নিজস্ব প্রতিবেদক, নজরবিডি
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলায় বিএনপি ও জামায়াত সমর্থকদের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা ও পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনায় অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। ভাঙচুর করা হয়েছে শহীদ আরাফাত রহমান কোকো স্মৃতি সংসদ কার্যালয়, রাজার বাজার ইসলামী পাঠাগার ও পাঁচটি মোটরসাইকেল। সোমবার (২৪ নভেম্বর) দিনভর এ সংঘর্ষ, হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার জগন্নাথদিঘি ইউনিয়নের বিজয়করা এলাকায় বিএনপি সমর্থক আরব হোসেন রাজুর একটি ফেসবুক পোস্ট ও স্বেচ্ছাসেবক দলের এক সভায় ‘উসকানিমূলক বক্তব্য’ ঘিরে জামায়াত সমর্থকদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়। এর জেরে সন্ধ্যায় তারা জগন্নাথদিঘির পাড়ে শহীদ জিয়া স্মৃতি সংসদ কার্যালয়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলতে গেলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
এসময় ছাত্রদলের সহসভাপতি সাইফুল ইসলাম রাশেদের নেতৃত্বে বিএনপির কয়েকজন জামায়াত সমর্থকদের ওপর চড়াও হন বলে অভিযোগ। এর প্রতিবাদে জামায়াত সমর্থকরাও পাল্টা হামলা চালায়। এতে রফিক মেম্বার, তপনসহ আট থেকে ১০ জন আহত হন এবং পাঁচটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়। একই সময়ে বিএনপি সমর্থক আরব হোসেন রাজুর বাড়িতেও হামলা চালানো হয়।
জগন্নাথে হামলার ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে সোমবার বিকেলে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা খালেদ সাইফুল্লাহর নেতৃত্বে আরেকটি গ্রুপ কালিকাপুর ইউনিয়নের রাজার বাজার ইসলামী পাঠাগার ভাঙচুর করে।
উপজেলা বিএনপি ও জামায়াত সোমবার বিকেলে পৃথক বিক্ষোভ মিছিল বের করে—এক পক্ষ জগন্নাথদিঘি এলাকায় এবং অন্য পক্ষ কালিকাপুর ইউনিয়নে বিক্ষোভ করে।
চৌদ্দগ্রাম উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি বেলাল হোসাইন বলেন,
“ছাত্রদলের হামলায় আমাদের ইসমাইল হোসেন আহত হয়েছে। এছাড়া রাজার বাজার ইসলামী পাঠাগারও ভাঙচুর করা হয়েছে বিএনপি নেতাকর্মীদের দ্বারা।”
অন্যদিকে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার শাহ আলম রাজু অভিযোগ করেন,
“আমরা নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছি। কিছু দুর্বৃত্ত পরিস্থিতি ঘোলাটে করার চেষ্টা করছে। রোববার রাতে জামায়াতের হামলায় আমাদের আট থেকে ১০ জন আহত হয়েছেন।”
চৌদ্দগ্রাম থানার ওসি মোহাম্মদ হিলাল উদ্দিন আহমেদ জানান,
“খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং এখনো এলাকায় মোতায়েন রয়েছে। এখনো কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া উত্তেজনা বড় ধরনের সহিংসতায় রূপ নিয়ে এলাকায় রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি করেছে। নির্বাচনকে সামনে রেখে এ ধরনের ঘটনা স্থানীয়ভাবে আরও উত্তাপ ছড়াতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সাধারণ মানুষ।

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৫ নভেম্বর ২০২৫
নিজস্ব প্রতিবেদক, নজরবিডি
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলায় বিএনপি ও জামায়াত সমর্থকদের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা ও পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনায় অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। ভাঙচুর করা হয়েছে শহীদ আরাফাত রহমান কোকো স্মৃতি সংসদ কার্যালয়, রাজার বাজার ইসলামী পাঠাগার ও পাঁচটি মোটরসাইকেল। সোমবার (২৪ নভেম্বর) দিনভর এ সংঘর্ষ, হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার জগন্নাথদিঘি ইউনিয়নের বিজয়করা এলাকায় বিএনপি সমর্থক আরব হোসেন রাজুর একটি ফেসবুক পোস্ট ও স্বেচ্ছাসেবক দলের এক সভায় ‘উসকানিমূলক বক্তব্য’ ঘিরে জামায়াত সমর্থকদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়। এর জেরে সন্ধ্যায় তারা জগন্নাথদিঘির পাড়ে শহীদ জিয়া স্মৃতি সংসদ কার্যালয়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলতে গেলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
এসময় ছাত্রদলের সহসভাপতি সাইফুল ইসলাম রাশেদের নেতৃত্বে বিএনপির কয়েকজন জামায়াত সমর্থকদের ওপর চড়াও হন বলে অভিযোগ। এর প্রতিবাদে জামায়াত সমর্থকরাও পাল্টা হামলা চালায়। এতে রফিক মেম্বার, তপনসহ আট থেকে ১০ জন আহত হন এবং পাঁচটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়। একই সময়ে বিএনপি সমর্থক আরব হোসেন রাজুর বাড়িতেও হামলা চালানো হয়।
জগন্নাথে হামলার ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে সোমবার বিকেলে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা খালেদ সাইফুল্লাহর নেতৃত্বে আরেকটি গ্রুপ কালিকাপুর ইউনিয়নের রাজার বাজার ইসলামী পাঠাগার ভাঙচুর করে।
উপজেলা বিএনপি ও জামায়াত সোমবার বিকেলে পৃথক বিক্ষোভ মিছিল বের করে—এক পক্ষ জগন্নাথদিঘি এলাকায় এবং অন্য পক্ষ কালিকাপুর ইউনিয়নে বিক্ষোভ করে।
চৌদ্দগ্রাম উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি বেলাল হোসাইন বলেন,
“ছাত্রদলের হামলায় আমাদের ইসমাইল হোসেন আহত হয়েছে। এছাড়া রাজার বাজার ইসলামী পাঠাগারও ভাঙচুর করা হয়েছে বিএনপি নেতাকর্মীদের দ্বারা।”
অন্যদিকে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার শাহ আলম রাজু অভিযোগ করেন,
“আমরা নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছি। কিছু দুর্বৃত্ত পরিস্থিতি ঘোলাটে করার চেষ্টা করছে। রোববার রাতে জামায়াতের হামলায় আমাদের আট থেকে ১০ জন আহত হয়েছেন।”
চৌদ্দগ্রাম থানার ওসি মোহাম্মদ হিলাল উদ্দিন আহমেদ জানান,
“খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং এখনো এলাকায় মোতায়েন রয়েছে। এখনো কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া উত্তেজনা বড় ধরনের সহিংসতায় রূপ নিয়ে এলাকায় রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি করেছে। নির্বাচনকে সামনে রেখে এ ধরনের ঘটনা স্থানীয়ভাবে আরও উত্তাপ ছড়াতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সাধারণ মানুষ।

আপনার মতামত লিখুন