নজর বিডি
প্রকাশ : শনিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫

মহেরা জমিদার বাড়ি: ইতিহাস, স্থাপত্য ও মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিধারা

মহেরা জমিদার বাড়ি: ইতিহাস, স্থাপত্য ও মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিধারা
ঘুরতে কে না ভালোবাসে! ইতিহাস আর ঐতিহ্যের সাথে মিশে থাকা কোনো জায়গায় গেলে সেই ভ্রমণ হয়ে ওঠে আরও অর্থবহ। টাঙ্গাইল জেলার মির্জাপুরে অবস্থিত মহেরা জমিদার বাড়ি তেমনই এক অনন্য স্থান—যেখানে ঐতিহ্য, স্থাপত্য, প্রকৃতি আর মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস মিলেমিশে দাঁড়িয়ে আছে এক অমূল্য নিদর্শন হিসেবে। প্রকৃতি পরিবেশ সবুজে ঘেরা দারুন এক অনুভুতি। সেই সাথে শত বছর আগের জমিদার বাড়ি ঘুরে দেখার সাথে সাথে নিজেকে জমিদার ভেবে  নিতে পারেন কিছু সময়ের জন্য। এক কথায় নতুন এক অভিজ্ঞতা তৈরী হবে আপনার।

জমিদার বাড়ির ইতিহাসে যাওয়ার আগে টাঙ্গাইল জেলা নিয়ে কিছু কথা বলা প্রয়োজন।

বাংলার ইতিহাস ও সংস্কৃতিতে টাঙ্গাইল এক উজ্জ্বল নাম। এ জেলার মাটিতে জন্ম নিয়েছেন বহু কৃতি পুরুষ, যারা এদেশের স্বাধীনতা, রাজনীতি ও সমাজ সংস্কারে রেখেছেন অমলিন অবদান। এই জেলার সন্তান মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী আজও বাঙালির সংগ্রামী চেতনার প্রতীক হয়ে আছেন। ধর্মপ্রাণ মানুষদের কাছে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে হযরত শাহান শাহ বাবা আহমদ কাশমিরী (রা.) এর স্মৃতিধন্য স্থান।

রসনা বিলাসীদের কাছে টাঙ্গাইল পরিচিত পোড়াবাড়ির বালিশ মিষ্টি ও চমচমের জন্য, যা দেশজুড়ে খ্যাতি অর্জন করেছে। নদীমাতৃক বাংলাদেশের অংশ হিসেবে লৌহজং ও ধলেশ্বরী নদী এখানকার মানুষের জীবনযাত্রা, কৃষি ও সংস্কৃতির সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত।

আরও একটি বিশেষ পরিচিতি হলো তাঁতের শাড়ি—দেশ-বিদেশে যার বিপুল চাহিদা রয়েছে। টাঙ্গাইলের তাঁতের শাড়ি আজ এক অনন্য ঐতিহ্যে পরিণত হয়েছে।

