জমিদার বাড়ির ইতিহাসে যাওয়ার আগে টাঙ্গাইল জেলা নিয়ে কিছু কথা বলা প্রয়োজন।
বাংলার ইতিহাস ও সংস্কৃতিতে টাঙ্গাইল এক উজ্জ্বল নাম। এ জেলার মাটিতে জন্ম নিয়েছেন বহু কৃতি পুরুষ, যারা এদেশের স্বাধীনতা, রাজনীতি ও সমাজ সংস্কারে রেখেছেন অমলিন অবদান। এই জেলার সন্তান মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী আজও বাঙালির সংগ্রামী চেতনার প্রতীক হয়ে আছেন। ধর্মপ্রাণ মানুষদের কাছে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে হযরত শাহান শাহ বাবা আহমদ কাশমিরী (রা.) এর স্মৃতিধন্য স্থান।
রসনা বিলাসীদের কাছে টাঙ্গাইল পরিচিত পোড়াবাড়ির বালিশ মিষ্টি ও চমচমের জন্য, যা দেশজুড়ে খ্যাতি অর্জন করেছে। নদীমাতৃক বাংলাদেশের অংশ হিসেবে লৌহজং ও ধলেশ্বরী নদী এখানকার মানুষের জীবনযাত্রা, কৃষি ও সংস্কৃতির সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত।
আরও একটি বিশেষ পরিচিতি হলো তাঁতের শাড়ি—দেশ-বিদেশে যার বিপুল চাহিদা রয়েছে। টাঙ্গাইলের তাঁতের শাড়ি আজ এক অনন্য ঐতিহ্যে পরিণত হয়েছে।
[caption id="attachment_14990" align="alignnone" width="339"]
মহেরা জমিদার বাড়ি, ছবি: নজরবিডি[/caption]
জমিদার পরিবারের ইতিহাস
মহেরা জমিদার বাড়ি হচ্ছে বাংলাদেশের টাঙ্গাইল জেলার মির্জাপুরে অবস্থিত কয়েকটি ঐতিহাসিক স্থাপনার মধ্যে অন্যতম একটি।
মহেরা জমিদার পরিবারের পূর্বপুরুষ ছিলেন বিদু সাহা, বুদ্ধু সাহা, হরেন্দ্র সাহা ও কালীচরণ সাহা।
পেশায় তারা ছিলেন, লবন ও পাঁট ব্যবসায়ী। ব্যবসা করে বেশ অর্থের মালিক হন। সে অর্থের বিনিময়ে জমিদারী প্রথা গ্রহন করেন।
পরবর্তীতে তাদের উত্তরসূরিরা জমিদারি বিস্তার করে মহেরায় প্রাসাদোপম বাড়ি নির্মাণ করেন। ১৮৯০ দশকে স্পেনের করডোভা নগরীর আদলে এই জমিদার বাড়িটি নির্মাণ করা হয়। জমিদার পরিবার শুধু সম্পদের দাপটেই সীমাবদ্ধ ছিলেন না; এলাকার উন্নয়ন, শিক্ষা ও সমাজসেবামূলক কাজেও তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।
অনিন্দ্য নিকেতন মহেড়া জমিদার বাড়ী অপরূপ সৌন্দর্যে দাড়িয়ে। তার রূপশোভা বিস্তার করে কালের নিদর্শন হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে এক উজ্জ্বল ভাস্কর্য। নিভৃত পল্লীতে ছায়াঘেরা, পাখী ডাকা নির্মল নির্ঝর শান্ত পরিবেশ আকুল করে দর্শকদের। আগন্তুককে একবার নয় বারবার এই সৌন্দর্য দেখার হাতছানি দিয়ে আমন্ত্রণ জানায় এখানকার রকমারি দেশী-বিদেশী ফুলের সমারোহ ও সুশোভন বাহারী পাতাবাহার দ্বারা পরিবেষ্টিত ফুলের বাগান। গাছে গাছে সকাল সন্ধ্যা পাখির কলকাকলিতে মুখর, সৌম্য-শান্ত কোলাহলমুক্ত পরিবেশ আপনাকে দিবে এক অন্যরকম ভ্রমানুভুতি।
