২৭ ডিসেম্বর ২০২৫, নজরবিডি
বাংলার লোকজ সংস্কৃতি আর খাবারের ঐতিহ্যে রাজবাড়ী জেলার নাম ডাক বহু আগে থেকেই। আর এই ঐতিহ্যের রাজমুকুট যদি হয় কোনো মিষ্টি, তবে সবার আগে নাম আসে ‘শংকর মিষ্টান্ন ভাণ্ডার’-এর।
বিশেষ করে তাদের তৈরি ‘ক্ষীর চমচম’—যা কেবল একটি মিষ্টি নয়, বরং রাজবাড়ীবাসীর গর্ব আর ঐতিহ্যের এক টুকরো মায়া।
দেশভাগের পরবর্তী সময়ে, অর্থাৎ প্রায় ৭৫ বছর আগে রাজবাড়ী শহরের প্রধান সড়কে যাত্রা শুরু করে শংকর মিষ্টান্ন ভাণ্ডার। প্রতিষ্ঠাতা শংকর সাহার হাত ধরে শুরু হওয়া এই দোকানটি বর্তমানে তার পরবর্তী প্রজন্মের সুযোগ্য পরিচালনায় চলছে। ঐতিহ্যের খাতিরে তারা দোকানের আধুনিকায়ন করলেও মিষ্টি তৈরির সেই পুরনো এবং ঘরোয়া পদ্ধতি আজও বিসর্জন দেয়নি। এই দীর্ঘ পথচলায় প্রতিষ্ঠানটি হয়ে উঠেছে রাজবাড়ীর অন্যতম ব্র্যান্ড। শংকর মিষ্টান্ন ভাণ্ডারের ক্ষীর চমচমের বিশেষত্ব হলো এর বিশুদ্ধতা ও তৈরির কারুকাজ। খাঁটি ছানা দিয়ে তৈরি চমচমের ওপর ঘন ক্ষীরের প্রলেপ একে দেয় এক অনন্য স্বাদ। মুখে দিলেই মিলিয়ে যাওয়া এই মিষ্টির স্বাদ একবার যে গ্রহণ করেছেন, তার মনে থাকবে সারা জীবন। এই মিষ্টির কারিগররা জানান, প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে তারা একই গুণগত মান বজায় রাখার চেষ্টা করছেন। কোনো প্রকার কৃত্রিম ফ্লেভার নয়, বরং দুধের সর আর ক্ষীরের প্রাকৃতিক সুগন্ধই একে অনন্য করে তুলেছে।
শঙ্করের ক্ষীর চমচম কেবল রাজবাড়ীর মানুষের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভোজনরসিকরা ছুটে আসেন এই স্বাদের খোঁজে। এমনকি প্রবাসী বাঙালিদের হাত ধরে এই মিষ্টির খ্যাতি পৌঁছে গেছে ইউরোপ-আমেরিকার বিভিন্ন দেশেও। রাজবাড়ীতে আসা যেকোনো অতিথির আপ্যায়নে বা আত্মীয়ের বাড়িতে পাঠাতে এই ক্ষীর চমচম এখন প্রথম পছন্দ।
শংকর মিষ্টান্ন ভাণ্ডারের এই পথচলা বহু বছরের পুরনো। বাজারের অসংখ্য আধুনিক মিষ্টির দোকানের ভিড়েও শংকর তার স্বকীয়তা বজায় রেখেছে। স্থানীয়দের মতে, শঙ্করের মিষ্টি মানেই ভরসা। আর ক্ষীর চমচম মানেই রাজবাড়ীর আসল স্বাদ।
স্বাদে-গন্ধে ভরপুর এই ক্ষীর চমচম রাজবাড়ীর খাদ্য সংস্কৃতিকে করেছে আরও সমৃদ্ধ। আপনি যদি মিষ্টিপ্রেমী হয়ে থাকেন, তবে রাজবাড়ীর শংকর মিষ্টান্ন ভাণ্ডারে একবার ঢুঁ মারা আপনার জন্য আবশ্যিক।
আপনার মতামত লিখুন