নজর বিডি
প্রকাশ : সোমবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫

জলাবদ্ধতা নিরসনে টিআরএম প্রকল্পের দাবি বিশেষজ্ঞদের

জলাবদ্ধতা নিরসনে টিআরএম প্রকল্পের দাবি বিশেষজ্ঞদের

টিআরএম প্রকল্প ছাড়া ভবদহের জলাবদ্ধতা নিরসনের বিকল্প নেই: বিশেষজ্ঞদের অভিমত

শেখ মাহতাব হোসেন, ডুমুরিয়া (খুলনা):
খুলনার ফুলতলা ও ডুমুরিয়া উপজেলার মধ্যবর্তী ভবদহ এলাকার কৃষকরা দীর্ঘদিন ধরে জলাবদ্ধতার কবলে। ১৯৮৮ সাল থেকে এ অঞ্চলের সাময়িক জলাবদ্ধতা স্থায়ী রূপ নিয়েছে। এর প্রধান কারণ ভবদহের ভাটিতে থাকা নদীগুলোর নাব্য হারানো। ভুক্তভোগী কৃষকদের দাবি, দ্রুত সময়ের মধ্যে টিআরএম (টাইডাল রিভার ম্যানেজমেন্ট) প্রকল্প চালুর মধ্য দিয়ে নদীগুলোর নাব্য ফিরিয়ে আনতে হবে।

যশোরের দুঃখ ‘ভবদহ’

যশোরের অভয়নগরের ভবানীপুর এলাকায় পাকিস্তান আমলে নির্মিত ভবদহ সুইজগেট একসময় দেশের অন্যতম বৃহৎ প্রকল্প ছিল। ১৯৬১ সালে চালু হওয়া এ প্রকল্প আশির দশক পর্যন্ত সুফল দেয়। কিন্তু সত্তরের দশকের পর পদ্মার মূল উৎসপ্রবাহ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে নদীগুলো ভরাট হতে থাকে। শুষ্ক মৌসুমে ভদ্রা ও তেলিগাতি নদীর মাধ্যমে সাগর থেকে আসা পলিমাটি জমে তলদেশ ভরাট হয়ে যায়। বর্তমানে সামান্য বৃষ্টিতেই অন্তত ৪০০ গ্রাম পানিতে তলিয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।

সুইজগেট বন্ধের সমালোচনা

কয়েক বছর আগেও ভবদহ সুইজগেট হয়ে বড় বড় মাছ ধরা ট্রলার চলাচল করতে পারত। কিন্তু পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) সিদ্ধান্তে সুইজগেট বন্ধ করে বিদ্যুৎচালিত সেচ মোটরের মাধ্যমে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা হয়। এতে জোয়ারের সঙ্গে আসা পলিমাটি নদীতেই জমে থেকে নদীগুলো ভরাট হয়ে পড়ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটির সাবেক আহ্বায়ক রনজিত বাওয়ালী বলেন,
‘রাজনীতিক ও আমলাদের ষড়যন্ত্রে পাউবো এ জনপদকে স্থায়ী জলাবদ্ধতায় রূপান্তর করেছে। এখন পানি বিলকপালিয়ায় নামিয়ে দিলে কিছুটা রক্ষা পাওয়া যাবে। তবে টিআরএম প্রকল্পের বিকল্প নেই।’

ষড়যন্ত্রে প্রকল্প বন্ধ

কমিটির উপদেষ্টা ইকবাল কবীর জাহিদ বলেন,
‘টিআরএম প্রকল্প ছাড়া ভবদহের জলাবদ্ধতার কোনো সমাধান সম্ভব নয়। ২০১২ সালে প্রকল্প গ্রহণ হলেও ঘের মালিক ও বারোআওড়িয়ার কিছু সন্ত্রাসীর হুমকিতে তা বাস্তবায়ন হয়নি। ২০১৭ সালেও একইভাবে প্রকল্প বানচাল করা হয়। বর্তমানে নদীগুলো ভরাট হয়ে খরস্রোতা নদী ১৫-২০ ফুটের সরু খালে পরিণত হয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই ২-৩ শত গ্রাম ডুবে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।’

জরুরি ভিত্তিতে প্রকল্পের দাবি

এলাকাবাসীর অভিযোগ, সরকারি অর্থ লোপাট হলেও সমস্যার সমাধান হয়নি। বিশেষজ্ঞদের মতে, টিআরএম প্রকল্প বাস্তবায়ন ছাড়া ভবদহ অঞ্চলের নদীর নাব্য পুনরুদ্ধার এবং জলাবদ্ধতা নিরসনের আর কোনো বিকল্প নেই।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
নজর বিডি