[caption id="attachment_14990" align="alignnone" width="339"]জমিদার বাড়ি মহেরা জমিদার বাড়ি, ছবি: নজরবিডি[/caption] জমিদার পরিবারের ইতিহাস মহেরা জমিদার বাড়ি হচ্ছে বাংলাদেশের টাঙ্গাইল জেলার মির্জাপুরে অবস্থিত কয়েকটি ঐতিহাসিক স্থাপনার মধ্যে অন্যতম একটি। মহেরা জমিদার পরিবারের পূর্বপুরুষ ছিলেন বিদু সাহা, বুদ্ধু সাহা, হরেন্দ্র সাহা ও কালীচরণ সাহা। পেশায় তারা ছিলেন, লবন ও পাঁট ব্যবসায়ী। ব্যবসা করে বেশ অর্থের মালিক হন। সে অর্থের বিনিময়ে জমিদারী প্রথা গ্রহন করেন। পরবর্তীতে তাদের উত্তরসূরিরা জমিদারি বিস্তার করে মহেরায় প্রাসাদোপম বাড়ি নির্মাণ করেন। ১৮৯০ দশকে স্পেনের করডোভা নগরীর আদলে এই জমিদার বাড়িটি নির্মাণ করা হয়। জমিদার পরিবার শুধু সম্পদের দাপটেই সীমাবদ্ধ ছিলেন না; এলাকার উন্নয়ন, শিক্ষা ও সমাজসেবামূলক কাজেও তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। অনিন্দ্য নিকেতন মহেড়া জমিদার বাড়ী অপরূপ সৌন্দর্যে দাড়িয়ে। তার রূপশোভা বিস্তার করে কালের নিদর্শন হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে এক উজ্জ্বল ভাস্কর্য। নিভৃত পল্লীতে ছায়াঘেরা, পাখী ডাকা নির্মল নির্ঝর শান্ত পরিবেশ আকুল করে দর্শকদের। আগন্তুককে একবার নয় বারবার এই সৌন্দর্য দেখার হাতছানি দিয়ে আমন্ত্রণ জানায় এখানকার রকমারি দেশী-বিদেশী ফুলের সমারোহ ও সুশোভন বাহারী পাতাবাহার দ্বারা পরিবেষ্টিত ফুলের বাগান। গাছে গাছে সকাল সন্ধ্যা পাখির কলকাকলিতে মুখর, সৌম্য-শান্ত কোলাহলমুক্ত পরিবেশ আপনাকে দিবে এক অন্যরকম ভ্রমানুভুতি। চারদিকে নানা বৈচিত্র্যের ফুলের বর্ণ ও গন্ধের সমারোহ। যেন নিবেদিত পুষ্পার্ঘ্য। এক কথায় যেন ধরায় স্বর্গধাম। ধারনা পাওয়া যায় স্পেনের করডোভা নগরীর আদলে ভবনসমূহ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। কালের বিবর্তনে ফুলে-ফলে, পত্র-পল্লবে শোভিত হয়ে উঠে কালের স্বাক্ষী এ দৃষ্টিনন্দন জমিদার বাড়ী। দৃষ্টিনন্দন এই জমিদার বাড়ীর রয়েছে এক কলঙ্কিত স্মৃতি। [caption id="attachment_14991" align="alignnone" width="313"] ছবি: নজরবিডি[/caption] স্থাপত্য প্রাসাদসম বাড়িগুলো প্রায় ৮ একর জায়গাজুড়ে বিস্তৃত মহেরা জমিদার বাড়ি মূলত চারটি প্রধান ভবনকে ঘিরে গড়ে উঠেছে।
  • চৌধুরী লজ : গোলাপি রঙের দোতলা ভবন, রোমান স্থাপত্যশৈলীর স্তম্ভ ও ঢেউখেলানো ছাদ এর বৈশিষ্ট্য। তবে সাদা রঙে দাঁড়িয়ে আছে।
  • মহারাজ লজ : বাইজানটাইন ধাঁচে নির্মিত বারো কক্ষবিশিষ্ট ভবন, সামনে ঝুলন্ত বারান্দা ও পেছনে টেনিস কোর্ট রয়েছে।
  • আনন্দ লজ : তিনতলা বিশিষ্ট সবচেয়ে দৃষ্টিনন্দন ভবন, নীল-সাদা রঙের সমাহার, সামনে ভাস্কর্য ও বাগান শোভা বাড়িয়েছে।
  • কালীচরণ লজ (রানী ভবন) : ইংরেজি “U” অক্ষরের আদলে নির্মিত ইংরেজ স্থাপত্যশৈলীর অনন্য নিদর্শন এটি। বিকেলের আলোয় ভেতর থেকে ঝলমলে দৃশ্য ফুটে ওঠে।
[caption id="attachment_14992" align="alignnone" width="300"] জমিদার বাড়ি-বিশাখা সাগর, ছবি: নজরবিডি[/caption] বাড়ির চারপাশে রয়েছে তিনটি দিঘি—বিশাখা সাগর, পাসরা পুকুর এবং রানী পুকুর। এছাড়া বিশাল আম্রকানন, ফলের বাগান, ফুলের সমারোহ আর ফোয়ারা পুরো জমিদার বাড়িকে করে তুলেছে নয়নাভিরাম। জমিদার ভবনের দক্ষিণ পাশে বিশাখা সাগর অবস্থিত। এখান থেকে একসময় এলাকার জনগণ সুপেয় পানি সংগ্রহ করত। জমিদার বাড়ীর পিছনে পাসরা পুকুর এবং রানী পুকুর নামে বিশাল দুইটি দিঘি আছে যা ছিল জমিদারদের নিজস্ব ব্যবহারের জন্য। বিশাখা সাগর সংলগ্ন দক্ষিণ পার্শ্বে বিশাল আম্র কানন। ফজলি, ল্যাংড়া, গোপালভোগসহ দেশী বিভিন্ন প্রজাতির আম্র বৃক্ষ শোভা পাচ্ছে। আম্র কানন ব্যতীত বর্তমান পিটিসি’র প্রায় ৪৪ একর জমিতে সর্বত্র ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে নানা বৈচিত্র্যময় ফলের সমারোহ। সৌখিন ফটোগ্রাফারদের জন্য চমৎকার এক লোকেশন। দর্শনার্থীদের জন্য আছে কয়েকটি আকর্ষনীয় দোলনা এবং মাছ, পাখী, জীব-জন্তুর কৃত্তিম চিড়িয়াখানা। এছাড়াও বিশাখা সাগরে আছে নৌভ্রমনের জন্য অন্যতম আকর্ষণ সোনার তরী এবং সপ্তডিঙ্গা। অপরুপ স্থাপত্য আধুনিক শহীদ মিনার আপনাকে সামান্য সময়ের