নজর বিডি
প্রকাশ : শনিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫

মৎস্য সম্পদ বৃদ্ধি ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় ফরিদপুরের বিলগুলোতে পোনা মাছ অবমুক্ত

মৎস্য সম্পদ বৃদ্ধি ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় ফরিদপুরের বিলগুলোতে পোনা মাছ অবমুক্ত
৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৫: ফরিদপুর প্রতিনিধি: বর্ষার অঝোর ধারায় খাল-বিল ও নদী-নালা পানিতে জল পরিপূর্ণ হওয়ায় ফরিদপুরের বিভিন্ন উন্মুক্ত জলাশয়ে হাজার হাজার দেশি মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়েছে। এ বছর বর্ষার অঝোর ধারায় খাল-বিল, নদী-নালা পানিতে পরিপূর্ণ হয়ে ওঠায় যে অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে, তাকে কাজে লাগিয়ে ফরিদপুরের বিভিন্ন উন্মুক্ত জলাশয়ে ছাড়া হলো হাজার হাজার মাছের পোনা। জেলার বিশিষ্ট হরমোন রোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. কে. এম. নাহিদ-উল-হকের ব্যক্তিগত উদ্যোগে এবং "ডায়াবেটিস থাইরয়েড ও হরমোন কেয়ার"-এর ব্যবস্থাপনায় রনংকাইল ও চাপদহসহ আশেপাশের বিভিন্ন বিলে এই পোনা মাছ অবমুক্তকরণ কার্যক্রম পরিচালিত হয়। শনিবার সকালে আয়োজিত এই কার্যক্রমে রুই, কাতলা, মৃগেল এবং কালিবাউশের মতো দেশীয় মাছের হাজার হাজার পোনা অবমুক্ত করা হয়। মাটির কলসি ও ড্রাম থেকে মুক্ত হয়ে বিলের স্বচ্ছ পানিতে রুপালি শরীরের পোনাগুলো ছেড়ে দেওয়ার দৃশ্যটি ছিল মনোমুগ্ধকর। মুক্ত হয়েই মাছের ঝাঁকগুলো বিলের বিশাল জলরাশিতে মিশে যায়, যা স্থানীয় বাস্তুতন্ত্রে এক নতুন প্রাণের সঞ্চার করেছে। এই কার্যক্রমের প্রধান উদ্যোক্তা ডা. কে. এম. নাহিদ-উল-হক বলেন, "বিগত কয়েক বছরের তুলনায় এবারের বর্ষা প্রকৃতির জন্য আশীর্বাদ হয়ে এসেছে। এই ভরা বর্ষা দেশি মাছের বংশবৃদ্ধির জন্য একটি আদর্শ সময়। আমরা এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে বিলের মৎস্য সম্পদ পুনরুজ্জীবিত করতে চেয়েছি।" তিনি আরও বলেন, "আমাদের মূল লক্ষ্য হলো, সাধারণ মানুষ যেন বিলের প্রাকৃতিক ও ফরমালিনমুক্ত মাছ সহজে পেতে পারে এবং এর মাধ্যমে পরিবেশ ও প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষা পায়। আমাদের এই ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা যদি অন্যকে উৎসাহিত করে, তবেই এর সার্থকতা।" বিশেষজ্ঞদের মতে, এই উদ্যোগটি শুধু মাছের সংখ্যা বৃদ্ধি করবে না, বরং বিলের সমগ্র বাস্তুতন্ত্র বা ইকোসিস্টেমকে পুনরুজ্জীবিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। এই পোনাগুলো প্রাকৃতিক খাদ্য—শৈবাল, প্ল্যাঙ্কটন ও জলজ পোকামাকড় খেয়ে বেড়ে উঠবে। তাদের বিচরণের ফলে বিলের জীববৈচিত্র্যে ফিরে আসবে হারানো ভারসাম্য। একসময় এই মাছগুলো বড় হয়ে বংশবৃদ্ধি করবে এবং এর প্রাচুর্যের ওপর নির্ভর করে বেঁচে থাকা বক, মাছরাঙা ও পানকৌড়ির মতো পাখির আনাগোনাও বাড়বে। এই মহৎ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বিলপাড়ের জেলেরা আশা প্রকাশ করে বলেন, দীর্ঘদিন পর বিলের তাজা মাছের স্বাদ ফিরে পাওয়ার স্বপ্ন দেখছেন তারা। এই কার্যক্রমের ফলে তাদের জীবিকার পথও সুগম হবে বলে তারা মনে করেন। "বিলে পোনা অবমুক্তকরণ"-এর মতো সামাজিক কার্যক্রম এটাই প্রমাণ করে যে, প্রকৃতির প্রতি যত্নশীল হলে প্রকৃতি তার বহুগুণ ফিরিয়ে দেয়। এই উদ্যোগটি মৎস্য সম্পদ বৃদ্ধি ও পরিবেশ রক্ষায় একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট সকলেই।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
নজর বিডি

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬


মৎস্য সম্পদ বৃদ্ধি ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় ফরিদপুরের বিলগুলোতে পোনা মাছ অবমুক্ত

