শেখ মাহতাব হোসেন, ডুমুরিয়া (খুলনা):
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে খুলনা জেলার ৯টি উপজেলায় মোট ৫৬ হাজার ৫১০ হেক্টর জমিতে ইরি-বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে শুধুমাত্র ডুমুরিয়া উপজেলাতেই লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২১ হাজার ৭০৯ হেক্টর। অনুকূল আবহাওয়া ও কুয়াশা কম থাকায় এবার বীজতলার তেমন কোনো ক্ষতি হয়নি বলে জানিয়েছেন স্থানীয় কৃষকরা।
মাঠে কাজের ব্যস্ততা থাকলেও কৃষকদের চোখে-মুখে দুশ্চিন্তার ভাঁজ লক্ষ্য করা গেছে। খর্নিয়া ইউনিয়নের ইউপি সদস্য ও কৃষক হযরত আলী জানান, বাজারে সার ও ওষুধের দাম বাড়ায় উৎপাদন খরচ অনেক বেড়ে গেছে। তিনি বলেন, "ধান আবাদে খরচ বেশি হলেও বাজারে সঠিক দাম না পাওয়ায় আমরা বারবার ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছি।"
আটলিয়া গ্রামের কৃষক অহিদুজ্জামান জানান, শ্রমিকের মজুরিও এখন চড়া। বিঘাপ্রতি চারা রোপণে চুক্তিভিত্তিতে ১ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার টাকা গুনতে হচ্ছে। এছাড়া বীজতলা থেকে রোপণ পর্যন্ত বিঘাপ্রতি খরচ হচ্ছে প্রায় ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা।
রুদাঘরা ইউনিয়নের কৃষক আলী হোসেন অভিযোগ করেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বাড়লেও সে অনুপাতে ধানের দাম বাড়ছে না। বিশেষ করে দালাল ও ফড়িয়াদের কারণে প্রকৃত কৃষকরা বঞ্চিত হচ্ছেন। তাই সরাসরি সরকারের কাছে ধান বিক্রি এবং সার-কীটনাশকের দাম কমানোর দাবি জানিয়েছেন প্রান্তিক চাষিরা।
ডুমুরিয়া উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মো. ইনসাদ ইবনে আমিন জানান, চলতি মৌসুমে ২১ হাজার ৭০৯ হেক্টর জমিতে আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে কাজ চলছে। আধুনিক ও উচ্চ ফলনশীল (উফশী) জাতের চাষাবাদের জন্য কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. নজরুল ইসলাম বলেন, "জেলায় সার ও তেলের পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে। আশা করছি ভরা মৌসুমে কোনো সংকট হবে না। মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের সব ধরনের কারিগরি সহযোগিতা প্রদান করা হচ্ছে।"

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২০ ডিসেম্বর ২০২৫
শেখ মাহতাব হোসেন, ডুমুরিয়া (খুলনা):
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে খুলনা জেলার ৯টি উপজেলায় মোট ৫৬ হাজার ৫১০ হেক্টর জমিতে ইরি-বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে শুধুমাত্র ডুমুরিয়া উপজেলাতেই লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২১ হাজার ৭০৯ হেক্টর। অনুকূল আবহাওয়া ও কুয়াশা কম থাকায় এবার বীজতলার তেমন কোনো ক্ষতি হয়নি বলে জানিয়েছেন স্থানীয় কৃষকরা।
মাঠে কাজের ব্যস্ততা থাকলেও কৃষকদের চোখে-মুখে দুশ্চিন্তার ভাঁজ লক্ষ্য করা গেছে। খর্নিয়া ইউনিয়নের ইউপি সদস্য ও কৃষক হযরত আলী জানান, বাজারে সার ও ওষুধের দাম বাড়ায় উৎপাদন খরচ অনেক বেড়ে গেছে। তিনি বলেন, "ধান আবাদে খরচ বেশি হলেও বাজারে সঠিক দাম না পাওয়ায় আমরা বারবার ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছি।"
আটলিয়া গ্রামের কৃষক অহিদুজ্জামান জানান, শ্রমিকের মজুরিও এখন চড়া। বিঘাপ্রতি চারা রোপণে চুক্তিভিত্তিতে ১ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার টাকা গুনতে হচ্ছে। এছাড়া বীজতলা থেকে রোপণ পর্যন্ত বিঘাপ্রতি খরচ হচ্ছে প্রায় ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা।
রুদাঘরা ইউনিয়নের কৃষক আলী হোসেন অভিযোগ করেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বাড়লেও সে অনুপাতে ধানের দাম বাড়ছে না। বিশেষ করে দালাল ও ফড়িয়াদের কারণে প্রকৃত কৃষকরা বঞ্চিত হচ্ছেন। তাই সরাসরি সরকারের কাছে ধান বিক্রি এবং সার-কীটনাশকের দাম কমানোর দাবি জানিয়েছেন প্রান্তিক চাষিরা।
ডুমুরিয়া উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মো. ইনসাদ ইবনে আমিন জানান, চলতি মৌসুমে ২১ হাজার ৭০৯ হেক্টর জমিতে আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে কাজ চলছে। আধুনিক ও উচ্চ ফলনশীল (উফশী) জাতের চাষাবাদের জন্য কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. নজরুল ইসলাম বলেন, "জেলায় সার ও তেলের পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে। আশা করছি ভরা মৌসুমে কোনো সংকট হবে না। মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের সব ধরনের কারিগরি সহযোগিতা প্রদান করা হচ্ছে।"

আপনার মতামত লিখুন