মনির হোসেন জীবন, বিশেষ সংবাদদাতা
রাজধানীর ডিয়াবাড়িতে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্তে নিহত ও আহতদের পরিবারের সদস্যরা আজ (১২ আগস্ট) তাদের পূর্ব ঘোষিত ৮ দফা দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন।
সকাল ৭টা ৫০ মিনিটে শুরু হয়ে একটানা ১০টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত মানববন্ধন চলে। উত্তরার দিয়াবাড়ি এলাকায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের স্থায়ী ক্যাম্পাসের মূল ফটকের সামনে গোলচক্করে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
নিহত শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের প্রায় ১০০-১৫০ জন এতে অংশ নেন। উপস্থিত ছিলেন— নিহত ওকিয়া ফেরদৌস নিধির বাবা মো. ফারুক হোসেন, নিহত সাইমা আক্তারের বাবা, মাহাতাবুর রহমানের বাবা, তানজিম আফরোজ আয়েশার বাবা, সারিয়া আক্তারের বাবা, বোরহান উদ্দিন বাপ্পির বাবা, সায়মা আক্তারের মা, উম্মে ফাতেমা আক্তারের মা, নুসরাত জাহান আনিকার বাবা, মারিয়াম উম্মে আফিয়ার মা এবং অন্যান্য অভিভাবকবৃন্দ।
মানববন্ধনে অভিভাবকরা অভিযোগ করেন— দুর্ঘটনার পর থেকে স্কুল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তাদের সঙ্গে কোনো কার্যকর যোগাযোগ রাখা হয়নি। বরং ২০ দিন পর ডেকে স্কুলের পক্ষে স্বাক্ষর নিতে চাওয়া হয়েছে।
তারা আরও অভিযোগ করেন, স্কুল কর্তৃপক্ষ ও বহিরাগতরা নামে-বেনামে হুমকি দিচ্ছে, মানববন্ধনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের জোরপূর্বক স্কুলে ফেরাতে চাপ দিচ্ছে। এছাড়া, মাইলস্টোন স্কুল শিক্ষার্থীদের কোচিং করতে বাধ্য করছে, যা থেকে অধ্যক্ষ নূরনবী ও প্রধান শিক্ষিকা খাদিজা আক্তারসহ কয়েকজন কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছেন। নিহত শিক্ষার্থী সায়মার বাবাকে শিক্ষক নোমান লাঞ্ছিত করার ঘটনায় ওই শিক্ষকের পদত্যাগের দাবিও ওঠে।
১. বিমান দুর্ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা।
২. দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কোচিং বাণিজ্য বন্ধ করা।
৩. সরকারের পক্ষ থেকে প্রতি নিহত শিক্ষার্থীর পরিবারকে ৫ কোটি টাকা ও আহতদের পরিবারকে ১ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া।
৪. স্কুল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে প্রতি নিহত শিক্ষার্থীর পরিবারকে ২ কোটি টাকা ও আহতদের পরিবারকে ১ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া।
৫. বিমান চলাচল রানওয়ে থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্থান পরিবর্তন অথবা রানওয়ের স্থান পরিবর্তন করা।
৬. কোচিং ব্যবসার মূল হোতা প্রধান শিক্ষিকা খাদিজাকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে অপসারণ করে সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করা।
৭. স্কুলের সিসিটিভি ফুটেজ অভিভাবকদের দেখানো।
৮. বিমান বাহিনীর প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা জনবসতিহীন এলাকায় স্থানান্তর করা।
ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা বলেন, সন্তানদের নিরাপত্তার জন্য মাইলস্টোনে ভর্তি করানো হয়েছিল, কিন্তু তারা এখন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে বা নিহত হয়েছে। কোনো শিক্ষক সান্ত্বনা দেয়নি, বরং ২০ দিন পর স্কুল বাঁচাতে স্বাক্ষর নিতে এসেছে।
তারা হুঁশিয়ারি দেন— “যদি আমাদের বা শিক্ষার্থীদের হয়রানি করা হয় কিংবা টিসি দেওয়া হয়, আমরা আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করবো।”
গত ২১ জুলাই ২০২৫, উত্তরার দিয়াবাড়িতে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ক্যাম্পাসের হায়দার আলী ভবনে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়। এ ঘটনায় বিমানের পাইলট ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মো. তৌকির ইসলামসহ এখন পর্যন্ত ৩৩ জন নিহত এবং প্রায় শতাধিক মানুষ আহত হন।

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১২ আগস্ট ২০২৫