জন্য হলেও মুগ্ধ করে দিবে। মুক্তিযুদ্ধের রক্তাক্ত স্মৃতি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ মহেরা জমিদার বাড়ির ইতিহাসে এক কলঙ্কিত অধ্যায় হয়ে আছে। যুদ্ধ চলাকালিন সময়ে ১৪ মে পাক সেনারা এ বাড়িতে হামলা চালায়। তারা জমিদার বাড়ির কূলবধূ যোগমায়া রায় চৌধুরীসহ স্থানীয় পাঁচজনকে নির্মমভাবে গুলি করে হত্যা করে। নিহতদের মধ্যে ছিলেন শিক্ষক পণ্ডিত বিমল কুমার সরকার, মনিন্দ্র কুমার চক্রবর্তী, অতুল চন্দ্র সাহা ও নোয়াই বণিক। এই হত্যাযজ্ঞে স্থানীয় রাজাকার ও আল-বদররা পাকবাহিনীকে সহায়তা করেছিল। স্বাধীনতার পরবর্তী সময় ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের পর ১৯৭২ সালে পরিত্যাক্ত জমিদার বাড়ীটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে পুলিশ ট্রেনিং স্কুল হিসেবে প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। এ মহতী কাজটি করেন তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল মান্নান। পরবর্তীতে ১৯৯০ সালে এটিকে পুলিশ ট্রেনিং সেন্টার (PTC)-এ উন্নীত করা হয়। পুলিশের প্রশিক্ষণের পাশাপাশি বাড়ির পুরনো স্থাপত্য সংরক্ষণ করা হয় এবং নতুন স্থাপনার মধ্যে শিশুদের জন্য পার্ক, খেলনা ও দর্শনার্থীদের জন্য মিনি চিড়িয়াখানা তৈরী করা হয়। আর পুলিশের ট্রেনিং সেন্টার স্থাপন হওয়ায় ট্রেনিং পরিচালনার জন্য জমিদার বাড়ীটির যথাযথ রক্ষনাবেক্ষণসহ নতুন নতুন স্থাপনা তৈরী করার কারনে পুরানো স্থাপত্য কলার অপরুপ এই জমিদার বাড়ীটির সৌন্দর্য্য শুধু অক্ষত থাকেনি বরং তার কলেবর আরো বৃদ্ধি পেয়েছে। [caption id="attachment_14993" align="alignnone" width="300"] জমিদার বাড়ি পার্ক, ছবি: নজরবিডি[/caption] পর্যটন সাংস্কৃতিক গুরুত্ব আজকের দিনে মহেরা জমিদার বাড়ি শুধু একটি প্রশিক্ষণকেন্দ্র নয়, বরং জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত । প্রতিদিন শত শত ভ্রমণপিপাসু এখানে ভ্রমণে আসেন। এখানে রয়েছে:
  • দর্শনার্থীদের জন্য মনোমুগ্ধকর ফুলের বাগান ও দোলনা,
  • নৌভ্রমণের জন্য সোনার তরীসপ্তডিঙ্গা, (এখন বন্ধ রয়েছে)
  • ফটোগ্রাফির জন্য চমৎকার লোকেশন,
  • নাটক-সিনেমার শুটিং স্পট।
  • জাদুঘর (জমিদার পরিবারের ব্যবহারিক ‍তৈজস পত্র)।
প্রবেশমূল্য মাত্র ১০০ টাকা, আর খাবারের জন্য রয়েছে ক্যান্টিন সুবিধা। শীতকালে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান পিকনিকের জন্যও মহেরা জমিদার বাড়িকে বেছে নেয়। মহেরা জমিদার বাড়ি শুধু জমিদারি ঐতিহ্যের সাক্ষ্য নয়, মুক্তিযুদ্ধের রক্তাক্ত ইতিহাসেরও সাক্ষ্য বহন করে। সংরক্ষণের সুবাদে এটি আজও দাঁড়িয়ে আছে গৌরবের সাথে। ইতিহাসপ্রেমী, ভ্রমণপিপাসু ও সংস্কৃতিমনা মানুষের কাছে মহেরা জমিদার বাড়ি এক সৌন্দর্যের প্রতীক।   প্রতিবেদকের কিছু কথা (মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম) হঠাৎ মনে হলো ঢাকার যান্ত্রিক জীবনের ভিড়ভাট্টার মাঝে কিছুটা সময় বের করে কোথাও ঘুরে আসা উচিত। তাই সহকর্মী মো: কামাল খানকে সঙ্গে নিয়ে বাইকে চেপে রওনা দিলাম উত্তরা থেকে—গন্তব্য টাঙ্গাইলের মহেরা জমিদার বাড়ি। সকালেই যাত্রা শুরু করি। টাঙ্গাইলে প্রবেশ করে মাঝপথে নাস্তা সেরে আবার পথে চলা শুরু। আধা ঘণ্টারও কম সময় পর পৌঁছে গেলাম মহেরা জমিদার বাড়িতে। সেখানে গিয়ে টিকিট কাউন্টারে আমাদের পরিচয় নিশ্চিত করি। দায়িত্বপ্রাপ্ত ডিআইজি মহোদয়ের নির্দেশে আমাদের প্রবেশের ব্যবস্থা হয়। পুরো সফরজুড়ে সহযোগিতা করেছেন সিনিয়র সাব-ইন্সপেক্টর আব্দুল কাদের। বাড়ির ইতিহাস ও জমিদারদের অজানা অনেক কথা জেনে নিলাম ঘুরতে ঘুরতে। সবকিছু দেখে শেষ করে প্রবেশদ্বারের কফি হাউজে গিয়ে বসলাম। সেখানে কফির চুমুকের সঙ্গে আব্দুল কাদের ভাইয়ের সঙ্গে আড্ডা হলো দীর্ঘক্ষণ। তিনি শোনালেন তার চাকরি জীবনের নানা অভিজ্ঞতা ও মিশনের স্মৃতি। জানালেন, চাকরির আর এক বছর বাকি, এরপর অবসরে যাবেন। দিনটির যতোটা সময় তার সঙ্গে কাটিয়েছি, মনে হয়েছে তিনি আমাদের বহুদিনের চেনা-জানা একজন মানুষ। বিদায়ের মুহূর্তে তাই এক অদ্ভুত টান অনুভব করেছি। ভালো থাকুন আব্দুল কাদের ভাইসহ প্রতিটি মানুষ—এই প্রত্যাশাই রইল।

