নজর বিডি
প্রকাশ : শুক্রবার, ১২ ডিসেম্বর ২০২৫

ডুমুরিয়ায় আমনের বাম্পার ফলন, ধান কাটায় ব্যস্ত কৃষক

ডুমুরিয়ায় আমনের বাম্পার ফলন, ধান কাটায় ব্যস্ত কৃষক

খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলায় চলছে আমন ধান কর্তন ও মাড়াইয়ের ব্যস্ত সময়। অধিক ফলনের আশায় কৃষকরা পরিপক্ব ধান ঘরে তুলতে দিন-রাত পরিশ্রম করছেন। বেশিরভাগ এলাকায় বাম্পার ফলন হওয়ায় কৃষকদের মুখে ফুটেছে স্বস্তির হাসি। তবে হঠাৎ বর্ষণের শঙ্কায় তারা দ্রুত ফসল সংগ্রহে মনোযোগী হয়ে উঠেছেন।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (ডিএই), খুলনা অঞ্চলের তথ্য অনুযায়ী ২০২৫–২৬ অর্থবছরে খুলনা বিভাগের চার জেলায় রোপা আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৯৮,৬৩৫ হেক্টর। চাষ হয়েছে ৯৭,২৯০ হেক্টর—লক্ষ্যমাত্রার ৯৭.২ শতাংশ। এর মধ্যে আবাদযোগ্য জমির ২০,০৭০ হেক্টরে (১৭.৪ শতাংশ) ইতোমধ্যে ফসল কাটা সম্পন্ন হয়েছে। মাঠ পর্যায়ে মূল্যায়নে জানা গেছে, এ মৌসুমে প্রায় ১,৫৯,৯০২ মেট্রিক টন আমন ধান উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে।

কৃষকের অভিজ্ঞতা

মাঠে পরিপক্ব ধান বেশিদিন থাকলে বৃষ্টি বা শিলাবৃষ্টিতে ক্ষতির আশঙ্কা থাকে—তাই দ্রুত কাটার বিকল্প নেই বলে জানিয়েছেন কৃষকেরা।

উপজেলার কৃষক আব্দুল হামিদ বলেন,
“আলহামদুলিল্লাহ, এ বছর উৎপাদন খুব ভালো। কাটা শেষের পথে, এখন মাড়াই চলছে। বৃষ্টির ভয় আছে, তাই দ্রুত ধান ঘরে তুলছি।”

টিপনা গ্রামের কৃষক আব্দুল গনি গাজী বলেন,
“আমার জমির ধান প্রায় শেষ। এখন মাড়াই করছি। আমন শেষ হলেই ডাল ও শীতকালীন সবজি রোপণের প্রস্তুতি নেব।”

কৃষি বিভাগের পর্যবেক্ষণ

উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সুভাষ বিশ্বাস বলেন,
“কৃষকরা এখন বছরের সবচেয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতি এড়াতে আমরা দ্রুত কাটা ও নিরাপদ সংরক্ষণের পরামর্শ দিচ্ছি।”

ডুমুরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. ইনসান ইবনে আমিন বলেন,
“এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় আমন ধানের ফলন খুব ভালো হয়েছে। দুর্যোগের ঝুঁকি বিবেচনায় দ্রুত ফসল কাটার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সঠিক মাড়াই ও সংরক্ষণ পদ্ধতি নিয়েও দিকনির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। আশা করা যাচ্ছে, লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি উৎপাদন হবে।”

তিনি আরও বলেন,
“আমন মৌসুম শেষেই রবি ফসল, ডাল ও শীতকালীন সবজি চাষ শুরু হবে। এসব ফসলের জন্য প্রয়োজনীয় মাঠ পর্যায়ের সহায়তা অব্যাহত থাকবে।”

