নাহিদ হোসেন (স্টাফ রিপোর্টার)
এখানকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা আর সাংস্কৃতিক আবহ প্রতি বছর লাখো পর্যটককে টানে। আপনি যদি কুষ্টিয়ায় ঘুরতে আসার পরিকল্পনা করেন, তবে অবশ্যই দেখে আসতে পারেন নিচের ৫টি মনোমুগ্ধকর দর্শনীয় স্থান।
কুষ্টিয়া—শিল্প, সাহিত্য, ইতিহাস আর আধ্যাত্মিকতার ভান্ডার। এখানকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা আর সাংস্কৃতিক আবহ প্রতি বছর লাখো পর্যটককে টানে। আপনি যদি কুষ্টিয়ায় ঘুরতে আসার পরিকল্পনা করেন, তবে অবশ্যই দেখে আসতে পারেন নিচের ৫টি মনোমুগ্ধকর দর্শনীয় স্থান।
১. লালন শাহ সেতু ও হার্ডিঞ্জ সেতু—আধুনিক ও ঐতিহ্যের যুগল সৌন্দর্য।
দুইটি সেতুই পাবনা জেলার ঈশ্বরদী উপজেলার পাকশী এবং কুষ্টিয়া জেলার ভেড়ামারা উপজেলার সংযোগস্থলে গঙ্গা বা পদ্মা নদীর উপর অবস্থিত।
১.৮ কিলোমিটার দীর্ঘ লালন শাহ সেতুর উপর দাঁড়িয়ে ঝোড়ো বাতাসের স্পর্শে পদ্মার বিশাল জলরাশি আর আশপাশের সবুজ ভূমি আপনাকে মুগ্ধ করবেই।
এর সমান্তরালে দাঁড়িয়ে আছে প্রায় শতবর্ষী হার্ডিঞ্জ সেতু, একটি ঐতিহাসিক ইস্পাত নির্মিত রেলসেতু। এক পাশে আধুনিক লালন শাহ সেতু, অন্য পাশে ব্রিটিশ আমলের স্থাপত্য—দুটি সেতুকে একসঙ্গে দেখার অভিজ্ঞতা সত্যিই অনন্য।
২. চাঁপাইগাছি বিল—প্রকৃতির নীরবতার অপার সৌন্দর্য।
কুষ্টিয়া শহর থেকে মাত্র ১৩ কিলোমিটার দূরের এই বিল প্রকৃতি প্রেমীদের অন্যতম প্রিয় স্থান। দুই খাল ও তিন নদীর মিলনে গঠিত এ জলাভূমির দৃশ্য মনকাড়া।বিলটি মূলত কুষ্টিয়া সদর উপজেলার ঝাউদিয়া ও পাটিকাবাড়ী ইউনিয়নের সংযোগস্থলে এটি অবস্থিত। এটি অন্তত ১৫টি গ্রামের জীবনযাত্রার সাথে নিবিড়ভাবে জড়িত।
বর্ষা মৌসুমে বিলটির আয়তন প্রায় ৫.৭৯ বর্গকিলোমিটার (১,৪৩০ একর) পর্যন্ত বিস্তৃত হয়। শুষ্ক মৌসুমে এর আয়তন কমে ১.৯৩ বর্গকিলোমিটার (৪৮০ একর) হয়।
বর্ষায় এখানে ঢেউ খেলানো পানির সৌন্দর্য মন ছুঁয়ে যাবে।
গ্রীষ্মে পানির স্তর কমে গেলে এই বিলে প্রচুর পরিমাণে দেশীয় প্রজাতির মাছ যেমন: রুই, কাতলা, মৃগেল, শোল, বোয়াল, বাইম ইত্যাদি পাওয়া যেত। যদিও বর্তমানে পানির স্তর কমে যাওয়ায় অনেক প্রজাতি বিলুপ্তির পথে।
৩. টেগোর লজ—রবীন্দ্রনাথের স্মৃতিবিজড়িত স্থান ।
টেগোর লজ কুষ্টিয়ার মিলপাড়ায় অবস্থিত, যা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘টেগর অ্যান্ড কোম্পানি’ নামক একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের অফিস হিসেবে ১৮৯৫ সালে নির্মিত হয়েছিল। বর্তমানে এটি একটি জাদুঘর হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
