সুন্দরগঞ্জে রোগাক্রান্ত পশু জবাই, টিকাদান কর্মসূচি শুরু
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বেলকা ইউনিয়নের কিশামত সদর গ্রামে একটি অসুস্থ গরু জবাই করার পর অন্তত ১১ জনের শরীরে অ্যানথ্রাক্সের উপসর্গ দেখা দিয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে সাতজন গাইবান্ধা শহরের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন, বাকিরা স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়েছেন।
শুক্রবার (৩ অক্টোবর) সন্ধ্যায় আক্রান্তরা গাইবান্ধা শহরের রাবেয়া ক্লিনিক অ্যান্ড নার্সিং হোম ও রাবেয়া ডায়াগনস্টিক সেন্টারে চিকিৎসা নেন। গুরুতর আক্রান্তদের মধ্যে রয়েছেন মোজা মিয়া, মোজাফফর মিয়া, শফিকুল ইসলাম ও মাহবুর রহমান।
রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চর্ম ও যৌন রোগ বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. মো. মঞ্জুরুল করিম প্রিন্স বলেন,
“রোগীদের হাতে, মুখে, চোখে ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে ফোসকা, পচন, জ্বর, ব্যথা ও চুলকানি দেখা গেছে। এগুলো অ্যানথ্রাক্সের উপসর্গ। এটি ছোঁয়াচে রোগ নয়, তবে আক্রান্ত পশু জবাই বা মাংস কাটার সময় সংক্রমণ ঘটে। নিয়মিত চিকিৎসায় তারা সুস্থ হয়ে উঠবেন।”
স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. হাফিজার রহমান জানান, গত শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) মাহবুর রহমানের একটি অসুস্থ গরু জবাই করে প্রায় ১২০ জনের মধ্যে মাংস ভাগ করে দেওয়া হয়। জবাই ও মাংস কাটাকাটিতে সরাসরি জড়িত ছিলেন ১০–১৫ জন। চারদিন পর থেকেই তাদের মধ্যে অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়েন।
সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. দিবাকর বসাক বলেন, বৃহস্পতিবার ৪-৫ জন রোগী অ্যানথ্রাক্সের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে আসেন। প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাদের গাইবান্ধা অথবা রংপুর মেডিকেলে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের ভেটেরিনারি সার্জন ডা. মো. মোজাম্মেল হক জানান, পাশের পীরগাছা উপজেলায় অ্যানথ্রাক্সের সংক্রমণ ছিল, যা এখন সুন্দরগঞ্জেও ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে ঘাঘট ও তিস্তা নদীবেষ্টিত বামনডাঙ্গা, সর্বানন্দ, তারাপুর, বেলকা ও পৌরসভা এলাকায় রোগ শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্ত এলাকায় টিকাদান কর্মসূচি চলছে। তিনি বলেন,
“রোগাক্রান্ত পশু জবাই বা পরিচর্যার মাধ্যমে মানুষ আক্রান্ত হতে পারে, তবে মাংস খাওয়ার মাধ্যমে অ্যানথ্রাক্স ছড়ায় না।”
সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাজ কুমার বিশ্বাস বলেন,
“আক্রান্ত এলাকায় জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। প্রাণিসম্পদ বিভাগ ও জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে সভা করা হয়েছে। এলাকায় লিফলেট বিতরণ, মাইকিং ও সচেতনতামূলক কর্মসূচি চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি আক্রান্ত পশু জবাই না করার জন্য কড়া নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।”
অসুস্থ পশু জবাই থেকে শুরু হওয়া এই অ্যানথ্রাক্স সংক্রমণ বর্তমানে সুন্দরগঞ্জের একাধিক গ্রামে ছড়িয়ে পড়েছে। আক্রান্তদের চিকিৎসা দেওয়া হলেও এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সময়মতো চিকিৎসা নিলে অ্যানথ্রাক্স প্রাণঘাতী নয়। তবে এ রোগ প্রতিরোধে অসুস্থ পশু জবাই বন্ধ করা এবং টিকাদান কর্মসূচি কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা অত্যন্ত জরুরি।

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৪ অক্টোবর ২০২৫
