নজর বিডি
প্রকাশ : সোমবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৫

ঢাকা-১৮ আসনে বিএনপির মনোনয়ন দৌড় তুঙ্গে-কে পাবেন ‘ধানের শীষ’?

ঢাকা-১৮ আসনে বিএনপির মনোনয়ন দৌড় তুঙ্গে-কে পাবেন ‘ধানের শীষ’?

রাজনীতি, ঢাকা -১৮ 

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ ঢাকা-১৮ আসনে বিএনপির মনোনয়ন দৌড় এখন তুঙ্গে। দলের ভেতরে শুরু হয়েছে তীব্র প্রতিযোগিতা— কে পাবেন কাঙ্ক্ষিত ‘ধানের শীষ’ প্রতীক, তা নিয়ে চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, অন্তত নয়জন প্রভাবশালী নেতা এ আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে সক্রিয় রয়েছেন। কেউ উঠান বৈঠকে, কেউ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে, আবার কেউ সরাসরি তৃণমূলে যোগাযোগ রেখে নিজেদের অবস্থান মজবুত করছেন।

২০১৮ সালের প্রেক্ষাপট

গত নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন। দলীয় সূত্র ও স্থানীয় নেতাদের মতে, তিনি জনতার সমর্থন পেলেও ‘রাতের ভোট’ ও ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’-এর কারণে পরাজিত দেখানো হয়। দীর্ঘদিন মাঠে থাকা এই নেতা এখনও তৃণমূলে সবচেয়ে জনপ্রিয় প্রার্থী হিসেবে বিবেচিত। তার সমর্থকদের বিশ্বাস— এবার মনোনয়ন পেলে বিজয় নিশ্চিত।

মনোনয়ন প্রত্যাশীদের অবস্থান

এম কফিল উদ্দিন আহমেদ
বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক ও ব্যবসায়ী এই নেতা ২০১৮ সালেও দলীয় মনোনয়নপত্র পেয়েছিলেন। এবারও মাঠে নেমেছেন ‘রাষ্ট্র মেরামতের ৩১ দফা’ প্রচারণা নিয়ে। নিয়মিত গণসংযোগ, উঠান বৈঠক ও লিফলেট বিতরণে তিনি সক্রিয় রয়েছেন। দলের প্রতি দীর্ঘদিনের ত্যাগ ও অর্থনৈতিক অবদান তাকে মনোনয়ন দৌড়ে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রেখেছে।

মোস্তফা জামান
ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সদস্য সচিব মোস্তফা জামান তুলনামূলক নতুন মুখ হলেও তুরাগ এলাকায় দ্রুত জনপ্রিয় হচ্ছেন। নিয়মিত গণসংযোগ ও সাংগঠনিক তৎপরতায় নিজের বলয় গড়ে তুলেছেন। তবে কিছু সিনিয়র নেতার সঙ্গে মতপার্থক্য রয়ে গেছে।

কামরুল ইসলাম
সাবেক সংসদ সদস্য কামরুল ইসলাম দীর্ঘদিন পর ফের আলোচনায় এসেছেন। একসময় ঢাকার রাজনীতিতে প্রভাবশালী এই নেতা ১/১১ সময় সংস্কারপন্থী হিসেবে দল থেকে দূরে ছিলেন। সম্প্রতি তার ঘনিষ্ঠরা সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। দলের শীর্ষ নেতৃত্বের ঘনিষ্ঠতার সুবাদে তিনিও মনোনয়ন দৌড়ে আছেন বলে গুঞ্জন রয়েছে।

আফাজ উদ্দিন আফাজ
দুই দশকের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আফাজ ছাত্রদল-যুবদল হয়ে মূল বিএনপিতে উঠে এসেছেন। তিনি ঘোষণা দিয়েছেন, “ঢাকা-১৮ কে মডেল আসন হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।” পূর্বে কাউন্সিলর নির্বাচনে ‘ভোট কারচুপির শিকার’ হওয়ার অভিযোগ করলেও, তৃণমূলে এখনো তিনি জনপ্রিয় ‘জনতার কাউন্সিলর’ হিসেবে পরিচিত।