মহেরা জমিদার বাড়ির অবস্থান

  • মহেরা গ্রাম, মির্জাপুর, টাঙ্গাইল
  • ঢাকা থেকে দূরত্ব: প্রায় ৭৫ কিলোমিটার (২–২.৫ ঘণ্টার পথ)
  • টাঙ্গাইল শহর থেকে দূরত্ব: প্রায় ১৮ কিলোমিটার

কীভাবে যাবেন

ঢাকা থেকে:
  • গাবতলী বা মহাখালী বাস টার্মিনাল থেকে টাঙ্গাইলগামী প্রায় সব বাসেই উঠতে পারবেন।
  • নামতে হবে নাটিয়াপাড়া বাজারে। সেখান থেকে অটোরিকশা বা সিএনজি করে ৪ কিলোমিটার ভেতরে গেলেই মহেরা জমিদার বাড়ি। মহেরা বাড়িটি মহাসড়কের পূর্বে অবস্থিত।
নিজস্ব গাড়িতে:
  • ঢাকা–টাঙ্গাইল মহাসড়ক ধরে নাটিয়াপাড়া বাজার পর্যন্ত যান, সেখান থেকে সাইনবোর্ড অনুসরণ করে মহেরায় পৌঁছানো যায়।
  • গুগল ম্যাপে লোকেশন দেওয়া আছে—খুব সহজেই খুঁজে পাওয়া যাবে।

প্রবেশমূল্য ও সময়সূচি

  • প্রবেশমূল্য: জনপ্রতি ১০০ টাকা
  • খোলার সময়: সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা (শুক্রবার ও সরকারি ছুটির দিনে বেশি ভিড় হয়)
  • ভেতরে খাবারের ক্যান্টিন রয়েছে, দাম তুলনামূলক সাশ্রয়ী।

কী দেখবেন

  • চারটি প্রধান প্রাসাদ: চৌধুরী লজ, মহারাজ লজ, আনন্দ লজ, কালীচরণ লজ
  • বিশাখা সাগর: বিশাল দিঘি, যেখানে নৌকায় ভ্রমণের সুযোগ আছে (সোনার তরী ও সপ্তডিঙ্গা নৌকা)
  • পুকুর বাগান: পাসরা পুকুর( পুকুরে রঙিন মাছ রয়েছে), রানী পুকুর, ফুলের বাগান ও আম্রকানন
  • ফোয়ারা ভাস্কর্য: ১৮৯০ সালের প্রাচীন ফোয়ারা, পশুপাখি ও হরিণের ভাস্কর্য
  • শহীদ স্মৃতি: মুক্তিযুদ্ধের সময় নিহতদের স্মৃতিচিহ্ন
  • শুটিং স্পট: বিভিন্ন নাটক ও সিনেমার দৃশ্য ধারণের জায়গা
  • জাদুঘর রয়েছে।

থাকার ব্যবস্থা

মহেরা জমিদার বাড়ির ভেতরে রাতযাপনের ব্যবস্থা নেই। তবে কাছাকাছি মির্জাপুর ও টাঙ্গাইল শহরে হোটেল আছে। আর দিনে ঘুরে এসে ঢাকাতেও ফেরা যায়।

খাওয়ার ব্যবস্থা

  • জমিদার বাড়ির ভেতরে একটি ছোট ক্যান্টিন আছে।
  • নাটিয়াপাড়া বাজারে স্থানীয় খাবারের হোটেল পাওয়া যায়।
  • চাইলে নিজস্বভাবে খাবার নিয়েও যেতে পারেন (বিশেষ করে পিকনিক দলগুলো)।

ভ্রমণ টিপস

  • সপ্তাহের মাঝের দিন গেলে ভিড় কম পাবেন।
  • শীতকালে পিকনিক মৌসুমে বেশি ভিড় হয়, সেক্ষেত্রে আগে থেকে প্রস্তুতি নিন।
  • প্রাচীন স্থাপনাগুলোতে ওঠা বা দেয়ালে আঁচড়ানো থেকে বিরত থাকুন।
  • ক্যামেরা নিয়ে গেলে প্রচুর সুন্দর লোকেশন পাবেন।

কেন যাবেন মহেরা জমিদার বাড়ি?

