গাজাগামী ফ্লোটিলা আটক, বিশ্বজুড়ে ক্ষোভ
নিজস্ব প্রতিবেদক ● ৫ অক্টোবর ২০২৫
গাজাগামী মানবিক সহায়তা বহর গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা আটক করার পর সুইডিশ পরিবেশকর্মী গ্রেটা থুনবার্গের ওপর ভয়াবহ নির্যাতন ও অপমানজনক আচরণের অভিযোগ উঠেছে। তুর্কি মানবাধিকার কর্মী ও আটক অংশগ্রহণকারীদের বরাতে এই তথ্য জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা ও দ্য গার্ডিয়ান।
তুরস্কের মানবাধিকার কর্মী এরসিন চেলিক স্থানীয় গণমাধ্যমকে বলেন,
“আমাদের সামনেই গ্রেটাকে নির্মমভাবে টেনে হিঁচড়ে নেওয়া হয়। তাকে জোর করে হামাগুড়ি দিতে বাধ্য করা হয় এবং ইসরায়েলি পতাকায় চুমু খাওয়ানো হয়।”
তিনি অভিযোগ করেন, থুনবার্গকে ইচ্ছাকৃতভাবে টার্গেট করা হয়েছে কারণ তিনি আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত একটি মুখ। “তাকে ট্রফির মতো প্রদর্শন করা হয়েছে, যেন আমরা সবাই কোনো শাস্তিমূলক প্রদর্শনের অংশ,” বলেন চেলিক।
তুর্কি মানবাধিকার কর্মী ও অংশগ্রহণকারীদের বরাতে দাবি করা হয়েছে, থুনবার্গকে গৃহীত করা হয়েছে অপমানজনকভাবে — যেমন চুল ধরে টেনে নেওয়া, পতাকায় চুমু খাওয়ানো এবং ইসরায়েলি পতাকা জড়িয়ে জনসমক্ষে প্রদর্শন করা।
ইতালির সাংবাদিক লরেঞ্জো আগোস্তিনো বলেন,
“মাত্র ২২ বছরের এক সাহসী নারীকে পতাকায় মুড়িয়ে ট্রফির মতো প্রদর্শন করা হয়েছে। এটি এক মানবিক লজ্জা।”
অন্যদিকে মালয়েশীয় অধিকারকর্মী হাজওয়ানি হেলমি জানান, আটক অবস্থায় তাদের পশুর মতো ব্যবহার করা হয়েছে। “খাবার, বিশুদ্ধ পানি, ওষুধ কিছুই দেওয়া হয়নি। টয়লেটের পানি খেতে হয়েছে,” বলেন তিনি।
ইসরায়েলি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তারা দাবি করেছে, আটক ব্যক্তিদের নিয়মিত খাবার, পানি ও আইনি সহায়তা দেওয়া হয়েছে।
ইসরায়েলের এক মুখপাত্র বলেন,
“আটক ব্যক্তিদের সঙ্গে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী আচরণ করা হয়েছে। যেসব অভিযোগ করা হচ্ছে, সেগুলো ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।”
সুইডেন, ইতালি ও মালয়েশিয়া তাদের নাগরিকদের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানি বলেন, “ইসরায়েল যদি সত্যিই ফ্লোটিলার অংশগ্রহণকারীদের নির্যাতন করে থাকে, তবে এটি একটি গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন।”
তুরস্কও ঘটনাটির নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছে এবং জাতিসংঘে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিলের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
গত ১ ও ২ অক্টোবর ইসরায়েলি নৌবাহিনী গাজার দিকে যাওয়া গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার অন্তত ৪০টি নৌযান আটক করে। এতে ৪৫০ জনেরও বেশি মানবাধিকার কর্মী, সাংবাদিক ও স্বেচ্ছাসেবক ছিলেন।
গ্রেটা থুনবার্গও তাঁদের মধ্যে একজন ছিলেন, যিনি গাজায় খাদ্য, ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম নিয়ে যাচ্ছিলেন।

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৫ অক্টোবর ২০২৫