চারদিকে নানা বৈচিত্র্যের ফুলের বর্ণ ও গন্ধের সমারোহ। যেন নিবেদিত পুষ্পার্ঘ্য। এক কথায় যেন ধরায় স্বর্গধাম। ধারনা পাওয়া যায় স্পেনের করডোভা নগরীর আদলে ভবনসমূহ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। কালের বিবর্তনে ফুলে-ফলে, পত্র-পল্লবে শোভিত হয়ে উঠে কালের স্বাক্ষী এ দৃষ্টিনন্দন জমিদার বাড়ী। দৃষ্টিনন্দন এই জমিদার বাড়ীর রয়েছে এক কলঙ্কিত স্মৃতি।
[caption id="attachment_14991" align="alignnone" width="313"]
ছবি: নজরবিডি[/caption]
স্থাপত্য ও প্রাসাদসম বাড়িগুলো
প্রায় ৮ একর জায়গাজুড়ে বিস্তৃত মহেরা জমিদার বাড়ি মূলত চারটি প্রধান ভবনকে ঘিরে গড়ে উঠেছে।
জমিদার বাড়ি-বিশাখা সাগর, ছবি: নজরবিডি[/caption]
বাড়ির চারপাশে রয়েছে তিনটি দিঘি—বিশাখা সাগর, পাসরা পুকুর এবং রানী পুকুর। এছাড়া বিশাল আম্রকানন, ফলের বাগান, ফুলের সমারোহ আর ফোয়ারা পুরো জমিদার বাড়িকে করে তুলেছে নয়নাভিরাম।
জমিদার ভবনের দক্ষিণ পাশে বিশাখা সাগর অবস্থিত। এখান থেকে একসময় এলাকার জনগণ সুপেয় পানি সংগ্রহ করত। জমিদার বাড়ীর পিছনে পাসরা পুকুর এবং রানী পুকুর নামে বিশাল দুইটি দিঘি আছে যা ছিল জমিদারদের নিজস্ব ব্যবহারের জন্য।
বিশাখা সাগর সংলগ্ন দক্ষিণ পার্শ্বে বিশাল আম্র কানন। ফজলি, ল্যাংড়া, গোপালভোগসহ দেশী বিভিন্ন প্রজাতির আম্র বৃক্ষ শোভা পাচ্ছে। আম্র কানন ব্যতীত বর্তমান পিটিসি’র প্রায় ৪৪ একর জমিতে সর্বত্র ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে নানা বৈচিত্র্যময় ফলের সমারোহ। সৌখিন ফটোগ্রাফারদের জন্য চমৎকার এক লোকেশন। দর্শনার্থীদের জন্য আছে কয়েকটি আকর্ষনীয় দোলনা এবং মাছ, পাখী, জীব-জন্তুর কৃত্তিম চিড়িয়াখানা। এছাড়াও বিশাখা সাগরে আছে নৌভ্রমনের জন্য অন্যতম আকর্ষণ সোনার তরী এবং সপ্তডিঙ্গা। অপরুপ স্থাপত্য আধুনিক শহীদ মিনার আপনাকে সামান্য সময়ের জন্য হলেও মুগ্ধ করে দিবে।
মুক্তিযুদ্ধের রক্তাক্ত স্মৃতি
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ মহেরা জমিদার বাড়ির ইতিহাসে এক কলঙ্কিত অধ্যায় হয়ে আছে। যুদ্ধ চলাকালিন সময়ে ১৪ মে পাক সেনারা এ বাড়িতে হামলা চালায়। তারা জমিদার বাড়ির কূলবধূ যোগমায়া রায় চৌধুরীসহ স্থানীয় পাঁচজনকে নির্মমভাবে গুলি করে হত্যা করে। নিহতদের মধ্যে ছিলেন শিক্ষক পণ্ডিত বিমল কুমার সরকার, মনিন্দ্র কুমার চক্রবর্তী, অতুল চন্দ্র সাহা ও নোয়াই বণিক।
এই হত্যাযজ্ঞে স্থানীয় রাজাকার ও আল-বদররা পাকবাহিনীকে সহায়তা করেছিল।
স্বাধীনতার পরবর্তী সময়