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
নজর বিডি

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬


ডুমুরিয়ায় আমনের বাম্পার ফলন, ধান কাটায় ব্যস্ত কৃষক

প্রকাশের তারিখ : ১২ ডিসেম্বর ২০২৫

featured Image

খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলায় চলছে আমন ধান কর্তন ও মাড়াইয়ের ব্যস্ত সময়। অধিক ফলনের আশায় কৃষকরা পরিপক্ব ধান ঘরে তুলতে দিন-রাত পরিশ্রম করছেন। বেশিরভাগ এলাকায় বাম্পার ফলন হওয়ায় কৃষকদের মুখে ফুটেছে স্বস্তির হাসি। তবে হঠাৎ বর্ষণের শঙ্কায় তারা দ্রুত ফসল সংগ্রহে মনোযোগী হয়ে উঠেছেন।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (ডিএই), খুলনা অঞ্চলের তথ্য অনুযায়ী ২০২৫–২৬ অর্থবছরে খুলনা বিভাগের চার জেলায় রোপা আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৯৮,৬৩৫ হেক্টর। চাষ হয়েছে ৯৭,২৯০ হেক্টর—লক্ষ্যমাত্রার ৯৭.২ শতাংশ। এর মধ্যে আবাদযোগ্য জমির ২০,০৭০ হেক্টরে (১৭.৪ শতাংশ) ইতোমধ্যে ফসল কাটা সম্পন্ন হয়েছে। মাঠ পর্যায়ে মূল্যায়নে জানা গেছে, এ মৌসুমে প্রায় ১,৫৯,৯০২ মেট্রিক টন আমন ধান উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে।

কৃষকের অভিজ্ঞতা

মাঠে পরিপক্ব ধান বেশিদিন থাকলে বৃষ্টি বা শিলাবৃষ্টিতে ক্ষতির আশঙ্কা থাকে—তাই দ্রুত কাটার বিকল্প নেই বলে জানিয়েছেন কৃষকেরা।

উপজেলার কৃষক আব্দুল হামিদ বলেন,
“আলহামদুলিল্লাহ, এ বছর উৎপাদন খুব ভালো। কাটা শেষের পথে, এখন মাড়াই চলছে। বৃষ্টির ভয় আছে, তাই দ্রুত ধান ঘরে তুলছি।”

টিপনা গ্রামের কৃষক আব্দুল গনি গাজী বলেন,
“আমার জমির ধান প্রায় শেষ। এখন মাড়াই করছি। আমন শেষ হলেই ডাল ও শীতকালীন সবজি রোপণের প্রস্তুতি নেব।”

কৃষি বিভাগের পর্যবেক্ষণ

উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সুভাষ বিশ্বাস বলেন,
“কৃষকরা এখন বছরের সবচেয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতি এড়াতে আমরা দ্রুত কাটা ও নিরাপদ সংরক্ষণের পরামর্শ দিচ্ছি।”

ডুমুরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. ইনসান ইবনে আমিন বলেন,
“এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় আমন ধানের ফলন খুব ভালো হয়েছে। দুর্যোগের ঝুঁকি বিবেচনায় দ্রুত ফসল কাটার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সঠিক মাড়াই ও সংরক্ষণ পদ্ধতি নিয়েও দিকনির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। আশা করা যাচ্ছে, লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি উৎপাদন হবে।”

তিনি আরও বলেন,
“আমন মৌসুম শেষেই রবি ফসল, ডাল ও শীতকালীন সবজি চাষ শুরু হবে। এসব ফসলের জন্য প্রয়োজনীয় মাঠ পর্যায়ের সহায়তা অব্যাহত থাকবে।”


নজর বিডি

উপদেষ্টা সম্পাদক: মো: ইব্রাহিম খলিল। 
সম্পাদক: মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম। 
লিগ্যাল এডভাইজার: মাহমুদুর রহমান সুইট- এম.কম, এল এল বি, এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট।


 

কপিরাইট © ২০২৬ নজর বিডি সর্বস্ব সংরক্ষিত