বিজ্ঞাপন[/caption]
কার্তিকের এই সাফল্যের পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান তাঁর বাবা মনোজ শর্মার। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্থান টাইমস–এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মনোজ শর্মা নিজেও একসময় ক্রিকেটার হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন। কিন্তু চোটের কারণে সেই স্বপ্ন পূরণ হয়নি। ছেলের মধ্য দিয়েই নিজের অপূর্ণ স্বপ্ন বাস্তবায়নের চেষ্টা করেন তিনি।
তবে সেই পথে চলা ছিল ভীষণ কষ্টসাধ্য। কার্তিককে ক্রিকেটার বানাতে গিয়ে পরিবারকে চরম আর্থিক সংকটের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। মনোজ শর্মার স্থায়ী কোনো পেশা ছিল না; জীবিকা নির্বাহের জন্য তাঁকে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন কাজ করতে হয়েছে। সংসার চালাতে ভাঙতে হয়েছে সঞ্চয়, বিক্রি করতে হয়েছে গয়না, নিতে হয়েছে ঋণ। পরিবারের সদস্যদের অনেককে বাড়তি কাজও করতে হয়েছে।
একসময় কার্তিকের অনুশীলনের জন্য বোলিং মেশিন ও নেট বসাতে গিয়ে পরিবারকে জমিও বিক্রি করতে হয়। দুর্ভাগ্যজনকভাবে সেখানেও বিপত্তি পিছু ছাড়েনি—খেলার সরঞ্জাম চুরি যায়, নেট ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবু থামেননি মনোজ শর্মা। বাবার সেই নিরলস সংগ্রাম খুব কাছ থেকে দেখেছেন কার্তিক, যা আজও তাঁকে আবেগতাড়িত করে।
ডানহাতি এই মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান মূলত ছক্কা মারার জন্য পরিচিত। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে তিনি খেলেছেন ৮টি ম্যাচ, লিস্ট এ ক্রিকেটে ৯টি এবং টি-টোয়েন্টিতে ১২টি ম্যাচ। প্রথম শ্রেণিতে তাঁর রয়েছে ৩টি সেঞ্চুরি, লিস্ট এ–তে ২টি। টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে করেছেন দুটি ফিফটি। সব মিলিয়ে টি-টোয়েন্টিতে ১১ ইনিংসে ২৮টি ছক্কা হাঁকিয়েছেন কার্তিক, স্ট্রাইক রেট ১৬২.৯২।
রঞ্জি ট্রফিতে অভিষেক ম্যাচেই সেঞ্চুরি করে নজর কাড়েন তিনি। রাজস্থানের হয়ে গত মৌসুমে বিজয় হাজারে ট্রফিতে ৮ ইনিংসে ৪৪৫ রান করেন কার্তিক, যা ছিল দলের মধ্যে সর্বোচ্চ। এছাড়া ২০২৪ সালে শেরে পাঞ্জাব টি-টোয়েন্টি লিগে ১০ ম্যাচে ১৬৮ স্ট্রাইক রেটে সংগ্রহ করেন ৪৫৭ রান। বড় ইনিংস খেলার পাশাপাশি আক্রমণাত্মক ব্যাটিং—দুটোই যে তাঁর শক্তি, তা পরিসংখ্যানেই স্পষ্ট।
এই সামর্থ্যের কারণেই চেন্নাই সুপার কিংসের মতো দল তাঁকে পেতে নিলামে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ করেছে। নিলামের অভিজ্ঞতা এখনও বিশ্বাস করতে পারছেন না কার্তিক। সেই মুহূর্তের অনুভূতি জানিয়ে তিনি বলেন,
‘আমি এতটাই খুশি ছিলাম যে শেষ পর্যন্ত কেঁদে ফেলি। বিডিং শুরু হওয়ার সময় খুব ভয় লাগছিল—মনে হচ্ছিল, হয়তো আজ আমাকে নেবে না। কিন্তু বিডিং শুরু হতেই থামছিল না। একের পর এক বিড চলতেই থাকল। তখন আর চোখের পানি ধরে রাখতে পারিনি। বিডিং শেষ হওয়ার পরও আমি কাঁদছিলাম। সবাই নাচছিল, আর আমি কাঁদছিলাম—খুশিতে।’
আইপিএলের নিলামে কোটি টাকার ডাক শুধু কার্তিক শর্মার ক্যারিয়ারই নয়, তাঁর পরিবারের দীর্ঘদিনের সংগ্রাম আর ত্যাগেরও এক আবেগঘন স্বীকৃতি হয়ে রইল। 
শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৬ ডিসেম্বর ২০২৫