মোস্তাফিজুর রহমান সেগুন
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রনেতা সেগুনও এবার মনোনয়ন প্রত্যাশী। পূর্বে কাউন্সিলর নির্বাচনে অংশ নিয়ে ‘রাতের ভোটে’ পরাজিত হন বলে অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি লন্ডন সফর শেষে দেশে ফিরলে কর্মীরা তাকে ফুল দিয়ে বরণ করেন। তরুন ভোটারদের মাঝে তার জনপ্রিয়তা বাড়ছে।

আকতার হোসেন
বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক আকতার হোসেন ক্ষিলখেত ও ডুমনি এলাকায় পরিচিত মুখ। তিনি সামাজিক মাধ্যমে সক্রিয় এবং তরুণ ভোটারদের মাঝে জনপ্রিয়তা অর্জনের চেষ্টা করছেন।

হেলাল তালুকদার
দক্ষিণখান থানা বিএনপির আহ্বায়ক হেলাল তালুকদারও মনোনয়ন দৌড়ে অন্যতম আলোচিত নাম। প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকায় উঠান বৈঠক করছেন তিনি।
তিনি বলেন,

“দেশনায়ক তারেক রহমানের নির্দেশে দক্ষিণখানে উঠান বৈঠক করছি। দল যাকে মনোনয়ন দিবে আমি তার পক্ষে কাজ করবো। তবে কর্মীদের ভালোবাসা আমাকে আশাবাদী করেছে।”

চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কবে

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, এই নয়জনের বাইরে আরও কয়েকজন জোটভুক্ত নেতার নামও আলোচনায় আছে। তবে চূড়ান্ত মনোনয়ন ঘোষণা করা হবে আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহে।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
নজর বিডি

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬


ঢাকা-১৮ আসনে বিএনপির মনোনয়ন দৌড় তুঙ্গে-কে পাবেন ‘ধানের শীষ’?

প্রকাশের তারিখ : ০৩ নভেম্বর ২০২৫

featured Image

রাজনীতি, ঢাকা -১৮ 

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ ঢাকা-১৮ আসনে বিএনপির মনোনয়ন দৌড় এখন তুঙ্গে। দলের ভেতরে শুরু হয়েছে তীব্র প্রতিযোগিতা— কে পাবেন কাঙ্ক্ষিত ‘ধানের শীষ’ প্রতীক, তা নিয়ে চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, অন্তত নয়জন প্রভাবশালী নেতা এ আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে সক্রিয় রয়েছেন। কেউ উঠান বৈঠকে, কেউ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে, আবার কেউ সরাসরি তৃণমূলে যোগাযোগ রেখে নিজেদের অবস্থান মজবুত করছেন।

২০১৮ সালের প্রেক্ষাপট

গত নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন। দলীয় সূত্র ও স্থানীয় নেতাদের মতে, তিনি জনতার সমর্থন পেলেও ‘রাতের ভোট’ ও ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’-এর কারণে পরাজিত দেখানো হয়। দীর্ঘদিন মাঠে থাকা এই নেতা এখনও তৃণমূলে সবচেয়ে জনপ্রিয় প্রার্থী হিসেবে বিবেচিত। তার সমর্থকদের বিশ্বাস— এবার মনোনয়ন পেলে বিজয় নিশ্চিত।

মনোনয়ন প্রত্যাশীদের অবস্থান

এম কফিল উদ্দিন আহমেদ
বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক ও ব্যবসায়ী এই নেতা ২০১৮ সালেও দলীয় মনোনয়নপত্র পেয়েছিলেন। এবারও মাঠে নেমেছেন ‘রাষ্ট্র মেরামতের ৩১ দফা’ প্রচারণা নিয়ে। নিয়মিত গণসংযোগ, উঠান বৈঠক ও লিফলেট বিতরণে তিনি সক্রিয় রয়েছেন। দলের প্রতি দীর্ঘদিনের ত্যাগ ও অর্থনৈতিক অবদান তাকে মনোনয়ন দৌড়ে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রেখেছে।

