তানোর (রাজশাহী): রাজশাহীর তানোরে পরিত্যক্ত একটি গভীর নলকূপের পাইপে পড়ে যাওয়া দুই বছরের শিশু সাজিদকে দীর্ঘ উদ্ধার অভিযানের পর মৃত ঘোষণা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) রাত ৮টা ৫০ মিনিটে শিশুটিকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
জানা যায়, বুধবার (১০ ডিসেম্বর) বিকেলে শিশু সাজিদ তার মা রুনা খাতুনের সঙ্গে বাড়ির পাশের কোয়েলহাট গ্রামের মাঠের পাশ দিয়ে হাঁটছিল। স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বছরখানেক আগে জমিতে সেচ দেওয়ার জন্য নলকূপটি খোঁড়া হয়েছিল, কিন্তু পানি না ওঠায় মালিক সেটি মাটি দিয়ে ঢেকে রাখেন। সম্প্রতি বৃষ্টির কারণে মাটি ধসে নলকূপের মুখ উন্মুক্ত হয়ে যাওয়ায় অসাবধানতাবশত সাজিদ সেটির ভেতরে পড়ে যায়।
শিশুটির মা রুনা খাতুন জানান, "বিকেলে মেজো ছেলে সাজিদের হাত ধরে বাড়ির পাশের মাঠে যাচ্ছিলাম। হঠাৎ সাজিদ ‘মা’ বলে ডাকল। পেছনে তাকিয়ে দেখি সে নেই, গর্তের ভেতর থেকে ‘মা, মা’ বলে ডাকছিল।”
মায়ের আর্তচিৎকারে স্থানীয়রা ছুটে এসে প্রথমে উদ্ধার চেষ্টা চালান। ব্যর্থ হওয়ায় খবর দেওয়া হয় ফায়ার সার্ভিসকে।
উদ্ধারকারী দল: ফায়ার সার্ভিস রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে আসে এবং উদ্ধার অভিযান শুরু করে।
প্রথম চেষ্টা: প্রথমে চার্জ ভিশন ক্যামেরা ব্যবহার করে প্রায় ৩৫ ফুট পর্যন্ত অনুসন্ধান চালানো হলেও শিশুর অবস্থান শনাক্ত করা যায়নি।
খনন: এরপর এস্কেভেটর ব্যবহার করে রাতভর গভীর গর্ত খনন করা হয়। সকালে সুড়ঙ্গ খোঁড়ার চেষ্টা করা হলেও শিশুর অবস্থান নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
অবস্থান শনাক্ত: পরবর্তীতে নতুনভাবে নলকূপে ক্যামেরা নামানো হলে সেখানে কেবল মাটি দেখা যায়। অবশেষে ফায়ার সার্ভিসের তৎপরতায় আবারও খননের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর বৃহস্পতিবার রাত ৮টা ৫০ মিনিটে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধারের পরপরই সাজিদকে দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। স্বাস্থ্য পরীক্ষা করার পর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. বার্নাবাস হাসদা শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন। উল্লেখ্য, উদ্ধারকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাঈমা খান শিশুটিকে 'জীবিত' বলে জানালেও সে তখন অচেতন অবস্থায় ছিল।
এই মর্মান্তিক ঘটনায় তানোরের কোয়েলহাট গ্রামে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১১ ডিসেম্বর ২০২৫
তানোর (রাজশাহী): রাজশাহীর তানোরে পরিত্যক্ত একটি গভীর নলকূপের পাইপে পড়ে যাওয়া দুই বছরের শিশু সাজিদকে দীর্ঘ উদ্ধার অভিযানের পর মৃত ঘোষণা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) রাত ৮টা ৫০ মিনিটে শিশুটিকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
জানা যায়, বুধবার (১০ ডিসেম্বর) বিকেলে শিশু সাজিদ তার মা রুনা খাতুনের সঙ্গে বাড়ির পাশের কোয়েলহাট গ্রামের মাঠের পাশ দিয়ে হাঁটছিল। স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বছরখানেক আগে জমিতে সেচ দেওয়ার জন্য নলকূপটি খোঁড়া হয়েছিল, কিন্তু পানি না ওঠায় মালিক সেটি মাটি দিয়ে ঢেকে রাখেন। সম্প্রতি বৃষ্টির কারণে মাটি ধসে নলকূপের মুখ উন্মুক্ত হয়ে যাওয়ায় অসাবধানতাবশত সাজিদ সেটির ভেতরে পড়ে যায়।
শিশুটির মা রুনা খাতুন জানান, "বিকেলে মেজো ছেলে সাজিদের হাত ধরে বাড়ির পাশের মাঠে যাচ্ছিলাম। হঠাৎ সাজিদ ‘মা’ বলে ডাকল। পেছনে তাকিয়ে দেখি সে নেই, গর্তের ভেতর থেকে ‘মা, মা’ বলে ডাকছিল।”
মায়ের আর্তচিৎকারে স্থানীয়রা ছুটে এসে প্রথমে উদ্ধার চেষ্টা চালান। ব্যর্থ হওয়ায় খবর দেওয়া হয় ফায়ার সার্ভিসকে।
উদ্ধারকারী দল: ফায়ার সার্ভিস রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে আসে এবং উদ্ধার অভিযান শুরু করে।
প্রথম চেষ্টা: প্রথমে চার্জ ভিশন ক্যামেরা ব্যবহার করে প্রায় ৩৫ ফুট পর্যন্ত অনুসন্ধান চালানো হলেও শিশুর অবস্থান শনাক্ত করা যায়নি।
খনন: এরপর এস্কেভেটর ব্যবহার করে রাতভর গভীর গর্ত খনন করা হয়। সকালে সুড়ঙ্গ খোঁড়ার চেষ্টা করা হলেও শিশুর অবস্থান নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
অবস্থান শনাক্ত: পরবর্তীতে নতুনভাবে নলকূপে ক্যামেরা নামানো হলে সেখানে কেবল মাটি দেখা যায়। অবশেষে ফায়ার সার্ভিসের তৎপরতায় আবারও খননের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর বৃহস্পতিবার রাত ৮টা ৫০ মিনিটে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধারের পরপরই সাজিদকে দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। স্বাস্থ্য পরীক্ষা করার পর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. বার্নাবাস হাসদা শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন। উল্লেখ্য, উদ্ধারকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাঈমা খান শিশুটিকে 'জীবিত' বলে জানালেও সে তখন অচেতন অবস্থায় ছিল।
এই মর্মান্তিক ঘটনায় তানোরের কোয়েলহাট গ্রামে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

আপনার মতামত লিখুন