পদ্মার ভয়াবহ ভাঙনে জাজিরার পূর্ব নাওডোবা এলাকায় রক্ষা বাঁধ ধস
২০০ মিটার রক্ষা বাঁধ পদ্মায় বিলীন, ৬টি পরিবার ঘরবাড়ি হারিয়েছে, ১৩টি দোকান নদীগর্ভে; আতঙ্কে নিরাপদ স্থানে সরিয়েছে ৩০ পরিবার পদ্মার ভয়াবহ ভাঙনে জাজিরার পূর্ব নাওডোবা এলাকায় রক্ষা বাঁধ ধস, ঘরবাড়ি-দোকান নদীগর্ভে বিলীন
শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার পূর্ব নাওডোবা এলাকায় পদ্মা সেতু প্রকল্প সংলগ্ন রক্ষা বাঁধের এক বিশাল অংশ ধসে পড়েছে। সোমবার (৭ জুলাই) দুপুরে হঠাৎ করেই প্রায় ২০০ মিটার বাঁধ পদ্মা নদীতে তলিয়ে যেতে শুরু করে। বিকেল নাগাদ ভাঙনের তীব্রতা এতটাই বেড়ে যায় যে, একের পর এক দোকান ও বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হতে থাকে। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, সোমবারের ভাঙনে অন্তত ছয়টি পরিবার তাদের ঘরবাড়ি হারিয়েছে। নদীতে ভেসে গেছে আরও ১৩টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। ভয়াবহ পরিস্থিতির আশঙ্কায় অন্তত ৩০টি পরিবার এবং ২০টিরও বেশি দোকানপাট নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
প্রসঙ্গত, পূর্ব নাওডোবার এই অঞ্চলে পদ্মা নদীর ভাঙন নতুন নয়। গত বছরের নভেম্বরে জিরো পয়েন্ট এলাকায় প্রথম বড় ধরনের ধস দেখা দেয়। চলতি বছরের ৮ জুনেও একই এলাকায় প্রায় ২০০ মিটার রক্ষা বাঁধ নদীতে বিলীন হয়েছিল। তবে এবারের ভাঙন পরিস্থিতিকে স্থানীয়রা আরও জটিল ও ভয়াবহ বলে মনে করছেন।
সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে পদ্মা সেতু প্রকল্প সংলগ্ন আলম খার কান্দি, উকিল উদ্দিন মুন্সি কান্দি এবং ওছিম উদ্দিন মুন্সি কান্দি গ্রামের প্রায় ৬০০ পরিবার। এসব এলাকায় নদীর প্রবল স্রোতের কারণে যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
মধ্য নাওডোবার বাসিন্দা মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন বলেন, “দুপুর ৩টার পর থেকে হঠাৎ করে বাঁধের মাটি সরে যেতে থাকে। ৪টার পর থেকে একে একে দোকান, ঘরবাড়ি নদীতে পড়তে থাকে। আমরা খুব আতঙ্কে আছি। দ্রুত যদি স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ না হয়, তাহলে এ অঞ্চল মানচিত্র থেকেই হারিয়ে যেতে পারে।”
হাজী মমিন আলী মাঝি কান্দি এলাকার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার মো. জলিল সরদার জানান, “কয়েকদিন ধরেই নদীতে প্রবল স্রোত চলছে। বাঁধের পেছনে ফাটল দেখা দিলেও তখন কেউ গুরুত্ব দেয়নি। এখন তো পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে।”
এ বিষয়ে জাজিরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাবেরী রায় জানান, “বর্তমান ভাঙন পরিস্থিতি অত্যন্ত ভয়াবহ। আমরা ক্ষতিগ্রস্তদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার কাজ করছি এবং ক্ষয়ক্ষতির তালিকা প্রস্তুতের জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।”
অন্যদিকে, স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং করে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মানুষদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বলা হচ্ছে। তবে স্থানীয়দের দাবি, যদি দ্রুত ও কার্যকর স্থায়ী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হয়, তাহলে পদ্মার করাল গ্রাস থেকে এই এলাকা রক্ষা করা অসম্ভব হয়ে পড়বে।
পদ্মার ভয়াবহ ভাঙনে জাজিরার পূর্ব নাওডোবা এলাকায় রক্ষা বাঁধ ধস
প্রকাশের তারিখ : ০৮ জুলাই ২০২৫
