ২১ ডিসেম্বর ২০২৫

featured Image

বাংলাদেশ

কুষ্টিয়া     কুষ্টিয়ার কুমারখালী পৌর এলাকায় গড়াই নদীর পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয়েছে ভয়াবহ ভাঙন....
    মো: নাহিদ হোসেন      গত এক সপ্তাহে তেবাড়িয়া ও আগ্রাকুণ্ডা এলাকার প্রায় ৩০ বিঘা ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙন আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন নদীপাড়ের অন্তত ৩০০ পরিবারের মানুষ। হুমকির মুখে রয়েছে বসতবাড়ি, সড়ক ও ধর্মীয় উপাসনালয়। ভাঙনের ভয়াবহতা বর্ণনা করতে গিয়ে তেবাড়িয়া এলাকার মদিনা খাতুন (৬২) আক্ষেপ করে বলেন—তোমারে চাচা চলে গেছে সেই মেলা দিন। এহেনে (এখানে) ৩০ বছর ধরে বাস করছি। তয় আগে কোনোদিন এ্যাম্বা (এভাবে) ভাঙা দেখিনি। কিছুক্ষণ পর পরই পাড় ভাঙে ঢপ্পাস করে পড়ছে। কখন জানি ঘরখানায় ভাঙে যায় এ ভয়ে আছি। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, নদীর মাঝখানে বিশাল চর জেগে ওঠায় পানির স্রোত এখন কিনার দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে পাড়ে প্রচণ্ড আঘাত লাগছে এবং মাটি ধসে পড়ছে। সরেজমিন দেখা গেছে, শহীদ গোলাম কিবরিয়া সেতু থেকে আগ্রাকুণ্ডা পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার এলাকায় কোনো স্থায়ী বাঁধ নেই। আগ্রাকুণ্ডা গ্রামের কৃষক ছেইমান শেখ জানান—গত সাত দিনে তার সরিষা, ভুট্টা ও পেঁয়াজের ক্ষেতসহ বিশাল এলাকা নদীতে চলে গেছে। এখন বসতবাড়ি রক্ষা নিয়ে তিনি চরম দুশ্চিন্তায় আছেন। চা বিক্রেতা সমীর চাকি বলেন—নদীর খেলা বুঝা বড় দায়। পানি কমলেও ভাঙে, বাড়লেও ভাঙে। দ্রুত পাকা বাঁধ না দিলে ঘরবাড়ি রক্ষা করা যাবে না। তেবাড়িয়া শেরকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরি মোশাররফ হোসেন জানান—নদী ভাঙতে ভাঙতে ফসলি জমি পেরিয়ে এখন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বসতবাড়ির খুব কাছে চলে এসেছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। কুষ্টিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী রাশিদুল ইসলাম এলাকা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের জানান—এই মুহূর্তে জরুরি ভিত্তিতে ভাঙন রোধ বা বাঁধ নির্মাণের জন্য কোনো সরকারি বরাদ্দ হাতে নেই। তবে আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সাথে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। এছাড়াও কুমারখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা আখতার এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি আমাদের জানিয়েছেন—ভাঙনের বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনা করা হচ্ছে। ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর দাবি, প্রতিবছর দায়সারা কাজ না করে দ্রুত যেন এই এক কিলোমিটার এলাকায় একটি স্থায়ী ও মজবুত বাঁধ নির্মাণ করা হয়।

নজর বিডি

উপদেষ্টা সম্পাদক: মো: ইব্রাহিম খলিল। 
সম্পাদক: মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম। 
লিগ্যাল এডভাইজার: মাহমুদুর রহমান সুইট- এম.কম, এল এল বি, এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট।


 

কপিরাইট © ২০২৬ নজর বিডি সর্বস্ব সংরক্ষিত