উন্নত জীবনের প্রত্যাশা—এই স্বপ্নই মাত্র ১৯ বছর বয়সী মুন্না তালুকদারের জীবনের ইতি টেনে দিল। ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইতালি পৌঁছানোর আগেই দালালচক্রের প্রতারণা, দুর্বিষহ যাত্রা আর মাফিয়াদের গোলায় নিভে গেল তার জীবন।
মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার বদরপাশা ইউনিয়নের পূর্ব দুর্গাবর্দি গ্রামের ছেলে মুন্না ঢাকায় কাজ করতেন রংমিস্ত্রি হিসেবে। কৃষক বাবার সামান্য আয়ে কষ্টে চলা সংসারের হাল ধরতে এবং পরিবারের ভাগ্য পরিবর্তনের আশায় ইতালি যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্থানীয় দালাল নান্নু ও মঞ্জুর প্রলোভনে পড়ে পরিবার মোট সাড়ে ২২ লাখ টাকায় চুক্তি করে।
চলতি বছরের ১২ অক্টোবর ঘর ছাড়েন মুন্না। বিভিন্ন দেশ ঘুরিয়ে তাকে পৌঁছে দেওয়া হয় লিবিয়ার মিসরাতা অঞ্চলে। সেখান থেকে ১ নভেম্বর রাতে তাকে একটি ছোট ইঞ্জিনচালিত নৌকায় ইতালির উদ্দেশে রওনা করা হয়। কিন্তু কিছুদূর যাওয়ার পরই ভূমধ্যসাগরে জলদস্যুদের হামলা হয়। ওই হামলায় গুলিবিদ্ধ হয়ে মুন্না ও একই গ্রামের আরও এক তরুণ বায়েজিদ শেখ মারা যান।
মুন্নার মৃত্যুর খবরটি প্রথমে গোপন রাখলেও পরে পরিবারের চাপের মুখে দালালরা তা নিশ্চিত করে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত তার মরদেহের কোনো হদিস জানায়নি কেউ।
মুন্নার বাড়িতে নেই খাবারের হাড়ি-পাতিলের শব্দ, নেই শিশুদের হাসি—শুধু কান্নার রোল। মা রাবেয়া বেগম বারবার মাটিতে লুটিয়ে কাঁদছেন—
“দালালরা আমার ছেলের শরীরের চুক্তি কইরা নিছে। টাকা লইয়া ভাগছে। আমার ছেলের লাশটা আমগো কাছে ফেরত দেন।”
বাবা এমারত হোসেন ভেঙে পড়া কণ্ঠে বলেন—
“আমার আর কিছু নাই। আল্লা ছাড়া কার কাছে যাব?”
মুন্নার মামা আজিজুল হক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন—
“গায়ে ফুলের টোকাও পড়বে না—এমন কথা বলে সন্তানকে নিয়ে গেছে। এখন লাশ কোথায় তাও বলতে পারছে না।”
স্থানীয়রা জানান, নান্নু ও মঞ্জুর লিবিয়াভিত্তিক মানব পাচারকারী শিপন খানের হয়ে কাজ করে। শিপন বর্তমানে লিবিয়াতেই অবস্থান করছে এবং বহু তরুণকে একই পথে নেওয়ার সঙ্গে জড়িত।
এ বিষয়ে মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অনুসন্ধান) জাহাঙ্গীর আলম বলেন—
“পরিবার অভিযোগ দিলে দালালদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৯ নভেম্বর ২০২৫
উন্নত জীবনের প্রত্যাশা—এই স্বপ্নই মাত্র ১৯ বছর বয়সী মুন্না তালুকদারের জীবনের ইতি টেনে দিল। ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইতালি পৌঁছানোর আগেই দালালচক্রের প্রতারণা, দুর্বিষহ যাত্রা আর মাফিয়াদের গোলায় নিভে গেল তার জীবন।
মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার বদরপাশা ইউনিয়নের পূর্ব দুর্গাবর্দি গ্রামের ছেলে মুন্না ঢাকায় কাজ করতেন রংমিস্ত্রি হিসেবে। কৃষক বাবার সামান্য আয়ে কষ্টে চলা সংসারের হাল ধরতে এবং পরিবারের ভাগ্য পরিবর্তনের আশায় ইতালি যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্থানীয় দালাল নান্নু ও মঞ্জুর প্রলোভনে পড়ে পরিবার মোট সাড়ে ২২ লাখ টাকায় চুক্তি করে।
চলতি বছরের ১২ অক্টোবর ঘর ছাড়েন মুন্না। বিভিন্ন দেশ ঘুরিয়ে তাকে পৌঁছে দেওয়া হয় লিবিয়ার মিসরাতা অঞ্চলে। সেখান থেকে ১ নভেম্বর রাতে তাকে একটি ছোট ইঞ্জিনচালিত নৌকায় ইতালির উদ্দেশে রওনা করা হয়। কিন্তু কিছুদূর যাওয়ার পরই ভূমধ্যসাগরে জলদস্যুদের হামলা হয়। ওই হামলায় গুলিবিদ্ধ হয়ে মুন্না ও একই গ্রামের আরও এক তরুণ বায়েজিদ শেখ মারা যান।
মুন্নার মৃত্যুর খবরটি প্রথমে গোপন রাখলেও পরে পরিবারের চাপের মুখে দালালরা তা নিশ্চিত করে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত তার মরদেহের কোনো হদিস জানায়নি কেউ।
মুন্নার বাড়িতে নেই খাবারের হাড়ি-পাতিলের শব্দ, নেই শিশুদের হাসি—শুধু কান্নার রোল। মা রাবেয়া বেগম বারবার মাটিতে লুটিয়ে কাঁদছেন—
“দালালরা আমার ছেলের শরীরের চুক্তি কইরা নিছে। টাকা লইয়া ভাগছে। আমার ছেলের লাশটা আমগো কাছে ফেরত দেন।”
বাবা এমারত হোসেন ভেঙে পড়া কণ্ঠে বলেন—
“আমার আর কিছু নাই। আল্লা ছাড়া কার কাছে যাব?”
মুন্নার মামা আজিজুল হক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন—
“গায়ে ফুলের টোকাও পড়বে না—এমন কথা বলে সন্তানকে নিয়ে গেছে। এখন লাশ কোথায় তাও বলতে পারছে না।”
স্থানীয়রা জানান, নান্নু ও মঞ্জুর লিবিয়াভিত্তিক মানব পাচারকারী শিপন খানের হয়ে কাজ করে। শিপন বর্তমানে লিবিয়াতেই অবস্থান করছে এবং বহু তরুণকে একই পথে নেওয়ার সঙ্গে জড়িত।
এ বিষয়ে মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অনুসন্ধান) জাহাঙ্গীর আলম বলেন—
“পরিবার অভিযোগ দিলে দালালদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

আপনার মতামত লিখুন