নজর বিডি
প্রকাশ : সোমবার, ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫

হাদি হত্যার প্রধান আসামি মাসুদ পলাতক, ভারতে দুই সহযোগী আটক:ডিএমপি

হাদি হত্যার প্রধান আসামি মাসুদ পলাতক, ভারতে দুই সহযোগী আটক:ডিএমপি

নজরবিডি | ঢাকা

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ডের মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ দেশ ছেড়ে পালিয়েছে বলে জানিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের পর খুনিদের পালিয়ে যেতে সহায়তার অভিযোগে ভারতের মেঘালয় রাজ্যে পূর্তি ও সামি নামে দুই সহযোগীকে আটক করেছে সেখানকার পুলিশ।

রোববার (২৮ ডিসেম্বর) সকালে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এস এন মো. নজরুল ইসলাম।

তিনি বলেন, শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডটি ছিল পূর্বপরিকল্পিত। ঘটনার পর প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার এক সহযোগী ময়মনসিংহ সীমান্ত দিয়ে ভারতে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত মোট ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ছয়জন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন এবং চারজন সাক্ষ্য দিয়েছেন।

এস এন মো. নজরুল ইসলাম আরও জানান, দ্রুত এই মামলার অভিযোগপত্র দেওয়া হবে। আগামী ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যেই চার্জশিট দাখিল করা সম্ভব হবে। প্রাথমিক তদন্তে এই হত্যাকাণ্ডে কোনো বিদেশি রাষ্ট্রের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

ডিএমপি সূত্র জানায়, গত ১২ ডিসেম্বর দুপুর আনুমানিক ২টা ২০ মিনিটে রাজধানীর পল্টন থানাধীন বক্স কালভার্ট রোডে হামলার শিকার হন শরিফ ওসমান হাদি। মতিঝিল মসজিদ থেকে জুমার নামাজ শেষে প্রচারণা চালিয়ে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের দিকে যাওয়ার পথে মোটরসাইকেলে আসা প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ রাহুল দাউদ ও তার অজ্ঞাতপরিচয় সহযোগী চলন্ত অবস্থায় হাদিকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়।

গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত অবস্থায় হাদিকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে ১৫ ডিসেম্বর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়। সেখানে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর রাত ৯টা ৪৫ মিনিটে তিনি মারা যান।

এ ঘটনায় গত ১৪ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের বাদী হয়ে পল্টন থানায় হত্যাচেষ্টার মামলা দায়ের করেন। মামলায় অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, হত্যাচেষ্টা এবং বিপজ্জনক অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগ আনা হয়। পরবর্তীতে হাদির মৃত্যু হলে ২০ ডিসেম্বর আদালতের আদেশে মামলায় দণ্ডবিধির ৩০২ ধারা (হত্যা) সংযোজন করা হয়। এ আদেশ দেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সিদ্দিক আজাদ।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
নজর বিডি

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬


হাদি হত্যার প্রধান আসামি মাসুদ পলাতক, ভারতে দুই সহযোগী আটক:ডিএমপি

প্রকাশের তারিখ : ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫

featured Image

নজরবিডি | ঢাকা

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ডের মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ দেশ ছেড়ে পালিয়েছে বলে জানিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের পর খুনিদের পালিয়ে যেতে সহায়তার অভিযোগে ভারতের মেঘালয় রাজ্যে পূর্তি ও সামি নামে দুই সহযোগীকে আটক করেছে সেখানকার পুলিশ।

রোববার (২৮ ডিসেম্বর) সকালে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এস এন মো. নজরুল ইসলাম।

তিনি বলেন, শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডটি ছিল পূর্বপরিকল্পিত। ঘটনার পর প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার এক সহযোগী ময়মনসিংহ সীমান্ত দিয়ে ভারতে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত মোট ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ছয়জন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন এবং চারজন সাক্ষ্য দিয়েছেন।

এস এন মো. নজরুল ইসলাম আরও জানান, দ্রুত এই মামলার অভিযোগপত্র দেওয়া হবে। আগামী ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যেই চার্জশিট দাখিল করা সম্ভব হবে। প্রাথমিক তদন্তে এই হত্যাকাণ্ডে কোনো বিদেশি রাষ্ট্রের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

ডিএমপি সূত্র জানায়, গত ১২ ডিসেম্বর দুপুর আনুমানিক ২টা ২০ মিনিটে রাজধানীর পল্টন থানাধীন বক্স কালভার্ট রোডে হামলার শিকার হন শরিফ ওসমান হাদি। মতিঝিল মসজিদ থেকে জুমার নামাজ শেষে প্রচারণা চালিয়ে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের দিকে যাওয়ার পথে মোটরসাইকেলে আসা প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ রাহুল দাউদ ও তার অজ্ঞাতপরিচয় সহযোগী চলন্ত অবস্থায় হাদিকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়।

গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত অবস্থায় হাদিকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে ১৫ ডিসেম্বর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়। সেখানে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর রাত ৯টা ৪৫ মিনিটে তিনি মারা যান।

এ ঘটনায় গত ১৪ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের বাদী হয়ে পল্টন থানায় হত্যাচেষ্টার মামলা দায়ের করেন। মামলায় অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, হত্যাচেষ্টা এবং বিপজ্জনক অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগ আনা হয়। পরবর্তীতে হাদির মৃত্যু হলে ২০ ডিসেম্বর আদালতের আদেশে মামলায় দণ্ডবিধির ৩০২ ধারা (হত্যা) সংযোজন করা হয়। এ আদেশ দেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সিদ্দিক আজাদ।


নজর বিডি

উপদেষ্টা সম্পাদক: মো: ইব্রাহিম খলিল। 
সম্পাদক: মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম। 
লিগ্যাল এডভাইজার: মাহমুদুর রহমান সুইট- এম.কম, এল এল বি, এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট।


 

কপিরাইট © ২০২৬ নজর বিডি সর্বস্ব সংরক্ষিত