২০০ মিটার রক্ষা বাঁধ পদ্মায় বিলীন, ৬টি পরিবার ঘরবাড়ি হারিয়েছে, ১৩টি দোকান নদীগর্ভে; আতঙ্কে নিরাপদ স্থানে সরিয়েছে ৩০ পরিবার পদ্মার ভয়াবহ ভাঙনে জাজিরার পূর্ব নাওডোবা এলাকায় রক্ষা বাঁধ ধস, ঘরবাড়ি-দোকান নদীগর্ভে বিলীন
শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার পূর্ব নাওডোবা এলাকায় পদ্মা সেতু প্রকল্প সংলগ্ন রক্ষা বাঁধের এক বিশাল অংশ ধসে পড়েছে। সোমবার (৭ জুলাই) দুপুরে হঠাৎ করেই প্রায় ২০০ মিটার বাঁধ পদ্মা নদীতে তলিয়ে যেতে শুরু করে। বিকেল নাগাদ ভাঙনের তীব্রতা এতটাই বেড়ে যায় যে, একের পর এক দোকান ও বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হতে থাকে। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, সোমবারের ভাঙনে অন্তত ছয়টি পরিবার তাদের ঘরবাড়ি হারিয়েছে। নদীতে ভেসে গেছে আরও ১৩টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। ভয়াবহ পরিস্থিতির আশঙ্কায় অন্তত ৩০টি পরিবার এবং ২০টিরও বেশি দোকানপাট নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
প্রসঙ্গত, পূর্ব নাওডোবার এই অঞ্চলে পদ্মা নদীর ভাঙন নতুন নয়। গত বছরের নভেম্বরে জিরো পয়েন্ট এলাকায় প্রথম বড় ধরনের ধস দেখা দেয়। চলতি বছরের ৮ জুনেও একই এলাকায় প্রায় ২০০ মিটার রক্ষা বাঁধ নদীতে বিলীন হয়েছিল। তবে এবারের ভাঙন পরিস্থিতিকে স্থানীয়রা আরও জটিল ও ভয়াবহ বলে মনে করছেন।
সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে পদ্মা সেতু প্রকল্প সংলগ্ন আলম খার কান্দি, উকিল উদ্দিন মুন্সি কান্দি এবং ওছিম উদ্দিন মুন্সি কান্দি গ্রামের প্রায় ৬০০ পরিবার। এসব এলাকায় নদীর প্রবল স্রোতের কারণে যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
মধ্য নাওডোবার বাসিন্দা মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন বলেন, “দুপুর ৩টার পর থেকে হঠাৎ করে বাঁধের মাটি সরে যেতে থাকে। ৪টার পর থেকে একে একে দোকান, ঘরবাড়ি নদীতে পড়তে থাকে। আমরা খুব আতঙ্কে আছি। দ্রুত যদি স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ না হয়, তাহলে এ অঞ্চল মানচিত্র থেকেই হারিয়ে যেতে পারে।”
হাজী মমিন আলী মাঝি কান্দি এলাকার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার মো. জলিল সরদার জানান, “কয়েকদিন ধরেই নদীতে প্রবল স্রোত চলছে। বাঁধের পেছনে ফাটল দেখা দিলেও তখন কেউ গুরুত্ব দেয়নি। এখন তো পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে।”
এ বিষয়ে জাজিরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাবেরী রায় জানান, “বর্তমান ভাঙন পরিস্থিতি অত্যন্ত ভয়াবহ। আমরা ক্ষতিগ্রস্তদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার কাজ করছি এবং ক্ষয়ক্ষতির তালিকা প্রস্তুতের জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।”
অন্যদিকে, স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং করে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মানুষদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বলা হচ্ছে। তবে স্থানীয়দের দাবি, যদি দ্রুত ও কার্যকর স্থায়ী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হয়, তাহলে পদ্মার করাল গ্রাস থেকে এই এলাকা রক্ষা করা অসম্ভব হয়ে পড়বে।
উপদেষ্টা সম্পাদক: মো: ইব্রাহিম খলিল।
সম্পাদক: মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম।
লিগ্যাল এডভাইজার: মাহমুদুর রহমান সুইট- এম.কম, এল এল বি, এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট।
আপনার মতামত লিখুন