প্রকাশের তারিখ : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫

featured Image
৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৫: ফরিদপুর প্রতিনিধি: বর্ষার অঝোর ধারায় খাল-বিল ও নদী-নালা পানিতে জল পরিপূর্ণ হওয়ায় ফরিদপুরের বিভিন্ন উন্মুক্ত জলাশয়ে হাজার হাজার দেশি মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়েছে। এ বছর বর্ষার অঝোর ধারায় খাল-বিল, নদী-নালা পানিতে পরিপূর্ণ হয়ে ওঠায় যে অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে, তাকে কাজে লাগিয়ে ফরিদপুরের বিভিন্ন উন্মুক্ত জলাশয়ে ছাড়া হলো হাজার হাজার মাছের পোনা। জেলার বিশিষ্ট হরমোন রোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. কে. এম. নাহিদ-উল-হকের ব্যক্তিগত উদ্যোগে এবং "ডায়াবেটিস থাইরয়েড ও হরমোন কেয়ার"-এর ব্যবস্থাপনায় রনংকাইল ও চাপদহসহ আশেপাশের বিভিন্ন বিলে এই পোনা মাছ অবমুক্তকরণ কার্যক্রম পরিচালিত হয়। শনিবার সকালে আয়োজিত এই কার্যক্রমে রুই, কাতলা, মৃগেল এবং কালিবাউশের মতো দেশীয় মাছের হাজার হাজার পোনা অবমুক্ত করা হয়। মাটির কলসি ও ড্রাম থেকে মুক্ত হয়ে বিলের স্বচ্ছ পানিতে রুপালি শরীরের পোনাগুলো ছেড়ে দেওয়ার দৃশ্যটি ছিল মনোমুগ্ধকর। মুক্ত হয়েই মাছের ঝাঁকগুলো বিলের বিশাল জলরাশিতে মিশে যায়, যা স্থানীয় বাস্তুতন্ত্রে এক নতুন প্রাণের সঞ্চার করেছে। এই কার্যক্রমের প্রধান উদ্যোক্তা ডা. কে. এম. নাহিদ-উল-হক বলেন, "বিগত কয়েক বছরের তুলনায় এবারের বর্ষা প্রকৃতির জন্য আশীর্বাদ হয়ে এসেছে। এই ভরা বর্ষা দেশি মাছের বংশবৃদ্ধির জন্য একটি আদর্শ সময়। আমরা এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে বিলের মৎস্য সম্পদ পুনরুজ্জীবিত করতে চেয়েছি।" তিনি আরও বলেন, "আমাদের মূল লক্ষ্য হলো, সাধারণ মানুষ যেন বিলের প্রাকৃতিক ও ফরমালিনমুক্ত মাছ সহজে পেতে পারে এবং এর মাধ্যমে পরিবেশ ও প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষা পায়। আমাদের এই ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা যদি অন্যকে উৎসাহিত করে, তবেই এর সার্থকতা।" বিশেষজ্ঞদের মতে, এই উদ্যোগটি শুধু মাছের সংখ্যা বৃদ্ধি করবে না, বরং বিলের সমগ্র বাস্তুতন্ত্র বা ইকোসিস্টেমকে পুনরুজ্জীবিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। এই পোনাগুলো প্রাকৃতিক খাদ্য—শৈবাল, প্ল্যাঙ্কটন ও জলজ পোকামাকড় খেয়ে বেড়ে উঠবে। তাদের বিচরণের ফলে বিলের জীববৈচিত্র্যে ফিরে আসবে হারানো ভারসাম্য। একসময় এই মাছগুলো বড় হয়ে বংশবৃদ্ধি করবে এবং এর প্রাচুর্যের ওপর নির্ভর করে বেঁচে থাকা বক, মাছরাঙা ও পানকৌড়ির মতো পাখির আনাগোনাও বাড়বে। এই মহৎ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বিলপাড়ের জেলেরা আশা প্রকাশ করে বলেন, দীর্ঘদিন পর বিলের তাজা মাছের স্বাদ ফিরে পাওয়ার স্বপ্ন দেখছেন তারা। এই কার্যক্রমের ফলে তাদের জীবিকার পথও সুগম হবে বলে তারা মনে করেন। "বিলে পোনা অবমুক্তকরণ"-এর মতো সামাজিক কার্যক্রম এটাই প্রমাণ করে যে, প্রকৃতির প্রতি যত্নশীল হলে প্রকৃতি তার বহুগুণ ফিরিয়ে দেয়। এই উদ্যোগটি মৎস্য সম্পদ বৃদ্ধি ও পরিবেশ রক্ষায় একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট সকলেই।

নজর বিডি

উপদেষ্টা সম্পাদক: মো: ইব্রাহিম খলিল। 
সম্পাদক: মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম। 
লিগ্যাল এডভাইজার: মাহমুদুর রহমান সুইট- এম.কম, এল এল বি, এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট।


 

কপিরাইট © ২০২৬ নজর বিডি সর্বস্ব সংরক্ষিত