গোপালগঞ্জের সহিংসতার ঘটনায় পুলিশে মামলা: আসামী ৫৪০০
প্রকাশের তারিখ : ২০ জুলাই ২০২৫
গোপালগঞ্জ সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আব্দুল্লাহ আল মামুন হত্যার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে পুলিশ। এনসিপির ‘জুলাই পদযাত্রা’ ও সমাবেশ ঘিরে বুধবার গোপালগঞ্জে সহিংসতার বিস্তার ঘটে। একাধিক দফায় হামলার পর পুলিশের সঙ্গে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ শুরু হয়, যা পরে পুরো শহরজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে।
সহিংসতার ঘটনায় এখন পর্যন্ত পাঁচজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। নিহতরা হলেন—গোপালগঞ্জ পৌরসভার উদয়ন রোডের দীপ্ত সাহা (২৫), টুঙ্গিপাড়া উপজেলার সোহেল রানা মোল্লা (৩৫), কোটালীপাড়া উপজেলার হরিণাহাটি গ্রামের রমজান কাজি (১৮), ভেড়ার বাজার বেপারীপাড়ার ইমন তালুকদার (১৮), এবং থানাপাড়া এলাকার রমজান মুন্সি (৩৫)। নিহত রমজান মুন্সির পক্ষে এখনও পর্যন্ত কোনো মামলা দায়ের করা হয়নি।
নিহতদের মধ্যে চারজনের পক্ষে গতকাল (১৯ জুলাই) রাতে পুলিশ বাদী হয়ে চারটি পৃথক হত্যা মামলা দায়ের করেছে।নিহত সোহেল রানার পক্ষে মামলা (নং-১৯) করেছেন উপ-পরিদর্শক আবুল কালাম আজাদ,দীপ্ত সাহার পক্ষে মামলা (নং-১৮) করেছেন উপ-পরিদর্শক শামীম হোসেন,ইমন তালুকদারের পক্ষে মামলা (নং-২০) করেছেন উপ-পরিদর্শক শেখ মিজানুর রহমান,রমজান কাজির পক্ষে মামলা (নং-১৭) করেছেন পরিদর্শক মো. আয়ুব আলী।
এই চারটি মামলায় মোট ৫ হাজার ৪০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। এর মধ্যে তিনটি মামলায় অজ্ঞাতপরিচয় ১ হাজার ৫০০ জন করে এবং একটি মামলায় অজ্ঞাত ৯০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
উল্লিখিত চারটি হত্যা মামলায় দণ্ডবিধির ১৪৭, ১৪৮, ১৪৯, ১৮৬, ১৫৩, ৩০৭, ৩০২ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।এছাড়াও পুলিশের ওপর হামলা, গাড়ি ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ এবং রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে গোপালগঞ্জ সদর, কাশিয়ানী ও কোটালীপাড়া থানায় আরও চারটি মামলা হয়েছে। এতে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগী সংগঠনের ৩৫৮ জন নেতাকর্মীর নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ২ হাজার ৬৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
এই মামলাগুলোর প্রেক্ষিতে জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ইতোমধ্যে ৩২১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে ১৫ জনকে।
পুলিশ সূত্র জানায়,সদর থানায় নতুন ৯ জনসহ মোট ১০১ জন,কাশিয়ানীতে ৭৭ জন,মুকসুদপুরে ৮৮ জন,টুঙ্গিপাড়ায় ২৭ জন,কোটালীপাড়ায় নতুন ৬ জনসহ ২৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।এনসিপির কর্মসূচি ঘিরে উদ্ভূত এই উত্তপ্ত পরিস্থিতি এখনও পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। শহরে থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে, নিরাপত্তা বাহিনী গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অবস্থান নিয়েছে এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রয়েছে।
উপদেষ্টা সম্পাদক: মো: ইব্রাহিম খলিল। সম্পাদক: মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম।
লিগ্যাল এডভাইজার: মাহমুদুর রহমান সুইট- এম.কম, এল এল বি, এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট।
কপিরাইট © ২০২৬ নজর বিডি সর্বস্ব সংরক্ষিত
আপনার মতামত লিখুন