নজর বিডি
প্রকাশ : বুধবার, ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫

ডুমুরিয়ায় সরিষা ক্ষেতে মৌ-চাষের ধুম: মধু আহরণে লাভবান চাষি, বাড়ছে ফলন

ডুমুরিয়ায় সরিষা ক্ষেতে মৌ-চাষের ধুম: মধু আহরণে লাভবান চাষি, বাড়ছে ফলন

২৪ ডিসেম্বর ২০২৫, নজরবিডি

হলুদ সরিষা ফুলে ছেয়ে গেছে খুলনার ডুমুরিয়ার চারপাশ। বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠ যেন সেজেছে নববধূর হলুদ সন্ধ্যার সাজে। আর এই নয়নাভিরাম প্রকৃতির মাঝেই বসানো হয়েছে শত শত মৌ-বাক্স। মৌমাছির গুঞ্জনে মুখরিত সরিষা ক্ষেত থেকে এখন মধু সংগ্রহে ব্যস্ত সময় পার করছেন মৌ-চাষিরা। এতে একদিকে যেমন চাষিরা বাণিজ্যিকভাবে লাভবান হচ্ছেন, অন্যদিকে মৌমাছির পরাগায়ণে সরিষার ফলনও বাড়ছে।

মধু সংগ্রহের চিত্র সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার যতীন্দ্রনগর এলাকার অভিজ্ঞ মৌ-চাষি মিজানুর রহমান গত ১৪ দিন ধরে ডুমুরিয়ার মাঠে ২৪৬টি মৌ-বাক্স বসিয়েছেন। তার খামারের শ্রমিক মোঃ ইসলাম, কবির ও হাসান জানান, প্রতি ১০ দিন পর পর বাক্স থেকে মধু সংগ্রহ করা হয়। প্রতিটি বাক্স থেকে গড়ে ৪ কেজি মধু পাওয়া যায়। এ পর্যন্ত ২৪৬টি বাক্স থেকে প্রায় ৩৫ মণ মধু সংগ্রহ করা হয়েছে।

বাজারজাতকরণ ও আয় এক যুগ ধরে মৌ-চাষের সঙ্গে যুক্ত মিজানুর রহমান বলেন, "গত বছর ৫ মাসে ১২০ মণ মধু পেয়েছিলাম। এ বছরও একই প্রত্যাশা করছি। প্রতি কেজি মধু ৪০০ টাকা দরে বিক্রি হয়।" সংগৃহীত এই মধু দেশের এসিআই ও এপি এবং ভারতের ডাবর কোম্পানির কাছে পাইকারি বিক্রি করা হয়। এ ছাড়া স্থানীয় পর্যায়ে খুচরা বিক্রির চাহিদাও প্রচুর।

মৌ-চাষের বৈজ্ঞানিক ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব মৌ-চাষিদের দেওয়া তথ্যমতে:

  • বাক্সের গঠন: প্রতিটি বাক্সে ৬-৮টি ফ্রেম থাকে এবং একটি রাণী মৌমাছির সঙ্গে প্রায় ৫০ হাজারের বেশি শ্রমিক মৌমাছি থাকে।

  • বিচরণ: মৌমাছিগুলো প্রায় ৪ কিলোমিটার দূর পর্যন্ত উড়ে গিয়ে মধু সংগ্রহ করতে পারে।

  • চক্র: শীত মৌসুমে সরিষা ফুল থেকে মধু সংগ্রহ শুরু হয়। এরপর ধনে, কালিজিরা এবং চৈত্র মাসে লিচু ফুল থেকে মধু সংগ্রহের জন্য মৌ-চাষিরা নাটোর, রাজশাহী ও দিনাজপুরসহ উত্তরাঞ্চলে পাড়ি জমান।

কৃষি দপ্তরের তথ্য খুলনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোঃ নজরুল ইসলাম জানান, গত বছর জেলায় ৪১ হাজার ১৬৫ হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ হয়েছিল, যেখান থেকে প্রায় ২৭ টন মধু পাওয়া যায়। এ বছর আবাদ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪১ হাজার ৫৫০ হেক্টরে। এ বছর ৪৫ জন মৌ-চাষি জেলায় ৭ হাজার ২৮৭টি মৌ-বাক্স স্থাপন করেছেন।

তিনি আরও বলেন, “মৌ-চাষের ফলে সরিষার পরাগায়ণ ভালো হয়, যা উৎপাদন বৃদ্ধিতে সহায়ক। এতে মৌ-চাষি ও কৃষক—উভয়ই লাভবান হচ্ছেন।”