মিলপাড়ায় অবস্থিত এ ভবনটি একসময় কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আবাস ও সৃষ্টির কেন্দ্র ছিল। এখানেই তিনি “সোনার তরী”, “চিত্রা”,সহ বহু সাহিত্যকর্মের প্রেরণা পেয়েছিলেন।
দুটি তলার এই স্থাপনা জুড়ে রয়েছে:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আবক্ষ মূর্তি,বিশাল হলঘর,তাঁর লেখা বইয়ের কপি এবং ১২টি চিত্রকর্ম।
৫. ঝাউদিয়া শাহী মসজিদ—ইতিহাসের বুকে দাঁড়িয়ে থাকা নির্মাণশৈলী।
কুষ্টিয়া সদর থেকে ২২ কিলোমিটার দূরের ঝাউদিয়া গ্রামের এই মসজিদটি প্রত্নতাত্ত্বিক বিস্ময়। মসজিদটি মুঘল সম্রাট শাহজাহানের রাজত্বকালে ঝাউদিয়ার তৎকালীন জমিদার শাহ সূফী আহমদ আলী ওরফে আদারী মিয়া নির্মাণ করেন। এটি প্রায় ৪০০ বছরের পুরোনো।
মসজিদের বৈশিষ্ট্য: তিনটি গম্বুজ,সুন্দর খিলান,মাটির টালি দিয়ে তৈরি দেয়াল—যা ভেতরটা শীতল রাখে এবং উপরে পাঁচটি অতিরিক্ত গম্বুজ এবং দুটি মিনার।
ইতিহাসপ্রেমী যে কারও জন্য এটি একটি আদর্শ ভ্রমণস্থল।
কুষ্টিয়া ভ্রমণ সম্পূর্ণ করতে হলে এই পাঁচটি জায়গা মিস করতে পারবেন না
ভ্রমণে আপনি পাবেন একত্রে—
প্রকৃতি, স্থাপত্য, ইতিহাস আর আধ্যাত্মিকতা—সব মিলিয়ে কুষ্টিয়া আপনাকে দেবে এক অনন্য ভ্রমণ অভিজ্ঞতা।

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫
নাহিদ হোসেন (স্টাফ রিপোর্টার)
এখানকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা আর সাংস্কৃতিক আবহ প্রতি বছর লাখো পর্যটককে টানে। আপনি যদি কুষ্টিয়ায় ঘুরতে আসার পরিকল্পনা করেন, তবে অবশ্যই দেখে আসতে পারেন নিচের ৫টি মনোমুগ্ধকর দর্শনীয় স্থান।
কুষ্টিয়া—শিল্প, সাহিত্য, ইতিহাস আর আধ্যাত্মিকতার ভান্ডার। এখানকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা আর সাংস্কৃতিক আবহ প্রতি বছর লাখো পর্যটককে টানে। আপনি যদি কুষ্টিয়ায় ঘুরতে আসার পরিকল্পনা করেন, তবে অবশ্যই দেখে আসতে পারেন নিচের ৫টি মনোমুগ্ধকর দর্শনীয় স্থান।
১. লালন শাহ সেতু ও হার্ডিঞ্জ সেতু—আধুনিক ও ঐতিহ্যের যুগল সৌন্দর্য।
দুইটি সেতুই পাবনা জেলার ঈশ্বরদী উপজেলার পাকশী এবং কুষ্টিয়া জেলার ভেড়ামারা উপজেলার সংযোগস্থলে গঙ্গা বা পদ্মা নদীর উপর অবস্থিত।
১.৮ কিলোমিটার দীর্ঘ লালন শাহ সেতুর উপর দাঁড়িয়ে ঝোড়ো বাতাসের স্পর্শে পদ্মার বিশাল জলরাশি আর আশপাশের সবুজ ভূমি আপনাকে মুগ্ধ করবেই।
এর সমান্তরালে দাঁড়িয়ে আছে প্রায় শতবর্ষী হার্ডিঞ্জ সেতু, একটি ঐতিহাসিক ইস্পাত নির্মিত রেলসেতু। এক পাশে আধুনিক লালন শাহ সেতু, অন্য পাশে ব্রিটিশ আমলের স্থাপত্য—দুটি সেতুকে একসঙ্গে দেখার অভিজ্ঞতা সত্যিই অনন্য।