১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের পর ১৯৭২ সালে পরিত্যাক্ত জমিদার বাড়ীটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে পুলিশ ট্রেনিং স্কুল হিসেবে প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। এ মহতী কাজটি করেন তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল মান্নান। পরবর্তীতে ১৯৯০ সালে এটিকে পুলিশ ট্রেনিং সেন্টার (PTC)-এ উন্নীত করা হয়। পুলিশের প্রশিক্ষণের পাশাপাশি বাড়ির পুরনো স্থাপত্য সংরক্ষণ করা হয় এবং নতুন স্থাপনার মধ্যে শিশুদের জন্য পার্ক, খেলনা ও দর্শনার্থীদের জন্য মিনি চিড়িয়াখানা তৈরী করা হয়।
আর পুলিশের ট্রেনিং সেন্টার স্থাপন হওয়ায় ট্রেনিং পরিচালনার জন্য জমিদার বাড়ীটির যথাযথ রক্ষনাবেক্ষণসহ নতুন নতুন স্থাপনা তৈরী করার কারনে পুরানো স্থাপত্য কলার অপরুপ এই জমিদার বাড়ীটির সৌন্দর্য্য শুধু অক্ষত থাকেনি বরং তার কলেবর আরো বৃদ্ধি পেয়েছে।
[caption id="attachment_14993" align="alignnone" width="300"]
জমিদার বাড়ি পার্ক, ছবি: নজরবিডি[/caption]
পর্যটন ও সাংস্কৃতিক গুরুত্ব
আজকের দিনে মহেরা জমিদার বাড়ি শুধু একটি প্রশিক্ষণকেন্দ্র নয়, বরং জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত । প্রতিদিন শত শত ভ্রমণপিপাসু এখানে ভ্রমণে আসেন। এখানে রয়েছে:

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫
জমিদার বাড়ির ইতিহাসে যাওয়ার আগে টাঙ্গাইল জেলা নিয়ে কিছু কথা বলা প্রয়োজন।
বাংলার ইতিহাস ও সংস্কৃতিতে টাঙ্গাইল এক উজ্জ্বল নাম। এ জেলার মাটিতে জন্ম নিয়েছেন বহু কৃতি পুরুষ, যারা এদেশের স্বাধীনতা, রাজনীতি ও সমাজ সংস্কারে রেখেছেন অমলিন অবদান। এই জেলার সন্তান মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী আজও বাঙালির সংগ্রামী চেতনার প্রতীক হয়ে আছেন। ধর্মপ্রাণ মানুষদের কাছে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে হযরত শাহান শাহ বাবা আহমদ কাশমিরী (রা.) এর স্মৃতিধন্য স্থান।
রসনা বিলাসীদের কাছে টাঙ্গাইল পরিচিত পোড়াবাড়ির বালিশ মিষ্টি ও চমচমের জন্য, যা দেশজুড়ে খ্যাতি অর্জন করেছে। নদীমাতৃক বাংলাদেশের অংশ হিসেবে লৌহজং ও ধলেশ্বরী নদী এখানকার মানুষের জীবনযাত্রা, কৃষি ও সংস্কৃতির সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত।
আরও একটি বিশেষ পরিচিতি হলো তাঁতের শাড়ি—দেশ-বিদেশে যার বিপুল চাহিদা রয়েছে। টাঙ্গাইলের তাঁতের শাড়ি আজ এক অনন্য ঐতিহ্যে পরিণত হয়েছে।
[caption id="attachment_14990" align="alignnone" width="339"]
মহেরা জমিদার বাড়ি, ছবি: নজরবিডি[/caption]
জমিদার পরিবারের ইতিহাস
