নজর বিডি
প্রকাশ : বুধবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৫

মেট্রোরেলে নিহত কালামের সন্তানের দায়িত্ব নিলেন বিএনপি নেতা

মেট্রোরেলে নিহত কালামের সন্তানের দায়িত্ব নিলেন বিএনপি নেতা

মেট্রোরেলের বিয়ারিং প্যাড পড়ে নিহত আবুল কালামের দুই শিশুসন্তানের পড়াশোনার দায়িত্ব নিলেন শরীয়তপুর জেলা বিএনপি সভাপতি সফিকুর রহমান

    স্টাফ রিপোর্টারঃ সুমাইয়া নূর প্রভা  রাজধানীর ফার্মগেটে মেট্রোরেলের পিলারের বিয়ারিং প্যাড খুলে পড়ে নিহত নড়িয়া উপজেলার আবুল কালামের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন শরীয়তপুর জেলা বিএনপির সভাপতি সফিকুর রহমান। বুধবার (২৯ অক্টোবর) বিকেলে নড়িয়া উপজেলার মোক্তারের চর ইউনিয়নের ঈশ্বরকাঠি গ্রামে নিহত আবুল কালামের গ্রামের বাড়িতে গিয়ে তিনি তাঁর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। এ সময় জেলা বিএনপি সভাপতি নিহত আবুল কালামের দুই শিশুসন্তান—আবদুল্লাহ (৫) ও পারিসা (৩)—এর পড়াশোনার সমস্ত দায়িত্ব নেওয়ার ঘোষণা দেন। পাশাপাশি তিনি কালামের স্ত্রী আইরিন আক্তারকে ভবিষ্যতে উপযুক্ত চাকরির ব্যবস্থা করে দেওয়ার আশ্বাসও দেন। সফিকুর রহমান বলেন,
“বিএনপি সর্বদা জনগণের পাশে রয়েছে। কালামের মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে মর্মাহত। তাঁর দুই সন্তানের শিক্ষা ও ভবিষ্যতের দায়িত্ব আমি ব্যক্তিগতভাবে নিচ্ছি। এছাড়া বিএনপি ক্ষমতায় এলে তাঁর স্ত্রীকে চাকরির ব্যবস্থা করা হবে। আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানও পরিবারটির প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন এবং তাঁদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।”
এ সময় নড়িয়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ফরিদ আহম্মেদসহ স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য, গত রোববার রাজধানীর ফার্মগেট এলাকায় মেট্রোরেলের পিলারের একটি বিয়ারিং প্যাড খুলে পড়ে মোটরসাইকেল আরোহী আবুল কালাম (৩৫) নিহত হন। তিনি নড়িয়া উপজেলার মোক্তারের চর ইউনিয়নের ঈশ্বরকাঠি গ্রামের প্রয়াত জলিল চোকদার ও হনুফা বেগমের ছোট ছেলে। গ্রামবাসীরা জানান, চার ভাই ও ছয় বোনের পরিবারে সবার ছোট ছিলেন আবুল কালাম। প্রায় ২০ বছর আগে বাবা-মায়ের মৃত্যু হলে তিনি বড় ভাই-বোনদের কাছেই বড় হন। জীবিকার প্রয়োজনে ২০১২ সালে মালয়েশিয়া পাড়ি জমান এবং ২০১৮ সালে দেশে ফিরে পাশের গ্রামের আইরিন আক্তারকে বিয়ে করেন। স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে নারায়ণগঞ্জের পাঠানটুলি এলাকায় বসবাস করতেন তিনি। মৃত্যুর আগে ঢাকার মতিঝিলের একটি ট্রাভেল এজেন্সিতে কর্মরত ছিলেন। নিহতের ভাই খোকন চোকদার জানান,
“সফিকুর রহমান সাহেব আমাদের ভাইয়ের সন্তানদের পড়াশোনার দায়িত্ব নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন। আমরা পারিবারিকভাবে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেব।”
গ্রামবাসী ও স্থানীয় নেতারা বলেন, দুর্ঘটনার পর থেকেই পরিবারটি গভীর শোকে নিমজ্জিত। জেলা বিএনপির এই মানবিক উদ্যোগ কিছুটা হলেও পরিবারটিকে আশার আলো দেখিয়েছে।  

