নজর বিডি
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫

সুন্দরবনের গোলফল ও গোলগাছ: উপকূলীয় অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনা

সুন্দরবনের গোলফল ও গোলগাছ: উপকূলীয় অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনা

২৩ ডিসেম্বর ২০২৫

সুন্দরবনের ম্যানগ্রোভ অঞ্চলের এক অনন্য সম্পদ ‘গোলগাছ’। এর ফল, পাতা এবং রস উপকূলীয় মানুষের জীবন ও জীবিকার অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে। কেবল ঘরের ছাউনি হিসেবে নয়, পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ এর ফল ‘গোলফল’ এবং মিষ্টি রস থেকে তৈরি গুড় এখন খুলনার উপকূলীয় জনপদে অর্থনৈতির নতুন দিগন্ত উন্মোচন করছে।

গোলফলের পুষ্টি ও স্বাদ

গোলফল দেখতে অনেকটা কাঁঠালের মতো হলেও এর ভেতরের শাঁস অনেকটা তালের শাঁসের মতো সুস্বাদু। এতে পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন সি-এর মতো প্রয়োজনীয় খনিজ উপাদান রয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মতে, এর গ্লাইসেমিক ইনডেক্স মাত্র ৩৫, যা ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য অত্যন্ত নিরাপদ ও উপকারী একটি ফল।

বহুমুখী ব্যবহার ও সম্ভাবনা

  • পাতা ও শাঁস: গোলপাতা ঘরের ছাউনির কাজে এবং ফলের পুষ্টিকর শাঁস খাবার হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

  • রস ও গুড়: গোলগাছের ফলভরা থোকা থেকে সংগৃহীত রস দিয়ে তৈরি হয় সুস্বাদু গুড়। এই রসের ঘনত্ব খেজুরের রসের চেয়েও বেশি। উপকূলীয় অঞ্চলে বছরে প্রায় ১০ হাজার টন গোলের গুড় উৎপাদিত হয়।

  • ভেষজ গুণ: লোকজ চিকিৎসায় এটি কৃমি দমন, পানিশূন্যতা পূরণ ও চর্মরোগ নিরাময়ে ব্যবহৃত হয়। এর শিকড় সেদ্ধ পানি আমাশয় ও অনিদ্রার উপশমে সহায়ক।

  • সুন্দরবনের গোলফল ও গোলগাছ: উপকূলীয় অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনা

উপকূলের জীবন ও ঐতিহ্য

সুন্দরবন সংলগ্ন কয়রা ও ডুমুরিয়া অঞ্চলের নদীগুলোতে জোয়ারের সঙ্গে ভেসে আসা ফল থেকেই নতুন গাছের জন্ম হয়। জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত বাওয়ালিরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সুন্দরবন থেকে গোলপাতা সংগ্রহ করেন। এছাড়া ১৭৮৪ সালে রাখাইন জনগোষ্ঠীর হাত ধরে আসা এই গাছ থেকে রস সংগ্রহের ঐতিহ্য আজও টিকে আছে।

খুলনা অঞ্চলের লোনা পতিত জমিতে গোলগাছ চাষের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও বাংলাদেশ সুগারক্রপ গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএসআরআই) এই সম্পদকে বাণিজ্যিক রূপ দিতে এবং গুড় উৎপাদন নিয়ে নতুন করে গবেষণা শুরু করেছে।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
নজর বিডি

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬


সুন্দরবনের গোলফল ও গোলগাছ: উপকূলীয় অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনা

প্রকাশের তারিখ : ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫

featured Image

২৩ ডিসেম্বর ২০২৫

সুন্দরবনের ম্যানগ্রোভ অঞ্চলের এক অনন্য সম্পদ ‘গোলগাছ’। এর ফল, পাতা এবং রস উপকূলীয় মানুষের জীবন ও জীবিকার অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে। কেবল ঘরের ছাউনি হিসেবে নয়, পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ এর ফল ‘গোলফল’ এবং মিষ্টি রস থেকে তৈরি গুড় এখন খুলনার উপকূলীয় জনপদে অর্থনৈতির নতুন দিগন্ত উন্মোচন করছে।

গোলফলের পুষ্টি ও স্বাদ

গোলফল দেখতে অনেকটা কাঁঠালের মতো হলেও এর ভেতরের শাঁস অনেকটা তালের শাঁসের মতো সুস্বাদু। এতে পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন সি-এর মতো প্রয়োজনীয় খনিজ উপাদান রয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মতে, এর গ্লাইসেমিক ইনডেক্স মাত্র ৩৫, যা ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য অত্যন্ত নিরাপদ ও উপকারী একটি ফল।

বহুমুখী ব্যবহার ও সম্ভাবনা

  • পাতা ও শাঁস: গোলপাতা ঘরের ছাউনির কাজে এবং ফলের পুষ্টিকর শাঁস খাবার হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

  • রস ও গুড়: গোলগাছের ফলভরা থোকা থেকে সংগৃহীত রস দিয়ে তৈরি হয় সুস্বাদু গুড়। এই রসের ঘনত্ব খেজুরের রসের চেয়েও বেশি। উপকূলীয় অঞ্চলে বছরে প্রায় ১০ হাজার টন গোলের গুড় উৎপাদিত হয়।

  • ভেষজ গুণ: লোকজ চিকিৎসায় এটি কৃমি দমন, পানিশূন্যতা পূরণ ও চর্মরোগ নিরাময়ে ব্যবহৃত হয়। এর শিকড় সেদ্ধ পানি আমাশয় ও অনিদ্রার উপশমে সহায়ক।

  • সুন্দরবনের গোলফল ও গোলগাছ: উপকূলীয় অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনা

উপকূলের জীবন ও ঐতিহ্য

সুন্দরবন সংলগ্ন কয়রা ও ডুমুরিয়া অঞ্চলের নদীগুলোতে জোয়ারের সঙ্গে ভেসে আসা ফল থেকেই নতুন গাছের জন্ম হয়। জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত বাওয়ালিরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সুন্দরবন থেকে গোলপাতা সংগ্রহ করেন। এছাড়া ১৭৮৪ সালে রাখাইন জনগোষ্ঠীর হাত ধরে আসা এই গাছ থেকে রস সংগ্রহের ঐতিহ্য আজও টিকে আছে।

খুলনা অঞ্চলের লোনা পতিত জমিতে গোলগাছ চাষের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও বাংলাদেশ সুগারক্রপ গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএসআরআই) এই সম্পদকে বাণিজ্যিক রূপ দিতে এবং গুড় উৎপাদন নিয়ে নতুন করে গবেষণা শুরু করেছে।


নজর বিডি

উপদেষ্টা সম্পাদক: মো: ইব্রাহিম খলিল। 
সম্পাদক: মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম। 
লিগ্যাল এডভাইজার: মাহমুদুর রহমান সুইট- এম.কম, এল এল বি, এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট।


 

কপিরাইট © ২০২৬ নজর বিডি সর্বস্ব সংরক্ষিত