২. চাঁপাইগাছি বিল—প্রকৃতির নীরবতার অপার সৌন্দর্য।
কুষ্টিয়া শহর থেকে মাত্র ১৩ কিলোমিটার দূরের এই বিল প্রকৃতি প্রেমীদের অন্যতম প্রিয় স্থান। দুই খাল ও তিন নদীর মিলনে গঠিত এ জলাভূমির দৃশ্য মনকাড়া।বিলটি মূলত কুষ্টিয়া সদর উপজেলার ঝাউদিয়া ও পাটিকাবাড়ী ইউনিয়নের সংযোগস্থলে এটি অবস্থিত। এটি অন্তত ১৫টি গ্রামের জীবনযাত্রার সাথে নিবিড়ভাবে জড়িত।
বর্ষা মৌসুমে বিলটির আয়তন প্রায় ৫.৭৯ বর্গকিলোমিটার (১,৪৩০ একর) পর্যন্ত বিস্তৃত হয়। শুষ্ক মৌসুমে এর আয়তন কমে ১.৯৩ বর্গকিলোমিটার (৪৮০ একর) হয়।
বর্ষায় এখানে ঢেউ খেলানো পানির সৌন্দর্য মন ছুঁয়ে যাবে।
গ্রীষ্মে পানির স্তর কমে গেলে এই বিলে প্রচুর পরিমাণে দেশীয় প্রজাতির মাছ যেমন: রুই, কাতলা, মৃগেল, শোল, বোয়াল, বাইম ইত্যাদি পাওয়া যেত। যদিও বর্তমানে পানির স্তর কমে যাওয়ায় অনেক প্রজাতি বিলুপ্তির পথে।
৩. টেগোর লজ—রবীন্দ্রনাথের স্মৃতিবিজড়িত স্থান ।
টেগোর লজ কুষ্টিয়ার মিলপাড়ায় অবস্থিত, যা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘টেগর অ্যান্ড কোম্পানি’ নামক একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের অফিস হিসেবে ১৮৯৫ সালে নির্মিত হয়েছিল। বর্তমানে এটি একটি জাদুঘর হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
মিলপাড়ায় অবস্থিত এ ভবনটি একসময় কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আবাস ও সৃষ্টির কেন্দ্র ছিল। এখানেই তিনি “সোনার তরী”, “চিত্রা”,সহ বহু সাহিত্যকর্মের প্রেরণা পেয়েছিলেন।
দুটি তলার এই স্থাপনা জুড়ে রয়েছে:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আবক্ষ মূর্তি,বিশাল হলঘর,তাঁর লেখা বইয়ের কপি এবং ১২টি চিত্রকর্ম।
৫. ঝাউদিয়া শাহী মসজিদ—ইতিহাসের বুকে দাঁড়িয়ে থাকা নির্মাণশৈলী।
কুষ্টিয়া সদর থেকে ২২ কিলোমিটার দূরের ঝাউদিয়া গ্রামের এই মসজিদটি প্রত্নতাত্ত্বিক বিস্ময়। মসজিদটি মুঘল সম্রাট শাহজাহানের রাজত্বকালে ঝাউদিয়ার তৎকালীন জমিদার শাহ সূফী আহমদ আলী ওরফে আদারী মিয়া নির্মাণ করেন। এটি প্রায় ৪০০ বছরের পুরোনো।
মসজিদের বৈশিষ্ট্য: তিনটি গম্বুজ,সুন্দর খিলান,মাটির টালি দিয়ে তৈরি দেয়াল—যা ভেতরটা শীতল রাখে এবং উপরে পাঁচটি অতিরিক্ত গম্বুজ এবং দুটি মিনার।
ইতিহাসপ্রেমী যে কারও জন্য এটি একটি আদর্শ ভ্রমণস্থল।
কুষ্টিয়া ভ্রমণ সম্পূর্ণ করতে হলে এই পাঁচটি জায়গা মিস করতে পারবেন না
ভ্রমণে আপনি পাবেন একত্রে—
প্রকৃতি, স্থাপত্য, ইতিহাস আর আধ্যাত্মিকতা—সব মিলিয়ে কুষ্টিয়া আপনাকে দেবে এক অনন্য ভ্রমণ অভিজ্ঞতা।

আপনার মতামত লিখুন