নজর বিডি
প্রকাশ : সোমবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০২৫

“চিংড়ি ঘেরে বদলে যাচ্ছে জীবন: ডুমুরিয়ার নারীদের সাফল্যের নতুন গল্প”

“চিংড়ি ঘেরে বদলে যাচ্ছে জীবন: ডুমুরিয়ার নারীদের সাফল্যের নতুন গল্প”

খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার নারীরা এখন নতুন স্বপ্ন বুনছেন চিংড়ি ও মাছ চাষকে ঘিরে। স্বামী নির্ভরতা থেকে বের হয়ে স্বাবলম্বী হওয়ার লক্ষ্যে তারা ঘেরে চাষাবাদকে পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন। এতে শুধু তাদের নিজস্ব আয়ই বাড়ছে না, আশেপাশের গ্রামগুলোতেও নারীদের মধ্যে মাছ চাষের আগ্রহ বেড়ে চলেছে।

গুটুদিয়ার মিতালী মণ্ডল নিজের ঘেরে চিংড়ি ও সাদা মাছ চাষ করেন। প্রশিক্ষণ নিয়ে দক্ষতা বাড়িয়েছেন, অংশ নিয়েছেন খুলনা–ঢাকার নানা সেমিনারে। স্বামীকে সহযোগিতা করার পাশাপাশি নিজেও অর্থনৈতিকভাবে শক্ত অবস্থানে দাঁড়াতে চান তিনি।

মাগুরাঘোনা গ্রামের ১৫ নারী ও ১০ পুরুষ মিলে লিজ নেওয়া ঘেরে চিংড়ি চাষ করছেন মৎস্য অফিসের সহায়তায়। তারা উন্নত পদ্ধতির চাষ, জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলা, দক্ষতা বৃদ্ধি ও নেতৃত্ব উন্নয়ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ পেয়েছেন। তাদের লক্ষ্য—নিজেদের ও পরিবারের আর্থিক স্থিতি আরও মজবুত করা।

আরাজি সাজিয়াড়া, শোভনা, গোনালী, হাসানপুরসহ বিভিন্ন গ্রামের নারীরা দলবদ্ধভাবে মাছ ও চিংড়ি চাষে নেমেছেন। কেউ পেয়েছেন সরকারিভাবে প্রশিক্ষণ, কেউ পেয়েছেন ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ। মৎস্য অধিদপ্তরের প্রকল্পের আওতায় তারা পেয়েছেন চুন, সার, খৈল, পোনা, পিএল ও খাদ্যসহ নানা উপকরণ।

রুদাঘরার মুক্তা বিশ্বাস নেতৃত্ব দিচ্ছেন ২৫ জনের একটি নারীকেন্দ্রিক মৎস্যচাষি দলকে। বিদেশে প্রশিক্ষণ নেয়ার সুযোগও পেয়েছেন তিনি। তার বিশ্বাস—এই দল এলাকার নারীদের স্বপ্ন পূরণে বড় ভূমিকা রাখবে। একইভাবে ওড়াবুনিয়ার সুজলা মিস্ত্রী, শিবরগরের লাবনী রায়, আইতলার লাবনী রায়ও নেতৃত্ব দিচ্ছেন নিজেদের মৎস্যচাষী দলকে।

ডুমুরিয়া উপজেলার সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা সোহেল মো. জিল্লুর রহমান রিগান বলেন,
“ডুমুরিয়ার নারীরা মাছ চাষে ব্যাপকভাবে আগ্রহী হচ্ছে। মিতালী মণ্ডল, কনিকা বিশ্বাস, মুক্তা বিশ্বাস, কাকলি বিশ্বাসসহ অনেক নারী খুব দক্ষভাবে চাষ করছে। মৎস্য বিভাগ শোভনা, মাগুরাঘোনা ও হাসানপুর প্রকল্পে কারিগরি প্রশিক্ষণ ও উপকরণ সহায়তা দিয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “গোনালী ও আরাজি সাজিয়াড়া মৎস্যজীবী গ্রাম সমিতি নিয়মিত তত্ত্বাবধানে রয়েছে এবং ইতোমধ্যে তারা সফলতার ফল পাচ্ছে।”

ডুমুরিয়ার নারীদের এই অগ্রযাত্রা শুধু পরিবারের অর্থনীতিতে নয়, পুরো অঞ্চলের উন্নয়ন ধারায় এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করছে।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
নজর বিডি

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬


“চিংড়ি ঘেরে বদলে যাচ্ছে জীবন: ডুমুরিয়ার নারীদের সাফল্যের নতুন গল্প”

