পরিবার নিয়ে বসবাস করতেন কুমিল্লায়। ২০২৫ সালের ৫ আগস্ট, আদালত থেকে বের হয়ে বাসায় ফেরার পথে তিনি গুলিবিদ্ধ হন। ১১ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর ১৬ আগস্ট ঢাকার একটি হাসপাতালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
গ্রামের বাড়িতে বসতঘর না থাকায় বর্তমানে তার স্ত্রী হাসিনা সুলতানা ও দুই মেয়ে কুমিল্লার নান্না দীঘির পাড়ে একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করছেন। বড় মেয়ে নিশাত জাহান মম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর শেষ করে একটি বেসরকারি ব্যাংকে অস্থায়ী চাকরি করছেন। ছোট মেয়ে তাছনিয়া অনি এসএসসি পাস করেছে সম্প্রতি। স্বামী হারিয়ে তারা আজ চরম অসহায়।
আবুল কালাম ছিলেন হাজীগঞ্জ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি (১৯৮৩), পায়েলগাছা কলেজ থেকে এইচএসসি (১৯৮৫), হাজীগঞ্জ ডিগ্রি কলেজ থেকে বিএ (১৯৮৮) এবং কুমিল্লা ল কলেজ থেকে এলএলবি (১৯৯১) পাস করা একজন শিক্ষিত মানুষ। ১৯৯৪ সাল থেকে কুমিল্লা আইনজীবী সমিতির সদস্য ছিলেন এবং দুইবার যুগ্ম সম্পাদক নির্বাচিত হন।
শহীদ আবুল কালামের গ্যাজেট নম্বর ৩৮২ এবং মেডিকেল কেস আইডি ২২৩৮৯। এ পর্যন্ত তিনি ও তার পরিবার:
জুলাই ফাউন্ডেশন থেকে ৫ লাখ টাকা এবং একটি ১০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র
জেলা প্রশাসন থেকে ২ লাখ টাকা
হাজীগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন থেকে ১০ হাজার টাকা
জামায়াতে ইসলামী থেকে ৫০ হাজার টাকা অনুদান পেয়েছেন।
তার স্ত্রী বলেন, “আমার স্বামী আন্দোলনের সময় আহত শিক্ষার্থীদের পাশে আইনি সহায়তা দিতেন। তার সহজ-সরল জীবনযাপন আর মানুষের পাশে দাঁড়ানোই ছিল জীবনের উদ্দেশ্য। এখন তিনি নেই, দুই মেয়েকে নিয়ে অসহায় জীবন যাপন করছি। বাড়িতে জমি থাকলেও কোনো ঘর নেই।”
বড় মেয়ে মম বলেন, “বাবার স্বপ্ন ছিল আমি বিসিএস ক্যাডার হব। আমি চেষ্টা করে যাচ্ছি।”
ছোট মেয়ে অনি বলেন, “বাবার স্বপ্ন ছিল আমি আইনজীবী হই। এখনো বাবাকে হারানোর শোক কাটিয়ে উঠতে পারছি না।”
তার ভাই শোয়েব হোসেন জানান, “ভাই শুধু নিজের পরিবার নয়, আশেপাশের গরিব-অসহায়দের পাশেও দাঁড়াতেন। এলাকার ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানেও তিনি কাজ করেছেন। আমরা চেষ্টা করবো তার মানবিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যেতে।”
সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ ভাই রাসেল হোসেন বলেন, “ভাই সবসময় আমাদের পরিবারের অভিভাবক ছিলেন। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থাতেও আমাকে বলেছিলেন—‘কথা কম বলিস, শুন বেশি’। ভাইয়ের স্মৃতি আমাদের প্রতিটি মুহূর্তে তাড়িয়ে বেড়ায়।”
শহীদ মো. আবুল কালামের আত্মত্যাগ ও পরিবারটির আজকের দুঃখগাথা যেন আমাদের সমাজে সহানুভূতি ও দায়িত্ববোধের এক উজ্জ্বল উদাহরণ হয়ে থাকে। পরিবারটি সরকারের সহায়তা ও সহমর্মী সমাজের কাছে সহযোগিতা কামনা করছে।

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৭ জুলাই ২০২৫