মোস্তফা জামান
ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সদস্য সচিব মোস্তফা জামান তুলনামূলক নতুন মুখ হলেও তুরাগ এলাকায় দ্রুত জনপ্রিয় হচ্ছেন। নিয়মিত গণসংযোগ ও সাংগঠনিক তৎপরতায় নিজের বলয় গড়ে তুলেছেন। তবে কিছু সিনিয়র নেতার সঙ্গে মতপার্থক্য রয়ে গেছে।

কামরুল ইসলাম
সাবেক সংসদ সদস্য কামরুল ইসলাম দীর্ঘদিন পর ফের আলোচনায় এসেছেন। একসময় ঢাকার রাজনীতিতে প্রভাবশালী এই নেতা ১/১১ সময় সংস্কারপন্থী হিসেবে দল থেকে দূরে ছিলেন। সম্প্রতি তার ঘনিষ্ঠরা সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। দলের শীর্ষ নেতৃত্বের ঘনিষ্ঠতার সুবাদে তিনিও মনোনয়ন দৌড়ে আছেন বলে গুঞ্জন রয়েছে।

আফাজ উদ্দিন আফাজ
দুই দশকের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আফাজ ছাত্রদল-যুবদল হয়ে মূল বিএনপিতে উঠে এসেছেন। তিনি ঘোষণা দিয়েছেন, “ঢাকা-১৮ কে মডেল আসন হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।” পূর্বে কাউন্সিলর নির্বাচনে ‘ভোট কারচুপির শিকার’ হওয়ার অভিযোগ করলেও, তৃণমূলে এখনো তিনি জনপ্রিয় ‘জনতার কাউন্সিলর’ হিসেবে পরিচিত।

মোস্তাফিজুর রহমান সেগুন
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রনেতা সেগুনও এবার মনোনয়ন প্রত্যাশী। পূর্বে কাউন্সিলর নির্বাচনে অংশ নিয়ে ‘রাতের ভোটে’ পরাজিত হন বলে অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি লন্ডন সফর শেষে দেশে ফিরলে কর্মীরা তাকে ফুল দিয়ে বরণ করেন। তরুন ভোটারদের মাঝে তার জনপ্রিয়তা বাড়ছে।

আকতার হোসেন
বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক আকতার হোসেন ক্ষিলখেত ও ডুমনি এলাকায় পরিচিত মুখ। তিনি সামাজিক মাধ্যমে সক্রিয় এবং তরুণ ভোটারদের মাঝে জনপ্রিয়তা অর্জনের চেষ্টা করছেন।

হেলাল তালুকদার
দক্ষিণখান থানা বিএনপির আহ্বায়ক হেলাল তালুকদারও মনোনয়ন দৌড়ে অন্যতম আলোচিত নাম। প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকায় উঠান বৈঠক করছেন তিনি।
তিনি বলেন,

“দেশনায়ক তারেক রহমানের নির্দেশে দক্ষিণখানে উঠান বৈঠক করছি। দল যাকে মনোনয়ন দিবে আমি তার পক্ষে কাজ করবো। তবে কর্মীদের ভালোবাসা আমাকে আশাবাদী করেছে।”

চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কবে

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, এই নয়জনের বাইরে আরও কয়েকজন জোটভুক্ত নেতার নামও আলোচনায় আছে। তবে চূড়ান্ত মনোনয়ন ঘোষণা করা হবে আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহে।


নজর বিডি

উপদেষ্টা সম্পাদক: মো: ইব্রাহিম খলিল। 
সম্পাদক: মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম। 
লিগ্যাল এডভাইজার: মাহমুদুর রহমান সুইট- এম.কম, এল এল বি, এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট।


 

কপিরাইট © ২০২৬ নজর বিডি সর্বস্ব সংরক্ষিত