  • অনিন্দ্য সুন্দর ইউরোপীয় স্থাপত্য কাছ থেকে দেখার সুযোগ
  • মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস স্পর্শ করার অনুভূতি
  • নয়নাভিরাম বাগান, দিঘি ও গ্রামীণ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য
  • টাঙ্গাইল সফরে শাড়ি কেনার পাশাপাশি একটি দারুণ ঐতিহাসিক ভ্রমণ

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
নজর বিডি

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬


মহেরা জমিদার বাড়ি: ইতিহাস, স্থাপত্য ও মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিধারা

প্রকাশের তারিখ : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫

featured Image
ঘুরতে কে না ভালোবাসে! ইতিহাস আর ঐতিহ্যের সাথে মিশে থাকা কোনো জায়গায় গেলে সেই ভ্রমণ হয়ে ওঠে আরও অর্থবহ। টাঙ্গাইল জেলার মির্জাপুরে অবস্থিত মহেরা জমিদার বাড়ি তেমনই এক অনন্য স্থান—যেখানে ঐতিহ্য, স্থাপত্য, প্রকৃতি আর মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস মিলেমিশে দাঁড়িয়ে আছে এক অমূল্য নিদর্শন হিসেবে। প্রকৃতি পরিবেশ সবুজে ঘেরা দারুন এক অনুভুতি। সেই সাথে শত বছর আগের জমিদার বাড়ি ঘুরে দেখার সাথে সাথে নিজেকে জমিদার ভেবে  নিতে পারেন কিছু সময়ের জন্য। এক কথায় নতুন এক অভিজ্ঞতা তৈরী হবে আপনার।

জমিদার বাড়ির ইতিহাসে যাওয়ার আগে টাঙ্গাইল জেলা নিয়ে কিছু কথা বলা প্রয়োজন।

বাংলার ইতিহাস ও সংস্কৃতিতে টাঙ্গাইল এক উজ্জ্বল নাম। এ জেলার মাটিতে জন্ম নিয়েছেন বহু কৃতি পুরুষ, যারা এদেশের স্বাধীনতা, রাজনীতি ও সমাজ সংস্কারে রেখেছেন অমলিন অবদান। এই জেলার সন্তান মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী আজও বাঙালির সংগ্রামী চেতনার প্রতীক হয়ে আছেন। ধর্মপ্রাণ মানুষদের কাছে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে হযরত শাহান শাহ বাবা আহমদ কাশমিরী (রা.) এর স্মৃতিধন্য স্থান।

রসনা বিলাসীদের কাছে টাঙ্গাইল পরিচিত পোড়াবাড়ির বালিশ মিষ্টি ও চমচমের জন্য, যা দেশজুড়ে খ্যাতি অর্জন করেছে। নদীমাতৃক বাংলাদেশের অংশ হিসেবে লৌহজং ও ধলেশ্বরী নদী এখানকার মানুষের জীবনযাত্রা, কৃষি ও সংস্কৃতির সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত।

আরও একটি বিশেষ পরিচিতি হলো তাঁতের শাড়ি—দেশ-বিদেশে যার বিপুল চাহিদা রয়েছে। টাঙ্গাইলের তাঁতের শাড়ি আজ এক অনন্য ঐতিহ্যে পরিণত হয়েছে।

