নজর বিডি
প্রকাশ : সোমবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫

ডুমুরিয়ায় মৎস্য দপ্তরের বিশেষ অভিযানে ৪০ কেজি পুশকৃত চিংড়ি ধ্বংস

ডুমুরিয়ায় মৎস্য দপ্তরের বিশেষ অভিযানে ৪০ কেজি পুশকৃত চিংড়ি ধ্বংস

খুলনা ডুমুরিয়ায় মৎস্য দপ্তরের বিশেষ অভিযানে ৪০ কেজি পুশকৃত চিংড়ি ধ্বংস করা হয়েছে। সেই সাথে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের সুনাম রক্ষার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

বাংলাদেশের চিংড়ি শিল্প দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক বাজারে বিশেষ সুনাম অর্জন করেছে। তবে কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর অনৈতিক কর্মকাণ্ডে এই খাত প্রায়ই সংকটে পড়ে। চিংড়িতে জেলি বা অন্যান্য পদার্থ পুশ করে কৃত্রিমভাবে ওজন বাড়ানো শুধু ভোক্তাদের ক্ষতিগ্রস্ত করছে না, দেশের রপ্তানি বাজারেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫) সকাল ১১টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত খুলনার ডুমুরিয়ায় পরিচালিত হয় এক বিশেষ যৌথ অভিযান। “মৎস্য ও মৎস্য পণ্য (পরিদর্শন ও মান নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা ১৯৯৭ (সংশোধিত ২০০৮)” অনুযায়ী এ অভিযান পরিচালনা করে মৎস্য পরিদর্শন ও মান নিয়ন্ত্রণ দপ্তর (এফআইকিউসি), খুলনা এবং ডুমুরিয়া উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়।

ডুমুরিয়া, খর্নিয়া, শোলগাতিয়া ও চুকনগর বাজারে একযোগে অভিযান চালানো হয়। এ সময় নেতৃত্ব দেন এফআইকিউসি খুলনার সিনিয়র সহকারী পরিচালক আবুল হাসান এবং ডুমুরিয়া সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সোহেল মোঃ জিল্লুর রহমান রিগান।

অভিযানে খর্নিয়া বাজারের মেসার্স মোল্লা ফিসকে লাইসেন্সবিহীন ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে ডিপো পরিচালনার অপরাধে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

অন্যদিকে, চুকনগর বাজারের মেসার্স মডেল ফিসে পুশকৃত চিংড়ির প্রমাণ মেলে। প্রায় ৪০ কেজি পুশকৃত চিংড়ি ও ৫ কেজি জেলি জব্দ করে ধ্বংস করা হয়। একইসঙ্গে প্রতিষ্ঠানটিকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

এছাড়া, ডুমুরিয়া বাজারের মেসার্স তমা ফিস, মেসার্স মোল্লা ফিস এবং রুদাঘরা ইউনিয়নের শোলগাতিয়া মৎস্য আড়তও পরিদর্শন করা হয়। তবে এসব প্রতিষ্ঠানে কোনো পুশকৃত চিংড়ি পাওয়া যায়নি।

অভিযানে আরও উপস্থিত ছিলেন এফআইকিউসি খুলনার ইন্সপেক্টর মোঃ মিজানুর রহমান, উপজেলা মৎস্য দপ্তরের ক্ষেত্র সহকারী কেএম মহসিন আলম, অফিস সহকারী মোঃ সাইফুল্লাহসহ দপ্তরের অন্যান্য কর্মীরা।

চিংড়ি বাংলাদেশের অন্যতম বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী পণ্য। পুশকৃত চিংড়ির কারণে আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের আস্থা কমে যাচ্ছে এবং নিষেধাজ্ঞার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। এর ফলে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে দেশের অর্থনীতি।

সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সোহেল মোঃ জিল্লুর রহমান রিগান বলেন, “পুশকৃত চিংড়ি শুধু প্রতারণাই নয়, এটি জনস্বাস্থ্যের জন্যও ক্ষতিকর। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি ভোক্তাদেরও সচেতন হতে হবে।”

বিশেষজ্ঞদের মতে, ডুমুরিয়ার মতো দক্ষিণবঙ্গের অন্যান্য উপজেলায় এ ধরনের অভিযান আরও জোরদার হলে চিংড়ি শিল্পে শৃঙ্খলা ফেরানো সম্ভব হবে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের সুনাম পুনরুদ্ধার করা যাবে।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
নজর বিডি