বিজ্ঞাপন[/caption]
কার্তিকের এই সাফল্যের পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান তাঁর বাবা মনোজ শর্মার। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্থান টাইমস–এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মনোজ শর্মা নিজেও একসময় ক্রিকেটার হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন। কিন্তু চোটের কারণে সেই স্বপ্ন পূরণ হয়নি। ছেলের মধ্য দিয়েই নিজের অপূর্ণ স্বপ্ন বাস্তবায়নের চেষ্টা করেন তিনি।
তবে সেই পথে চলা ছিল ভীষণ কষ্টসাধ্য। কার্তিককে ক্রিকেটার বানাতে গিয়ে পরিবারকে চরম আর্থিক সংকটের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। মনোজ শর্মার স্থায়ী কোনো পেশা ছিল না; জীবিকা নির্বাহের জন্য তাঁকে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন কাজ করতে হয়েছে। সংসার চালাতে ভাঙতে হয়েছে সঞ্চয়, বিক্রি করতে হয়েছে গয়না, নিতে হয়েছে ঋণ। পরিবারের সদস্যদের অনেককে বাড়তি কাজও করতে হয়েছে।
একসময় কার্তিকের অনুশীলনের জন্য বোলিং মেশিন ও নেট বসাতে গিয়ে পরিবারকে জমিও বিক্রি করতে হয়। দুর্ভাগ্যজনকভাবে সেখানেও বিপত্তি পিছু ছাড়েনি—খেলার সরঞ্জাম চুরি যায়, নেট ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবু থামেননি মনোজ শর্মা। বাবার সেই নিরলস সংগ্রাম খুব কাছ থেকে দেখেছেন কার্তিক, যা আজও তাঁকে আবেগতাড়িত করে।
ডানহাতি এই মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান মূলত ছক্কা মারার জন্য পরিচিত। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে তিনি খেলেছেন ৮টি ম্যাচ, লিস্ট এ ক্রিকেটে ৯টি এবং টি-টোয়েন্টিতে ১২টি ম্যাচ। প্রথম শ্রেণিতে তাঁর রয়েছে ৩টি সেঞ্চুরি, লিস্ট এ–তে ২টি। টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে করেছেন দুটি ফিফটি। সব মিলিয়ে টি-টোয়েন্টিতে ১১ ইনিংসে ২৮টি ছক্কা হাঁকিয়েছেন কার্তিক, স্ট্রাইক রেট ১৬২.৯২।
রঞ্জি ট্রফিতে অভিষেক ম্যাচেই সেঞ্চুরি করে নজর কাড়েন তিনি। রাজস্থানের হয়ে গত মৌসুমে বিজয় হাজারে ট্রফিতে ৮ ইনিংসে ৪৪৫ রান করেন কার্তিক, যা ছিল দলের মধ্যে সর্বোচ্চ। এছাড়া ২০২৪ সালে শেরে পাঞ্জাব টি-টোয়েন্টি লিগে ১০ ম্যাচে ১৬৮ স্ট্রাইক রেটে সংগ্রহ করেন ৪৫৭ রান। বড় ইনিংস খেলার পাশাপাশি আক্রমণাত্মক ব্যাটিং—দুটোই যে তাঁর শক্তি, তা পরিসংখ্যানেই স্পষ্ট।
এই সামর্থ্যের কারণেই চেন্নাই সুপার কিংসের মতো দল তাঁকে পেতে নিলামে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ করেছে। নিলামের অভিজ্ঞতা এখনও বিশ্বাস করতে পারছেন না কার্তিক। সেই মুহূর্তের অনুভূতি জানিয়ে তিনি বলেন,
‘আমি এতটাই খুশি ছিলাম যে শেষ পর্যন্ত কেঁদে ফেলি। বিডিং শুরু হওয়ার সময় খুব ভয় লাগছিল—মনে হচ্ছিল, হয়তো আজ আমাকে নেবে না। কিন্তু বিডিং শুরু হতেই থামছিল না। একের পর এক বিড চলতেই থাকল। তখন আর চোখের পানি ধরে রাখতে পারিনি। বিডিং শেষ হওয়ার পরও আমি কাঁদছিলাম। সবাই নাচছিল, আর আমি কাঁদছিলাম—খুশিতে।’
আইপিএলের নিলামে কোটি টাকার ডাক শুধু কার্তিক শর্মার ক্যারিয়ারই নয়, তাঁর পরিবারের দীর্ঘদিনের সংগ্রাম আর ত্যাগেরও এক আবেগঘন স্বীকৃতি হয়ে রইল। 
আপনার মতামত লিখুন