[caption id="attachment_14990" align="alignnone" width="339"]জমিদার বাড়ি মহেরা জমিদার বাড়ি, ছবি: নজরবিডি[/caption] জমিদার পরিবারের ইতিহাস মহেরা জমিদার বাড়ি হচ্ছে বাংলাদেশের টাঙ্গাইল জেলার মির্জাপুরে অবস্থিত কয়েকটি ঐতিহাসিক স্থাপনার মধ্যে অন্যতম একটি। মহেরা জমিদার পরিবারের পূর্বপুরুষ ছিলেন বিদু সাহা, বুদ্ধু সাহা, হরেন্দ্র সাহা ও কালীচরণ সাহা। পেশায় তারা ছিলেন, লবন ও পাঁট ব্যবসায়ী। ব্যবসা করে বেশ অর্থের মালিক হন। সে অর্থের বিনিময়ে জমিদারী প্রথা গ্রহন করেন। পরবর্তীতে তাদের উত্তরসূরিরা জমিদারি বিস্তার করে মহেরায় প্রাসাদোপম বাড়ি নির্মাণ করেন। ১৮৯০ দশকে স্পেনের করডোভা নগরীর আদলে এই জমিদার বাড়িটি নির্মাণ করা হয়। জমিদার পরিবার শুধু সম্পদের দাপটেই সীমাবদ্ধ ছিলেন না; এলাকার উন্নয়ন, শিক্ষা ও সমাজসেবামূলক কাজেও তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। অনিন্দ্য নিকেতন মহেড়া জমিদার বাড়ী অপরূপ সৌন্দর্যে দাড়িয়ে। তার রূপশোভা বিস্তার করে কালের নিদর্শন হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে এক উজ্জ্বল ভাস্কর্য। নিভৃত পল্লীতে ছায়াঘেরা, পাখী ডাকা নির্মল নির্ঝর শান্ত পরিবেশ আকুল করে দর্শকদের। আগন্তুককে একবার নয় বারবার এই সৌন্দর্য দেখার হাতছানি দিয়ে আমন্ত্রণ জানায় এখানকার রকমারি দেশী-বিদেশী ফুলের সমারোহ ও সুশোভন বাহারী পাতাবাহার দ্বারা পরিবেষ্টিত ফুলের বাগান। গাছে গাছে সকাল সন্ধ্যা পাখির কলকাকলিতে মুখর, সৌম্য-শান্ত কোলাহলমুক্ত পরিবেশ আপনাকে দিবে এক অন্যরকম ভ্রমানুভুতি। চারদিকে নানা বৈচিত্র্যের ফুলের বর্ণ ও গন্ধের সমারোহ। যেন নিবেদিত পুষ্পার্ঘ্য। এক কথায় যেন ধরায় স্বর্গধাম। ধারনা পাওয়া যায় স্পেনের করডোভা নগরীর আদলে ভবনসমূহ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। কালের বিবর্তনে ফুলে-ফলে, পত্র-পল্লবে শোভিত হয়ে উঠে কালের স্বাক্ষী এ দৃষ্টিনন্দন জমিদার বাড়ী। দৃষ্টিনন্দন এই জমিদার বাড়ীর রয়েছে এক কলঙ্কিত স্মৃতি। [caption id="attachment_14991" align="alignnone" width="313"] ছবি: নজরবিডি[/caption] স্থাপত্য প্রাসাদসম বাড়িগুলো প্রায় ৮ একর জায়গাজুড়ে বিস্তৃত মহেরা জমিদার বাড়ি মূলত চারটি প্রধান ভবনকে ঘিরে গড়ে উঠেছে।
  • চৌধুরী লজ : গোলাপি রঙের দোতলা ভবন, রোমান স্থাপত্যশৈলীর স্তম্ভ ও ঢেউখেলানো ছাদ এর বৈশিষ্ট্য। তবে সাদা রঙে দাঁড়িয়ে আছে।
  • মহারাজ লজ : বাইজানটাইন ধাঁচে নির্মিত বারো কক্ষবিশিষ্ট ভবন, সামনে ঝুলন্ত বারান্দা ও পেছনে টেনিস কোর্ট রয়েছে।
  • আনন্দ লজ : তিনতলা বিশিষ্ট সবচেয়ে দৃষ্টিনন্দন ভবন, নীল-সাদা রঙের সমাহার, সামনে ভাস্কর্য ও বাগান শোভা বাড়িয়েছে।
  • কালীচরণ লজ (রানী ভবন) : ইংরেজি “U” অক্ষরের আদলে নির্মিত ইংরেজ স্থাপত্যশৈলীর অনন্য নিদর্শন এটি। বিকেলের আলোয় ভেতর থেকে ঝলমলে দৃশ্য ফুটে ওঠে।
[caption id="attachment_14992" align="alignnone" width="300"] জমিদার বাড়ি-বিশাখা সাগর, ছবি: নজরবিডি[/caption] বাড়ির চারপাশে রয়েছে তিনটি দিঘি—বিশাখা সাগর, পাসরা পুকুর এবং রানী পুকুর। এছাড়া বিশাল আম্রকানন, ফলের বাগান, ফুলের সমারোহ আর ফোয়ারা পুরো জমিদার বাড়িকে করে তুলেছে নয়নাভিরাম। জমিদার ভবনের দক্ষিণ পাশে বিশাখা সাগর অবস্থিত। এখান থেকে একসময় এলাকার জনগণ সুপেয় পানি সংগ্রহ করত। জমিদার বাড়ীর পিছনে পাসরা পুকুর এবং রানী পুকুর নামে বিশাল দুইটি দিঘি আছে যা ছিল জমিদারদের নিজস্ব ব্যবহারের জন্য। বিশাখা সাগর সংলগ্ন দক্ষিণ পার্শ্বে বিশাল আম্র কানন। ফজলি, ল্যাংড়া, গোপালভোগসহ দেশী বিভিন্ন প্রজাতির আম্র বৃক্ষ শোভা পাচ্ছে। আম্র কানন ব্যতীত বর্তমান পিটিসি’র প্রায় ৪৪ একর জমিতে সর্বত্র ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে নানা বৈচিত্র্যময় ফলের সমারোহ। সৌখিন ফটোগ্রাফারদের জন্য চমৎকার এক লোকেশন। দর্শনার্থীদের জন্য আছে কয়েকটি আকর্ষনীয় দোলনা এবং মাছ, পাখী, জীব-জন্তুর কৃত্তিম চিড়িয়াখানা। এছাড়াও বিশাখা সাগরে আছে নৌভ্রমনের জন্য অন্যতম আকর্ষণ সোনার তরী এবং সপ্তডিঙ্গা। অপরুপ স্থাপত্য আধুনিক শহীদ মিনার আপনাকে সামান্য সময়ের