মনির হোসেন জীবন, বিশেষ সংবাদদাতা
রাজধানীর ডিয়াবাড়িতে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্তে নিহত ও আহতদের পরিবারের সদস্যরা আজ (১২ আগস্ট) তাদের পূর্ব ঘোষিত ৮ দফা দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন।
সকাল ৭টা ৫০ মিনিটে শুরু হয়ে একটানা ১০টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত মানববন্ধন চলে। উত্তরার দিয়াবাড়ি এলাকায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের স্থায়ী ক্যাম্পাসের মূল ফটকের সামনে গোলচক্করে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
নিহত শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের প্রায় ১০০-১৫০ জন এতে অংশ নেন। উপস্থিত ছিলেন— নিহত ওকিয়া ফেরদৌস নিধির বাবা মো. ফারুক হোসেন, নিহত সাইমা আক্তারের বাবা, মাহাতাবুর রহমানের বাবা, তানজিম আফরোজ আয়েশার বাবা, সারিয়া আক্তারের বাবা, বোরহান উদ্দিন বাপ্পির বাবা, সায়মা আক্তারের মা, উম্মে ফাতেমা আক্তারের মা, নুসরাত জাহান আনিকার বাবা, মারিয়াম উম্মে আফিয়ার মা এবং অন্যান্য অভিভাবকবৃন্দ।
মানববন্ধনে অভিভাবকরা অভিযোগ করেন— দুর্ঘটনার পর থেকে স্কুল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তাদের সঙ্গে কোনো কার্যকর যোগাযোগ রাখা হয়নি। বরং ২০ দিন পর ডেকে স্কুলের পক্ষে স্বাক্ষর নিতে চাওয়া হয়েছে।
তারা আরও অভিযোগ করেন, স্কুল কর্তৃপক্ষ ও বহিরাগতরা নামে-বেনামে হুমকি দিচ্ছে, মানববন্ধনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের জোরপূর্বক স্কুলে ফেরাতে চাপ দিচ্ছে। এছাড়া, মাইলস্টোন স্কুল শিক্ষার্থীদের কোচিং করতে বাধ্য করছে, যা থেকে অধ্যক্ষ নূরনবী ও প্রধান শিক্ষিকা খাদিজা আক্তারসহ কয়েকজন কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছেন। নিহত শিক্ষার্থী সায়মার বাবাকে শিক্ষক নোমান লাঞ্ছিত করার ঘটনায় ওই শিক্ষকের পদত্যাগের দাবিও ওঠে।
১. বিমান দুর্ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা।
২. দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কোচিং বাণিজ্য বন্ধ করা।
৩. সরকারের পক্ষ থেকে প্রতি নিহত শিক্ষার্থীর পরিবারকে ৫ কোটি টাকা ও আহতদের পরিবারকে ১ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া।
৪. স্কুল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে প্রতি নিহত শিক্ষার্থীর পরিবারকে ২ কোটি টাকা ও আহতদের পরিবারকে ১ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া।
৫. বিমান চলাচল রানওয়ে থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্থান পরিবর্তন অথবা রানওয়ের স্থান পরিবর্তন করা।
৬. কোচিং ব্যবসার মূল হোতা প্রধান শিক্ষিকা খাদিজাকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে অপসারণ করে সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করা।
৭. স্কুলের সিসিটিভি ফুটেজ অভিভাবকদের দেখানো।
৮. বিমান বাহিনীর প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা জনবসতিহীন এলাকায় স্থানান্তর করা।
ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা বলেন, সন্তানদের নিরাপত্তার জন্য মাইলস্টোনে ভর্তি করানো হয়েছিল, কিন্তু তারা এখন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে বা নিহত হয়েছে। কোনো শিক্ষক সান্ত্বনা দেয়নি, বরং ২০ দিন পর স্কুল বাঁচাতে স্বাক্ষর নিতে এসেছে।
তারা হুঁশিয়ারি দেন— “যদি আমাদের বা শিক্ষার্থীদের হয়রানি করা হয় কিংবা টিসি দেওয়া হয়, আমরা আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করবো।”
গত ২১ জুলাই ২০২৫, উত্তরার দিয়াবাড়িতে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ক্যাম্পাসের হায়দার আলী ভবনে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়। এ ঘটনায় বিমানের পাইলট ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মো. তৌকির ইসলামসহ এখন পর্যন্ত ৩৩ জন নিহত এবং প্রায় শতাধিক মানুষ আহত হন।

আপনার মতামত লিখুন