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
নজর বিডি

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬


ডুমুরিয়ায় সরিষা ক্ষেতে মৌ-চাষের ধুম: মধু আহরণে লাভবান চাষি, বাড়ছে ফলন

প্রকাশের তারিখ : ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫

featured Image

২৪ ডিসেম্বর ২০২৫, নজরবিডি

হলুদ সরিষা ফুলে ছেয়ে গেছে খুলনার ডুমুরিয়ার চারপাশ। বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠ যেন সেজেছে নববধূর হলুদ সন্ধ্যার সাজে। আর এই নয়নাভিরাম প্রকৃতির মাঝেই বসানো হয়েছে শত শত মৌ-বাক্স। মৌমাছির গুঞ্জনে মুখরিত সরিষা ক্ষেত থেকে এখন মধু সংগ্রহে ব্যস্ত সময় পার করছেন মৌ-চাষিরা। এতে একদিকে যেমন চাষিরা বাণিজ্যিকভাবে লাভবান হচ্ছেন, অন্যদিকে মৌমাছির পরাগায়ণে সরিষার ফলনও বাড়ছে।

মধু সংগ্রহের চিত্র সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার যতীন্দ্রনগর এলাকার অভিজ্ঞ মৌ-চাষি মিজানুর রহমান গত ১৪ দিন ধরে ডুমুরিয়ার মাঠে ২৪৬টি মৌ-বাক্স বসিয়েছেন। তার খামারের শ্রমিক মোঃ ইসলাম, কবির ও হাসান জানান, প্রতি ১০ দিন পর পর বাক্স থেকে মধু সংগ্রহ করা হয়। প্রতিটি বাক্স থেকে গড়ে ৪ কেজি মধু পাওয়া যায়। এ পর্যন্ত ২৪৬টি বাক্স থেকে প্রায় ৩৫ মণ মধু সংগ্রহ করা হয়েছে।

বাজারজাতকরণ ও আয় এক যুগ ধরে মৌ-চাষের সঙ্গে যুক্ত মিজানুর রহমান বলেন, "গত বছর ৫ মাসে ১২০ মণ মধু পেয়েছিলাম। এ বছরও একই প্রত্যাশা করছি। প্রতি কেজি মধু ৪০০ টাকা দরে বিক্রি হয়।" সংগৃহীত এই মধু দেশের এসিআই ও এপি এবং ভারতের ডাবর কোম্পানির কাছে পাইকারি বিক্রি করা হয়। এ ছাড়া স্থানীয় পর্যায়ে খুচরা বিক্রির চাহিদাও প্রচুর।

মৌ-চাষের বৈজ্ঞানিক ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব মৌ-চাষিদের দেওয়া তথ্যমতে:

  • বাক্সের গঠন: প্রতিটি বাক্সে ৬-৮টি ফ্রেম থাকে এবং একটি রাণী মৌমাছির সঙ্গে প্রায় ৫০ হাজারের বেশি শ্রমিক মৌমাছি থাকে।

  • বিচরণ: মৌমাছিগুলো প্রায় ৪ কিলোমিটার দূর পর্যন্ত উড়ে গিয়ে মধু সংগ্রহ করতে পারে।

  • চক্র: শীত মৌসুমে সরিষা ফুল থেকে মধু সংগ্রহ শুরু হয়। এরপর ধনে, কালিজিরা এবং চৈত্র মাসে লিচু ফুল থেকে মধু সংগ্রহের জন্য মৌ-চাষিরা নাটোর, রাজশাহী ও দিনাজপুরসহ উত্তরাঞ্চলে পাড়ি জমান।

কৃষি দপ্তরের তথ্য খুলনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোঃ নজরুল ইসলাম জানান, গত বছর জেলায় ৪১ হাজার ১৬৫ হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ হয়েছিল, যেখান থেকে প্রায় ২৭ টন মধু পাওয়া যায়। এ বছর আবাদ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪১ হাজার ৫৫০ হেক্টরে। এ বছর ৪৫ জন মৌ-চাষি জেলায় ৭ হাজার ২৮৭টি মৌ-বাক্স স্থাপন করেছেন।

তিনি আরও বলেন, “মৌ-চাষের ফলে সরিষার পরাগায়ণ ভালো হয়, যা উৎপাদন বৃদ্ধিতে সহায়ক। এতে মৌ-চাষি ও কৃষক—উভয়ই লাভবান হচ্ছেন।”


নজর বিডি

উপদেষ্টা সম্পাদক: মো: ইব্রাহিম খলিল। 
সম্পাদক: মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম। 
লিগ্যাল এডভাইজার: মাহমুদুর রহমান সুইট- এম.কম, এল এল বি, এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট।


 

কপিরাইট © ২০২৬ নজর বিডি সর্বস্ব সংরক্ষিত