জন্য হলেও মুগ্ধ করে দিবে। মুক্তিযুদ্ধের রক্তাক্ত স্মৃতি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ মহেরা জমিদার বাড়ির ইতিহাসে এক কলঙ্কিত অধ্যায় হয়ে আছে। যুদ্ধ চলাকালিন সময়ে ১৪ মে পাক সেনারা এ বাড়িতে হামলা চালায়। তারা জমিদার বাড়ির কূলবধূ যোগমায়া রায় চৌধুরীসহ স্থানীয় পাঁচজনকে নির্মমভাবে গুলি করে হত্যা করে। নিহতদের মধ্যে ছিলেন শিক্ষক পণ্ডিত বিমল কুমার সরকার, মনিন্দ্র কুমার চক্রবর্তী, অতুল চন্দ্র সাহা ও নোয়াই বণিক। এই হত্যাযজ্ঞে স্থানীয় রাজাকার ও আল-বদররা পাকবাহিনীকে সহায়তা করেছিল। স্বাধীনতার পরবর্তী সময় ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের পর ১৯৭২ সালে পরিত্যাক্ত জমিদার বাড়ীটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে পুলিশ ট্রেনিং স্কুল হিসেবে প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। এ মহতী কাজটি করেন তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল মান্নান। পরবর্তীতে ১৯৯০ সালে এটিকে পুলিশ ট্রেনিং সেন্টার (PTC)-এ উন্নীত করা হয়। পুলিশের প্রশিক্ষণের পাশাপাশি বাড়ির পুরনো স্থাপত্য সংরক্ষণ করা হয় এবং নতুন স্থাপনার মধ্যে শিশুদের জন্য পার্ক, খেলনা ও দর্শনার্থীদের জন্য মিনি চিড়িয়াখানা তৈরী করা হয়। আর পুলিশের ট্রেনিং সেন্টার স্থাপন হওয়ায় ট্রেনিং পরিচালনার জন্য জমিদার বাড়ীটির যথাযথ রক্ষনাবেক্ষণসহ নতুন নতুন স্থাপনা তৈরী করার কারনে পুরানো স্থাপত্য কলার অপরুপ এই জমিদার বাড়ীটির সৌন্দর্য্য শুধু অক্ষত থাকেনি বরং তার কলেবর আরো বৃদ্ধি পেয়েছে। [caption id="attachment_14993" align="alignnone" width="300"] জমিদার বাড়ি পার্ক, ছবি: নজরবিডি[/caption] পর্যটন সাংস্কৃতিক গুরুত্ব আজকের দিনে মহেরা জমিদার বাড়ি শুধু একটি প্রশিক্ষণকেন্দ্র নয়, বরং জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত । প্রতিদিন শত শত ভ্রমণপিপাসু এখানে ভ্রমণে আসেন। এখানে রয়েছে:
  • দর্শনার্থীদের জন্য মনোমুগ্ধকর ফুলের বাগান ও দোলনা,
  • নৌভ্রমণের জন্য সোনার তরীসপ্তডিঙ্গা, (এখন বন্ধ রয়েছে)
  • ফটোগ্রাফির জন্য চমৎকার লোকেশন,
  • নাটক-সিনেমার শুটিং স্পট।
  • জাদুঘর (জমিদার পরিবারের ব্যবহারিক ‍তৈজস পত্র)।
প্রবেশমূল্য মাত্র ১০০ টাকা, আর খাবারের জন্য রয়েছে ক্যান্টিন সুবিধা। শীতকালে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান পিকনিকের জন্যও মহেরা জমিদার বাড়িকে বেছে নেয়। মহেরা জমিদার বাড়ি শুধু জমিদারি ঐতিহ্যের সাক্ষ্য নয়, মুক্তিযুদ্ধের রক্তাক্ত ইতিহাসেরও সাক্ষ্য বহন করে। সংরক্ষণের সুবাদে এটি আজও দাঁড়িয়ে আছে গৌরবের সাথে। ইতিহাসপ্রেমী, ভ্রমণপিপাসু ও সংস্কৃতিমনা মানুষের কাছে মহেরা জমিদার বাড়ি এক সৌন্দর্যের প্রতীক।   প্রতিবেদকের কিছু কথা (মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম) হঠাৎ মনে হলো ঢাকার যান্ত্রিক জীবনের ভিড়ভাট্টার মাঝে কিছুটা সময় বের করে কোথাও ঘুরে আসা উচিত। তাই সহকর্মী মো: কামাল খানকে সঙ্গে নিয়ে বাইকে চেপে রওনা দিলাম উত্তরা থেকে—গন্তব্য টাঙ্গাইলের মহেরা জমিদার বাড়ি। সকালেই যাত্রা শুরু করি। টাঙ্গাইলে প্রবেশ করে মাঝপথে নাস্তা সেরে আবার পথে চলা শুরু। আধা ঘণ্টারও কম সময় পর পৌঁছে গেলাম মহেরা জমিদার বাড়িতে। সেখানে গিয়ে টিকিট কাউন্টারে আমাদের পরিচয় নিশ্চিত করি। দায়িত্বপ্রাপ্ত ডিআইজি মহোদয়ের নির্দেশে আমাদের প্রবেশের ব্যবস্থা হয়। পুরো সফরজুড়ে সহযোগিতা করেছেন সিনিয়র সাব-ইন্সপেক্টর আব্দুল কাদের। বাড়ির ইতিহাস ও জমিদারদের অজানা অনেক কথা জেনে নিলাম ঘুরতে ঘুরতে। সবকিছু দেখে শেষ করে প্রবেশদ্বারের কফি হাউজে গিয়ে বসলাম। সেখানে কফির চুমুকের সঙ্গে আব্দুল কাদের ভাইয়ের সঙ্গে আড্ডা হলো দীর্ঘক্ষণ। তিনি শোনালেন তার চাকরি জীবনের নানা অভিজ্ঞতা ও মিশনের স্মৃতি। জানালেন, চাকরির আর এক বছর বাকি, এরপর অবসরে যাবেন। দিনটির যতোটা সময় তার সঙ্গে কাটিয়েছি, মনে হয়েছে তিনি আমাদের বহুদিনের চেনা-জানা একজন মানুষ। বিদায়ের মুহূর্তে তাই এক অদ্ভুত টান অনুভব করেছি। ভালো থাকুন আব্দুল কাদের ভাইসহ প্রতিটি মানুষ—এই প্রত্যাশাই রইল।

