নজর বিডি
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১৮ নভেম্বর ২০২৫

ডুমুরিয়ায় লেপ–তোশক কারিগরদের দুশ্চিন্তা বাড়াচ্ছে অফ সিজন ও কাঁচামালের দাম

ডুমুরিয়ায় লেপ–তোশক কারিগরদের দুশ্চিন্তা বাড়াচ্ছে অফ সিজন ও কাঁচামালের দাম

শীতের আগমনী বার্তায় ব্যস্ততা ফিরেছে ডুমুরিয়া ও আশপাশের এলাকার ঐতিহ্যবাহী লেপ–তোশক কারিগরদের মধ্যে। খুলনার ডুমুরিয়া, চুকনগর, শাহাপুর, শ্যামপুরসহ বিভিন্ন গ্রাম এই শিল্পের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। তবে কাঁচামালের অস্থিতিশীল বাজার, যন্ত্রনির্ভর পণ্যের প্রতিযোগিতা এবং দীর্ঘ অফ সিজন—সব মিলিয়ে ক্ষুদ্র কারিগররা টিকে থাকার লড়াইয়ে সংকটের মুখোমুখি।

কার্তিক থেকে ফাল্গুন—এই পাঁচ মাস লেপ–তোশক কারিগরদের মৌসুম। মৌসুমে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ব্যস্ত থাকতে হলেও মার্চ থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অফ সিজনে কাজ কমে গিয়ে আয় নেমে আসে অর্ধেকেরও নিচে।

ডুমুরিয়া বাজারের লেপ কারিগর নুর ইসলাম (৪২) ২৪ বছর ধরে এই পেশায়। তিনি জানান, “সিজনে দিনে সাত-আটটি লেপ বানাতে পারি, কিন্তু অফ সিজনে কাজ থাকে খুব কম—তখন দুশ্চিন্তায় থাকতে হয় পরিবার নিয়ে।”

মোঃ মোজাহার আলী বলেন, একজন কারিগর দিনে দু’জন মিলে প্রায় এক ঘণ্টায় একটি লেপ তৈরি করেন। সিজন শেষে এই উৎপাদন কমে এসে দাঁড়ায় দৈনিক দুই–তিন পিসে। ফলে আয়ের ওপর বড় ধাক্কা পড়ে।

কারিগররা বলছেন, তুলা ও পলি ফোমের দামই তাদের আয়ের ওপর সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলে। কেজিপ্রতি তুলার দাম কখনো ৫০ টাকা, কখনো ৭০ টাকা পর্যন্ত ওঠানামা করে। পলি ফোমের দাম কেজিপ্রতি ৭০–৭৫ টাকা। একটি লেপ তৈরি করতে লাগে ছয়–সাত কেজি তুলা, আর তোশকে লাগে ১৫–২০ কেজি—খরচ বাড়ার সঙ্গে লাভ কমে যায়।

বর্তমানে ছোট লেপ বাজারে বিক্রি হয় ১,২০০ টাকায় এবং বড় লেপ ১,৭০০ টাকায়। প্রতিটি লেপ তৈরিতে কারিগররা পান মাত্র ২৫০ টাকা। সিজনে মাসিক আয় প্রায় ২৫ হাজার টাকা হলেও অফ সিজনে তা নেমে আসে ১০ হাজার টাকায়।

কারিগরদের দাবি, বছরের বাকি সময়টায় টিকে থাকতে সরকারি বিশেষ সহযোগিতা জরুরি। বিশেষ করে সুদমুক্ত ঋণ বা বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা তাদের জীবনকে স্থিতিশীল করতে পারে। একজন কারিগর জানান, “আমরা হাতের কাজ জানি, কিন্তু সারা বছর কাজ থাকে না। অফ সিজনে একটা সুদমুক্ত ঋণ পেলে পরিবার চালানো সহজ হতো।”

স্থানীয় সাংবাদিক আজহারুল ইসলাম বলেন, “লেপ–তোশক শিল্প শুধু অর্থনৈতিক নয়, গ্রামীণ ঐতিহ্যেরও অংশ। সরকার সিজন বহির্ভূত সময় কারিগরদের জন্য বিশেষ বরাদ্দ, সুদমুক্ত ঋণ ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করলে এই শিল্প আরও টিকে থাকবে।”

এদিকে ক্রেতারাও বলছেন, বাজারে মানসম্মত লেপ–তোশক পাওয়া কঠিন হলেও কিছু দোকানে ভালো মানের পণ্য পাওয়া যাচ্ছে। সরকারি কর্মকর্তা খান জাহান আলী জানান, “এবারের লেপগুলো আগের চেয়ে মানসম্মত মনে হয়েছে, দামও নাগালের মধ্যে।”
হোস্টেল শিক্ষার্থী আশিকুর রহমান বলেন, “শীতে টেকসই তোশক খুব দরকার। এবার যে তোশক কিনেছি, তা ঠিকমতো উষ্ণতা ধরে রাখে।”

ব্যবসায়ী সুমন জানান, “মান ও দামের ভারসাম্য রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে, তবে কিছু দোকানে মানসম্মত তুলা ভরাট লেপ পাওয়া যাচ্ছে—যা ক্রেতারা পছন্দ করছেন।”