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬


ডুমুরিয়ায় মৎস্য দপ্তরের বিশেষ অভিযানে ৪০ কেজি পুশকৃত চিংড়ি ধ্বংস

প্রকাশের তারিখ : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫

featured Image

খুলনা ডুমুরিয়ায় মৎস্য দপ্তরের বিশেষ অভিযানে ৪০ কেজি পুশকৃত চিংড়ি ধ্বংস করা হয়েছে। সেই সাথে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের সুনাম রক্ষার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

বাংলাদেশের চিংড়ি শিল্প দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক বাজারে বিশেষ সুনাম অর্জন করেছে। তবে কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর অনৈতিক কর্মকাণ্ডে এই খাত প্রায়ই সংকটে পড়ে। চিংড়িতে জেলি বা অন্যান্য পদার্থ পুশ করে কৃত্রিমভাবে ওজন বাড়ানো শুধু ভোক্তাদের ক্ষতিগ্রস্ত করছে না, দেশের রপ্তানি বাজারেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫) সকাল ১১টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত খুলনার ডুমুরিয়ায় পরিচালিত হয় এক বিশেষ যৌথ অভিযান। “মৎস্য ও মৎস্য পণ্য (পরিদর্শন ও মান নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা ১৯৯৭ (সংশোধিত ২০০৮)” অনুযায়ী এ অভিযান পরিচালনা করে মৎস্য পরিদর্শন ও মান নিয়ন্ত্রণ দপ্তর (এফআইকিউসি), খুলনা এবং ডুমুরিয়া উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়।

ডুমুরিয়া, খর্নিয়া, শোলগাতিয়া ও চুকনগর বাজারে একযোগে অভিযান চালানো হয়। এ সময় নেতৃত্ব দেন এফআইকিউসি খুলনার সিনিয়র সহকারী পরিচালক আবুল হাসান এবং ডুমুরিয়া সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সোহেল মোঃ জিল্লুর রহমান রিগান।

অভিযানে খর্নিয়া বাজারের মেসার্স মোল্লা ফিসকে লাইসেন্সবিহীন ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে ডিপো পরিচালনার অপরাধে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

অন্যদিকে, চুকনগর বাজারের মেসার্স মডেল ফিসে পুশকৃত চিংড়ির প্রমাণ মেলে। প্রায় ৪০ কেজি পুশকৃত চিংড়ি ও ৫ কেজি জেলি জব্দ করে ধ্বংস করা হয়। একইসঙ্গে প্রতিষ্ঠানটিকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

এছাড়া, ডুমুরিয়া বাজারের মেসার্স তমা ফিস, মেসার্স মোল্লা ফিস এবং রুদাঘরা ইউনিয়নের শোলগাতিয়া মৎস্য আড়তও পরিদর্শন করা হয়। তবে এসব প্রতিষ্ঠানে কোনো পুশকৃত চিংড়ি পাওয়া যায়নি।

অভিযানে আরও উপস্থিত ছিলেন এফআইকিউসি খুলনার ইন্সপেক্টর মোঃ মিজানুর রহমান, উপজেলা মৎস্য দপ্তরের ক্ষেত্র সহকারী কেএম মহসিন আলম, অফিস সহকারী মোঃ সাইফুল্লাহসহ দপ্তরের অন্যান্য কর্মীরা।

চিংড়ি বাংলাদেশের অন্যতম বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী পণ্য। পুশকৃত চিংড়ির কারণে আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের আস্থা কমে যাচ্ছে এবং নিষেধাজ্ঞার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। এর ফলে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে দেশের অর্থনীতি।

সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সোহেল মোঃ জিল্লুর রহমান রিগান বলেন, “পুশকৃত চিংড়ি শুধু প্রতারণাই নয়, এটি জনস্বাস্থ্যের জন্যও ক্ষতিকর। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি ভোক্তাদেরও সচেতন হতে হবে।”

বিশেষজ্ঞদের মতে, ডুমুরিয়ার মতো দক্ষিণবঙ্গের অন্যান্য উপজেলায় এ ধরনের অভিযান আরও জোরদার হলে চিংড়ি শিল্পে শৃঙ্খলা ফেরানো সম্ভব হবে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের সুনাম পুনরুদ্ধার করা যাবে।


নজর বিডি

উপদেষ্টা সম্পাদক: মো: ইব্রাহিম খলিল। 
সম্পাদক: মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম। 
লিগ্যাল এডভাইজার: মাহমুদুর রহমান সুইট- এম.কম, এল এল বি, এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট।


 

কপিরাইট © ২০২৬ নজর বিডি সর্বস্ব সংরক্ষিত