মহেরা জমিদার বাড়ির অবস্থান

  • মহেরা গ্রাম, মির্জাপুর, টাঙ্গাইল
  • ঢাকা থেকে দূরত্ব: প্রায় ৭৫ কিলোমিটার (২–২.৫ ঘণ্টার পথ)
  • টাঙ্গাইল শহর থেকে দূরত্ব: প্রায় ১৮ কিলোমিটার

কীভাবে যাবেন

ঢাকা থেকে:
  • গাবতলী বা মহাখালী বাস টার্মিনাল থেকে টাঙ্গাইলগামী প্রায় সব বাসেই উঠতে পারবেন।
  • নামতে হবে নাটিয়াপাড়া বাজারে। সেখান থেকে অটোরিকশা বা সিএনজি করে ৪ কিলোমিটার ভেতরে গেলেই মহেরা জমিদার বাড়ি। মহেরা বাড়িটি মহাসড়কের পূর্বে অবস্থিত।
নিজস্ব গাড়িতে:
  • ঢাকা–টাঙ্গাইল মহাসড়ক ধরে নাটিয়াপাড়া বাজার পর্যন্ত যান, সেখান থেকে সাইনবোর্ড অনুসরণ করে মহেরায় পৌঁছানো যায়।
  • গুগল ম্যাপে লোকেশন দেওয়া আছে—খুব সহজেই খুঁজে পাওয়া যাবে।

প্রবেশমূল্য ও সময়সূচি

  • প্রবেশমূল্য: জনপ্রতি ১০০ টাকা
  • খোলার সময়: সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা (শুক্রবার ও সরকারি ছুটির দিনে বেশি ভিড় হয়)
  • ভেতরে খাবারের ক্যান্টিন রয়েছে, দাম তুলনামূলক সাশ্রয়ী।

কী দেখবেন

  • চারটি প্রধান প্রাসাদ: চৌধুরী লজ, মহারাজ লজ, আনন্দ লজ, কালীচরণ লজ
  • বিশাখা সাগর: বিশাল দিঘি, যেখানে নৌকায় ভ্রমণের সুযোগ আছে (সোনার তরী ও সপ্তডিঙ্গা নৌকা)
  • পুকুর বাগান: পাসরা পুকুর( পুকুরে রঙিন মাছ রয়েছে), রানী পুকুর, ফুলের বাগান ও আম্রকানন
  • ফোয়ারা ভাস্কর্য: ১৮৯০ সালের প্রাচীন ফোয়ারা, পশুপাখি ও হরিণের ভাস্কর্য
  • শহীদ স্মৃতি: মুক্তিযুদ্ধের সময় নিহতদের স্মৃতিচিহ্ন
  • শুটিং স্পট: বিভিন্ন নাটক ও সিনেমার দৃশ্য ধারণের জায়গা
  • জাদুঘর রয়েছে।

থাকার ব্যবস্থা

মহেরা জমিদার বাড়ির ভেতরে রাতযাপনের ব্যবস্থা নেই। তবে কাছাকাছি মির্জাপুর ও টাঙ্গাইল শহরে হোটেল আছে। আর দিনে ঘুরে এসে ঢাকাতেও ফেরা যায়।

খাওয়ার ব্যবস্থা

  • জমিদার বাড়ির ভেতরে একটি ছোট ক্যান্টিন আছে।
  • নাটিয়াপাড়া বাজারে স্থানীয় খাবারের হোটেল পাওয়া যায়।
  • চাইলে নিজস্বভাবে খাবার নিয়েও যেতে পারেন (বিশেষ করে পিকনিক দলগুলো)।

ভ্রমণ টিপস

  • সপ্তাহের মাঝের দিন গেলে ভিড় কম পাবেন।
  • শীতকালে পিকনিক মৌসুমে বেশি ভিড় হয়, সেক্ষেত্রে আগে থেকে প্রস্তুতি নিন।
  • প্রাচীন স্থাপনাগুলোতে ওঠা বা দেয়ালে আঁচড়ানো থেকে বিরত থাকুন।
  • ক্যামেরা নিয়ে গেলে প্রচুর সুন্দর লোকেশন পাবেন।

কেন যাবেন মহেরা জমিদার বাড়ি?

  • অনিন্দ্য সুন্দর ইউরোপীয় স্থাপত্য কাছ থেকে দেখার সুযোগ
  • মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস স্পর্শ করার অনুভূতি
  • নয়নাভিরাম বাগান, দিঘি ও গ্রামীণ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য
  • টাঙ্গাইল সফরে শাড়ি কেনার পাশাপাশি একটি দারুণ ঐতিহাসিক ভ্রমণ

নজর বিডি

উপদেষ্টা সম্পাদক: মো: ইব্রাহিম খলিল। 
সম্পাদক: মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম। 
লিগ্যাল এডভাইজার: মাহমুদুর রহমান সুইট- এম.কম, এল এল বি, এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট।


 

কপিরাইট © ২০২৬ নজর বিডি সর্বস্ব সংরক্ষিত