প্রথম দেখায় মনে হতে পারে, ডুমুরিয়া যেন এক বিশাল জলরাশি। চারপাশে থৈ থৈ পানি, মাঠের পর মাঠ ডুবে আছে বৃষ্টির পানিতে। খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ কৃষিজমি এখন স্থায়ী জলাবদ্ধতায় আক্রান্ত। ডুবে আছে হাজার হাজার চিংড়িঘের, ধানক্ষেত। অথচ পানি বের হওয়ার নেই কোনো ব্যবস্থা। দিন যত যাচ্ছে, দুর্ভোগ তত বাড়ছে; বাড়ছে কৃষকের কান্না।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, উপজেলার খর্ণিয়া ইউনিয়নের ডোমরার বিল এখন এক বদ্ধ জলাধার। পানি নিস্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় প্রায় ত্রিশটি গ্রামে জমে আছে পানি। স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, বিএডসির খনন করা খালগুলো বছরের পর বছর অবহেলায় পড়ে আছে। খালের স্বাভাবিক প্রবাহ বন্ধ হয়ে গেছে কচুরিপানা ও মাটিতে ভরাট হয়ে।
তথ্য অনুসন্ধানে জানা গেছে, ডুমুরিয়ার ধামালিয়া, রঘুনাথপুর, রুদাঘরা, খর্ণিয়া, আটলিয়া, মাগুরাঘোনা, সাহস, শরাফপুর, ভান্ডারপাড়া, ডুমুরিয়া সদর, গুটুদিয়া ও আশপাশের সব ইউনিয়নের মাঠজুড়ে পানি জমে আছে।

ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন কৃষকরা
খর্ণিয়া গ্রামের কৃষক রবিউল ইসলাম বলেন, “৪-৫ বছর ধরে আমরা ঠিকভাবে ধান ফলাতে পারছি না। ডোমরার বিলে জমে থাকা পানি আর খালে কচুরিপানা জমে জলাবদ্ধতা ভয়াবহ আকার নিয়েছে।” তিনি জানান, “বিএডসির দপ্তরে বহুবার গেছি। কর্মকর্তারা দেখে গেছেন, আশ্বাস দিয়েছেন, কিন্তু কাজের কাজ কিছু হয়নি।”
পাশের পাচপোতা গ্রামের কৃষক সোহরাব হোসেন জানান, “১০ গ্রামের পানি এসে পড়ে ডোমরার খালে, তারপর খর্ণিয়ার সুইসগেট দিয়ে নদীতে যাওয়ার কথা। কিন্তু সেই খাল এখন ভরাট ও কচুরিপনায় বন্ধ। ফলে পানি থেকে যাচ্ছে, ফসল ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে।”
প্রশাসনিক দৃষ্টি ও কৃষকদের দাবি
স্থানীয় ইউপি সদস্য আব হালিম বলেন, “বিএডসির ক্ষুদ্র সেচ বিভাগের প্রধান প্রকৌশলীর কাছে লিখিত আবেদন করেছি। কিন্তু এখনো কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। কৃষকদের প্রাণের দাবি—খালগুলো দ্রুত খনন করে পানি চলাচল স্বাভাবিক করতে হবে।”
এ বিষয়ে বিএডসির সহকারী প্রকৌশলী শরিফুল ইসলাম জানান, “আমি নিজে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। মাঠজুড়ে শুধু পানি। খাল ভরাট হয়ে যাওয়ায় পানি বের হতে পারছে না। আমি নির্বাহী প্রকৌশলীর দপ্তরে রিপোর্ট পাঠিয়েছি। আশা করছি, দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে।”
সমাধান না এলে কৃষিতে বিপর্যয়
কৃষকদের চোখে এখন শুধু হতাশা। যদি অবিলম্বে খাল খননের উদ্যোগ না নেওয়া হয়, তাহলে আগামী মৌসুমেও চাষাবাদ অসম্ভব হয়ে পড়বে। সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকার কৃষক সমাজ।

