নজর বিডি
প্রকাশ : বুধবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৫

কেন রুহুল আমিন ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিলেন?

কেন রুহুল আমিন ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিলেন?
রাজশাহীর বাঘা উপজেলার আড়ানী রেলস্টেশনে ঘটেছে এক মর্মান্তিক আত্মহত্যার ঘটনা। গত ১৪ এপ্রিল বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ধূমকেতু এক্সপ্রেস ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেন রুহুল আমিন (৬০) নামের এক বৃদ্ধ। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। এই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যা ঘিরে শুরু হয় নানা গুঞ্জন ও ভুল তথ্য ছড়ানোর প্রবণতা। রুহুল আমিন রাজশাহীর বাউসা ইউনিয়নের মাঝপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। তার পরিবার জানিয়েছে, তিনি কিছুটা মানসিক ভারসাম্যহীন ও একরোখা স্বভাবের ছিলেন। ছেলে মীর মশিউর রহমান জানান, তার বাবা দীর্ঘদিন ধরেই শারীরিক ও মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন এবং ঘটনার দিন বাজারে গিয়েছিলেন পরিবারের প্রয়োজনীয় জিনিস কিনতে। তার ব্যবহৃত পলিথিন ব্যাগটিও ঘটনাস্থলে পাওয়া গেছে। ছেলে অভিযোগ করেন, বাবার মৃত্যু নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যেসব গুজব ছড়ানো হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। যেমন—ছেলের বউ নির্যাতন করতেন বা সন্তানরা দেখাশোনা করতেন না—এসব কথার কোনো সত্যতা নেই। তিনি জানান, বোন বিবাহিত এবং শ্বশুরবাড়িতে থাকেন, আর তিনি নিজে ঢাকায় চাকরি করেন। স্থানীয় শিক্ষক ও সাবেক জনপ্রতিনিধিরাও রুহুল আমিনের স্বভাব-চরিত্রের প্রশংসা করে জানান, তিনি ছিলেন শান্ত, কিন্তু জেদি প্রকৃতির মানুষ। তারা জানান, পরিবারটি সমাজে সম্মানিত এবং রুহুল আমিনের সন্তানরা যথাযথ দায়িত্ব পালন করতেন। ঈশ্বরদী রেলওয়ে থানার ওসি জিয়াউর রহমান জানান, রুহুল আমিন এনজিও থেকে ২-৩ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে পেঁয়াজ চাষ করেছিলেন, কিন্তু কাঙ্ক্ষিত ফলন না পাওয়ায় লোকসানের মুখে পড়েন। সেই সঙ্গে চলছিল শারীরিক অসুস্থতাও। দুশ্চিন্তায় পড়ে থাকতে পারেন বলেই ধারণা করা হচ্ছে। তার মৃত্যুর ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা অনুরোধ জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব না ছড়িয়ে সত্যতা যাচাই করে দায়িত্বশীল আচরণ করা হোক।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
নজর বিডি

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬


কেন রুহুল আমিন ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিলেন?

প্রকাশের তারিখ : ১৬ এপ্রিল ২০২৫

featured Image
রাজশাহীর বাঘা উপজেলার আড়ানী রেলস্টেশনে ঘটেছে এক মর্মান্তিক আত্মহত্যার ঘটনা। গত ১৪ এপ্রিল বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ধূমকেতু এক্সপ্রেস ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেন রুহুল আমিন (৬০) নামের এক বৃদ্ধ। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। এই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যা ঘিরে শুরু হয় নানা গুঞ্জন ও ভুল তথ্য ছড়ানোর প্রবণতা। রুহুল আমিন রাজশাহীর বাউসা ইউনিয়নের মাঝপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। তার পরিবার জানিয়েছে, তিনি কিছুটা মানসিক ভারসাম্যহীন ও একরোখা স্বভাবের ছিলেন। ছেলে মীর মশিউর রহমান জানান, তার বাবা দীর্ঘদিন ধরেই শারীরিক ও মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন এবং ঘটনার দিন বাজারে গিয়েছিলেন পরিবারের প্রয়োজনীয় জিনিস কিনতে। তার ব্যবহৃত পলিথিন ব্যাগটিও ঘটনাস্থলে পাওয়া গেছে। ছেলে অভিযোগ করেন, বাবার মৃত্যু নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যেসব গুজব ছড়ানো হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। যেমন—ছেলের বউ নির্যাতন করতেন বা সন্তানরা দেখাশোনা করতেন না—এসব কথার কোনো সত্যতা নেই। তিনি জানান, বোন বিবাহিত এবং শ্বশুরবাড়িতে থাকেন, আর তিনি নিজে ঢাকায় চাকরি করেন। স্থানীয় শিক্ষক ও সাবেক জনপ্রতিনিধিরাও রুহুল আমিনের স্বভাব-চরিত্রের প্রশংসা করে জানান, তিনি ছিলেন শান্ত, কিন্তু জেদি প্রকৃতির মানুষ। তারা জানান, পরিবারটি সমাজে সম্মানিত এবং রুহুল আমিনের সন্তানরা যথাযথ দায়িত্ব পালন করতেন। ঈশ্বরদী রেলওয়ে থানার ওসি জিয়াউর রহমান জানান, রুহুল আমিন এনজিও থেকে ২-৩ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে পেঁয়াজ চাষ করেছিলেন, কিন্তু কাঙ্ক্ষিত ফলন না পাওয়ায় লোকসানের মুখে পড়েন। সেই সঙ্গে চলছিল শারীরিক অসুস্থতাও। দুশ্চিন্তায় পড়ে থাকতে পারেন বলেই ধারণা করা হচ্ছে। তার মৃত্যুর ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা অনুরোধ জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব না ছড়িয়ে সত্যতা যাচাই করে দায়িত্বশীল আচরণ করা হোক।

নজর বিডি

উপদেষ্টা সম্পাদক: মো: ইব্রাহিম খলিল। 
সম্পাদক: মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম। 
লিগ্যাল এডভাইজার: মাহমুদুর রহমান সুইট- এম.কম, এল এল বি, এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট।


 

কপিরাইট © ২০২৬ নজর বিডি সর্বস্ব সংরক্ষিত