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
নজর বিডি

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬


মেট্রোরেলে নিহত কালামের সন্তানের দায়িত্ব নিলেন বিএনপি নেতা

প্রকাশের তারিখ : ২৯ অক্টোবর ২০২৫

featured Image

মেট্রোরেলের বিয়ারিং প্যাড পড়ে নিহত আবুল কালামের দুই শিশুসন্তানের পড়াশোনার দায়িত্ব নিলেন শরীয়তপুর জেলা বিএনপি সভাপতি সফিকুর রহমান

    স্টাফ রিপোর্টারঃ সুমাইয়া নূর প্রভা  রাজধানীর ফার্মগেটে মেট্রোরেলের পিলারের বিয়ারিং প্যাড খুলে পড়ে নিহত নড়িয়া উপজেলার আবুল কালামের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন শরীয়তপুর জেলা বিএনপির সভাপতি সফিকুর রহমান। বুধবার (২৯ অক্টোবর) বিকেলে নড়িয়া উপজেলার মোক্তারের চর ইউনিয়নের ঈশ্বরকাঠি গ্রামে নিহত আবুল কালামের গ্রামের বাড়িতে গিয়ে তিনি তাঁর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। এ সময় জেলা বিএনপি সভাপতি নিহত আবুল কালামের দুই শিশুসন্তান—আবদুল্লাহ (৫) ও পারিসা (৩)—এর পড়াশোনার সমস্ত দায়িত্ব নেওয়ার ঘোষণা দেন। পাশাপাশি তিনি কালামের স্ত্রী আইরিন আক্তারকে ভবিষ্যতে উপযুক্ত চাকরির ব্যবস্থা করে দেওয়ার আশ্বাসও দেন। সফিকুর রহমান বলেন,
“বিএনপি সর্বদা জনগণের পাশে রয়েছে। কালামের মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে মর্মাহত। তাঁর দুই সন্তানের শিক্ষা ও ভবিষ্যতের দায়িত্ব আমি ব্যক্তিগতভাবে নিচ্ছি। এছাড়া বিএনপি ক্ষমতায় এলে তাঁর স্ত্রীকে চাকরির ব্যবস্থা করা হবে। আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানও পরিবারটির প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন এবং তাঁদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।”
এ সময় নড়িয়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ফরিদ আহম্মেদসহ স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য, গত রোববার রাজধানীর ফার্মগেট এলাকায় মেট্রোরেলের পিলারের একটি বিয়ারিং প্যাড খুলে পড়ে মোটরসাইকেল আরোহী আবুল কালাম (৩৫) নিহত হন। তিনি নড়িয়া উপজেলার মোক্তারের চর ইউনিয়নের ঈশ্বরকাঠি গ্রামের প্রয়াত জলিল চোকদার ও হনুফা বেগমের ছোট ছেলে। গ্রামবাসীরা জানান, চার ভাই ও ছয় বোনের পরিবারে সবার ছোট ছিলেন আবুল কালাম। প্রায় ২০ বছর আগে বাবা-মায়ের মৃত্যু হলে তিনি বড় ভাই-বোনদের কাছেই বড় হন। জীবিকার প্রয়োজনে ২০১২ সালে মালয়েশিয়া পাড়ি জমান এবং ২০১৮ সালে দেশে ফিরে পাশের গ্রামের আইরিন আক্তারকে বিয়ে করেন। স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে নারায়ণগঞ্জের পাঠানটুলি এলাকায় বসবাস করতেন তিনি। মৃত্যুর আগে ঢাকার মতিঝিলের একটি ট্রাভেল এজেন্সিতে কর্মরত ছিলেন। নিহতের ভাই খোকন চোকদার জানান,
“সফিকুর রহমান সাহেব আমাদের ভাইয়ের সন্তানদের পড়াশোনার দায়িত্ব নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন। আমরা পারিবারিকভাবে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেব।”
গ্রামবাসী ও স্থানীয় নেতারা বলেন, দুর্ঘটনার পর থেকেই পরিবারটি গভীর শোকে নিমজ্জিত। জেলা বিএনপির এই মানবিক উদ্যোগ কিছুটা হলেও পরিবারটিকে আশার আলো দেখিয়েছে।  

নজর বিডি

উপদেষ্টা সম্পাদক: মো: ইব্রাহিম খলিল। 
সম্পাদক: মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম। 
লিগ্যাল এডভাইজার: মাহমুদুর রহমান সুইট- এম.কম, এল এল বি, এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট।


 

কপিরাইট © ২০২৬ নজর বিডি সর্বস্ব সংরক্ষিত