মহেরা জমিদার বাড়ি হচ্ছে বাংলাদেশের টাঙ্গাইল জেলার মির্জাপুরে অবস্থিত কয়েকটি ঐতিহাসিক স্থাপনার মধ্যে অন্যতম একটি।
মহেরা জমিদার পরিবারের পূর্বপুরুষ ছিলেন বিদু সাহা, বুদ্ধু সাহা, হরেন্দ্র সাহা ও কালীচরণ সাহা।
পেশায় তারা ছিলেন, লবন ও পাঁট ব্যবসায়ী। ব্যবসা করে বেশ অর্থের মালিক হন। সে অর্থের বিনিময়ে জমিদারী প্রথা গ্রহন করেন।
পরবর্তীতে তাদের উত্তরসূরিরা জমিদারি বিস্তার করে মহেরায় প্রাসাদোপম বাড়ি নির্মাণ করেন। ১৮৯০ দশকে স্পেনের করডোভা নগরীর আদলে এই জমিদার বাড়িটি নির্মাণ করা হয়। জমিদার পরিবার শুধু সম্পদের দাপটেই সীমাবদ্ধ ছিলেন না; এলাকার উন্নয়ন, শিক্ষা ও সমাজসেবামূলক কাজেও তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।
অনিন্দ্য নিকেতন মহেড়া জমিদার বাড়ী অপরূপ সৌন্দর্যে দাড়িয়ে। তার রূপশোভা বিস্তার করে কালের নিদর্শন হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে এক উজ্জ্বল ভাস্কর্য। নিভৃত পল্লীতে ছায়াঘেরা, পাখী ডাকা নির্মল নির্ঝর শান্ত পরিবেশ আকুল করে দর্শকদের। আগন্তুককে একবার নয় বারবার এই সৌন্দর্য দেখার হাতছানি দিয়ে আমন্ত্রণ জানায় এখানকার রকমারি দেশী-বিদেশী ফুলের সমারোহ ও সুশোভন বাহারী পাতাবাহার দ্বারা পরিবেষ্টিত ফুলের বাগান। গাছে গাছে সকাল সন্ধ্যা পাখির কলকাকলিতে মুখর, সৌম্য-শান্ত কোলাহলমুক্ত পরিবেশ আপনাকে দিবে এক অন্যরকম ভ্রমানুভুতি।
চারদিকে নানা বৈচিত্র্যের ফুলের বর্ণ ও গন্ধের সমারোহ। যেন নিবেদিত পুষ্পার্ঘ্য। এক কথায় যেন ধরায় স্বর্গধাম। ধারনা পাওয়া যায় স্পেনের করডোভা নগরীর আদলে ভবনসমূহ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। কালের বিবর্তনে ফুলে-ফলে, পত্র-পল্লবে শোভিত হয়ে উঠে কালের স্বাক্ষী এ দৃষ্টিনন্দন জমিদার বাড়ী। দৃষ্টিনন্দন এই জমিদার বাড়ীর রয়েছে এক কলঙ্কিত স্মৃতি।
[caption id="attachment_14991" align="alignnone" width="313"]
ছবি: নজরবিডি[/caption]
স্থাপত্য ও প্রাসাদসম বাড়িগুলো
প্রায় ৮ একর জায়গাজুড়ে বিস্তৃত মহেরা জমিদার বাড়ি মূলত চারটি প্রধান ভবনকে ঘিরে গড়ে উঠেছে।
জমিদার বাড়ি-বিশাখা সাগর, ছবি: নজরবিডি[/caption]
বাড়ির চারপাশে রয়েছে তিনটি দিঘি—বিশাখা সাগর, পাসরা পুকুর এবং রানী পুকুর। এছাড়া বিশাল আম্রকানন, ফলের বাগান, ফুলের সমারোহ আর ফোয়ারা পুরো জমিদার বাড়িকে করে তুলেছে নয়নাভিরাম।
জমিদার ভবনের দক্ষিণ পাশে বিশাখা সাগর অবস্থিত। এখান থেকে একসময় এলাকার জনগণ সুপেয় পানি সংগ্রহ করত। জমিদার বাড়ীর পিছনে পাসরা পুকুর এবং রানী পুকুর নামে বিশাল দুইটি দিঘি আছে যা ছিল জমিদারদের নিজস্ব ব্যবহারের জন্য।
