ধানের অস্তিত্ব নেই! তবু বাজার দখলে ‘মিনিকেট–নাজিরশাইল’ চাল
বাংলাদেশ
কুষ্টিয়াবাজারে মিনিকেট ও নাজিরশাইল চালের ব্যাপক সরবরাহ থাকলেও বাস্তবে এই নামের কোনো ধান চাষই হয় না...নাহিদ হোসেন এমন বাস্তবতায় চালের প্রকৃত উৎস নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কৃষি বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্টদের মতে, বাজারে বিক্রি হওয়া তথাকথিত মিনিকেট ও নাজিরশাইল চাল আসলে ভিন্ন জাতের ধান প্রক্রিয়াজাত করে ভোক্তাদের কাছে বিক্রি করা হচ্ছে।
কৃষি বিভাগ জানায়, মিনিকেট নামে কোনো ধান জাত বাংলাদেশে অনুমোদিত নয়। এটি মূলত একটি পুরোনো রাইস মিলের যন্ত্রের নাম ছিল, যেখান থেকে ধীরে ধীরে চালের নাম হিসেবে প্রচলিত হয়। একইভাবে নাজিরশাইল নামেও বর্তমানে আলাদা কোনো ধান জাতের অস্তিত্ব নেই। অথচ দেশের প্রায় সব বাজারেই এসব নামে চাল বিক্রি হচ্ছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, সাধারণত ব্রি-২৮, ব্রি-২৯, স্বর্ণা কিংবা অন্য মাঝারি ও মোটা জাতের ধান অতিরিক্ত পালিশ ও বিশেষ প্রক্রিয়াজাত করে মিনিকেট বা নাজিরশাইল নামে বাজারজাত করা হয়। এতে চাল দেখতে চিকন ও সাদা হলেও পুষ্টিগুণ অনেকাংশে নষ্ট হয়ে যায়।
চাল ব্যবসায়ীদের একাংশ স্বীকার করেন, ভোক্তাদের চাহিদার কারণেই এসব নামে চাল বিক্রি হচ্ছে। এক ব্যবসায়ী বলেন— ক্রেতারা মিনিকেট বা নাজিরশাইল নামেই চাল চেনেন। আসল ধানের নাম বললে অনেকেই কিনতে চান না।
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী, পণ্যের প্রকৃত পরিচয় গোপন করে ভিন্ন নামে বিক্রি করা দণ্ডনীয় অপরাধ। তবে মাঠপর্যায়ে নজরদারির অভাবে মিল ও ব্যবসায়ীরা নির্বিঘ্নে এই কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা জানান—
আমরা অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেই। তবে জনবল সংকটের কারণে সারাদেশের মিল ও বাজার নিয়মিত তদারকি করা কঠিন।
এদিকে পুষ্টিবিদরা সতর্ক করে বলছেন, অতিরিক্ত পালিশ করা চাল নিয়মিত খেলে খাদ্যগুণ কমে যায় এবং দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে এবং দীর্ঘদিন এ ধরনের চাল খেলে—
ডায়াবেটিসের ঝুঁকি,হজম সমস্যা এবং অপুষ্টি বাড়তে পারে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, চালের প্রকৃত জাত উল্লেখ করে বাজারজাত করা বাধ্যতামূলক করা গেলে ভোক্তা যেমন সঠিক তথ্য পাবেন, তেমনি বাজারেও স্বচ্ছতা ফিরবে।
ধানের অস্তিত্ব নেই! তবু বাজার দখলে ‘মিনিকেট–নাজিরশাইল’ চাল
প্রকাশের তারিখ : ২০ ডিসেম্বর ২০২৫
বাংলাদেশ
কুষ্টিয়াবাজারে মিনিকেট ও নাজিরশাইল চালের ব্যাপক সরবরাহ থাকলেও বাস্তবে এই নামের কোনো ধান চাষই হয় না...নাহিদ হোসেন এমন বাস্তবতায় চালের প্রকৃত উৎস নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কৃষি বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্টদের মতে, বাজারে বিক্রি হওয়া তথাকথিত মিনিকেট ও নাজিরশাইল চাল আসলে ভিন্ন জাতের ধান প্রক্রিয়াজাত করে ভোক্তাদের কাছে বিক্রি করা হচ্ছে।
কৃষি বিভাগ জানায়, মিনিকেট নামে কোনো ধান জাত বাংলাদেশে অনুমোদিত নয়। এটি মূলত একটি পুরোনো রাইস মিলের যন্ত্রের নাম ছিল, যেখান থেকে ধীরে ধীরে চালের নাম হিসেবে প্রচলিত হয়। একইভাবে নাজিরশাইল নামেও বর্তমানে আলাদা কোনো ধান জাতের অস্তিত্ব নেই। অথচ দেশের প্রায় সব বাজারেই এসব নামে চাল বিক্রি হচ্ছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, সাধারণত ব্রি-২৮, ব্রি-২৯, স্বর্ণা কিংবা অন্য মাঝারি ও মোটা জাতের ধান অতিরিক্ত পালিশ ও বিশেষ প্রক্রিয়াজাত করে মিনিকেট বা নাজিরশাইল নামে বাজারজাত করা হয়। এতে চাল দেখতে চিকন ও সাদা হলেও পুষ্টিগুণ অনেকাংশে নষ্ট হয়ে যায়।
চাল ব্যবসায়ীদের একাংশ স্বীকার করেন, ভোক্তাদের চাহিদার কারণেই এসব নামে চাল বিক্রি হচ্ছে। এক ব্যবসায়ী বলেন— ক্রেতারা মিনিকেট বা নাজিরশাইল নামেই চাল চেনেন। আসল ধানের নাম বললে অনেকেই কিনতে চান না।
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী, পণ্যের প্রকৃত পরিচয় গোপন করে ভিন্ন নামে বিক্রি করা দণ্ডনীয় অপরাধ। তবে মাঠপর্যায়ে নজরদারির অভাবে মিল ও ব্যবসায়ীরা নির্বিঘ্নে এই কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা জানান—
আমরা অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেই। তবে জনবল সংকটের কারণে সারাদেশের মিল ও বাজার নিয়মিত তদারকি করা কঠিন।
এদিকে পুষ্টিবিদরা সতর্ক করে বলছেন, অতিরিক্ত পালিশ করা চাল নিয়মিত খেলে খাদ্যগুণ কমে যায় এবং দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে এবং দীর্ঘদিন এ ধরনের চাল খেলে—
ডায়াবেটিসের ঝুঁকি,হজম সমস্যা এবং অপুষ্টি বাড়তে পারে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, চালের প্রকৃত জাত উল্লেখ করে বাজারজাত করা বাধ্যতামূলক করা গেলে ভোক্তা যেমন সঠিক তথ্য পাবেন, তেমনি বাজারেও স্বচ্ছতা ফিরবে।
উপদেষ্টা সম্পাদক: মো: ইব্রাহিম খলিল।
সম্পাদক: মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম।
লিগ্যাল এডভাইজার: মাহমুদুর রহমান সুইট- এম.কম, এল এল বি, এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট।
আপনার মতামত লিখুন