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬


জলাবদ্ধতা নিরসনে টিআরএম প্রকল্পের দাবি বিশেষজ্ঞদের

প্রকাশের তারিখ : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫

featured Image

টিআরএম প্রকল্প ছাড়া ভবদহের জলাবদ্ধতা নিরসনের বিকল্প নেই: বিশেষজ্ঞদের অভিমত

শেখ মাহতাব হোসেন, ডুমুরিয়া (খুলনা):
খুলনার ফুলতলা ও ডুমুরিয়া উপজেলার মধ্যবর্তী ভবদহ এলাকার কৃষকরা দীর্ঘদিন ধরে জলাবদ্ধতার কবলে। ১৯৮৮ সাল থেকে এ অঞ্চলের সাময়িক জলাবদ্ধতা স্থায়ী রূপ নিয়েছে। এর প্রধান কারণ ভবদহের ভাটিতে থাকা নদীগুলোর নাব্য হারানো। ভুক্তভোগী কৃষকদের দাবি, দ্রুত সময়ের মধ্যে টিআরএম (টাইডাল রিভার ম্যানেজমেন্ট) প্রকল্প চালুর মধ্য দিয়ে নদীগুলোর নাব্য ফিরিয়ে আনতে হবে।

যশোরের দুঃখ ‘ভবদহ’

যশোরের অভয়নগরের ভবানীপুর এলাকায় পাকিস্তান আমলে নির্মিত ভবদহ সুইজগেট একসময় দেশের অন্যতম বৃহৎ প্রকল্প ছিল। ১৯৬১ সালে চালু হওয়া এ প্রকল্প আশির দশক পর্যন্ত সুফল দেয়। কিন্তু সত্তরের দশকের পর পদ্মার মূল উৎসপ্রবাহ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে নদীগুলো ভরাট হতে থাকে। শুষ্ক মৌসুমে ভদ্রা ও তেলিগাতি নদীর মাধ্যমে সাগর থেকে আসা পলিমাটি জমে তলদেশ ভরাট হয়ে যায়। বর্তমানে সামান্য বৃষ্টিতেই অন্তত ৪০০ গ্রাম পানিতে তলিয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।

সুইজগেট বন্ধের সমালোচনা

কয়েক বছর আগেও ভবদহ সুইজগেট হয়ে বড় বড় মাছ ধরা ট্রলার চলাচল করতে পারত। কিন্তু পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) সিদ্ধান্তে সুইজগেট বন্ধ করে বিদ্যুৎচালিত সেচ মোটরের মাধ্যমে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা হয়। এতে জোয়ারের সঙ্গে আসা পলিমাটি নদীতেই জমে থেকে নদীগুলো ভরাট হয়ে পড়ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটির সাবেক আহ্বায়ক রনজিত বাওয়ালী বলেন,
‘রাজনীতিক ও আমলাদের ষড়যন্ত্রে পাউবো এ জনপদকে স্থায়ী জলাবদ্ধতায় রূপান্তর করেছে। এখন পানি বিলকপালিয়ায় নামিয়ে দিলে কিছুটা রক্ষা পাওয়া যাবে। তবে টিআরএম প্রকল্পের বিকল্প নেই।’

ষড়যন্ত্রে প্রকল্প বন্ধ

কমিটির উপদেষ্টা ইকবাল কবীর জাহিদ বলেন,
‘টিআরএম প্রকল্প ছাড়া ভবদহের জলাবদ্ধতার কোনো সমাধান সম্ভব নয়। ২০১২ সালে প্রকল্প গ্রহণ হলেও ঘের মালিক ও বারোআওড়িয়ার কিছু সন্ত্রাসীর হুমকিতে তা বাস্তবায়ন হয়নি। ২০১৭ সালেও একইভাবে প্রকল্প বানচাল করা হয়। বর্তমানে নদীগুলো ভরাট হয়ে খরস্রোতা নদী ১৫-২০ ফুটের সরু খালে পরিণত হয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই ২-৩ শত গ্রাম ডুবে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।’

জরুরি ভিত্তিতে প্রকল্পের দাবি

এলাকাবাসীর অভিযোগ, সরকারি অর্থ লোপাট হলেও সমস্যার সমাধান হয়নি। বিশেষজ্ঞদের মতে, টিআরএম প্রকল্প বাস্তবায়ন ছাড়া ভবদহ অঞ্চলের নদীর নাব্য পুনরুদ্ধার এবং জলাবদ্ধতা নিরসনের আর কোনো বিকল্প নেই।


নজর বিডি

উপদেষ্টা সম্পাদক: মো: ইব্রাহিম খলিল। 
সম্পাদক: মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম। 
লিগ্যাল এডভাইজার: মাহমুদুর রহমান সুইট- এম.কম, এল এল বি, এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট।


 

কপিরাইট © ২০২৬ নজর বিডি সর্বস্ব সংরক্ষিত