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
নজর বিডি

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬


ডুমুরিয়ায় লেপ–তোশক কারিগরদের দুশ্চিন্তা বাড়াচ্ছে অফ সিজন ও কাঁচামালের দাম

প্রকাশের তারিখ : ১৮ নভেম্বর ২০২৫

featured Image

শীতের আগমনী বার্তায় ব্যস্ততা ফিরেছে ডুমুরিয়া ও আশপাশের এলাকার ঐতিহ্যবাহী লেপ–তোশক কারিগরদের মধ্যে। খুলনার ডুমুরিয়া, চুকনগর, শাহাপুর, শ্যামপুরসহ বিভিন্ন গ্রাম এই শিল্পের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। তবে কাঁচামালের অস্থিতিশীল বাজার, যন্ত্রনির্ভর পণ্যের প্রতিযোগিতা এবং দীর্ঘ অফ সিজন—সব মিলিয়ে ক্ষুদ্র কারিগররা টিকে থাকার লড়াইয়ে সংকটের মুখোমুখি।

কার্তিক থেকে ফাল্গুন—এই পাঁচ মাস লেপ–তোশক কারিগরদের মৌসুম। মৌসুমে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ব্যস্ত থাকতে হলেও মার্চ থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অফ সিজনে কাজ কমে গিয়ে আয় নেমে আসে অর্ধেকেরও নিচে।

ডুমুরিয়া বাজারের লেপ কারিগর নুর ইসলাম (৪২) ২৪ বছর ধরে এই পেশায়। তিনি জানান, “সিজনে দিনে সাত-আটটি লেপ বানাতে পারি, কিন্তু অফ সিজনে কাজ থাকে খুব কম—তখন দুশ্চিন্তায় থাকতে হয় পরিবার নিয়ে।”

মোঃ মোজাহার আলী বলেন, একজন কারিগর দিনে দু’জন মিলে প্রায় এক ঘণ্টায় একটি লেপ তৈরি করেন। সিজন শেষে এই উৎপাদন কমে এসে দাঁড়ায় দৈনিক দুই–তিন পিসে। ফলে আয়ের ওপর বড় ধাক্কা পড়ে।

কারিগররা বলছেন, তুলা ও পলি ফোমের দামই তাদের আয়ের ওপর সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলে। কেজিপ্রতি তুলার দাম কখনো ৫০ টাকা, কখনো ৭০ টাকা পর্যন্ত ওঠানামা করে। পলি ফোমের দাম কেজিপ্রতি ৭০–৭৫ টাকা। একটি লেপ তৈরি করতে লাগে ছয়–সাত কেজি তুলা, আর তোশকে লাগে ১৫–২০ কেজি—খরচ বাড়ার সঙ্গে লাভ কমে যায়।

বর্তমানে ছোট লেপ বাজারে বিক্রি হয় ১,২০০ টাকায় এবং বড় লেপ ১,৭০০ টাকায়। প্রতিটি লেপ তৈরিতে কারিগররা পান মাত্র ২৫০ টাকা। সিজনে মাসিক আয় প্রায় ২৫ হাজার টাকা হলেও অফ সিজনে তা নেমে আসে ১০ হাজার টাকায়।

কারিগরদের দাবি, বছরের বাকি সময়টায় টিকে থাকতে সরকারি বিশেষ সহযোগিতা জরুরি। বিশেষ করে সুদমুক্ত ঋণ বা বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা তাদের জীবনকে স্থিতিশীল করতে পারে। একজন কারিগর জানান, “আমরা হাতের কাজ জানি, কিন্তু সারা বছর কাজ থাকে না। অফ সিজনে একটা সুদমুক্ত ঋণ পেলে পরিবার চালানো সহজ হতো।”

স্থানীয় সাংবাদিক আজহারুল ইসলাম বলেন, “লেপ–তোশক শিল্প শুধু অর্থনৈতিক নয়, গ্রামীণ ঐতিহ্যেরও অংশ। সরকার সিজন বহির্ভূত সময় কারিগরদের জন্য বিশেষ বরাদ্দ, সুদমুক্ত ঋণ ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করলে এই শিল্প আরও টিকে থাকবে।”

এদিকে ক্রেতারাও বলছেন, বাজারে মানসম্মত লেপ–তোশক পাওয়া কঠিন হলেও কিছু দোকানে ভালো মানের পণ্য পাওয়া যাচ্ছে। সরকারি কর্মকর্তা খান জাহান আলী জানান, “এবারের লেপগুলো আগের চেয়ে মানসম্মত মনে হয়েছে, দামও নাগালের মধ্যে।”
হোস্টেল শিক্ষার্থী আশিকুর রহমান বলেন, “শীতে টেকসই তোশক খুব দরকার। এবার যে তোশক কিনেছি, তা ঠিকমতো উষ্ণতা ধরে রাখে।”

ব্যবসায়ী সুমন জানান, “মান ও দামের ভারসাম্য রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে, তবে কিছু দোকানে মানসম্মত তুলা ভরাট লেপ পাওয়া যাচ্ছে—যা ক্রেতারা পছন্দ করছেন।”


নজর বিডি

উপদেষ্টা সম্পাদক: মো: ইব্রাহিম খলিল। 
সম্পাদক: মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম। 
লিগ্যাল এডভাইজার: মাহমুদুর রহমান সুইট- এম.কম, এল এল বি, এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট।


 

কপিরাইট © ২০২৬ নজর বিডি সর্বস্ব সংরক্ষিত