নজর বিডি
প্রকাশ : শনিবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০২৫

১৩ বছরের মেয়ে মিমের বাল্যবিবাহের উদ্যোগ ধূলিসাৎ করলো ইউএনও

১৩ বছরের মেয়ে মিমের বাল্যবিবাহের উদ্যোগ ধূলিসাৎ করলো ইউএনও

জেলার খবর 

ঢাকা বিভাগ, গোপালগঞ্জ, মুকসুদপুর, চাওচা  মুকসুদপুরে ইউএনও মোহাম্মদ আবুল হাছনাত এর তৎপরতায় রক্ষা পেল শিশু মিম...     বিশেষ প্রতিনিধি- মো: ছিরু মিয়া  গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলায় মাত্র ১৩ বছর বয়সী এক কন্যাশিশুর বাল্যবিবাহের আয়োজন ভণ্ডুল করেছে প্রশাসন। চাওচা গ্রামের ইমানউদ্দিন সেখ তার মেয়ে জাফরিন ইসলাম মিমের (বয়স জন্মনিবন্ধন অনুযায়ী ১৩ বছর ৩ মাস ২৫ দিন) বিয়ে দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন—যে বয়সে একটি মেয়ের থাকা উচিত বাবা–মায়ের কোলে, স্কুলে, স্বপ্ন বুননে আর ভবিষ্যৎ গড়ার পথে। বাংলাদেশে প্রচলিত বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, ২০১৭ অনুযায়ী মেয়েদের বিবাহের সর্বনিম্ন বয়স ১৮ বছর। এই আইনের অধীনে বাল্যবিবাহ সম্পাদন, সহায়তা বা উৎসাহ দেওয়া দণ্ডনীয় অপরাধ। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে মুকসুদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবুল হাছনাত বিষয়টি জানতে পারেন। তার নির্দেশে উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা লায়লা রহমানের নেতৃত্বে গ্রাম পুলিশ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে ঘটনাস্থলে অভিযান চালানো হয়। [caption id="attachment_17029" align="aligncenter" width="234"] মুকসুদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার: মোহাম্মদ আবুল হাছনাত[/caption] সেখানে গিয়ে বাল্যবিবাহের সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার পর মিমের বাবা ইমানউদ্দিন সেখকে ভবিষ্যতে আর এমন কাজে জড়াবেন না—এই মর্মে সবার পরামর্শে মুচলেকা নেয়া হয়। ইউএনও মোহাম্মদ আবুল হাছনাত নজরবিডিকে বলেন, “একজন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ব্যক্তি আমাদের বিষয়টি জানান। যাচাই করতে গিয়ে ঘটনাটি সত্য প্রমাণিত হয়। পরে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিয়ে বাল্যবিবাহ বন্ধ করা হয়েছে। আমরা সবসময় সজাগ আছি যেনো কোনো শিশুর ভবিষ্যৎ নষ্ট না হয়।” তিনি আরও বলেন, “বাল্যবিবাহ একটি গুরুতর সামাজিক ব্যাধি। ভবিষ্যতে এমন ঘটনা ঘটলে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আইন অনুযায়ী কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে।” প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপে অল্পবয়সী মিমের ভবিষ্যৎ আপাতত নিরাপদ হয়েছে। তবে প্রশ্ন রয়ে যায়—১৩ বছরের শিশুর বিয়ে দেওয়ার প্রবণতা সমাজে এখনও কেনো বিদ্যমান, এবং তা রোধে স্থানীয় পর্যায়ে সচেতনতা কতটা কার্যকরভাবে বাড়ানো যাচ্ছে?

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
নজর বিডি

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬


১৩ বছরের মেয়ে মিমের বাল্যবিবাহের উদ্যোগ ধূলিসাৎ করলো ইউএনও

প্রকাশের তারিখ : ০৬ ডিসেম্বর ২০২৫

featured Image

জেলার খবর 

ঢাকা বিভাগ, গোপালগঞ্জ, মুকসুদপুর, চাওচা  মুকসুদপুরে ইউএনও মোহাম্মদ আবুল হাছনাত এর তৎপরতায় রক্ষা পেল শিশু মিম...     বিশেষ প্রতিনিধি- মো: ছিরু মিয়া  গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলায় মাত্র ১৩ বছর বয়সী এক কন্যাশিশুর বাল্যবিবাহের আয়োজন ভণ্ডুল করেছে প্রশাসন। চাওচা গ্রামের ইমানউদ্দিন সেখ তার মেয়ে জাফরিন ইসলাম মিমের (বয়স জন্মনিবন্ধন অনুযায়ী ১৩ বছর ৩ মাস ২৫ দিন) বিয়ে দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন—যে বয়সে একটি মেয়ের থাকা উচিত বাবা–মায়ের কোলে, স্কুলে, স্বপ্ন বুননে আর ভবিষ্যৎ গড়ার পথে। বাংলাদেশে প্রচলিত বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, ২০১৭ অনুযায়ী মেয়েদের বিবাহের সর্বনিম্ন বয়স ১৮ বছর। এই আইনের অধীনে বাল্যবিবাহ সম্পাদন, সহায়তা বা উৎসাহ দেওয়া দণ্ডনীয় অপরাধ। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে মুকসুদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবুল হাছনাত বিষয়টি জানতে পারেন। তার নির্দেশে উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা লায়লা রহমানের নেতৃত্বে গ্রাম পুলিশ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে ঘটনাস্থলে অভিযান চালানো হয়। [caption id="attachment_17029" align="aligncenter" width="234"] মুকসুদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার: মোহাম্মদ আবুল হাছনাত[/caption] সেখানে গিয়ে বাল্যবিবাহের সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার পর মিমের বাবা ইমানউদ্দিন সেখকে ভবিষ্যতে আর এমন কাজে জড়াবেন না—এই মর্মে সবার পরামর্শে মুচলেকা নেয়া হয়। ইউএনও মোহাম্মদ আবুল হাছনাত নজরবিডিকে বলেন, “একজন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ব্যক্তি আমাদের বিষয়টি জানান। যাচাই করতে গিয়ে ঘটনাটি সত্য প্রমাণিত হয়। পরে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিয়ে বাল্যবিবাহ বন্ধ করা হয়েছে। আমরা সবসময় সজাগ আছি যেনো কোনো শিশুর ভবিষ্যৎ নষ্ট না হয়।” তিনি আরও বলেন, “বাল্যবিবাহ একটি গুরুতর সামাজিক ব্যাধি। ভবিষ্যতে এমন ঘটনা ঘটলে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আইন অনুযায়ী কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে।” প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপে অল্পবয়সী মিমের ভবিষ্যৎ আপাতত নিরাপদ হয়েছে। তবে প্রশ্ন রয়ে যায়—১৩ বছরের শিশুর বিয়ে দেওয়ার প্রবণতা সমাজে এখনও কেনো বিদ্যমান, এবং তা রোধে স্থানীয় পর্যায়ে সচেতনতা কতটা কার্যকরভাবে বাড়ানো যাচ্ছে?

নজর বিডি

উপদেষ্টা সম্পাদক: মো: ইব্রাহিম খলিল। 
সম্পাদক: মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম। 
লিগ্যাল এডভাইজার: মাহমুদুর রহমান সুইট- এম.কম, এল এল বি, এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট।


 

কপিরাইট © ২০২৬ নজর বিডি সর্বস্ব সংরক্ষিত