নজর বিডি
প্রকাশ : রোববার, ০২ নভেম্বর ২০২৫

ডুমুরিয়ায় গলদা চিংড়ি চাষে মারুফ সরদার এখন রোল মডেল

ডুমুরিয়ায় গলদা চিংড়ি চাষে মারুফ সরদার এখন রোল মডেল
খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার রুদাঘরা ইউনিয়নের কেওড়াতলার মারুফ সরদার এখন গলদা চিংড়ি চাষে এক অনুকরণীয় সফল চাষি হিসেবে পরিচিত। একসময় মাছ চাষ সম্পর্কে তেমন জ্ঞান না থাকলেও আজ তিনি নিজের পরিশ্রম, ধৈর্য ও আধুনিক পদ্ধতি অবলম্বনের মাধ্যমে নিজের ভাগ্য বদলে ফেলেছেন। মারুফ সরদারের ১২০ শতক জল আয়তনের ঘেরে উৎপাদন হয়েছে প্রায় ৮৫০ কেজি গলদা চিংড়ি—অর্থাৎ শতকে উৎপাদন সাত কেজিরও বেশি। শুধু গলদা নয়, পাশাপাশি তিনি সাদা মাছ বিক্রি করেছেন প্রায় ৭০ হাজার টাকার। এলাকার অন্যান্য চাষিরা যেখানে শতকে তিন থেকে চার কেজির কাছাকাছি উৎপাদন পান, সেখানে মারুফের ঘের এখন সাফল্যের দৃষ্টান্ত। একসময় তিনি চিংড়ি চাষে তেমন অভিজ্ঞ ছিলেন না। ঘেরের গভীরতা ছিল কম, বৃষ্টির সময় পানিতে তলিয়ে যেত, ফলে উৎপাদনও হত খুব কম। কিন্তু বর্তমানে তিনি উন্নত সনাতন পদ্ধতিতে চাষ করছেন। ঘেরের গভীরতা এখন প্রায় পাঁচ ফুট, পাড়ের প্রস্থ পাঁচ ফুটেরও বেশি। পুরো ঘের নেট দিয়ে ঘেরা, যা মাছের নিরাপত্তা ও পানির ভারসাম্য রক্ষা করে। নিয়মিত তিনি ঘেরে চুন, প্রিবায়োটিক ও প্রবায়োটিক ব্যবহার করেন। পোনা ছাড়েন নিয়ম মেনে এবং ভালো মানের ফিড ব্যবহার করেন। তিনি উপজেলা মৎস্য অফিসের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখেন এবং অফিসের পরামর্শ অনুযায়ী ঘেরের যত্ন নেন। চাষি মারুফ সরদার বলেন,
“আগে ঘেরের সঠিক ব্যবস্থাপনা জানতাম না। এখন মৎস্য অফিসের পরামর্শ মেনে চলছি। নিয়মিত পানি পরীক্ষা, ঘেরের গভীরতা বৃদ্ধি, ভালো মানের পিএল, মানসম্মত ফিড ব্যবহার ও নিয়মিত পরিচর্যা করাই আমার সাফল্যের মূল রহস্য।”
এ বিষয়ে সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সোহেল মো. জিল্লুর রহমান রিগান বলেন,
“মারুফ সরদার একজন অত্যন্ত পরিশ্রমী চাষি। তিনি নিয়মিত অফিসে এসে পরামর্শ নেন। তাকে মাছ চাষের বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। এ বছর তিনি একটি দুই দিনের ও একটি পাঁচ দিনের প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন। তার সাফল্য অন্য চাষিদের জন্য অনুপ্রেরণা।”
বর্তমানে মারুফ সরদারের ঘের স্থানীয় চাষিদের কাছে এক নমুনা ঘের হিসেবে পরিচিত। তার সাফল্যের গল্প এখন রুদাঘরা ও আশপাশের গ্রামগুলোতে ছড়িয়ে পড়েছে। অন্য চাষিরাও তার পথ অনুসরণ করে আধুনিক পদ্ধতিতে গলদা চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। ডুমুরিয়ার মাটি ও পানির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে গলদা চাষে এভাবে এগিয়ে চলেছেন মারুফ সরদার — যা স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। মারুফ সরদারের সাফল্য প্রমাণ করে — সঠিক পরামর্শ, আধুনিক পদ্ধতি ও পরিশ্রম থাকলে গ্রামের মানুষও হতে পারেন সফল উদ্যোক্তা।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
নজর বিডি