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০১ আগস্ট ২০২৫
প্রথম দেখায় মনে হতে পারে, ডুমুরিয়া যেন এক বিশাল জলরাশি। চারপাশে থৈ থৈ পানি, মাঠের পর মাঠ ডুবে আছে বৃষ্টির পানিতে। খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ কৃষিজমি এখন স্থায়ী জলাবদ্ধতায় আক্রান্ত। ডুবে আছে হাজার হাজার চিংড়িঘের, ধানক্ষেত। অথচ পানি বের হওয়ার নেই কোনো ব্যবস্থা। দিন যত যাচ্ছে, দুর্ভোগ তত বাড়ছে; বাড়ছে কৃষকের কান্না।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, উপজেলার খর্ণিয়া ইউনিয়নের ডোমরার বিল এখন এক বদ্ধ জলাধার। পানি নিস্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় প্রায় ত্রিশটি গ্রামে জমে আছে পানি। স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, বিএডসির খনন করা খালগুলো বছরের পর বছর অবহেলায় পড়ে আছে। খালের স্বাভাবিক প্রবাহ বন্ধ হয়ে গেছে কচুরিপানা ও মাটিতে ভরাট হয়ে।
তথ্য অনুসন্ধানে জানা গেছে, ডুমুরিয়ার ধামালিয়া, রঘুনাথপুর, রুদাঘরা, খর্ণিয়া, আটলিয়া, মাগুরাঘোনা, সাহস, শরাফপুর, ভান্ডারপাড়া, ডুমুরিয়া সদর, গুটুদিয়া ও আশপাশের সব ইউনিয়নের মাঠজুড়ে পানি জমে আছে।

ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন কৃষকরা
খর্ণিয়া গ্রামের কৃষক রবিউল ইসলাম বলেন, “৪-৫ বছর ধরে আমরা ঠিকভাবে ধান ফলাতে পারছি না। ডোমরার বিলে জমে থাকা পানি আর খালে কচুরিপানা জমে জলাবদ্ধতা ভয়াবহ আকার নিয়েছে।” তিনি জানান, “বিএডসির দপ্তরে বহুবার গেছি। কর্মকর্তারা দেখে গেছেন, আশ্বাস দিয়েছেন, কিন্তু কাজের কাজ কিছু হয়নি।”
পাশের পাচপোতা গ্রামের কৃষক সোহরাব হোসেন জানান, “১০ গ্রামের পানি এসে পড়ে ডোমরার খালে, তারপর খর্ণিয়ার সুইসগেট দিয়ে নদীতে যাওয়ার কথা। কিন্তু সেই খাল এখন ভরাট ও কচুরিপনায় বন্ধ। ফলে পানি থেকে যাচ্ছে, ফসল ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে।”
প্রশাসনিক দৃষ্টি ও কৃষকদের দাবি
স্থানীয় ইউপি সদস্য আব হালিম বলেন, “বিএডসির ক্ষুদ্র সেচ বিভাগের প্রধান প্রকৌশলীর কাছে লিখিত আবেদন করেছি। কিন্তু এখনো কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। কৃষকদের প্রাণের দাবি—খালগুলো দ্রুত খনন করে পানি চলাচল স্বাভাবিক করতে হবে।”
এ বিষয়ে বিএডসির সহকারী প্রকৌশলী শরিফুল ইসলাম জানান, “আমি নিজে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। মাঠজুড়ে শুধু পানি। খাল ভরাট হয়ে যাওয়ায় পানি বের হতে পারছে না। আমি নির্বাহী প্রকৌশলীর দপ্তরে রিপোর্ট পাঠিয়েছি। আশা করছি, দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে।”
সমাধান না এলে কৃষিতে বিপর্যয়
কৃষকদের চোখে এখন শুধু হতাশা। যদি অবিলম্বে খাল খননের উদ্যোগ না নেওয়া হয়, তাহলে আগামী মৌসুমেও চাষাবাদ অসম্ভব হয়ে পড়বে। সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকার কৃষক সমাজ।

আপনার মতামত লিখুন