ডুমুরিয়ায় শীতের কুমড়ার বড়ি তৈরির মৌসুম; ঘরে ঘরে ব্যস্ত সময়, আয় বাড়ছে নারীদের
শীতের আগমনে খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলায় শুরু হয়েছে কুমড়ার বড়ি তৈরির ঐতিহ্যবাহী মৌসুম। উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম—ভাণ্ডারপাড়া, ভদ্রা, রুদাঘরা, গাজীরহাট, মাগুরাঘোনা, চুকনগরসহ নানা এলাকায় এখন ঘরে ঘরে বড়ি শুকানোর দৃশ্য এক অনন্য শীতের রূপ তৈরি করেছে। সূর্যের আলো ফোটার আগেই নারীরা শুরু করেন কুমড়া কাটা, মিশ্রণ তৈরি, বড়ি গোলানো এবং রোদে শুকানোর কাজ। শীতকালীন এ মৌসুম তাদের পারিবারিক আয়ের বড় একটি উৎস হয়ে উঠছে।
গ্রামের নারীরা জানান, বছরের অন্য সময়গুলোতে বড়ি তৈরির জন্য উপযুক্ত রোদ থাকে না। কিন্তু শীতের রোদের তেজ বড়ি শুকানোর জন্য আদর্শ। এজন্যই নভেম্বরের শেষ থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত সময়টিকে বড়ি মৌসুম হিসেবে ধরা হয়। সাধারণত পাকা কুমড়া কুরে ডাল, পেঁয়াজ, রসুন, জিরা, মরিচ, লবণসহ নানা মশলা দিয়ে মিশ্রণ তৈরি করা হয়। এরপর হাতে তৈরি ছোট গোল আকৃতির বড়িগুলো বাঁশের চাটাই বা প্লাস্টিকের ট্রেতে সাজিয়ে রোদে শুকানো হয়।
স্থানীয় বড়ি প্রস্তুতকারীরা জানান, একটি পরিবার প্রতিদিন নিচের সময়গুলোতে ব্যস্ত থাকে—
ভোর ৬টা থেকে ৯টা: কুমড়া কাটা, মিশ্রণ প্রস্তুত
৯টা থেকে দুপুর: বড়ি গোলানো
সারাদিন: রোদে শুকানো
বিকেল: শুকনো বড়ি সংগ্রহ ও সংরক্ষণ
নারীদের ভাষ্যমতে, একটি মৌসুমে বড়ি বিক্রি করে ১৫,০০০ থেকে ৫০,০০০ টাকা পর্যন্ত আয় করা সম্ভব হয়। অনেক নারী স্বল্প পুঁজি নিয়ে মৌসুমি উদ্যোগ হিসেবে বড়ি উৎপাদন করে নিজেদের সংসারে অবদান রাখছেন। কেউ কেউ আবার প্রয়োজন হলে প্রতিবেশী নারীদের নিয়ে দল গঠন করে একসঙ্গে বড়ি তৈরি করেন।
[caption id="attachment_16632" align="alignnone" width="300"]
ডুমুরিয়া, শীতকালীন-খাবার, কুমড়ার-বড়ি, ঐত传统-রন্ধন, গ্রামীণ-নারী, সাতক্ষীরা-সংস্কৃতি, বড়ি-তৈরি, শীতের-মৌসুম[/caption]
স্থানীয় বাজার–চুকনগর, আমচাক, ভদ্রা ও গাজীরহাটে ডুমুরিয়ার বড়ির প্রচুর চাহিদা রয়েছে। খুচরা বাজারে প্রতি কেজি বড়ি বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ২২০ টাকায়। বড়ির স্বাদ ও গুণমানের সুনাম থাকায় অনেকে এখন অনলাইন প্ল্যাটফর্মেও ডেলিভারি দিচ্ছেন। ফলে স্থানীয় উৎপাদনের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন জেলায়ও পৌঁছাচ্ছে ডুমুরিয়ার ঐতিহ্যবাহী কুমড়ার বড়ি।
ক্রেতা সাইদুর রহমান জানান, “ডুমুরিয়ার বড়ির স্বাদ অনেক ভালো। রান্নায় দিলে তরকারিতে আলাদা ঘ্রাণ ও স্বাদ পাওয়া যায়, তাই আমরা প্রতি বছরই বড়ি সংগ্রহ করি।”
শীতের শুরুতে বড়ি তৈরির এই ব্যস্ততা ডুমুরিয়ার গ্রামীণ নারীদের আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নতির পাশাপাশি ঐতিহ্যবাহী খাদ্যসংস্কৃতিকে বাঁচিয়ে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। শীতকাল উপলক্ষে যেন পুরো এলাকা পরিণত হয়েছে বড়ি উৎপাদনের একটি উৎসবমুখর কর্মযজ্ঞে।

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৫ নভেম্বর ২০২৫