বিশাখা সাগর সংলগ্ন দক্ষিণ পার্শ্বে বিশাল আম্র কানন। ফজলি, ল্যাংড়া, গোপালভোগসহ দেশী বিভিন্ন প্রজাতির আম্র বৃক্ষ শোভা পাচ্ছে। আম্র কানন ব্যতীত বর্তমান পিটিসি’র প্রায় ৪৪ একর জমিতে সর্বত্র ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে নানা বৈচিত্র্যময় ফলের সমারোহ। সৌখিন ফটোগ্রাফারদের জন্য চমৎকার এক লোকেশন। দর্শনার্থীদের জন্য আছে কয়েকটি আকর্ষনীয় দোলনা এবং মাছ, পাখী, জীব-জন্তুর কৃত্তিম চিড়িয়াখানা। এছাড়াও বিশাখা সাগরে আছে নৌভ্রমনের জন্য অন্যতম আকর্ষণ সোনার তরী এবং সপ্তডিঙ্গা। অপরুপ স্থাপত্য আধুনিক শহীদ মিনার আপনাকে সামান্য সময়ের জন্য হলেও মুগ্ধ করে দিবে।
মুক্তিযুদ্ধের রক্তাক্ত স্মৃতি
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ মহেরা জমিদার বাড়ির ইতিহাসে এক কলঙ্কিত অধ্যায় হয়ে আছে। যুদ্ধ চলাকালিন সময়ে ১৪ মে পাক সেনারা এ বাড়িতে হামলা চালায়। তারা জমিদার বাড়ির কূলবধূ যোগমায়া রায় চৌধুরীসহ স্থানীয় পাঁচজনকে নির্মমভাবে গুলি করে হত্যা করে। নিহতদের মধ্যে ছিলেন শিক্ষক পণ্ডিত বিমল কুমার সরকার, মনিন্দ্র কুমার চক্রবর্তী, অতুল চন্দ্র সাহা ও নোয়াই বণিক।
এই হত্যাযজ্ঞে স্থানীয় রাজাকার ও আল-বদররা পাকবাহিনীকে সহায়তা করেছিল।
স্বাধীনতার পরবর্তী সময়
১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের পর ১৯৭২ সালে পরিত্যাক্ত জমিদার বাড়ীটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে পুলিশ ট্রেনিং স্কুল হিসেবে প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। এ মহতী কাজটি করেন তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল মান্নান। পরবর্তীতে ১৯৯০ সালে এটিকে পুলিশ ট্রেনিং সেন্টার (PTC)-এ উন্নীত করা হয়। পুলিশের প্রশিক্ষণের পাশাপাশি বাড়ির পুরনো স্থাপত্য সংরক্ষণ করা হয় এবং নতুন স্থাপনার মধ্যে শিশুদের জন্য পার্ক, খেলনা ও দর্শনার্থীদের জন্য মিনি চিড়িয়াখানা তৈরী করা হয়।
আর পুলিশের ট্রেনিং সেন্টার স্থাপন হওয়ায় ট্রেনিং পরিচালনার জন্য জমিদার বাড়ীটির যথাযথ রক্ষনাবেক্ষণসহ নতুন নতুন স্থাপনা তৈরী করার কারনে পুরানো স্থাপত্য কলার অপরুপ এই জমিদার বাড়ীটির সৌন্দর্য্য শুধু অক্ষত থাকেনি বরং তার কলেবর আরো বৃদ্ধি পেয়েছে।
[caption id="attachment_14993" align="alignnone" width="300"]
জমিদার বাড়ি পার্ক, ছবি: নজরবিডি[/caption]
পর্যটন ও সাংস্কৃতিক গুরুত্ব
আজকের দিনে মহেরা জমিদার বাড়ি শুধু একটি প্রশিক্ষণকেন্দ্র নয়, বরং জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত । প্রতিদিন শত শত ভ্রমণপিপাসু এখানে ভ্রমণে আসেন। এখানে রয়েছে:

আপনার মতামত লিখুন