পরিবার নিয়ে বসবাস করতেন কুমিল্লায়। ২০২৫ সালের ৫ আগস্ট, আদালত থেকে বের হয়ে বাসায় ফেরার পথে তিনি গুলিবিদ্ধ হন। ১১ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর ১৬ আগস্ট ঢাকার একটি হাসপাতালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
গ্রামের বাড়িতে বসতঘর না থাকায় বর্তমানে তার স্ত্রী হাসিনা সুলতানা ও দুই মেয়ে কুমিল্লার নান্না দীঘির পাড়ে একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করছেন। বড় মেয়ে নিশাত জাহান মম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর শেষ করে একটি বেসরকারি ব্যাংকে অস্থায়ী চাকরি করছেন। ছোট মেয়ে তাছনিয়া অনি এসএসসি পাস করেছে সম্প্রতি। স্বামী হারিয়ে তারা আজ চরম অসহায়।
আবুল কালাম ছিলেন হাজীগঞ্জ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি (১৯৮৩), পায়েলগাছা কলেজ থেকে এইচএসসি (১৯৮৫), হাজীগঞ্জ ডিগ্রি কলেজ থেকে বিএ (১৯৮৮) এবং কুমিল্লা ল কলেজ থেকে এলএলবি (১৯৯১) পাস করা একজন শিক্ষিত মানুষ। ১৯৯৪ সাল থেকে কুমিল্লা আইনজীবী সমিতির সদস্য ছিলেন এবং দুইবার যুগ্ম সম্পাদক নির্বাচিত হন।
শহীদ আবুল কালামের গ্যাজেট নম্বর ৩৮২ এবং মেডিকেল কেস আইডি ২২৩৮৯। এ পর্যন্ত তিনি ও তার পরিবার:
জুলাই ফাউন্ডেশন থেকে ৫ লাখ টাকা এবং একটি ১০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র
জেলা প্রশাসন থেকে ২ লাখ টাকা
হাজীগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন থেকে ১০ হাজার টাকা
জামায়াতে ইসলামী থেকে ৫০ হাজার টাকা অনুদান পেয়েছেন।
তার স্ত্রী বলেন, “আমার স্বামী আন্দোলনের সময় আহত শিক্ষার্থীদের পাশে আইনি সহায়তা দিতেন। তার সহজ-সরল জীবনযাপন আর মানুষের পাশে দাঁড়ানোই ছিল জীবনের উদ্দেশ্য। এখন তিনি নেই, দুই মেয়েকে নিয়ে অসহায় জীবন যাপন করছি। বাড়িতে জমি থাকলেও কোনো ঘর নেই।”
বড় মেয়ে মম বলেন, “বাবার স্বপ্ন ছিল আমি বিসিএস ক্যাডার হব। আমি চেষ্টা করে যাচ্ছি।”
ছোট মেয়ে অনি বলেন, “বাবার স্বপ্ন ছিল আমি আইনজীবী হই। এখনো বাবাকে হারানোর শোক কাটিয়ে উঠতে পারছি না।”
তার ভাই শোয়েব হোসেন জানান, “ভাই শুধু নিজের পরিবার নয়, আশেপাশের গরিব-অসহায়দের পাশেও দাঁড়াতেন। এলাকার ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানেও তিনি কাজ করেছেন। আমরা চেষ্টা করবো তার মানবিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যেতে।”
সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ ভাই রাসেল হোসেন বলেন, “ভাই সবসময় আমাদের পরিবারের অভিভাবক ছিলেন। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থাতেও আমাকে বলেছিলেন—‘কথা কম বলিস, শুন বেশি’। ভাইয়ের স্মৃতি আমাদের প্রতিটি মুহূর্তে তাড়িয়ে বেড়ায়।”
শহীদ মো. আবুল কালামের আত্মত্যাগ ও পরিবারটির আজকের দুঃখগাথা যেন আমাদের সমাজে সহানুভূতি ও দায়িত্ববোধের এক উজ্জ্বল উদাহরণ হয়ে থাকে। পরিবারটি সরকারের সহায়তা ও সহমর্মী সমাজের কাছে সহযোগিতা কামনা করছে।

আপনার মতামত লিখুন