নজর বিডি
প্রকাশ : শনিবার, ২০ ডিসেম্বর ২০২৫

ডুমুরিয়ায় বোরো রোপণের ধুম: ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা

ডুমুরিয়ায় বোরো রোপণের ধুম: ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা

শেখ মাহতাব হোসেন, ডুমুরিয়া (খুলনা):

মাঠে মাঠে চলছে জমি প্রস্তুতের কাজ, কেউ বীজতলা থেকে চারা তুলছেন, আবার কেউ ব্যস্ত চারা রোপণে। শীতের তীব্রতা উপেক্ষা করেই খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার কৃষাণ-কৃষাণিরা এখন ইরি-বোরো ধান রোপণে ব্যস্ত সময় পার করছেন। গ্রামগুলোতে এখন ধান রোপণের উৎসবমুখর আমেজ বিরাজ করছে।

লক্ষ্যমাত্রা ও আবাদ পরিস্থিতি

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে খুলনা জেলার ৯টি উপজেলায় মোট ৫৬ হাজার ৫১০ হেক্টর জমিতে ইরি-বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে শুধুমাত্র ডুমুরিয়া উপজেলাতেই লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২১ হাজার ৭০৯ হেক্টর। অনুকূল আবহাওয়া ও কুয়াশা কম থাকায় এবার বীজতলার তেমন কোনো ক্ষতি হয়নি বলে জানিয়েছেন স্থানীয় কৃষকরা।

খরচ বৃদ্ধি ও কৃষকের উদ্বেগ

মাঠে কাজের ব্যস্ততা থাকলেও কৃষকদের চোখে-মুখে দুশ্চিন্তার ভাঁজ লক্ষ্য করা গেছে। খর্নিয়া ইউনিয়নের ইউপি সদস্য ও কৃষক হযরত আলী জানান, বাজারে সার ও ওষুধের দাম বাড়ায় উৎপাদন খরচ অনেক বেড়ে গেছে। তিনি বলেন, "ধান আবাদে খরচ বেশি হলেও বাজারে সঠিক দাম না পাওয়ায় আমরা বারবার ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছি।"

আটলিয়া গ্রামের কৃষক অহিদুজ্জামান জানান, শ্রমিকের মজুরিও এখন চড়া। বিঘাপ্রতি চারা রোপণে চুক্তিভিত্তিতে ১ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার টাকা গুনতে হচ্ছে। এছাড়া বীজতলা থেকে রোপণ পর্যন্ত বিঘাপ্রতি খরচ হচ্ছে প্রায় ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা।

ন্যায্যমূল্যের দাবি

রুদাঘরা ইউনিয়নের কৃষক আলী হোসেন অভিযোগ করেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বাড়লেও সে অনুপাতে ধানের দাম বাড়ছে না। বিশেষ করে দালাল ও ফড়িয়াদের কারণে প্রকৃত কৃষকরা বঞ্চিত হচ্ছেন। তাই সরাসরি সরকারের কাছে ধান বিক্রি এবং সার-কীটনাশকের দাম কমানোর দাবি জানিয়েছেন প্রান্তিক চাষিরা।

কৃষি কর্মকর্তাদের বক্তব্য

ডুমুরিয়া উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মো. ইনসাদ ইবনে আমিন জানান, চলতি মৌসুমে ২১ হাজার ৭০৯ হেক্টর জমিতে আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে কাজ চলছে। আধুনিক ও উচ্চ ফলনশীল (উফশী) জাতের চাষাবাদের জন্য কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. নজরুল ইসলাম বলেন, "জেলায় সার ও তেলের পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে। আশা করছি ভরা মৌসুমে কোনো সংকট হবে না। মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের সব ধরনের কারিগরি সহযোগিতা প্রদান করা হচ্ছে।"

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
নজর বিডি

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬


ডুমুরিয়ায় বোরো রোপণের ধুম: ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা

প্রকাশের তারিখ : ২০ ডিসেম্বর ২০২৫

featured Image

শেখ মাহতাব হোসেন, ডুমুরিয়া (খুলনা):

মাঠে মাঠে চলছে জমি প্রস্তুতের কাজ, কেউ বীজতলা থেকে চারা তুলছেন, আবার কেউ ব্যস্ত চারা রোপণে। শীতের তীব্রতা উপেক্ষা করেই খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার কৃষাণ-কৃষাণিরা এখন ইরি-বোরো ধান রোপণে ব্যস্ত সময় পার করছেন। গ্রামগুলোতে এখন ধান রোপণের উৎসবমুখর আমেজ বিরাজ করছে।

লক্ষ্যমাত্রা ও আবাদ পরিস্থিতি

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে খুলনা জেলার ৯টি উপজেলায় মোট ৫৬ হাজার ৫১০ হেক্টর জমিতে ইরি-বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে শুধুমাত্র ডুমুরিয়া উপজেলাতেই লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২১ হাজার ৭০৯ হেক্টর। অনুকূল আবহাওয়া ও কুয়াশা কম থাকায় এবার বীজতলার তেমন কোনো ক্ষতি হয়নি বলে জানিয়েছেন স্থানীয় কৃষকরা।

খরচ বৃদ্ধি ও কৃষকের উদ্বেগ

মাঠে কাজের ব্যস্ততা থাকলেও কৃষকদের চোখে-মুখে দুশ্চিন্তার ভাঁজ লক্ষ্য করা গেছে। খর্নিয়া ইউনিয়নের ইউপি সদস্য ও কৃষক হযরত আলী জানান, বাজারে সার ও ওষুধের দাম বাড়ায় উৎপাদন খরচ অনেক বেড়ে গেছে। তিনি বলেন, "ধান আবাদে খরচ বেশি হলেও বাজারে সঠিক দাম না পাওয়ায় আমরা বারবার ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছি।"

আটলিয়া গ্রামের কৃষক অহিদুজ্জামান জানান, শ্রমিকের মজুরিও এখন চড়া। বিঘাপ্রতি চারা রোপণে চুক্তিভিত্তিতে ১ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার টাকা গুনতে হচ্ছে। এছাড়া বীজতলা থেকে রোপণ পর্যন্ত বিঘাপ্রতি খরচ হচ্ছে প্রায় ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা।

ন্যায্যমূল্যের দাবি

রুদাঘরা ইউনিয়নের কৃষক আলী হোসেন অভিযোগ করেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বাড়লেও সে অনুপাতে ধানের দাম বাড়ছে না। বিশেষ করে দালাল ও ফড়িয়াদের কারণে প্রকৃত কৃষকরা বঞ্চিত হচ্ছেন। তাই সরাসরি সরকারের কাছে ধান বিক্রি এবং সার-কীটনাশকের দাম কমানোর দাবি জানিয়েছেন প্রান্তিক চাষিরা।

কৃষি কর্মকর্তাদের বক্তব্য

ডুমুরিয়া উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মো. ইনসাদ ইবনে আমিন জানান, চলতি মৌসুমে ২১ হাজার ৭০৯ হেক্টর জমিতে আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে কাজ চলছে। আধুনিক ও উচ্চ ফলনশীল (উফশী) জাতের চাষাবাদের জন্য কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. নজরুল ইসলাম বলেন, "জেলায় সার ও তেলের পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে। আশা করছি ভরা মৌসুমে কোনো সংকট হবে না। মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের সব ধরনের কারিগরি সহযোগিতা প্রদান করা হচ্ছে।"


নজর বিডি

উপদেষ্টা সম্পাদক: মো: ইব্রাহিম খলিল। 
সম্পাদক: মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম। 
লিগ্যাল এডভাইজার: মাহমুদুর রহমান সুইট- এম.কম, এল এল বি, এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট।


 

কপিরাইট © ২০২৬ নজর বিডি সর্বস্ব সংরক্ষিত