ডুমুরিয়ায় শীতের কুমড়ার বড়ি তৈরির মৌসুম; ঘরে ঘরে ব্যস্ত সময়, আয় বাড়ছে নারীদের
শীতের আগমনে খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলায় শুরু হয়েছে কুমড়ার বড়ি তৈরির ঐতিহ্যবাহী মৌসুম। উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম—ভাণ্ডারপাড়া, ভদ্রা, রুদাঘরা, গাজীরহাট, মাগুরাঘোনা, চুকনগরসহ নানা এলাকায় এখন ঘরে ঘরে বড়ি শুকানোর দৃশ্য এক অনন্য শীতের রূপ তৈরি করেছে। সূর্যের আলো ফোটার আগেই নারীরা শুরু করেন কুমড়া কাটা, মিশ্রণ তৈরি, বড়ি গোলানো এবং রোদে শুকানোর কাজ। শীতকালীন এ মৌসুম তাদের পারিবারিক আয়ের বড় একটি উৎস হয়ে উঠছে।
গ্রামের নারীরা জানান, বছরের অন্য সময়গুলোতে বড়ি তৈরির জন্য উপযুক্ত রোদ থাকে না। কিন্তু শীতের রোদের তেজ বড়ি শুকানোর জন্য আদর্শ। এজন্যই নভেম্বরের শেষ থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত সময়টিকে বড়ি মৌসুম হিসেবে ধরা হয়। সাধারণত পাকা কুমড়া কুরে ডাল, পেঁয়াজ, রসুন, জিরা, মরিচ, লবণসহ নানা মশলা দিয়ে মিশ্রণ তৈরি করা হয়। এরপর হাতে তৈরি ছোট গোল আকৃতির বড়িগুলো বাঁশের চাটাই বা প্লাস্টিকের ট্রেতে সাজিয়ে রোদে শুকানো হয়।
স্থানীয় বড়ি প্রস্তুতকারীরা জানান, একটি পরিবার প্রতিদিন নিচের সময়গুলোতে ব্যস্ত থাকে—
ভোর ৬টা থেকে ৯টা: কুমড়া কাটা, মিশ্রণ প্রস্তুত
৯টা থেকে দুপুর: বড়ি গোলানো
সারাদিন: রোদে শুকানো
বিকেল: শুকনো বড়ি সংগ্রহ ও সংরক্ষণ
নারীদের ভাষ্যমতে, একটি মৌসুমে বড়ি বিক্রি করে ১৫,০০০ থেকে ৫০,০০০ টাকা পর্যন্ত আয় করা সম্ভব হয়। অনেক নারী স্বল্প পুঁজি নিয়ে মৌসুমি উদ্যোগ হিসেবে বড়ি উৎপাদন করে নিজেদের সংসারে অবদান রাখছেন। কেউ কেউ আবার প্রয়োজন হলে প্রতিবেশী নারীদের নিয়ে দল গঠন করে একসঙ্গে বড়ি তৈরি করেন।
[caption id="attachment_16632" align="alignnone" width="300"]
ডুমুরিয়া, শীতকালীন-খাবার, কুমড়ার-বড়ি, ঐত传统-রন্ধন, গ্রামীণ-নারী, সাতক্ষীরা-সংস্কৃতি, বড়ি-তৈরি, শীতের-মৌসুম[/caption]
স্থানীয় বাজার–চুকনগর, আমচাক, ভদ্রা ও গাজীরহাটে ডুমুরিয়ার বড়ির প্রচুর চাহিদা রয়েছে। খুচরা বাজারে প্রতি কেজি বড়ি বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ২২০ টাকায়। বড়ির স্বাদ ও গুণমানের সুনাম থাকায় অনেকে এখন অনলাইন প্ল্যাটফর্মেও ডেলিভারি দিচ্ছেন। ফলে স্থানীয় উৎপাদনের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন জেলায়ও পৌঁছাচ্ছে ডুমুরিয়ার ঐতিহ্যবাহী কুমড়ার বড়ি।
ক্রেতা সাইদুর রহমান জানান, “ডুমুরিয়ার বড়ির স্বাদ অনেক ভালো। রান্নায় দিলে তরকারিতে আলাদা ঘ্রাণ ও স্বাদ পাওয়া যায়, তাই আমরা প্রতি বছরই বড়ি সংগ্রহ করি।”
শীতের শুরুতে বড়ি তৈরির এই ব্যস্ততা ডুমুরিয়ার গ্রামীণ নারীদের আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নতির পাশাপাশি ঐতিহ্যবাহী খাদ্যসংস্কৃতিকে বাঁচিয়ে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। শীতকাল উপলক্ষে যেন পুরো এলাকা পরিণত হয়েছে বড়ি উৎপাদনের একটি উৎসবমুখর কর্মযজ্ঞে।

আপনার মতামত লিখুন