প্রকাশের তারিখ : ০৮ ডিসেম্বর ২০২৫

featured Image

খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার নারীরা এখন নতুন স্বপ্ন বুনছেন চিংড়ি ও মাছ চাষকে ঘিরে। স্বামী নির্ভরতা থেকে বের হয়ে স্বাবলম্বী হওয়ার লক্ষ্যে তারা ঘেরে চাষাবাদকে পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন। এতে শুধু তাদের নিজস্ব আয়ই বাড়ছে না, আশেপাশের গ্রামগুলোতেও নারীদের মধ্যে মাছ চাষের আগ্রহ বেড়ে চলেছে।

গুটুদিয়ার মিতালী মণ্ডল নিজের ঘেরে চিংড়ি ও সাদা মাছ চাষ করেন। প্রশিক্ষণ নিয়ে দক্ষতা বাড়িয়েছেন, অংশ নিয়েছেন খুলনা–ঢাকার নানা সেমিনারে। স্বামীকে সহযোগিতা করার পাশাপাশি নিজেও অর্থনৈতিকভাবে শক্ত অবস্থানে দাঁড়াতে চান তিনি।

মাগুরাঘোনা গ্রামের ১৫ নারী ও ১০ পুরুষ মিলে লিজ নেওয়া ঘেরে চিংড়ি চাষ করছেন মৎস্য অফিসের সহায়তায়। তারা উন্নত পদ্ধতির চাষ, জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলা, দক্ষতা বৃদ্ধি ও নেতৃত্ব উন্নয়ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ পেয়েছেন। তাদের লক্ষ্য—নিজেদের ও পরিবারের আর্থিক স্থিতি আরও মজবুত করা।

আরাজি সাজিয়াড়া, শোভনা, গোনালী, হাসানপুরসহ বিভিন্ন গ্রামের নারীরা দলবদ্ধভাবে মাছ ও চিংড়ি চাষে নেমেছেন। কেউ পেয়েছেন সরকারিভাবে প্রশিক্ষণ, কেউ পেয়েছেন ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ। মৎস্য অধিদপ্তরের প্রকল্পের আওতায় তারা পেয়েছেন চুন, সার, খৈল, পোনা, পিএল ও খাদ্যসহ নানা উপকরণ।

রুদাঘরার মুক্তা বিশ্বাস নেতৃত্ব দিচ্ছেন ২৫ জনের একটি নারীকেন্দ্রিক মৎস্যচাষি দলকে। বিদেশে প্রশিক্ষণ নেয়ার সুযোগও পেয়েছেন তিনি। তার বিশ্বাস—এই দল এলাকার নারীদের স্বপ্ন পূরণে বড় ভূমিকা রাখবে। একইভাবে ওড়াবুনিয়ার সুজলা মিস্ত্রী, শিবরগরের লাবনী রায়, আইতলার লাবনী রায়ও নেতৃত্ব দিচ্ছেন নিজেদের মৎস্যচাষী দলকে।

ডুমুরিয়া উপজেলার সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা সোহেল মো. জিল্লুর রহমান রিগান বলেন,
“ডুমুরিয়ার নারীরা মাছ চাষে ব্যাপকভাবে আগ্রহী হচ্ছে। মিতালী মণ্ডল, কনিকা বিশ্বাস, মুক্তা বিশ্বাস, কাকলি বিশ্বাসসহ অনেক নারী খুব দক্ষভাবে চাষ করছে। মৎস্য বিভাগ শোভনা, মাগুরাঘোনা ও হাসানপুর প্রকল্পে কারিগরি প্রশিক্ষণ ও উপকরণ সহায়তা দিয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “গোনালী ও আরাজি সাজিয়াড়া মৎস্যজীবী গ্রাম সমিতি নিয়মিত তত্ত্বাবধানে রয়েছে এবং ইতোমধ্যে তারা সফলতার ফল পাচ্ছে।”

ডুমুরিয়ার নারীদের এই অগ্রযাত্রা শুধু পরিবারের অর্থনীতিতে নয়, পুরো অঞ্চলের উন্নয়ন ধারায় এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করছে।


নজর বিডি

উপদেষ্টা সম্পাদক: মো: ইব্রাহিম খলিল। 
সম্পাদক: মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম। 
লিগ্যাল এডভাইজার: মাহমুদুর রহমান সুইট- এম.কম, এল এল বি, এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট।


 

কপিরাইট © ২০২৬ নজর বিডি সর্বস্ব সংরক্ষিত