গাজাগামী ফ্লোটিলা আটক, বিশ্বজুড়ে ক্ষোভ
নিজস্ব প্রতিবেদক ● ৫ অক্টোবর ২০২৫
গাজাগামী মানবিক সহায়তা বহর গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা আটক করার পর সুইডিশ পরিবেশকর্মী গ্রেটা থুনবার্গের ওপর ভয়াবহ নির্যাতন ও অপমানজনক আচরণের অভিযোগ উঠেছে। তুর্কি মানবাধিকার কর্মী ও আটক অংশগ্রহণকারীদের বরাতে এই তথ্য জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা ও দ্য গার্ডিয়ান।
তুরস্কের মানবাধিকার কর্মী এরসিন চেলিক স্থানীয় গণমাধ্যমকে বলেন,
“আমাদের সামনেই গ্রেটাকে নির্মমভাবে টেনে হিঁচড়ে নেওয়া হয়। তাকে জোর করে হামাগুড়ি দিতে বাধ্য করা হয় এবং ইসরায়েলি পতাকায় চুমু খাওয়ানো হয়।”
তিনি অভিযোগ করেন, থুনবার্গকে ইচ্ছাকৃতভাবে টার্গেট করা হয়েছে কারণ তিনি আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত একটি মুখ। “তাকে ট্রফির মতো প্রদর্শন করা হয়েছে, যেন আমরা সবাই কোনো শাস্তিমূলক প্রদর্শনের অংশ,” বলেন চেলিক।
তুর্কি মানবাধিকার কর্মী ও অংশগ্রহণকারীদের বরাতে দাবি করা হয়েছে, থুনবার্গকে গৃহীত করা হয়েছে অপমানজনকভাবে — যেমন চুল ধরে টেনে নেওয়া, পতাকায় চুমু খাওয়ানো এবং ইসরায়েলি পতাকা জড়িয়ে জনসমক্ষে প্রদর্শন করা।
ইতালির সাংবাদিক লরেঞ্জো আগোস্তিনো বলেন,
“মাত্র ২২ বছরের এক সাহসী নারীকে পতাকায় মুড়িয়ে ট্রফির মতো প্রদর্শন করা হয়েছে। এটি এক মানবিক লজ্জা।”
অন্যদিকে মালয়েশীয় অধিকারকর্মী হাজওয়ানি হেলমি জানান, আটক অবস্থায় তাদের পশুর মতো ব্যবহার করা হয়েছে। “খাবার, বিশুদ্ধ পানি, ওষুধ কিছুই দেওয়া হয়নি। টয়লেটের পানি খেতে হয়েছে,” বলেন তিনি।
ইসরায়েলি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তারা দাবি করেছে, আটক ব্যক্তিদের নিয়মিত খাবার, পানি ও আইনি সহায়তা দেওয়া হয়েছে।
ইসরায়েলের এক মুখপাত্র বলেন,
“আটক ব্যক্তিদের সঙ্গে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী আচরণ করা হয়েছে। যেসব অভিযোগ করা হচ্ছে, সেগুলো ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।”
সুইডেন, ইতালি ও মালয়েশিয়া তাদের নাগরিকদের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানি বলেন, “ইসরায়েল যদি সত্যিই ফ্লোটিলার অংশগ্রহণকারীদের নির্যাতন করে থাকে, তবে এটি একটি গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন।”
তুরস্কও ঘটনাটির নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছে এবং জাতিসংঘে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিলের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
গত ১ ও ২ অক্টোবর ইসরায়েলি নৌবাহিনী গাজার দিকে যাওয়া গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার অন্তত ৪০টি নৌযান আটক করে। এতে ৪৫০ জনেরও বেশি মানবাধিকার কর্মী, সাংবাদিক ও স্বেচ্ছাসেবক ছিলেন।
গ্রেটা থুনবার্গও তাঁদের মধ্যে একজন ছিলেন, যিনি গাজায় খাদ্য, ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম নিয়ে যাচ্ছিলেন।

আপনার মতামত লিখুন