সুন্দরগঞ্জে রোগাক্রান্ত পশু জবাই, টিকাদান কর্মসূচি শুরু
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বেলকা ইউনিয়নের কিশামত সদর গ্রামে একটি অসুস্থ গরু জবাই করার পর অন্তত ১১ জনের শরীরে অ্যানথ্রাক্সের উপসর্গ দেখা দিয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে সাতজন গাইবান্ধা শহরের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন, বাকিরা স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়েছেন।
শুক্রবার (৩ অক্টোবর) সন্ধ্যায় আক্রান্তরা গাইবান্ধা শহরের রাবেয়া ক্লিনিক অ্যান্ড নার্সিং হোম ও রাবেয়া ডায়াগনস্টিক সেন্টারে চিকিৎসা নেন। গুরুতর আক্রান্তদের মধ্যে রয়েছেন মোজা মিয়া, মোজাফফর মিয়া, শফিকুল ইসলাম ও মাহবুর রহমান।
রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চর্ম ও যৌন রোগ বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. মো. মঞ্জুরুল করিম প্রিন্স বলেন,
“রোগীদের হাতে, মুখে, চোখে ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে ফোসকা, পচন, জ্বর, ব্যথা ও চুলকানি দেখা গেছে। এগুলো অ্যানথ্রাক্সের উপসর্গ। এটি ছোঁয়াচে রোগ নয়, তবে আক্রান্ত পশু জবাই বা মাংস কাটার সময় সংক্রমণ ঘটে। নিয়মিত চিকিৎসায় তারা সুস্থ হয়ে উঠবেন।”
স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. হাফিজার রহমান জানান, গত শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) মাহবুর রহমানের একটি অসুস্থ গরু জবাই করে প্রায় ১২০ জনের মধ্যে মাংস ভাগ করে দেওয়া হয়। জবাই ও মাংস কাটাকাটিতে সরাসরি জড়িত ছিলেন ১০–১৫ জন। চারদিন পর থেকেই তাদের মধ্যে অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়েন।
সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. দিবাকর বসাক বলেন, বৃহস্পতিবার ৪-৫ জন রোগী অ্যানথ্রাক্সের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে আসেন। প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাদের গাইবান্ধা অথবা রংপুর মেডিকেলে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের ভেটেরিনারি সার্জন ডা. মো. মোজাম্মেল হক জানান, পাশের পীরগাছা উপজেলায় অ্যানথ্রাক্সের সংক্রমণ ছিল, যা এখন সুন্দরগঞ্জেও ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে ঘাঘট ও তিস্তা নদীবেষ্টিত বামনডাঙ্গা, সর্বানন্দ, তারাপুর, বেলকা ও পৌরসভা এলাকায় রোগ শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্ত এলাকায় টিকাদান কর্মসূচি চলছে। তিনি বলেন,
“রোগাক্রান্ত পশু জবাই বা পরিচর্যার মাধ্যমে মানুষ আক্রান্ত হতে পারে, তবে মাংস খাওয়ার মাধ্যমে অ্যানথ্রাক্স ছড়ায় না।”
সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাজ কুমার বিশ্বাস বলেন,
“আক্রান্ত এলাকায় জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। প্রাণিসম্পদ বিভাগ ও জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে সভা করা হয়েছে। এলাকায় লিফলেট বিতরণ, মাইকিং ও সচেতনতামূলক কর্মসূচি চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি আক্রান্ত পশু জবাই না করার জন্য কড়া নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।”
অসুস্থ পশু জবাই থেকে শুরু হওয়া এই অ্যানথ্রাক্স সংক্রমণ বর্তমানে সুন্দরগঞ্জের একাধিক গ্রামে ছড়িয়ে পড়েছে। আক্রান্তদের চিকিৎসা দেওয়া হলেও এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সময়মতো চিকিৎসা নিলে অ্যানথ্রাক্স প্রাণঘাতী নয়। তবে এ রোগ প্রতিরোধে অসুস্থ পশু জবাই বন্ধ করা এবং টিকাদান কর্মসূচি কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা অত্যন্ত জরুরি।

আপনার মতামত লিখুন