স্টাফ রিপোর্টার।যশোর:
ফলে ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষা, চিকিৎসা ও কৃষিপণ্য পরিবহনসহ স্বাভাবিক জনজীবন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সাঁকোটি ভেঙে যাওয়ায় ঝুঁকি নিয়ে অনেকেই নৌকায় নদী পার হচ্ছেন। মোটরসাইকেল ও ছোট যানবাহন চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। বাধ্য হয়ে চালকদের ১০–১২ কিলোমিটার অতিরিক্ত পথ ঘুরে গন্তব্যে পৌঁছাতে হচ্ছে। এতে নওয়াপাড়া ও মনিরামপুরের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (LGED) সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর প্রায় ৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে টেকা নদীর ওপর সেতুটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। কাজের প্রায় ৮০ শতাংশ শেষ হলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সংক্রান্ত আইনি জটিলতায় বাকি অংশের কাজ গত চার বছর ধরে বন্ধ রয়েছে। এ সময় কোনো বড় ধরনের সংস্কার না হওয়ায় এবং অতিরিক্ত চাপের কারণে বিকল্প কাঠের সাঁকোটিও গত সপ্তাহে পুরোপুরি ভেঙে পড়ে।

এই সড়কটি শুধু মনিরামপুর ও অভয়নগরের জন্য নয়; বরং কুষ্টিয়া, কেশবপুর, খুলনার ডুমুরিয়া ও পাইকগাছা, এমনকি সাতক্ষীরা জেলার মানুষের যাতায়াতের জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ পথ।
শিক্ষা: অভয়নগরের বারান্দি ও দিঘলিয়া গ্রামের শতাধিক শিক্ষার্থী মনিরামপুরের টেকারঘাট মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে যাতায়াত করে। সাঁকো ভেঙে যাওয়ায় তাদের স্কুলে যাওয়া বন্ধ রয়েছে।
চিকিৎসা: জরুরি অবস্থায় মুমূর্ষু রোগীদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
কৃষি ও বাণিজ্য: কৃষকেরা উৎপাদিত ফসল হাটবাজারে নিতে না পেরে নদীর পাড়েই অস্থায়ীভাবে কম দামে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন।
ভোগান্তি লাঘবে অভয়নগর উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বিকল্প কাঠের সাঁকোটি সাময়িকভাবে মেরামতের কাজ শুরু হয়েছে। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, এটি জোড়াতালির ব্যবস্থা মাত্র।
এ বিষয়ে LGED-এর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আইনি জটিলতা ও নকশা সংক্রান্ত সমস্যার কারণে কাজ বন্ধ ছিল। বিষয়টি সমাধানে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। অনুমোদন মিললে বাকি ২০ শতাংশ কাজ দ্রুত শেষ করা হবে বলে তারা আশ্বাস দেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের জোর দাবি—জনস্বার্থে দ্রুত আইনি জটিলতা কাটিয়ে টেকা নদীর সেতু নির্মাণকাজ সম্পন্ন করা হোক।

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫
স্টাফ রিপোর্টার।যশোর:
ফলে ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষা, চিকিৎসা ও কৃষিপণ্য পরিবহনসহ স্বাভাবিক জনজীবন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সাঁকোটি ভেঙে যাওয়ায় ঝুঁকি নিয়ে অনেকেই নৌকায় নদী পার হচ্ছেন। মোটরসাইকেল ও ছোট যানবাহন চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। বাধ্য হয়ে চালকদের ১০–১২ কিলোমিটার অতিরিক্ত পথ ঘুরে গন্তব্যে পৌঁছাতে হচ্ছে। এতে নওয়াপাড়া ও মনিরামপুরের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (LGED) সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর প্রায় ৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে টেকা নদীর ওপর সেতুটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। কাজের প্রায় ৮০ শতাংশ শেষ হলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সংক্রান্ত আইনি জটিলতায় বাকি অংশের কাজ গত চার বছর ধরে বন্ধ রয়েছে। এ সময় কোনো বড় ধরনের সংস্কার না হওয়ায় এবং অতিরিক্ত চাপের কারণে বিকল্প কাঠের সাঁকোটিও গত সপ্তাহে পুরোপুরি ভেঙে পড়ে।

এই সড়কটি শুধু মনিরামপুর ও অভয়নগরের জন্য নয়; বরং কুষ্টিয়া, কেশবপুর, খুলনার ডুমুরিয়া ও পাইকগাছা, এমনকি সাতক্ষীরা জেলার মানুষের যাতায়াতের জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ পথ।
শিক্ষা: অভয়নগরের বারান্দি ও দিঘলিয়া গ্রামের শতাধিক শিক্ষার্থী মনিরামপুরের টেকারঘাট মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে যাতায়াত করে। সাঁকো ভেঙে যাওয়ায় তাদের স্কুলে যাওয়া বন্ধ রয়েছে।
চিকিৎসা: জরুরি অবস্থায় মুমূর্ষু রোগীদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
কৃষি ও বাণিজ্য: কৃষকেরা উৎপাদিত ফসল হাটবাজারে নিতে না পেরে নদীর পাড়েই অস্থায়ীভাবে কম দামে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন।
ভোগান্তি লাঘবে অভয়নগর উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বিকল্প কাঠের সাঁকোটি সাময়িকভাবে মেরামতের কাজ শুরু হয়েছে। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, এটি জোড়াতালির ব্যবস্থা মাত্র।
এ বিষয়ে LGED-এর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আইনি জটিলতা ও নকশা সংক্রান্ত সমস্যার কারণে কাজ বন্ধ ছিল। বিষয়টি সমাধানে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। অনুমোদন মিললে বাকি ২০ শতাংশ কাজ দ্রুত শেষ করা হবে বলে তারা আশ্বাস দেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের জোর দাবি—জনস্বার্থে দ্রুত আইনি জটিলতা কাটিয়ে টেকা নদীর সেতু নির্মাণকাজ সম্পন্ন করা হোক।

আপনার মতামত লিখুন