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬


ডুমুরিয়ায় গলদা চিংড়ি চাষে মারুফ সরদার এখন রোল মডেল

প্রকাশের তারিখ : ০২ নভেম্বর ২০২৫

featured Image
খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার রুদাঘরা ইউনিয়নের কেওড়াতলার মারুফ সরদার এখন গলদা চিংড়ি চাষে এক অনুকরণীয় সফল চাষি হিসেবে পরিচিত। একসময় মাছ চাষ সম্পর্কে তেমন জ্ঞান না থাকলেও আজ তিনি নিজের পরিশ্রম, ধৈর্য ও আধুনিক পদ্ধতি অবলম্বনের মাধ্যমে নিজের ভাগ্য বদলে ফেলেছেন। মারুফ সরদারের ১২০ শতক জল আয়তনের ঘেরে উৎপাদন হয়েছে প্রায় ৮৫০ কেজি গলদা চিংড়ি—অর্থাৎ শতকে উৎপাদন সাত কেজিরও বেশি। শুধু গলদা নয়, পাশাপাশি তিনি সাদা মাছ বিক্রি করেছেন প্রায় ৭০ হাজার টাকার। এলাকার অন্যান্য চাষিরা যেখানে শতকে তিন থেকে চার কেজির কাছাকাছি উৎপাদন পান, সেখানে মারুফের ঘের এখন সাফল্যের দৃষ্টান্ত। একসময় তিনি চিংড়ি চাষে তেমন অভিজ্ঞ ছিলেন না। ঘেরের গভীরতা ছিল কম, বৃষ্টির সময় পানিতে তলিয়ে যেত, ফলে উৎপাদনও হত খুব কম। কিন্তু বর্তমানে তিনি উন্নত সনাতন পদ্ধতিতে চাষ করছেন। ঘেরের গভীরতা এখন প্রায় পাঁচ ফুট, পাড়ের প্রস্থ পাঁচ ফুটেরও বেশি। পুরো ঘের নেট দিয়ে ঘেরা, যা মাছের নিরাপত্তা ও পানির ভারসাম্য রক্ষা করে। নিয়মিত তিনি ঘেরে চুন, প্রিবায়োটিক ও প্রবায়োটিক ব্যবহার করেন। পোনা ছাড়েন নিয়ম মেনে এবং ভালো মানের ফিড ব্যবহার করেন। তিনি উপজেলা মৎস্য অফিসের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখেন এবং অফিসের পরামর্শ অনুযায়ী ঘেরের যত্ন নেন। চাষি মারুফ সরদার বলেন,
“আগে ঘেরের সঠিক ব্যবস্থাপনা জানতাম না। এখন মৎস্য অফিসের পরামর্শ মেনে চলছি। নিয়মিত পানি পরীক্ষা, ঘেরের গভীরতা বৃদ্ধি, ভালো মানের পিএল, মানসম্মত ফিড ব্যবহার ও নিয়মিত পরিচর্যা করাই আমার সাফল্যের মূল রহস্য।”
এ বিষয়ে সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সোহেল মো. জিল্লুর রহমান রিগান বলেন,
“মারুফ সরদার একজন অত্যন্ত পরিশ্রমী চাষি। তিনি নিয়মিত অফিসে এসে পরামর্শ নেন। তাকে মাছ চাষের বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। এ বছর তিনি একটি দুই দিনের ও একটি পাঁচ দিনের প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন। তার সাফল্য অন্য চাষিদের জন্য অনুপ্রেরণা।”
বর্তমানে মারুফ সরদারের ঘের স্থানীয় চাষিদের কাছে এক নমুনা ঘের হিসেবে পরিচিত। তার সাফল্যের গল্প এখন রুদাঘরা ও আশপাশের গ্রামগুলোতে ছড়িয়ে পড়েছে। অন্য চাষিরাও তার পথ অনুসরণ করে আধুনিক পদ্ধতিতে গলদা চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। ডুমুরিয়ার মাটি ও পানির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে গলদা চাষে এভাবে এগিয়ে চলেছেন মারুফ সরদার — যা স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। মারুফ সরদারের সাফল্য প্রমাণ করে — সঠিক পরামর্শ, আধুনিক পদ্ধতি ও পরিশ্রম থাকলে গ্রামের মানুষও হতে পারেন সফল উদ্যোক্তা।

নজর বিডি

উপদেষ্টা সম্পাদক: মো: ইব্রাহিম খলিল। 
সম্পাদক: মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম। 
লিগ্যাল এডভাইজার: মাহমুদুর রহমান সুইট- এম.কম, এল এল বি, এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট।


 

কপিরাইট © ২০২৬ নজর বিডি সর্বস্ব সংরক্ষিত